সাতক্ষীরার আশাশুনিতে খোলপেটুয়া নদীর বাঁধ দুই দিন পেরিয়ে গেলেও সেটি মেরামত করা সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে বাঁধ ভেঙে আটটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট।
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে খোলপেটুয়া নদীর বাঁধ দুই দিন পেরিয়ে গেলেও সেটি মেরামত করা সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে বাঁধ ভেঙে আটটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট।
সরজমিনে মঙ্গলবার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৎস্যঘেরে লবণ পানি প্রবাহের জন্য পাইপলাইন স্থাপন করায় বেড়িবাঁধের নিচের মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ফলে এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়।
ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) আশাশুনি উপজেলার টিম লিডার আবদুল জলিল বলেন, ‘আমরা যখন ঈদের নামাজে ছিলাম তখন শুনি বাঁধ ভেঙে গেছে। মোনাজাত না করেই ছুটে যাই।
তিনি বলেন, ‘পানিবন্দি মানুষ এখন খাবার সংকটে পড়েছে। অনেক পরিবার উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ শুরু করলেও এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।’
সোমবার সকালে আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট গ্রামে প্রায় দেড়শ ফুট দৈর্ঘ্যের বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, বাঁধ ভেঙে প্রবল জোয়ারের পানি গ্রামগুলোর ৪ হাজার বিঘা জমির ধান ও ২০০ বিঘার অধিক চিংড়ি ঘের তলিয়ে গেছে। প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ বাড়িঘর পানির নিচে ডুবে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মানুষ এখন দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ভাঙনের পরপরই গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বিকল্প রিংবাঁধ তৈরির চেষ্টা করলেও, প্রবল জোয়ারের তোড়ে সেই বাঁধও ধসে পড়ে। ফলে নতুন করে আরো বেশি এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে।’
আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে উপলব্ধি করছি, সামনে আমাদের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। কারণ মাত্র একদিনের ব্যবধানে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। দুপুর ও রাতের জোয়ারের কারণে ভাঙন আরো গভীর হয়েছে। বিচ্ছিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ সংস্কার করা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন, ইউএনও, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। কিন্তু শুধুমাত্র উপস্থিত থাকলেই হবে না, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের এখানে বাল্কহেড (বালু ও মাটি বহনের নৌকা) প্রয়োজন। একটি বাল্কহেড এসেছে, তবে এটি দিয়ে কতক্ষণ কাজ চালানো সম্ভব? আমরা আশা করছি, রাতারাতি আরও চারটি বাল্কহেড আসবে, তারপর পুরোপুরি কাজ শুরু হবে। তবে এই ধরনের ভাঙন রোধ করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি।’
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট গ্রামে খোলপেটুয়া নদীর পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ছিল। কিন্তু গতকাল সেটার ১০০ মিটার অংশ ভেঙে গেছে। এতে ৮ থেকে ১০টি গ্রামে পানি ঢুকেছে। আমি খবর পাওয়ার পরপরই পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছি। তবে ঈদের কারণে শ্রমিক সংকট ও বালু বোর্ড আনতে দেরি হওয়ায় কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। আমি সকালেই ঘটনাস্থলে এসে দেখেছি, পরিস্থিতি ভয়াবহ। আমরা যদি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে না পারি, তাহলে পরবর্তী জোয়ারে আরো প্রায় আধা কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি বিভাগকে একত্রে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা আমাদের সহযোগিতা করছেন, আমরা যত দ্রুত সম্ভব এই বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছি।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ার পেছনে অবৈধ পাইপলাইন ও গেট সিস্টেম অন্যতম কারণ। তারা অবিলম্বে এই পদ্ধতি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও স্থানীয়রা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জোরালো দাবি তুলেছেন। ভাঙন প্রতিরোধে অবিলম্বে জরুরি উদ্যোগ নেওয়া না হলে সাতক্ষীরার এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্পর্কিত খবর
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় ট্রেনের ধাক্কায় আল মেহেদী (২৮) নামের এক ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পৌরসভার বাউসি পপুলার রেলওয়ে ব্রিজপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আল মেহেদী পৌরসভার শিমলাপল্লী পূর্বপাড়া ইতালি প্রবাসী লান্জু মিয়ার ছেলে।
রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে পপুলার রেলওয়ে ব্রিজপাড় এলাকায় বেড়াতে যান আল মেহেদী।
সরিষাবাড়ী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশিস চন্দ্র দে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অগ্নিবীণা ট্রেনের ধাক্কায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আল মেহেদী নামের একজন মারা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছে। পরিবারের অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’
খুলনার ফুলতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আবুল বাশারকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত সোয়া ৮টার দিকে ফুলতলা উপজেলার ১৪ মাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ফুলতলা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বাজারের চৌরাস্তায় কিছু সময়ের জন্য টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন।
ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জেল্লাল হোসেন জানান, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার মোটরসাইকেলে ফুলতলা থেকে বেজেরডাঙ্গা অভিমুখে যাওয়ার সময় হেলমেট পরিহিত দুজন ব্যক্তি তার দিকে বোমা নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়।
ওসি জানান, তবে বোমাটি তাঁর মোটরসাইকেলের পেছনের দিকের রাস্তায় পড়ে বিস্ফোরণ হয়। আবুল বাশার প্রাণে বেঁচে যান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসি) ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান ওসি।
ফরিদপুরের নগরকান্দায় ঘাসক্ষেত থেকে মো. মাহবুবুর রহমান (১৭) নামের এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত ৮ টার দিকে উপজেলার চরযোশরদী ইউনিয়নের দহিসারা গ্রামের মাঠের ঘাসক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, মাদকদ্রব্য সেবনের ফলে তিনি মারা গেছেন।
নিহত মাহবুবুর রহমান দহিসারা গ্রামের সাইফুল্লাহ মোল্যার ছেলে।
নিহতের বাবা সাইফুল্লাহ মোল্যা বলেন, ‘মাহবুবুর মাদকাসক্ত ছিল। তাকে নেশা থেকে বিরত রাখতে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকুরিতে দেওয়া হয়। গত ৩ বছর সে গার্মেন্টসে চাকুরি করলেও নেশা করা থেকে বিরত হতে পারেনি।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফর আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই কিশোরের লাশ উদ্ধার করে আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে, সে নেশা খেয়ে মারা গেছে। তারপরও ময়না তদন্তের প্রতিবেদন আসার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।’
বরগুনার আমতলীতে তরমুজের গাড়িতে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষ হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ ৭ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২ এপ্রিল) গলাচিপা উপজেলার জলেখার বাজারের পাশের নির্মাণাধীন ব্রিজ এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— মোসা. হাসিনা বেগম (৩৫) মো. নিজাম খান (৪৫) মো. রাকিব খান (২৮) মো. খোরশেদ খান (৬৫) মো. সিদ্দিক খাঁন (৬০) মো. সোহাগ মোল্লা (৩৫) মো. কাইয়ুম মোল্লা (৩৪)।
স্থানীয়রা জানায়, বুধবার (২ এপ্রিল) রাত ৮ টার দিকে পূর্ব সোনাখালী গ্রামের ছাদের প্যাদা বাড়ী সংলগ্ন রাস্তার উপরে তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছিল। ওই সময় স্থানীয় বিএনপি সমর্থক ইসরাফিল মোল্লা তরমুজ পরিবহনের গাড়ি থামিয়ে গাড়ি প্রতি ২ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এতে একই এলাকার আরেক বিএনপি নেতা আখতারুজ্জামান সবুজ খান বাঁধা দেয়।
বিএনপি নেতা আখতারুজ্জামান সবুজ খান বলেন, ‘ইসরাফিল মোল্লা তরমুজ পরিবহনের গাড়ি থেকে চাঁদা দাবি করায় আমি প্রতিবাদ করি।
বিএনপি সমর্থক নেতা ইসরাফিল মোল্লা তরমুজের গাড়িতে চাঁদা দাবি করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আখতারুজ্জামান সবুজ খান লোকজন নিয়ে আমার ও আমার বাড়ীর লোকজনের উপর অতর্কিত হামলা ও মারধর করেছে।’
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ওই বিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’