বগুড়ার শেরপুরে পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছে আরো চারজন। নিহতদের মধ্যে বাবা ও তার তিন বছরের শিশুকন্যা রয়েছে। ঈদের দিন সোমবার (৩১ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
বগুড়ার শেরপুরে পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছে আরো চারজন। নিহতদের মধ্যে বাবা ও তার তিন বছরের শিশুকন্যা রয়েছে। ঈদের দিন সোমবার (৩১ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের দিন সোমবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে উপজেলার মহিপুর জামতলা এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে ঢাকাগামী একটি বাস একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে ওই মোটরসাইকেলের আরোহী শরিফুল ইসলাম (৩২) ও তার মেয়ে সেজদা খাতুন (৪) গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে বাবা-মেয়েকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের ঝুপুনিয়া সেতুর মোড়ে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, একটি মোটরসাইকেলে একই ইউনিয়নের হিন্দু পানিসাড়া গ্রামের অলোক সরকার (২০), জয়ন্ত সরকার (২০) ও শুভ সরকার (১৯) তিন বন্ধু বেড়াতে যাচ্ছিলেন সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীতে। পথিমধ্যে ঝুপুনিয়া সেতুর মোড়ে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে গুরুতর আহত হন আরোহী তিন বন্ধু। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অলোক সরকারকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ছাড়া উপজেলার মহিপুরের ফায়ার সার্ভিসের সামনে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে সামনে তৃতীয় ঘটনাটি ঘটে। একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টায় এখানে বগুড়াগামী লেন থেকে একটি প্রাইভেট কার ঢাকাগামী লেনে ইউটার্ন নেওয়ার সময় ঢাকাগামী আরেকটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাইভেট কারের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে মো. লিখন (২৮) ও মো. জীবন (৩০) গুরুতর আহত হন।
উপজেলা ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। জানতে চাইলে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক এসব দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।
সম্পর্কিত খবর
নরসিংদীর মনোহরদীতে ছোট ভাইয়ের শাবলের আঘাতে বড় ভাই কাজল মিয়া (৫৭) মারা গেছেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রমান্দালিয়া ইউনিয়নের সাতপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
কাজল চরমান্দালিয়া ইউনিয়নের সাতপাড়া গ্রামের আছির উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বসত ভিটার সীমানা নিয়ে কাজলের সঙ্গে তার ছোট ভাই বাদল মিয়ার বিরোধ চলছে।
বাসচালকের হদিস এখনো মেলেনি
তারা আরো জানায়, কাজলক উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জলার কটিয়াদী উপজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জব্বার জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
লোহাগাড়ায় আহত শিশু আরাধ্য উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায়
বগুড়ায় বাঙালি নদীর বেলগাছী ব্রিজ এলাকায় ‘মিনি জাফলং’ খ্যাত নতুন একটি দর্শনীয় স্থানে গোসল করতে নেমে এক স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তার নাম আবু সাদাত ইকবাল (১৩)। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সাদাত (১৩) ধুনট উপজেলার বিলচাপড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমী ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের (আরডিএ) প্রভাষক ইকবাল হোসেন ও সুত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সানজিদা পারভিন রিতা দম্পতির ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে শেরপুর উপজেলার সুত্রাপুর গ্রামস্থ নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে স্থানীয় বেলগাছী ব্রিজ সংলগ্ন কথিত ‘মিনি জাফলং’ খ্যাত স্থান ঘুরতে আসে সাদাত ইকবাল। একপর্যায়ে বাঙালি নদীতে নেমে জলকেলি করতে করতে ডুবে নিখোঁজ হয় সে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
প্রসঙ্গত, নদী খননের ফলে ব্রিজের নিচে বালুর স্তর ও ছোট ছোট কুচি পাথর জমে যায়। যাকে স্থানীয়ভাবে ‘মিনি জাফলং’ বা ‘গরীবের জাফলং’ নাম দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে ঈদের এক সপ্তাহ আগে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নিজের ভেরিফাইড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন স্থানীয় দুই যুবক।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বাস ও মাইক্রোবাস সংঘর্ষে ১১ জন নিহতদের ঘটনায় বাস চালকের হদিস এখনো পায়নি পুলিশ। দোহাজারি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হলেও চালকের কোনো হদিস মেলেনি।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী মামলা হয়েছে, কিন্তু বাস চালককে শনাক্ত করা যায়নি।
গত বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়ায় বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে দুই দম্পতিসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শিশু আরাধ্য বিশ্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আহত শিশু আরাধ্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে আরাধ্যকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দিন।
এর আগে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাসনিয়া ইসলাম প্রেমা। একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এ নিয়ে লোহাগাড়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১ জনে।
গত বুধবার সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়ায় বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে দুই দম্পতিসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়।