ঈদের ছুটি কাটাতে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও পরিবার নিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি খ্যাত সীমান্তবর্তী নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার পর্যটন স্পটগুলোতে ছুটে এসেছেন পর্যটকরা। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন তারা। ঈদের দ্বিতীয় দিন পর্যটকদের ঢল নেমেছে সীমান্তবর্তী বিজয়পুরের সাদা মাটির পাহাড়ে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের ছুটি কাটাতে পর্যটন স্পটগুলোতে ঘুরতে কেউ আসছেন পরিবার নিয়ে, কেউ আসছেন দম্পতি আবার কেউ আসছেন বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে।
তারা সবাই স্মৃতিমানসে ধরে রাখার লক্ষ্যে সেলফিবন্দি হচ্ছেন। অন্যান্য স্পটগুলোর মধ্যে এবার সাদা মাটির পাহাড়ে সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো।
গাজীপুর থেকে বেড়াতে আসা মো. আজাদ শিকদার নামের একজন বলেন, আমি প্রথমবার এই দুর্গাপুরে এসেছি। ঈদের মধ্যে আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে এমন সুন্দর জায়গাগুলোতে ঘুরতে ভালোই লাগে।
যারা এখানে কখনো আসেনি তারা এখানে না আসলে এই সৌন্দর্য উপভোগ করার শান্তিটা বুঝতে পারবে না। সত্যি বলতে আমি অনেক বেশি মুগ্ধ হয়েছি।
ঢাকা থেকে আসা আরেক পর্যটক দীপা বলেন, সাদা মাটির পাহাড় ভালো লাগার মতো। আমি ভিডিওতে দেখেছি অনেকবার তাই এইবার এসেই পড়লাম কিন্তু ঈদ উপলক্ষে অনেক বেশি ভিড়, এতো এতো মানুষের ভিড়ে অনেক কিছুই উপভোগ করা মিস করছি মনে হচ্ছে তবে এখানে বার বার আসতে মন চাইবে।
অপর পর্যটক আসিফ হাসান পরিবার নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, সত্যিই চমৎকার জায়গা এই দুর্গাপুরে রয়েছে। কেউ আসলে বলতে পারবে না যে ভালো লাগেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা আজগর আলী বলেন, বছরের সারাটা সময়ই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে পর্যটকদের আনাগোনা থাকে কিন্তু বছরের দুটি ঈদে এখানে মিলনমেলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এইবার ছুটি বেশি তাই মানুষ ঘোরাফেরার সুযোগ পেয়েছে।
আজকেও পর্যটকের ভিড় অনেক। আগামীকাল আরো বাড়বে মনে হচ্ছে।
নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা দেখেছি অন্যান্য বারের চেয়েও এবার দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি। ঈদের লম্বা ছুটি পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্গাপুরের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরতে আসছেন অনেক মানুষ। শুরু থেকেই আমাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
২০২১ সালের ১৭ জুন জিআই পণ্য সনদ পায় এ দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুরের পর্যটন স্পট সাদা মাটি। সাদা মাটির পাহাড় ছাড়াও পাহাড়ি কন্যা নামে খ্যাত সোমেশ্বরী নদী, বিজয়পুর জিরো পয়েন্ট, কমলা বাগান, রানীখং মিশন, রাশি মণি স্মৃতিসৌধ, পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীর পাহাড়, ফান্দা ভ্যালিসহ রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য পর্যটন স্পট।