লোকে লোকারণ্য মাঠ। মুসল্লিতে ঠাসা আশপাশের রাস্তা। বাসাবাড়ির ছাদেও ভিড়। ঈদগাহ মাঠ ছাড়িয়ে যতদূর চোখ যায়, ঠাঁই নেই অবস্থা।
লোকে লোকারণ্য মাঠ। মুসল্লিতে ঠাসা আশপাশের রাস্তা। বাসাবাড়ির ছাদেও ভিড়। ঈদগাহ মাঠ ছাড়িয়ে যতদূর চোখ যায়, ঠাঁই নেই অবস্থা।
জামাতের পর বিশ্বশান্তি ও দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত থেকে বিশ্বের মুসলমানদের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের আহ্বানও জানানো হয়।
এটি ঈদুল ফিতরের ১৯৮তম ঈদ জামাত। সকাল ১০টায় শুরু হয় জামাত।
ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয় শোলাকিয়া ও আশপাশের এলাকা। পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী পার হয়ে মুসল্লিদের ঢুকতে হয় ঈদগাহ মাঠে। কঠোর নিরাপত্তার কারণে মাঠে প্রবেশ করতে মুসল্লিদের খানিকটা দেরি হয়। তিনটি আর্চওয়ের ভেতর দিয়ে মেটাল ডিটেক্টরের তল্লাশির মাধ্যেমে মুসল্লিদের ঈদগাহে ঢুকতে দেওয়া হয়।
মুসল্লিদের চলাচলের সুবিধা করে দিতে সকাল থেকে শহরের সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে ভোর থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে শোলাকিয়ায়। সকাল ৬টার পর থেকে মুসল্লিদের ঢল নামে ঈদগাহ মাঠে। চারদিক থেকে আসা জনস্রোতের গন্তব্যে ছিল এই শোলাকিয়া মাঠ।
জামাত শুরুর ঘণ্টাখানেক আগেই কানায় কানায় ভরে যায় ঈদগাহ। পাশের সড়ক, ফাঁকা জায়গা, নদীর পাড় ও আশপাশের বাসাবাড়ির ছাদে উঠে জামাতে শরিক হতে দেখা যায় অনেককে। এবারও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয় পুরো আয়োজন। পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, প্রায় এক হাজার ২০০ পুলিশ, শতাধিক র্যাব সদস্য, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও আনসার সদস্যের সমন্বয়ে তৈরি করা হয় কঠোর নিরাপত্তা বলয়। এবার প্রথমবারের মতো সেনা সদস্যারা নিরাপত্তাব্যবস্থায় যুক্ত হন। তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নজরদারিতে আকাশে ছিল শক্তিশালী ক্যামেরাযুক্ত পুলিশের ড্রোন ক্যামেরা। মাঠ, শহরসহ প্রবেশপথগুলো সিসি ক্যামেরা দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়। মাঠে স্থাপিত ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার থেকে দুরবিন নিয়ে নিরপত্তার দায়িত্ব পালন করেন র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। শোলাকিয়া মাঠ ও শহরের যত অলিগলি আছে, সবখানে বসানো হয় নিরাপত্তাচৌকি। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করেন। ঈদগাহ এলাকায় তিনটি অ্যাম্বুল্যান্সসহ বেশ কয়েকটি মেডিক্যাল টিম এবং অগ্নিনির্বাপণ দলও মোতায়েন ছিল। স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বে ছিল স্কাউট সদস্যরা।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেছেন, উৎসবমুখর, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ঈদ জামাত আয়োজন করতেই নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এবার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মুসল্লি জামাতে অংশ নিয়েছে।
গত ৩০ বছর ধরে শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করছেন গাজীপুরের আব্দুল খালেক (৬৫)। তিনি জামাতের একদিন আগে ভাতিজাকে নিয়ে কিশোরগঞ্জে চলে আসেন। গতবার নিজের ছেলেকে নিয়ে এসেছিলেন। এবার ভাতিজা নিয়ে এলেন। তিনি বলেন, ‘যত দিন বেঁচে আছি এভাবে সক্ষম সব আত্মীয়-স্বজনকে শোলাকিয়ায় নিয়ে আসব। এখানে নামাজ আদায় করলে মনে শান্তি পাই। তাই বারবার আসি। শোলাকিয়ায় আসাটাই আমার ঈদ।’
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের সিদলা থেকে সাইকেল চালিয়ে এসেছেন আবু তালেব (৫০)। এবারই প্রথম এলেন। এ মাঠের ঐতিহ্য সুনামের কথা তিনি অনেক শুনেছেন। আশা ছিল আসবেন, কিন্তু আসতে পারেননি। তিনি বলেন, গত বছরও আমার বাবা ঈদের নামাজ পড়তে এসেছিলেন। তিনি মারা গেছেন সম্প্রতি। তাই বাবার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে এসেছি। এত মানুষের সঙ্গে নামাজ আদায় করে ভালো লেগেছে। আগামীতে ছোট ভাইকে নিয়ে আসব।
ময়মনসিংহের নান্দাইলের মুসল্লির বাসিন্দা আরাফাত মিয়া (৩২) তিন বছর ধরে ঈদে শোলাকিয়ায় আসেন। তিনি বলেন, এবার নিয়ত করেছিলাম। হেঁটে শোলাকিয়ায় গিয়ে নামাজ আদায় করব। ফজরের নামাজ পড়েই রওনা হয়েছি। জামাতের আগে পৌঁছে গেছি।
তিনি আরো বলেন, বড় জামাতে নামাজে অংশ নিলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। এ কারণে নিজে থেকে কষ্ট করে এসে ঈদ জামাতে অংশ নিয়েছি।
দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী এবারও শোলাকিয়ার ঈদ জামাত শুরুর পাঁচ মিনিট আগে শটগানে তিনটি, তিন মিনিট আগে দুটি ও এক মিনিটি আগে একটি গুলির আওয়াজ করা হয়। এটি নামাজ শুরু করার সংকেত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান বলেন, এবার পাঁচ লক্ষাধিক মুসল্লি শোলাকিয়ায় নামাজ আদায় করেছেন বলে আমাদের ধারণা। এবারের জামাতের ব্যবস্থাপনা ছিল খুবই ভালো। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে মুসল্লিদের।
ঈদের দিন শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করে। একটি ট্রেন ভৈরব থেকে সকাল ৬টায় ছেড়ে আসে এবং সকাল ৮টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছায়। অন্যটি ময়মনসিংহ থেকে সকাল পৌনে ৬টায় ছেড়ে আসে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছায়। নামাজ শেষে জামাতে আসা যাত্রীদের নিয়ে আবার গন্তব্যে ফিরে যায় ট্রেন দুটি।
কিশোরগঞ্জ শহর থেকে পূর্ব দিকে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত শোলাকিয়া মাঠ। এর আয়তন ৭ একর। প্রায় ২০০ বছর ধরে এই মাঠে বিশাল ঈদের নামাজের জামাত হয়ে আসছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শোলাকিয়ার সাহেববাড়ির সুফি সৈয়দ আহম্মদ ১৮২৮ সালে তার নিজ জমিতে ঈদের জামাতের আয়োজন করেন। ঈদের প্রথম জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। পরে উচ্চারণ বিবর্তনে সোয়া লাখ থেকে সোয়ালাখিয়া এবং সেখান থেকে শোলাকিয়া শব্দটি প্রচলিত হয়েছে।
সম্পর্কিত খবর
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় ট্রেনের ধাক্কায় আল মেহেদী (২৮) নামের এক ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পৌরসভার বাউসি পপুলার রেলওয়ে ব্রিজপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আল মেহেদী পৌরসভার শিমলাপল্লী পূর্বপাড়া ইতালি প্রবাসী লান্জু মিয়ার ছেলে।
রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে পপুলার রেলওয়ে ব্রিজপাড় এলাকায় বেড়াতে যান আল মেহেদী।
সরিষাবাড়ী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশিস চন্দ্র দে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অগ্নিবীণা ট্রেনের ধাক্কায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আল মেহেদী নামের একজন মারা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছে। পরিবারের অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’
খুলনার ফুলতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আবুল বাশারকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত সোয়া ৮টার দিকে ফুলতলা উপজেলার ১৪ মাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ফুলতলা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বাজারের চৌরাস্তায় কিছু সময়ের জন্য টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন।
ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জেল্লাল হোসেন জানান, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার মোটরসাইকেলে ফুলতলা থেকে বেজেরডাঙ্গা অভিমুখে যাওয়ার সময় হেলমেট পরিহিত দুজন ব্যক্তি তার দিকে বোমা নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়।
ওসি জানান, তবে বোমাটি তাঁর মোটরসাইকেলের পেছনের দিকের রাস্তায় পড়ে বিস্ফোরণ হয়। আবুল বাশার প্রাণে বেঁচে যান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসি) ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান ওসি।
ফরিদপুরের নগরকান্দায় ঘাসক্ষেত থেকে মো. মাহবুবুর রহমান (১৭) নামের এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত ৮ টার দিকে উপজেলার চরযোশরদী ইউনিয়নের দহিসারা গ্রামের মাঠের ঘাসক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, মাদকদ্রব্য সেবনের ফলে তিনি মারা গেছেন।
নিহত মাহবুবুর রহমান দহিসারা গ্রামের সাইফুল্লাহ মোল্যার ছেলে।
নিহতের বাবা সাইফুল্লাহ মোল্যা বলেন, ‘মাহবুবুর মাদকাসক্ত ছিল। তাকে নেশা থেকে বিরত রাখতে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকুরিতে দেওয়া হয়। গত ৩ বছর সে গার্মেন্টসে চাকুরি করলেও নেশা করা থেকে বিরত হতে পারেনি।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফর আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই কিশোরের লাশ উদ্ধার করে আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে, সে নেশা খেয়ে মারা গেছে। তারপরও ময়না তদন্তের প্রতিবেদন আসার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।’
বরগুনার আমতলীতে তরমুজের গাড়িতে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষ হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ ৭ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২ এপ্রিল) গলাচিপা উপজেলার জলেখার বাজারের পাশের নির্মাণাধীন ব্রিজ এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— মোসা. হাসিনা বেগম (৩৫) মো. নিজাম খান (৪৫) মো. রাকিব খান (২৮) মো. খোরশেদ খান (৬৫) মো. সিদ্দিক খাঁন (৬০) মো. সোহাগ মোল্লা (৩৫) মো. কাইয়ুম মোল্লা (৩৪)।
স্থানীয়রা জানায়, বুধবার (২ এপ্রিল) রাত ৮ টার দিকে পূর্ব সোনাখালী গ্রামের ছাদের প্যাদা বাড়ী সংলগ্ন রাস্তার উপরে তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছিল। ওই সময় স্থানীয় বিএনপি সমর্থক ইসরাফিল মোল্লা তরমুজ পরিবহনের গাড়ি থামিয়ে গাড়ি প্রতি ২ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এতে একই এলাকার আরেক বিএনপি নেতা আখতারুজ্জামান সবুজ খান বাঁধা দেয়।
বিএনপি নেতা আখতারুজ্জামান সবুজ খান বলেন, ‘ইসরাফিল মোল্লা তরমুজ পরিবহনের গাড়ি থেকে চাঁদা দাবি করায় আমি প্রতিবাদ করি।
বিএনপি সমর্থক নেতা ইসরাফিল মোল্লা তরমুজের গাড়িতে চাঁদা দাবি করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আখতারুজ্জামান সবুজ খান লোকজন নিয়ে আমার ও আমার বাড়ীর লোকজনের উপর অতর্কিত হামলা ও মারধর করেছে।’
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ওই বিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’