বরগুনার আমতলীতে তরমুজের গাড়িতে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষ হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ ৭ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২ এপ্রিল) গলাচিপা উপজেলার জলেখার বাজারের পাশের নির্মাণাধীন ব্রিজ এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— মোসা. হাসিনা বেগম (৩৫) মো. নিজাম খান (৪৫) মো. রাকিব খান (২৮) মো. খোরশেদ খান (৬৫) মো. সিদ্দিক খাঁন (৬০) মো. সোহাগ মোল্লা (৩৫) মো. কাইয়ুম মোল্লা (৩৪)।
আহতরা আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, বুধবার (২ এপ্রিল) রাত ৮ টার দিকে পূর্ব সোনাখালী গ্রামের ছাদের প্যাদা বাড়ী সংলগ্ন রাস্তার উপরে তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছিল। ওই সময় স্থানীয় বিএনপি সমর্থক ইসরাফিল মোল্লা তরমুজ পরিবহনের গাড়ি থামিয়ে গাড়ি প্রতি ২ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এতে একই এলাকার আরেক বিএনপি নেতা আখতারুজ্জামান সবুজ খান বাঁধা দেয়।
এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির শুরু হয়। এক পর্যায়ে গলাচিপা উপজেলার জলেখার বাজারের পাশের নির্মাণাধীন ব্রীজের উপর ইসরাফিল মোল্লা ও সবুজ খানের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের ৭ জন গুরুতর আহত হন।
বিএনপি নেতা আখতারুজ্জামান সবুজ খান বলেন, ‘ইসরাফিল মোল্লা তরমুজ পরিবহনের গাড়ি থেকে চাঁদা দাবি করায় আমি প্রতিবাদ করি।
ওই সময় ইউপি সদস্য ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি নাসির উদ্দিন মোল্লার ইন্ধনে ইসরাফিল মোল্লার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আমার সমর্থকদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।’
বিএনপি সমর্থক নেতা ইসরাফিল মোল্লা তরমুজের গাড়িতে চাঁদা দাবি করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আখতারুজ্জামান সবুজ খান লোকজন নিয়ে আমার ও আমার বাড়ীর লোকজনের উপর অতর্কিত হামলা ও মারধর করেছে।’
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ওই বিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’