রংপুরের কাউনিয়ায় হজে পাঠানো ও চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার আসামি কলেজ শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বাবুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন। এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে রংপুর নগরীর একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলী বাবু কাউনিয়া উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের গধাদর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি স্থানীয় মীরবাগ কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হজে পাঠানো এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করতেন বাবু। তার কথায় বিশ্বাস করে অনেকে লাখ লাখ টাকা দিলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কেউ হজে যেতে পারেননি, আবার চাকরিও পাননি। পরে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, মোহাম্মদ আলী বাবুর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে নীলফামারী থানায় দুটি এবং রংপুর আদালতে আরো তিনটি মামলা রয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত চলাকালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। এমনকি তিনি নিজ এলাকার বাড়িতেও যেতেন না এবং কলেজেও অনিয়মিত হয়ে পড়েন।
একাধিক মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে পুলিশ তার অবস্থান শনাক্তে প্রযুক্তির সহায়তা নেয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে রংপুর নগরীর একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। বিশেষ করে বিদেশে পাঠানো, হজের ভিসা ও চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেন। পরে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন শিক্ষক পরিচয়ের ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন প্রতারণার অভিযোগ উঠায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, শিক্ষকের মতো সম্মানজনক পেশায় থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন জানান, ‘গ্রেপ্তার কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে রংপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, প্রতারণার ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাগুলোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।




