• ই-পেপার

আ. লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না : প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

কন্যাশিশুকে ধর্ষণের মামলার পর বাড়ি ছাড়া ভুক্তভোগী পরিবার

অনলাইন ডেস্ক
কন্যাশিশুকে ধর্ষণের মামলার পর বাড়ি ছাড়া ভুক্তভোগী পরিবার

কিশোরগঞ্জে এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলার পর আসামিপক্ষের হুমকিতে সন্তানসহ বাড়িছাড়া হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। 

নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটানো পরিবারটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে কিশোরগঞ্জ শহরের আখড়াবাজার এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী শিশুর মা এসব অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে ওই নারী বলেন, তাদের বাড়ি সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের ভাবুন্দিয়া গ্রামে। মেয়েটির বাবা একজন মাটিকাটা শ্রমিক। মা মানুষের বাড়িতে কাজ করেন। তাদের দুই মেয়ে। সাড়ে সাত বছরের বড় মেয়ে স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। পাঁচ বছরের ছোট মেয়ে একই স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। 

তিনি বলেন, গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় বড় মেয়েকে প্রতিবেশি সৌদি প্রবাসী লিটন মিয়ার ছেলে (১৫) চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে মুখ চেপে তুলে নিয়ে যায়। এরপর আসামি তার বাড়ির পেছনে নিয়ে ধর্ষণ করে। মেয়েটি বাড়িতে এসে মায়ের কাছে ঘটনার বিবরণ দিলে পরদিন মা বাদী হয়ে ওই কিশোরকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সদর থানায় মামলা করেন। এদিনই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানোর আদশে দেন। অভিযুক্ত বর্তমানে গাজীপুর কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে আছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মামলা করার পর থেকেই অভিযুক্তের বাবা সৌদি থেকে ফোন করে বাদী পক্ষকে কেটে টুকরো টুকরো করে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। আসামির চাচা বাদল মিয়া, আল আমিন, আরজু মিয়া, বাবুল মিয়া, চাচাত ভাই উজ্জ্বল ও রায়হানসহ স্বজনরা বাড়িতে গিয়ে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন। প্রাণ ভয়ে মেয়েদের নিয়ে মা এখন কিশোরগঞ্জ পৌরসভার কানিকাটা এলাকায় বোনের মেয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। এখন দুই মেয়ের মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে আছে। মেয়েদের বাবা কেবল ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতে থাকেন। শিশুটির মা পুলিশ বিভাগ ও প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা দাবি করেছেন। ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেছেন।

আজ দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

অনলাইন ডেস্ক
আজ দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

জরুরি মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য শনিবার (২০ জুন) চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার বেশকিছু এলাকায় দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। 

গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গার ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি থেকে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বেশকিছু এলাকায় শনিবার টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না। এ বিষয়ে নেসকো চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী মো. জুলফিকার আলীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট ৭ ঘণ্টা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক প্রশস্তকরণে শিবগঞ্জ ৩৩ কেভি লাইন স্থানান্তরের কাজ করা হবে। ফলে এই সময়ে নেসকো চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তরের আওতাধীন এলাকায় গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বার্থে সাময়িক এই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে নেসকো কর্তৃপক্ষ।

এদিকে বিদ্যুৎ লাইনের পার্শ্ববর্তী গাছপালা কর্তন কাজের জন্য শনিবার চুয়াডাঙ্গার বেশকিছু এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। 

চুয়াডাঙ্গা ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চুয়াডাঙ্গার বড়বাজার ফিডার ও নিউ মার্কেট ফিডারের আওতাধীন এলাকায় ১১ কেভি লাইনের পার্শ্ববর্তী গাছপালার শাখা-প্রশাখা কর্তন কাজের জন্য শনিবার সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট ৯ ঘণ্টায় বেশকিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এই এলাকাগুলো হলো—রড়বাজার ফিডারের দৌলোদিয়ার সরদার পাড়া, দৌলোদিয়ার স্কুল পাড়া, দৌলোদিয়ার ফায়ার সার্ভিস পাড়া ও দৌলোদিয়ার বঙ্গজ পাড়া এবং নিউ মার্কেট ফিডারের বড়বাজার নিউমার্কেট এলাকা, মুক্তি পাড়া, থানা রোডের দুই পাশ, দৌলোদিয়ার দক্ষিণ পাড়া ও দৌলোদিয়ার কোরিয়া পাড়া এলাকা। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করা হবে।

সাময়িক এ অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের সহযোগিতা কামনা করেছে চুয়াডাঙ্গা ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ।

আবুধাবিতে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
আবুধাবিতে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু
দিদারুল ইসলাম চৌধুরী

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার দক্ষিণ–পূর্ব রাউজানের বাসিন্দা দিদারুল ইসলাম চৌধুরী (৬০) আবুধাবির একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তিনি স্থানীয়ভাবে ‘বাইট্টা দিদার’ নামে পরিচিত ছিলেন। দিদারুল ইসলাম মরহুম সুলতান আহমদ সওদাগরের কনিষ্ঠ সন্তান এবং দীর্ঘ এক যুগ ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ সেখানকার পুলিশ উদ্ধার করে।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৭ জুন সকালে আবুধাবির আল মোল্লা সিটির একটি চারতলা আবাসিক ভবনে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দ্রুত বের হয়ে আসতে সক্ষম হলেও দিদারুল ইসলাম আর বের হতে পারেননি। ওই সময় তিনি ভবনের একটি টয়লেটে ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবনটি সিলগালা করে দেয়। পরে দিদারুল ইসলামকে খুঁজে না পেয়ে তাঁর স্বজন ও সহকর্মীরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোনে রিং হলেও তিনি সাড়া দেননি। এতে তাঁর অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

পরদিন ১৮ জুন বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভবনের একটি টয়লেট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আবুধাবি পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

নিহতের স্বজন শাহ আলম ও সাইফুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেন, আগুনের তাপ কিংবা ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

আবুধাবি প্রবাসী স্বজন আবু জাফর বলেন, ‘দিদার ভাইয়ের মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।’

দিদারুল ইসলামের মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
 

ভাতিজির বিয়েতে বরকে মিষ্টি মুখ করাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে চাচার মৃত্যু

নড়াইল সংবাদদাতা
ভাতিজির বিয়েতে বরকে মিষ্টি মুখ করাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে চাচার মৃত্যু
ছবি: কালের কণ্ঠ

নড়াইলে ভাতিজির বিয়ের অনুষ্ঠানের গেটে বরকে মিষ্টি মুখ করাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে নকুল মল্লিক (৫২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার মুশুড়িয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।  

নকুল মল্লিক একই গ্রামের সতীশ চন্দ্র মল্লিকের ছেলে। 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে নকুল মল্লিকের ভাতিজির বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। একই উপজেলার ধোপাখোলা এলাকা থেকে বরযাত্রীরা রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বিয়ে বাড়ির গেটে পৌঁছায়। এসময় জামাইকে বরণ করতে অন্যদের সঙ্গে গেটে যান নকুল মল্লিক। জামাইকে মিষ্টি মুখ করাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত গেটের সাজসজ্জায় ব্যবহৃত বিদ্যুতের তারে স্পর্শ লেগে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।