ঝড়ে শিকড়সহ মাটিতে পড়ে যায় গাছটি। এভাবে ছিল প্রায় এক মাস। গাছটি বিক্রি করা হয়। ডালপালাসহ গাছের অনেক অংশ কেটে ফেলা হয়। এরই মধ্যে এক সপ্তাহ হলো গাছটি কাটা অংশ নিয়ে ঠিক আগের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে। দেখে মনেই হবে না এটি মাটিতে পড়া অবস্থায় ছিল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় এমন একটি গাছ নিয়ে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে গেছে। মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের ওই গাছ দেখতে শত শত উৎসুক মানুষ এসে ভিড়ে জমাচ্ছেন। গাছের শিকড়, ছাল নেওয়ার জন্য দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন মানুষ। অনেকে মানত করছেন। কেউ কেউ ভিডিও করছেন, ছবি তুলছেন। বিকেল হলে ভিড় বেড়ে যায়।
এলাকার মানুষ বলছেন, ঘটনাটি অলৌকিক। এভাবে মাটিতে পড়ে যাওয়া গাছ উঠে যেতে কখনো শুনেননি। এ ছাড়া এভাবে কাটার পর গাছ দাঁড়িয়ে থাকার অভিজ্ঞতাও কারো নেই। যা হয়েছে সব সৃষ্টিকর্তার ইশারাতেই এমন হয়েছে। তারা গাছটিকে দেখেশুনে রাখছেন। কাঠুরিয়াও জানালেন তার অভিজ্ঞতার কথা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সরজমিন দেখা যায়, স্থানীয় মুন্সীবাড়ির একটি পুকুর পাড়ে ডালপালাহীন গাছের একটি অংশ দাঁড়িয়ে আছে। উচ্চতায় প্রায় ১৫ ফুটের মতো ওই অংশটি কিছুটা সামনের দিকে হেলে পড়া। গাছের নিচের কয়েক ইঞ্চি বাদে বাকিটা কাটা। আগের মতোই শিকড়সহ গোড়ার অংশ মাটির ওপর ও নিচে দেখা যাচ্ছে। গাছের কাটা অংশ সামনেই ফেলে রাখা।
এদিকে গাছের নিচের অংশ লাল কাপড় দিয়ে পেঁচানো। অনেকেই এসে মোমবাতি, আগরবাতি জ্বালিয়ে দিচ্ছেন। গাছের অদূরে চারিদিকে নিশানা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পবিত্র হয়ে গাছের সামনে যাওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে। গাছের শিকড় সংগ্রহ করতে আসা এক নারীকে বেশ কিছু সময় গাছের সামনে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দোয়া পড়ছিলেন বলে জানলেন ওই নারী। রোগ-বালাইয়ের জন্য নিজের ও অন্যের জন্য শেঁকড় সংগ্রহের কথা বলেন তিনি।
মুন্সী বাড়ির পরিবারের সদস্য শারমীন সুলতানা দাবি করেন, তিনি গাছটি পড়তেও দেখেছেন এবং উঠার সময়ও দেখেছেন। মাসদেড়েক আগে প্রচণ্ড ঝড়ে গাছটি পড়ে যায়। গাছটি কেটে টুকরো টুকরো করার পর হঠাৎ উঠে দাঁড়ায়। দেখামাত্রই তিনি চিল্লাফাল্লা করেন। এরপর বাড়িসহ আশপাশের লোকজন বিষয়টি দেখেন।
পরিবারের সদস্য আবুল বাশার মুন্সী বলেন, ‘এটি আমার এক ভাতিজার গাছ। প্রচণ্ড ঝড় তুফানে বড় আকারের এক গাছটি পড়ে যায়। পরে বিক্রি করে দেওয়া হয়। গাছ কাটার পর এটি আবার দাঁড়িয়ে যায়। এটা সরাসরি আল্লাহর কুদরত।’
গাছের মালিক মাহবুব মুন্সী বলেন, 'আল্লাহতায়ালাই ভালো জানেন কিভাবে কি হয়েছে। এখন গাছ দেখতে প্রতিদিন শত শত লোক আসেন। মানত করেন। আগরবাতি, মোমবাতি জ্বালান। অনেকে শেকড় নেন। তাদের ধারণা এতে রোগবালাই ভালো হবে।’
আঁখি বেগম নামে প্রতিবেশী বলেন, ‘গাছটি পড়ে থাকার সময় এর ওপর দিয়ে চলাচল করেছি। এরপর গাছটির ডালপালা ছেটে টুকরো টুকরোও করা হয়। এখন গাছটি দাঁড়িয়ে গেছে। আমরা যতটুকু পারি গাছটিকে সম্মান করে যাচ্ছি।’
আরেক প্রতিবেশী ফরিদ মুন্সী বলেন, ‘গাছটি উঠে যাওয়ার খবর পেয়ে ছুটে আসি। এখনো গাছটি কাটা অংশসহ দাঁড়িয়ে আছে। এটা আল্লাহর অশেষ রহমত। তিনিই ভালো বলতে পারবেন কেন এমন করেছেন। গাছটি দেখতে শত শত মানুষ ছুটে আসছে।’
কাঠুরিয়া মো. আমিন মিয়া বলেন, ‘গাছটি ঝড়ে মাটিতে পড়ে যায়। শিকড়সহ উল্টে যায়। মাটিতে থাকা অবস্থাতেই আমি গাছটি কাটতে শুরু করি। ডালপালা কাটার পর আবার গাছটি দাঁড়িয়ে যায়।’ তার দাবি, গাছে জিন-ভূত বলে কিছু নেই। তবে মানুষ ভিড় করছে গাছটি দেখতে।