ঢাকা, শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, কুমিল্লায় ৩ বাসযাত্রী নিহত

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
শেয়ার
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, কুমিল্লায় ৩ বাসযাত্রী নিহত
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার চান্দিনায় যাত্রবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তিনজন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চান্দিনা উপজেলার পালকি সিনেমা হলসংলগ্ন ইন্দ্রারচর এলাকা এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় আরো অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

তবে নিহত সবাই পুরুষ। আহতদের চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে হাইওয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী, চান্দিনা থানা পুলিশ ও চান্দিনা ফায়ার সার্ভিস উৎদ্ধার তৎপরতা চালায়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ৮টা পর্যন্ত) উদ্ধারকাজ চলছিল।

চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার লিডার বাহারুল ইসলাম জানান, তিশা প্লাস পরিবহনের বাসটি ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে কুমিল্লা যাচ্ছিল। চান্দিনার ইন্দ্রারচর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছের সাথে ধাক্কা লেগে দুমড়েমুচড়ে যায় বাসটি। এতে ঘটনাস্থলে একজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পরে আরো দুজন মারা যায়। আহতদের উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত ডা. সুবল দেবনাথ বলেন, ‘হাসপাতালে আনার পর দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

নরসিংদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তি নিহত

নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদী প্রতিনিধি
শেয়ার
নরসিংদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তি নিহত
ছবি: কালের কণ্ঠ

নরসিংদীতে মালবাহী ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত (৪৫) এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নরসিংদীর রেল স্টেশন সংলগ্ন বটতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রেলওয়ে পুলিশ ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মালবাহী ট্রেনটি নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করছিল। ট্রেনটি স্টেশন অতিক্রমের প্রায় ৫০ মিটার পরে ওই ব্যক্তি কাটা পড়েন।

এতে তার থেকে মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধারে এগিয়ে এলেও ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। তার নাম-পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। 

নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা বানিয়াছলের বটতলা এলাকা থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করি।

নিহতের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে রেলওয়ে পুলিশ।’

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

তেঁতুলবাড়িয়ায় পাখি শিকারীদের বন্যপ্রাণী রক্ষায় শপথ

রফিকুল ইসলাম, বরিশাল
রফিকুল ইসলাম, বরিশাল
শেয়ার
তেঁতুলবাড়িয়ায় পাখি শিকারীদের বন্যপ্রাণী রক্ষায় শপথ
ছবি: কালের কণ্ঠ

গুলিবিদ্ধ মদনটাক পাখিটি বঙ্গোপসাগরের মোহনা তেঁতুলবাড়িয়া নদী তীরের ফসলি মাঠে আশ্রয়ের খোঁজে এসেছিল। বনকর্মীরা পৌঁছনোর আগেই সেই আহত বিপন্ন পাখিটিকে জবাই করা হয়েছিল। পরে মাংস ভাগাভাগির করে নেন স্থানীয়রা। এ নিয়ে সোরগোল পড়ে যায় সাগরতীরের বরগুনায়।

সে খবর পৌঁছে যায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে।

মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব আশিকুর রহমান সমী গোপনে নিজেই ছুটে আসেন তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামে। এই বন্যপ্রাণী সংরক্ষক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে নিজেই স্থানীয়দের শপথ বাক্য পাঠ করান। পাখি হত্যার ঘটনায় বরগুনা বন বিভাগ যাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, সেই হত্যাকারীদের নিয়ে পাখি রক্ষার শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আরো পড়ুন
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সৌদিতে গ্রেপ্তার ১০ প্রবাসী দেশে ফিরলেন

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সৌদিতে গ্রেপ্তার ১০ প্রবাসী দেশে ফিরলেন

 

সেই শপথ পাঠের এক মিনিট ৬ সেকেন্ডের ভিডিও কালের কণ্ঠের এ প্রতিনিধির কাছে এসেছে। সেখানে আশিকুর রহমান সমীকে হাতে নোটবুক নিয়ে শপথ বাক্য পাঠ করাতে দেখা যায়। স্থানীয় আমিন হাওলাদারের বাড়ির উঠানে স্থানীয় অর্ধশত পুরুষ সেই শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাদের সঙ্গে পাখি হত্যা মামলার ছয় আসামি অংশগ্রহণ করেছেন বলে গ্রাম পুলিশ আলমগীর হোসেন কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

শপথ পাঠের আগেই পাখি হত্যা মামলার আসামি বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘গত ১০ মার্চ সকালের দিকে কয়েকজন শিশু নদী তীরের একটি ফসলি মাঠের পাশে খেলছিল। এ সময় ডানায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একটি মদনটাক পাখি সেখানে এসে পড়ে। শিশুরা পাখিটি বাড়িতে এনে জবাই করে মাংস ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। কিন্তু এই ঘটনায় বনবিভাগ তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।

’ মামলা থেকে অব্যহতির জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

আরো পড়ুন
ড. ইউনূসের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

ড. ইউনূসের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

 

পরবর্তীতে আশিকুর রহমান উপস্থিত থেকে স্থানীয়দের শপথ পড়ান। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা অঙ্গীকার করতেছি যে, তেঁতুলবাড়িয়া গ্রাম বণ্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে আজকে থেকে প্রতিষ্ঠিত হলো।’ তার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুরুষরা সামনে হাত তুলে একই কথা প্রতিজ্ঞার সঙ্গে উচ্চারণ করছিলেন। তাকে আরো বলতে শোনা যায়, ‘বন্যপ্রাণীরা এই এলাকায় নিরাপদ থাকবে। কোনো ধরনের পাচার, শিকার কিংবা হত্যা করা যাবে না। এমনকি বন্যপ্রাণীর ক্ষতিসাধন এই এলাকায় সংঘটিত হবে না। আমরা বন্যপ্রাণী রক্ষায় দেশের মধ্যে সেরা হবো।’

উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব আশিকুর রহমান সমীরের সঙ্গে আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকালে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিলুপ্ত প্রজাতির মদনটাক পাখি হত্যার ঘটনা আমাদেরকে ব্যথিত করেছিল। তাই প্রশাসনের সঙ্গে উপদেষ্টা মহোদয় নিজেই কথা বলেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছিলেন। আমি নিজেও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছিল। এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছিল। কিন্তু আসামিরা নিম্ন আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা জামিনের বিষয়টি অবগত ছিলাম না। যেখানে মদনটাক পাখিটিকে হত্যা করা হয়েছিল, সেখানকার জনগণকে সচেতন করতে হঠাৎ করেই আমি গিয়েছিলাম। সেই শপথ অনুষ্ঠানে এক আসামি যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখনই আমি জেনেছি, আসামিরা জামিন পেয়েছেন। তবে জামিন নিলেও পাখি হত্যার বিচার হবেই। সেখানে দোষীদের শাস্তি পেতে হবে। শুক্রবার আমি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। পরবর্তীতে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।’

আরো পড়ুন
ছোট ভাইয়ের শাবলের আঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু

ছোট ভাইয়ের শাবলের আঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু

 

গোপনীয়তা বজায় রেখে হঠাৎ কর্মসূচির প্রসঙ্গে আশিকুর রহমান সমী বলেন, ‘যেখানেই বন্যপ্রাণীর প্রতি অবিচার করা হচ্ছে, সেখানকার প্রকৃত পরিবেশ অনুধাবনের জন্য সারপ্রাইজ ভিজিট করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বরগুনায় গিয়েছিলাম। আগে জানিয়ে আসলে সবকিছুই ঠিকঠাক থাকে। তাই হঠাৎ করেই ঘটনাস্থলে আমরা যাচ্ছি। বুধবার বরিশালে বন বিভাগের বেশ কিছু কার্যক্রম দেখেছি।’

বরগুনার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিউল আলম মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মদনটাক হত্যার ঘটনার পরের দিন হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বিচার বিভাগ পুরোটাই স্বাধীন। তবুও মামলা আসামিরা কীভাবে আগাম জামিন পেলেন সেটি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে জেনে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত গৌরীপুরের ইয়াসিন

‘বাবারে কই গিয়া তুমি মরলা, অহন আমি তোমারে কিবায় পাইয়াম’

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
শেয়ার
‘বাবারে কই গিয়া তুমি মরলা, অহন আমি তোমারে কিবায় পাইয়াম’
ছবি: কালের কণ্ঠ

‘আমি কিবায় ঘর লইয়াম। আমার তো সবই শেষ। তা অইলে আমার বাইচ্যা থাইক্যা লাভ নাই। আমার ইয়াসিনরে তোমরা আইন্যা দেও’ এভাবেই আহাজারি করতে করতে মুর্চা যান মা ফিরোজা খাতুন।

ফের বলে উঠেন,‘বাবারে কই গিয়া তুমি মরলা, সাত সমুদ্র ১৩ নদী পাড় অইয়া আমি কিবায় যাইয়াম, আর কিবায় তোমারে আমি পাইয়ম? 

এভাবেই কান্না করছিলেন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে নিহত ইয়াসিন মিয়া শেখের (২২) মা ফিরোজা খাতুন। গত দুই দিন ধরে ছেলের শোকে কাঁদতে কাঁদতে প্রায় পাগল তিনি। যারাই তাদের বাড়িতে যাচ্ছেন তাদের ছেলের লাশটা ফেরত আনার ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করেন।

ইয়াসিন মিয়ার বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের মরিচালি গ্রামে।

তিনি ওই গ্রামের মৃত আবদুস সাত্তার শেখের ছেলে। গত ২৭ মার্চ ইয়াসিন নিহত হলেও স্বজনেরা জানতে পারেন ঈদের পরদিন মঙ্গলবার। রাশিয়ায় থাকা ইয়াসিনের বন্ধু মেহেদী হাসান মুঠোফোনে ইয়াসিনের বড় ভাই রুহুল আমিনকে মৃত্যুর খবর দেন। ইয়াসিনের মৃত্যুর খরব পাওয়ার পর থেকে পরিবারে মাতম চলছে।

জানা যায়, ছোট বেলা থেকেই ইয়াসিনের স্বপ্ন ছিল ছেলে সেনাবাহিনীতে চাকরি করার। কিন্তু বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এ অবস্থায় জেদ কাজ করে তার। পরে ১৫ লাখ টাকা খরচ করে রাশিয়ায় একটি কম্পানিতে চাকরি নেন তিনি। কয়েক মাস পর চুক্তিভিত্তিক যোদ্ধা হিসেবে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও নিয়মিত নিজের ফেসবুকে প্রকাশ করতেন। কিন্তু ঈদের পরদিন গত মঙ্গলবার তার মৃত্যুর খবর পেয়েছে পরিবার। যুদ্ধ চলাকালে মিসাইল হামলায় তিনি প্রাণ হারান বলে জানিয়েছেন রাশিয়ায় থাকা পরিচিতজনেরা।

দ্বিতীয়বারের মতো আজ শুক্রবার সকালে ইয়াসিনের বাড়িতে গেলে দেখা যায় নম্রভদ্র ও সুপরিচিত ইয়াসিনের মৃত্যুর খবর শুনে আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও দুর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন। ভেতরে প্রবেশ করেই কান্নার আওয়াজ পেয়ে অনেকেই স্তব্ধ হয়ে যান। ঘরের ভেতর সারাক্ষণ থেমে থেমে কান্না করছেন মা ফিরোজা ও পরিবারের লোকজন। কোনো সান্ত্বনাই কাজে আসছে না। 

ইয়াসিনের স্বজনেরা জানায়, ২০১৬ সালে ইয়াসিনের বাবা মারা গেছেন। তার বড় ভাই পড়াশোনা ও বিদেশযাত্রার খরচ দিয়েছেন। ৪০ শতক জমি বিক্রি করে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে গত বছরের ২২ আগস্ট রাশিয়ায় যান ইয়াসিন। সেখানে রাশিয়ার একটি কম্পানিতে চাকরি করতে যান। পরে অনলাইনে আবেদন করে গত ২২ ডিসেম্বর চুক্তিভিত্তিক যোদ্ধা হিসেবে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। প্রশক্ষণের পর ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেন।

সেখান থেকে ছবি ও ভিডিও নিয়মিত নিজের ফেসবুকে প্রকাশ করতে থাকেন। গত ১ মার্চ ফেসবুকে বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে একটি ভিডিও আপলোড করেন ইয়াসিন। ভিডিওতে তার অনেক আক্ষেপ, অভিযোগ ছাড়াও নিজের চ্যালেঞ্জে রাশিয়ায় যাওয়া, সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া ও তার স্বপ্নপূরণ নিয়ে কথা বলেন তিনি।

ইয়াসিনের প্রতিবেশী ও বন্ধু আরিফ বলেন, রাশিয়ায় যাওয়ার জন্য ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে রাশিয়ার ভাষা শেখেন ইয়াসিন। পরে সেখানে এক বন্ধুর সহায়তায় রাশিয়ায় একটি কম্পানিতে ভালো চাকরি পান। সবই ঠিকঠাক চলছিল। পরে রাশিয়ার সেনাবাহিনী যোগ দিয়ে সব উলটপালট হয়ে যায়। 

তিনি বলেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সময় ইয়াসিনের মা ও বড় ভাইকে ঢাকায় নিয়ে অনাপত্তিপত্রে স্বাক্ষর নেয় রাশিয়া পাঠানো এজেন্সির লোকজন।

জানা যায়, গত ২৬ মার্চ মা ফিরোজা খাতুনের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয় ইয়াসিনের। এখন ছেলের ছবি বুকে নিয়ে আহাজারি করছেন তিনি। ফিরোজা খাতুন বলেন,‘অনেক টেহা দিয়া পাডাইছি। তার অর্ধেক ঋন। বাজান (ছেলে) খালি কইতো এই তো পাডাইতিাছি। কম দিনের মধ্যেই সব টেহা পরিশোধ কইর‌্যা দিবো। অহন আমার টেহার দরহার নাই, খালি আমার বুকের ধনরে আইন্যা দেও।’

এদিকে ইয়াসিনের মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে আসেন গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির নেতা ও ময়মনসিংহ (উত্তর) বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাফেজ আজিজুল হকসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। এ সময় তিনি নিহত পরিবারের প্রতি সহনুভুতি প্রকাশ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যার তারেক রহমানের পক্ষে নিহত ইয়সিনের মায়ের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন।

মন্তব্য

সিদ্দিক কবিরাজের এক পানের খিলি ১৫৭৫ টাকা

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
শেয়ার
সিদ্দিক কবিরাজের এক পানের খিলি ১৫৭৫ টাকা
সংগৃহীত ছবি

রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ঈদ মেলায় বাঘা দরগা শরিফের গেটের সামনে সিদ্দিক কবিরাজের পানের দোকান। এক খিলি পান বিক্রির তালিকায় রয়েছে সর্বোচ্চ ১৫৭৫ টাকায়। সর্বনিম্ন ১০ টাকা পর্যন্ত। তিনি ৩৮ বছর যাবৎ ব্যবসা করে আসলেও এই ঐতিহ্যবাহী ঈদ মেলায় ৩০ বছর যাবৎ খিলি পানের ব্যবসা করে আসছেন।

 

সিদ্দিক কবিরাজ (৫৭) নাটোরের লালপুর উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের মৃত গরিবউল্লার ছেলে। হরেক রকম জর্দ্দা ও মসলা দিয়ে তৈরি করেন বিভিন্ন স্বাদের পান। বাহারি এই পান খেতে দূরদূরান্ত থেকে লোক আসে সিদ্দিক কবিরাজের দোকানে।

আরো পড়ুন
ড. ইউনূসকে যা বললেন নরেন্দ্র মোদি

ড. ইউনূসকে যা বললেন নরেন্দ্র মোদি

 

অভাব অনোটনসহ অর্থনৈতিক ব্যাপক অসচ্ছলতায় তাকে বাধ্য করেছে পান বিক্রি করতে।

বড় ধরনের ব্যবসা করতে মোটা অংকের পুজির প্রয়োজন। তার সাধ থাকলেও সাধ্যের বাইরে ছিল সে স্বপ্ন। ১৯৮৭ সালে স্বল্প পুজি নিয়ে শুরু করেন পান বিক্রি। দীর্ঘ ৩৮ বছর পানের দোকানদারী করে সিদ্দিক কবিরাজ এখন স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।
তিনি এই মেলায় ৬ দিনে প্রায় লক্ষাধিক টাকার খিলি পান বিক্রি করেছেন। মেলায় ভালবাসার পান ৩৩৫ টাকা মূল্যে ৩ খিলি পান বিক্রি করছেন। তার পানের দোকানের লাইসেন্স রয়েছে, লাইসেন্স নম্বর ১৮৬৭। সিদ্দিক কবিরাজ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পানের খিলি ব্যবাসায়ী। তার দোকানের সাইন বোর্ডে লিখা আছে আপন জনের জন্য নিয়ে যাবেন—ভালো লাগলে দাম দেবেন, না লাগলে দেবেন না।

সিদ্দিক কবিরাজ এই মাসে প্রায় এক লক্ষ ২০ হাজার টাকার পান বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে তিনি এই মেলায় ৬ দিনে প্রায় লক্ষাধিক টাকার খিলি পান বিক্রি করেছেন। বিভিন্ন পণ্যের দামসহ যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় হয়।

আরো পড়ুন
ছোট ভাইয়ের শাবলের আঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু

ছোট ভাইয়ের শাবলের আঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু

 

তিনি জানান, মেয়ে শিখা খাতুন অনার্স মাস্টার সম্পন্ন কারিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে শান্ত হোসেন স্থানীয় স্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবেন। তিনি নিজে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে খুব বেশি লেখাপড়া করতে পানেনি। তবে টাকার অভাবে যাতে ছেলের পড়াশুনা বন্ধ না হয়ে যায়, সে ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন রয়েছে সিদ্দিক কবিরাজ। মেয়ের মতো ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখচ্ছেন পান ব্যবসায়ী সিদ্দিক কবিরাজ। 

সিদ্দিক কবিরাজের দোকানে পানের মূল্যের তালিকার মধ্যে নবাব পান ১৫৭৫ টাকা, জমিদার পান ১০৫০ টাকা, নাটোরের বনলতা পান ১৫৭৫ টাকা, আর্য়ুবেদিক পান ৯৯৫ টাকা, বিয়াই-বিয়ান পান ৮৮৫ টাকা, শালি-দুলাভাই পান ৭৭৫ টাকা, হাসি-খুশি পান ৫৫৫ টাকা, নতুন বাবুর হাতের পান ৪৪৫ টাকা, ভালোবাসার পান ৩৩৫ টাকা, বন্ধু-বান্ধবীর পান ২৫ টাকা ও জনতার পান ১০ টাকা।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ঝিনাইদহ থেকে মেলায় ঘুরতে এসে তিন বন্ধু ভালবাসার পান ৩৩৫ টাকা মুল্যের তিনটি পান নেন। এ সময় তারা বলেন, এর আগেও তার কাছে থেকে পান খেয়েছি। তার পান খেলে মনে হয় মুখ থেকে পান ফুরাচ্ছে না। খেতে খুব মজা।
 
মেলায় ঘুরতে আসা মাসিক শিক্ষাতথ্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক তসলিম উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে এই মেলায় পান বিক্রি করে আসছেন সিদ্দিক কবিরাজ। তার পান খাওয়ার জন্য মানুষ লাইন নিয়ে থাকেন। বিক্রিও ভালো হয়।

আরো পড়ুন
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সৌদিতে গ্রেপ্তার ১০ প্রবাসী দেশে ফিরলেন

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সৌদিতে গ্রেপ্তার ১০ প্রবাসী দেশে ফিরলেন

 

সিদ্দিক কবিরাজ বলেন, আমি দেশের বিভিন্ন জেলায় পান বিক্রি করে বেড়াই। স্থানীভাবে ব্যবসা করি না। ভ্রাম্যমাণ হিসেবে এ ব্যবসা করে আসছি। যেখানে বড় বড় মেলা বা অনুষ্ঠান হয় সেখানে যায়। এভাবে দীর্ঘ ৩৮ বছর চলছে। আমার সাত ভাই বোনের মধ্যে আমি বড়। বাবা ১১ বছর আগে মারা গেছেন। বর্তমানে বৃদ্ধ মাসহ ৫ সদস্যের পরিবার পরিচালনা করতে কোন বেগ পেতে হয় না।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ