<p>তেল আছে, তেল নেই, এই অনিশ্চয়তার মধ্যে পাম্পে যাওয়া আসা করতে করতে সময়ক্ষেপণ ও তেল না পেয়ে বাইকাররা বিকল্প খুঁজছে। এখন তারা স্বল্প দূরত্বে বাইসাইকেল ব্যবহার করছেন।</p> <p>শনিবার (১৮ এপ্রিল) টঙ্গী-কালীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক ও আশপাশের সড়কে এ দৃশ্য প্রায়ই চোখে পড়েছে।</p> <p>জানা যায়, দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়েছে পুরো দেশে। গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী, পূবাইল ও কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আগের তুলনায় বাইসাইকেলের সংখ্যা বেড়েছে। অনেকে বলছেন, যারা বাইক চালিয়ে স্বল্প দূরত্বে যাতায়াত করতেন, তারা এখন বাইসাইকেল ব্যবহার করছেন। জ্বালানির সংকট যতই তীব্র হচ্ছে, বাইকারদের বাইসাইকেল ব্যবহার ততই বাড়ছে। কখনো কখনো একটি বাইসাইকেলে একাধিক যাত্রীও দেখা গেছে।</p> <p>ভুক্তভোগীরা বলছেন, পাম্পগুলোতে কোথাও দীর্ঘ লাইন, আবার কোথাও দিনের অধিকাংশ সময় ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে বাইসাইকেলের দিকে ঝুঁকছেন অনেক বাইকার। যারা নিয়মিত মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন, তারাই এখন স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বে বাইসাইকেল ব্যবহার করছেন।</p> <p>টঙ্গী-কালীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে বাইসাইকেল চালক পূবাইল বড়দল এলাকার বাসিন্দা ও নিয়মিত বাইকার রনিক ভূইয়া বলেন, পাম্পে সব সময় তেল পাওয়া যায় না। আবার তেল এলেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে। কাজের চাপ সামলাতে বাধ্য হয়ে এখন সাইকেল ব্যবহার করছি।</p> <p>কালীগঞ্জের পিপুলিয়া রেলক্রসিং এলাকায় বাইসাইকেল চালক সাইদ মিয়া জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া মোটরসাইকেল বের করছেন না। কেউ কেউ পুরোপুরি সাইকেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।</p> <p>এদিকে, সড়কে সাইকেলের সংখ্যা বাড়তে দেখা গেছে, যা একদিকে জ্বালানি সংকটের প্রতিচ্ছবি, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের দিকেও ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।</p> <p>স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। না হয় ফেলে রাখা বাইসাইকেলই হয়ে উঠবে বাইকের বিকল্প।</p>