বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো পরিছন্নতাকর্মী ও তার দুই মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং সিসি টিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিতে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্বজন ও এলাকাবাসী।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বরগুনা পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীর সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মরদেহ হাতে পাওয়ার পরপরই শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্বজনরা। তারা লাশ নিয়ে শহরের প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘ইতি রানী ও তার দুই কন্যা হত্যার বিচার চাই, ‘ধর্ষকদের ফাঁসি চাই, ‘ফাঁসি চাই-ফাঁসি চাই’সহ নানা স্লোগান দেয়। বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌরশহরের কালীবাড়ি এলাকার নিহতদের বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়।
গত বুধবার বিকেল ৪টার দিকে বরগুনা শহরের থানাপাড়া এলাকার জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী (৩৪) ও তাঁর দুই মেয়ে আরাধ্য বিশ্বাস (১১) ও অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) লাশ উদ্ধার করা হয়। ইতি জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর অস্থায়ী কর্মচারী ছিলেন (পরিচ্ছন্নতাকর্মী)। তিনি বরগুনা পৌরসভার কালীবাড়ি সড়কের দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বরগুনা জেলা শাখা সভাপতি আইনজীবী সুশান্ত কুমার বেপারীর সভাপতিত্বে বিকেল ৪টা দিকে একই দাবিতে শহরের প্রধান সড়কের মানববন্ধন করে সর্বস্তরের নাগরিকরা। বরগুনার জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে মাসহ ২ শিশুর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন লাশ ময়নাতদন্তে সময়ক্ষেপণ করে মৃত্যুর ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। যদি এই কাজ করা না হয় তাহলে সারা বাংলাদেশে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বরগুনা জেলা শাখা সহসভাপতি মানিক সিকদার, কালীবাড়ি মন্দির কমিটি উপদেষ্টা মিলন দাস। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বরগুনা জেলা শাখা সদস্য আইনজীবী বাবুল দাস, বরগুনা আখড়াবাড়ী মন্দির কমিটির সদস্য খোকন কর্মকার, বরগুনা জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদুজ্জামান টিপন।





