• ই-পেপার

সাঁতার না জেনে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ গেল শিশুর

দস্যুমুক্ত সুন্দরবন ঘোষণার আট বছর: থামেনি অপরাধ কর্মকাণ্ড

দস্যুদের হাতে ফের অস্ত্র নিষিদ্ধ সময়েও দস্যুতা সক্রিয় ১৫টি বাহিনী

এইচ এম আলাউদ্দিন, খুলনা
দস্যুমুক্ত সুন্দরবন ঘোষণার আট বছর: থামেনি অপরাধ কর্মকাণ্ড
সম্প্রতি কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে ছোট সুমন বাহিনীর প্রধানসহ দলের সাত সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের  মানুষের প্রাকৃতিক নিরাপত্তাবলয় ও তাদের জীবিকার অন্যতম উৎস। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার প্রায় ৩৫ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল এই বন ঘিরে। 

প্রতিবছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে, যাতে মাছ, বন্যপ্রাণীর প্রজনন নির্বিঘ্ন হয়। কিন্তু নিষিদ্ধ সময়েও থেমে নেই অপরাধ কর্মকাণ্ড। বরং বনদস্যুদের পুনরুত্থান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, বিষ দিয়ে
মাছ শিকার এবং অভয়ারণ্যে শুঁটকি উৎপাদনের মতো কর্মকাণ্ড নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। ধারাবাহিক আত্মসমর্পণের মাধ্যমে ৩২টি বাহিনীর ৩২৮ জন সদস্য অস্ত্র জমা দিয়েছিলেন সরকারের কাছে। কিন্তু সেই ঘোষণার আট বছর পার না হতেই  আবারও দস্যুবাহিনীর তৎপরতায় উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্য কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করলেও সুন্দরবনে এখনো ১৫ থেকে ২০টি বাহিনী সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি বনজীবী ও স্থানীয়দের।

নিষিদ্ধ সময়েও চলছে অবৈধ বাণিজ্য

স্থানীয় সূত্র বলছে, বৈধভাবে বন প্রবেশ বন্ধ থাকায় নিষিদ্ধ সময়কে কাজে লাগাচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্র। অনুপ্রবেশকারীরা সুন্দরবনের অভয়ারণ্য ও নিষিদ্ধ এলাকায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করছে। পরে বনের ভেতরই অস্থায়ী ঘাঁটিতে মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করে তা বাইরে পাচার করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বনদস্যুদের সহযোগিতায় এই কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

বনসংলগ্ন এলাকার জেলে-বাওয়ালীদের দাবি, বনের বাইরে অবস্থান করা কিছু ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাদের মতে, মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের তালিকা বিশ্লেষণ করলেই দস্যুদের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা সম্ভব।

যে কারণে ফিরল দস্যুতা 

স্থানীয়দের একটি বড় অংশ মনে করে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সুন্দরবনে দস্যুতার পুনরুত্থান শুরু হয়। তাদের মতে, চারটি প্রধান কারণ এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। এগুলো হচ্ছে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অবসান, আত্মসমর্পণকারীদের সামাজিক অবজ্ঞা, একের পর এক মামলার চাপ এবং পুনর্বাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতা, যা দমন করতে ৫ আগস্ট পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

গোয়েন্দা ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০১২ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আত্মসমর্পণ করা অনেক সাবেক দস্যুকে পরবর্তীতে স্থানীয় রাজনৈতিক বলয়ে ব্যবহার করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার, ঘের দখল এবং শক্তি প্রদর্শনের কাজে তাদের কাজে লাগানো হতো। এর বিনিময়ে তারা রাজনৈতিক আশ্রয় ও প্রশাসনিক সুবিধা পেত। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে গেলে সেই আশ্রয়ও হারিয়ে যায়। একই সঙ্গে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা না পাওয়া, কর্মসংস্থানের অভাব এবং আইনি হয়রানির অভিযোগে অনেক সাবেক দস্যু আবার পুরনো পথে ফিরে যায়। 

টোকেনের দাপটে বনজীবীদের জীবন 

সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় এখনও দস্যুদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বহাল রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বনজীবীদের ভাষ্য, বনে প্রবেশের আগে নির্দিষ্ট বাহিনীর কাছে চাঁদা বা মুক্তিপণের অর্থ পরিশোধ করলে একটি বিশেষ টোকেন দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে এক, দুই বা পাঁচ টাকার নোটের সিরিয়াল নম্বরই সেই টোকেন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু এক বাহিনীর টোকেন অন্য বাহিনীর এলাকায় কার্যকর নয়। ফলে একই যাত্রায় একাধিকবার চাঁদা দিতে হয় জেলে, মৌয়াল ও বাওয়ালীদের। টাকা না দিলে অপহরণ, জিম্মি বা নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দস্যুদের অর্থ আদায়ে ‘মহাজন’ নামে পরিচিত কিছু ব্যক্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন। তাদের মাধ্যমেই চাঁদা আদায়, মুক্তিপণ সংগ্রহ এবং বনভিত্তিক অপরাধ চক্রের সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।

সক্রিয় ১৫টি বাহিনী 

বনজীবীদের তথ্যমতে, বর্তমানে সুন্দরবনে আলিফ (দয়াল) বা মজনু বাহিনী, ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী, দুলাভাই বাহিনী, নানা ভাই বাহিনী ও জোনাব বাহিনীসহ একাধিক দল সক্রিয়। এছাড়া বিভিন্ন সময় জাহাঙ্গীর, দাদাভাই, আসাবুর, রবি, রাঙ্গা, আনারুল, হান্নান, ভাই-ভাই এবং মামা-ভাগ্নে বাহিনীর নামেও চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগ পাওয়া যায়।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এসব বাহিনীর কাছে রাইফেল, পিস্তল, একনালা বন্দুক ও দেশি অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময় জেলে ও কাঁকড়া শিকারীদের অপহরণের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

পুনর্বাসনে ঘাটতি যেখানে 

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বনদস্যুদের আত্মসমর্পণে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা সাংবাদিক মহসীনুল হাকিম মনে করেন, পুনর্বাসন কার্যক্রমের ধারাবাহিক তদারকির অভাবই বড় সমস্যা। তার মতে, আত্মসমর্পণকারীরা কর্মসংস্থানে টিকে রয়েছে কিনা, পুনর্বাসন সহায়তা কার্যকর হয়েছে কিনা-এসব বিষয় দীর্ঘমেয়াদে পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। ফলে অনেকেই আর্থিক ও সামাজিক সংকটে পড়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে।

যা বলছে প্রশাসন 

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মেজবাউল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তার দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাপের মুখে দস্যুরা
আত্মসমর্পণে বাধ্য হবে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ এখনও উন্মুক্ত রয়েছে।

খুলনার আঞ্চলিক বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, নিষিদ্ধ সময় অনুপ্রবেশ, বিষ দিয়ে মাছ ধরা এবং বনদস্যুদের তৎপরতার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ড্রোন প্রযুক্তিসহ আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দস্যুমুক্ত সুন্দরবন গড়তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন বিশ্লেষণ করে এরইমধ্যে কিছু অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবনে প্রবেশে ফিঙ্গারপ্রিন্টভিত্তিক ব্যবস্থাও চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সুন্দরবনে দস্যুতার পুনরুত্থান কেবল আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি পুনর্বাসন, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং বনসম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই শুধু অভিযান নয়, অপরাধের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বগুড়া জেলা আ. লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মকবুল হোসেন আর নেই

বগুড়া অফিস
বগুড়া জেলা আ. লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মকবুল হোসেন আর নেই
মকবুল হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

বগুড়া জেলা পরিষদের তিন বারের সাবেক প্রশাসক, চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সিনিয়র সহসভাপতি ডা. মকবুল হোসেন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে শহরের নারুলী মধ্যপাড়া নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাধ্যর্কজনিত কারণে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সবর্মহলে পরিচিত ছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, দুই মেয়ে এবং নাতি-নাতনি, আত্মীয়-স্বজন, দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মময় জীবনের অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আরো পড়ুন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

 

তার জানাজা নামাজ বাদ এশা বগুড়া শহরের নারুলী মধ্যপাড়া রেল লাইন সংলগ্ন বুদা প্রামানিক কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ডা. মকবুল হোসেন বগুড়ার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি বগুড়া জেলা পরিষদে তিনবার প্রশাসক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। 

ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য তিনি ভাষাসৈনিক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ডা. মকবুল হোসেন ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বগুড়া জেলা পরিষদে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৭ সালে জেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। মেয়াদ শেষে ২০২২ সালে আবারো প্রশাসকের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। পরে নির্বাচনে তিনি পুনরায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১
ছবি : কালের কণ্ঠ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক মামলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মো. ইব্রাহীম (৩৩) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১২ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত যুবক শাহজাহানপুর ইউনিয়নের চরদূর্লভপুর গ্রামের শওকত আলীর ছেলে। 

নিহতের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১০ জুন) সকল সাড়ে ৮টার দিকে মাদক মামলায় হাজতে থাকা ফাহাদ নামের এক ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনরা মামলার খরচ নিয়ে ওই মামলায় জড়িত পলাতক আসামি একই গ্রামের রুবেলের বাবা মনিরুল ইসলাম ও তার লোকজনের সঙ্গে সালিশে বসে। কিন্তু সালিশে কোনো ফল না হওয়ায় উভয়পক্ষ সকাল ১০টার দিকে দেশি অস্ত্র, ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন ইব্রাহীম। তাকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক ১২টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একরামুল হোসাইন বলেন, মামলাসংক্রন্ত শত্রুতা নিয়ে সালিশের পর ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান ওসি।

চৌদ্দগ্রামে বৃদ্ধা মায়ের ঠাঁই হলো না ছেলের নতুন বিল্ডিংয়ে

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
চৌদ্দগ্রামে বৃদ্ধা মায়ের ঠাঁই হলো না ছেলের নতুন বিল্ডিংয়ে
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের ৯৬ বছর বয়সী বৃদ্ধা ছামেনা খাতুন।

৯৬ বছর বয়সী বৃদ্ধা ছামেনা খাতুন। অনাহারে-অর্ধাহারে জীবন যাপন করছেন। ছেলের নতুন বিল্ডিং ঘরে ঠাঁই হয়নি। দীর্ঘ বছর ধরে মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করতে হচ্ছে তাকে। এমন ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলকরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের ছামেনা খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্ম ১৯৩১ সালের ২২ নভেম্বর। ২০০৮ সালে স্বামী আবদুল হক মারা যান। ছামেনা খাতুনের তিন মেয়ে ও এক ছেলে। একমাত্র ছেলে ফয়েজ আহমেদ ২০০৬ সাল থেকে সৌদি আরব প্রবাসী। স্বামী মারা যাওয়ার পরে ছামেনা খাতুনের জীবনে দুর্দশা নেমে আসে। ২০১১ সালে ছামেনা বেগমকে তার ছেলে ফয়েজ আহমেদ ভরণপোষণ না দিয়ে পাশের বাড়ির বাসিন্দা মেয়ে রোকেয়া বেগমের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তার পর থেকে তার অবস্থান হয় রোকেয়া বেগমের বাড়িতেই। রোকেয়া বেগমের স্বামী নেই। দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার। দুই ছেলে দিন মজুরি করে পরিবার নির্বাহ করেন। কিন্তু ছামেনা খাতুনের খোঁজখবর রাখেন না একমাত্র ছেলে ফয়েজ আহমেদ। 

সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ছামেনা খাতুনের একমাত্র ছেলে ফয়েজ আহমেদ দেশে এলে গ্রামের সর্দারগণের অনুরোধে ছেলে মাকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। তৈরি করা হয় নতুন বিল্ডিং। ৪ মে ছেলে ফয়েজ আহমেদ আবারও সৌদি আরব চলে যান। তার পরই ছামেনা খাতুনকে নতুন বিল্ডিং ঘর থেকে বের করে দেন ফয়েজ আহমেদের স্ত্রী রুমা বেগম। গভীর রাতে ছামেনা খাতুনের সব মালামাল নিয়ে পার্শ্ববর্তী বাড়িতে তার মেয়ে রোকেয়া বেগমের ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

00

মেয়ে রোকেয়া বেগম বলেন, ‘আমার ভাই ফয়েজ আহমেদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তিনি দীর্ঘ বছর ধরে সৌদি আরবে থাকেন। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আমার ভাই ফয়েজ আহমেদ ও তার স্ত্রী রুমা বেগম মাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। ২০১১ সালে তারা আমার মাকে জোরপূর্বক আমার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে আমার অভাবের সংসার। তার পরও মায়ের সব ভরণপোষণ আমরাই দিয়ে যাচ্ছি। এ বছর আমার ভাই বাড়িতে এসে নতুন বিল্ডিং ঘর দেন। সমাজের লোকজনের অনুরোধে মাকে ভাই ফয়েজ আহমেদ ঘরে তুলে নিলেও তিনি সৌদি আরব চলে যাওয়ার পর ভাইয়ের স্ত্রী রুমা বেগম রাতের আঁধারে আমার মাকে বিল্ডিং ঘর থেকে বের করে দেন। বয়স হয়ে যাওয়ায় তিনি নানা জটিল রোগে ভুগছেন। 

বৃদ্ধা ছামেনা খাতুন বলেন, ‘আমাকে আমার ছেলে ঘর থেকে অনেক বছর আগে বের করে দিয়েছে। তারা আমার কোনো খোঁজখবর রাখে না। আমার তিন মেয়ে আমার ভরণপোষণ বহন করে।’

লক্ষ্মীপুর গ্রামের আবদুল মান্নান নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘ছামেনা খাতুনের দুর্দশা যেন কাটছেই না। একটি মাত্র ছেলেও তার ভরণপোষণ বহন করছে না। ২০১১ সাল থেকে তিনি মেয়ের বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। এবার তার ছেলে ফয়েজ আহমেদ দেশে আসলে আমাদের অনুরোধে মা ছামেনা খাতুনকে নতুন ঘরে নিয়ে যায়। কিন্তু ছেলে বিদেশ যাওয়ার পরদিনই নতুন বিল্ডিং ঘর থেকে ছামেনা খাতুনকে পুত্রবধূ রুমা বেগম রাতের আঁধারে বের করে দেয়। বর্তমানে যে মেয়ের বাড়িতে বসবাস করছেন, তারাও অসহায়। তাদের ঘরটিও জরাজীর্ণ।’ 

অভিযুক্ত রুমা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে মুঠোফোনের সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। তারপর একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

আলকরা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশর বুধবার বলেন, ‘আমি আসলে বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। খোঁজখবর নিয়ে গ্রামবাসীকে নিয়ে ছামেনা খাতুনের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।’ 

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে আমি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব প্রদান করব এবং ছামেনা খাতুনের ভরণপোষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’