• ই-পেপার

কক্সবাজারে ৫ লাখ ৭২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া

অবহেলার সেতু অবশেষে ভাঙল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
অবহেলার সেতু অবশেষে ভাঙল
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা গ্রামে কংস নদীর ওপরের ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি রবিবার ভোরে বালুবোঝাই ট্রাক নিয়ে ভেঙে পড়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ

২৫ বছর আগের বেইলি সেতু। ঝুঁকিপূর্ণ ছিল দীর্ঘদিন ধরে। সেতুর দুই প্রান্তে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সেতু’ লিখে সাইবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। লেখা ছিল ‘ভারী যানবাহন চলাচল নিষেধ’। 

নিষেধাজ্ঞার সাইবোর্ড থাকলেও ভারী যান নিয়ন্ত্রণের জন্য ছিল না কেউ। ফলে নিষেধাজ্ঞা মানা হতো না। রবিবার (৭ জুন) ভোরে অতিরিক্ত বালুবোঝাই ট্রাকের চাপে সেতুটি ভেঙে পড়ে।

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা গ্রামে কংস নদীর ওপর সেতুটির অবস্থান। এটি ভেঙে পড়ায় এ উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। নানা বিকল্প উপায়ে মানুষ চলাচল করছে। তবে তাতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

সেতু ভেঙে পড়ার পর স্থানীয় বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, বছরের পর পর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কিন্তু এলজিইডি এটি  ঠিকঠাক সংস্কার করেনি। মাঝে মাঝে ছোটখাটো সংস্কার হলেও তাতে তেমন লাভ হয়নি। তাদের ভাষ্য, কংস নদীর মতো খরস্রোতা একটি নদীর ওপর দীর্ঘ সময় ধরে বেইলি সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও কর্তৃক্ষের গুরুত্ব না দেওয়া অবহেলার শামিল।

স্থানীয়দের দাবি, গারো পাহাড়ের কোলঘেঁষা ভারতের মেঘালয় সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলাটি প্রাকৃতিক সৌর্ন্দযের জন্য পর্যটনের সম্ভাবনাময় একটি জনপদ। তবে সেখানে পর্যটনশিল্পের বিকাশ হতে পারেনি যাতায়াতব্যবস্থার কারণে।

ময়মনসিংহ থেকে ধোবাউড়া যেতে পার হতে হয় কংস নদী আর নেতাই নদ। দুটিই পাহাড়ি নদী। পাহাড়ি ঢলের কারণে বর্ষাকালে খরস্রোতা। দুটি নদীতে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু। সেতু দুটি সরু আর নড়বড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে উপজেলাবাসী ঝুঁকি নিয়ে এ সেতু দিয়ে চলাচল করছে।

ধোবাউড়া উপজেলার বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক মোখলেছুর রহমান শিক্ষকতা করেন তারাকান্দা উপজেলা উপজেলার একটি কলেজে। সেতু ভাঙার কারণে আজ ডিঙি নৌকায় করে পার হয়েছেন খরস্রোতা কংস। মোখলেছুর রহমান বলেন, সপ্তাহের পাঁচ দিন আমাকে কলেজে যেতে হয়। সেতু ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই কষ্ট করতে হবে। আমার মতো অনেক নারী ও শিশুকেও ডিঙিতে করে কংস পার হতে হয়েছে।

ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী ইন্দু ভুষণ বিশ্বাস বলেন, ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা যেভাবে বলবে আমরা সেরকম ব্যবস্থা নেব। আপাতত মানুষ বিকল্প পথে চলছে। কেউ কেউ নৌকায় করে কংস নদী পার হয়ে যাতাযাত করছেন। মানুষের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত সংস্কারের চেষ্টা করা হবে।

ধোবাউড়া উপজেলা কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা হওয়ার আগে থেকেই ধোবাউড়া অবহেলিত একটি জনপদ। ১৯৮৩ সালে উপজেলা হয় ধোবাউড়া। শুরুতে এটি নেত্রকোনা জেলার সঙ্গে। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ধোবাউড়া সংসদীয় আসন হিসেবে যুক্ত হয় ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সঙ্গে। দীর্ঘ সময় কখনো ধোবাউড়া উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে কেউ সংসদ সদস্য হতে পারেননি। এ কারণে বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার মতো ধোবাউড়ার উন্নয়ন হয়নি।

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ইতোমধ্যে প্রধান প্রকৌশলীকে ফোন করে সেতুটি সংস্কারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছি।

দামুড়হুদায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ২ কর্মী গ্রেপ্তার

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
দামুড়হুদায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ২ কর্মী গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে প্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (৭ জুন) দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের তারানীপুর গ্রামের আক্কেল আলীর ছেলে হাফিজুল ইসলাম (২৬) এবং একই গ্রামের মিরাজুল ইসলামের ছেলে মমিনুল হক আকাশ (২৮)। শনিবার (৬ জুন) রাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন রাতে উপজেলার চিতলা গ্রামে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাজু আহমেদ রিংকুর নেতৃত্বে একটি মশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পরদিন দামুড়হুদা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো ৪০ থেকে ৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। গ্রেপ্তাররা ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, ‘মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার তাদের চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

নাটোরে আ. লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরে আ. লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার
মইনুল হক চুনু ও মাহিদুল ইসলাম মানিক। ছবি : সংগৃহীত

নাটোরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা মইনুল হক চুনুসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ জুন) গভীর রাতে চুনুর বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তার মইনুল হক চুনু সিংড়ার কলম ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামের মৃত লাল প্রামাণিকের ছেলে। তিনি কলম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। মাহিদুল ইসলাম মানিক সিংড়ার চামারী ইউনিয়নের বিলদহর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। তিনি চামারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। 

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে নাশকতা মামলা রয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মির্জাপুরে মুদি দোকান থেকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
মির্জাপুরে মুদি দোকান থেকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১
সংগৃহীত ছবি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মুদি দোকানে অভিযান চালিয়ে ৩৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ সাথী আক্তার নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (৭ জুন) সকালে টাঙ্গাইলের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের ইন্সপেক্টর সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের মাঝালিয়া বাজারের একটি মুদি দোকানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন।

জানা গেছে, মাঝালিয়া গ্রামের বাদল মিয়ার স্ত্রী সাথী আক্তার মাঝালিয়া বাজারে মুদি দোকানের আড়ালে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের ইন্সপেক্টর সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে মাঝালিয়া বাজারে সাথীর দোকানে অভিযান চালান। এ সময় দোকানে তল্লাশি চালিয়ে ৩৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মাদক বিক্রির অপরাধে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

টাঙ্গাইলের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের ইন্সপেক্টর সাইফুর রহমান বলেন, ‘সাথী আক্তারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’