• ই-পেপার

সরকারকে খুশি নয়, জনগণের স্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে : প্রতিমন্ত্রী অমিত

মাধবপুরে ইজারা ছাড়াই অবাধে বিক্রি হচ্ছে সিলিকা বালু

ধ্বংসের মুখে দুটি রাবার ড্যাম

আবুল হাসান ফায়েজ, মাধবপুর(হবিগঞ্জ)
মাধবপুরে ইজারা ছাড়াই অবাধে বিক্রি হচ্ছে সিলিকা বালু
ছবি: কালের কণ্ঠ

হবিগঞ্জের মাধবপুরের রঘুনন্দন পাহাড় ও সোনাই নদী থেকে অবাধে চলছে সিলিকা বালুর লুটতরাজ। সরকারের কোন ধরনের অনুমোতি না নিয়েই প্রশাসনের চোখে আঙ্গুল দিয়ে রঘুনন্দন পাহাড়, সুরমা ও তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ছড়া, সোনাই নদীর বিভিন্ন স্থানে শতাধিক ড্রেজার বসানো হয়েছে।

এসব অবৈধ মেশিন দিয়ে দৈনিক ২-৩ লাখ ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। নদী ও পাহাড় ধ্বংস করে উত্তোলীত বালু ট্রাক ট্রাক্টর যোগে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের উদাসীনতা বালু চোর সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে ওঠছে।

অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতা, উপজেলা ও ভূমি প্রশাসনের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মচারী এই বালু চুরিত সক্রিয়।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রঘুনন্দন পাহাড়ের শাহজিবাজার রাবার বাগান সংলগ্ন খেলার মাঠ, রাবার বাগানের সাতপাড়িয়া ছড়া, মনতাজ শাহ মাজারের পাশে  তেতুল তলা ছড়া, জেদ্দা ছড়া, সুরমা চা বাগানের রসুলপুর ছড়া, তেলিয়াপাড়ার চা বাগানের সীমনা ছড়া, সোনাই নদীর বোরহানপুর, ভবানীপুর, দূর্লভপুর, আফজলপুর ও বহরা, চৌমুহনী রাবার ড্যাম এলাকার কাশিমপুর, আলাবক্সপুর, মনোহরপুর, মঙ্গলপুর, গাজীপুর, আশ্রবপুর মৌজাসহ আশপাশের এলাকায় শতাধিক মেশিন বসিয়ে চলছে বালু উত্তোলন। মেশিন দ্বারা অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে সোনাই নদীতে স্থাপিত রাবার ড্যাম দুটি ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য মনতলা সাধারণ বালু মহালটি ইজারা নেন মাধবপুর পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মো. ফিরোজ মিয়া। মেসার্স শারমীন এন্ট্রারপ্রাইজ নামে ফিরোজের প্রতিষ্টান ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য ১১০০১০০০১৪১৫২০১ নং স্মরাকে ইজারা গ্রহণ করেন কিসমতপুর কিসমত ও মনোহরপুর এই দুটি মৌজার সাধারণ বালু ইজারা নিয়ে সোনাই নদীর বারার ড্যাম এলাকাসহ ৩০টি মৌজা থেকে সিলিকা বালু বিক্রির অভিযোগ ওঠেছে তার বিরুদ্ধে।

খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৪৩০ বাংলা সনে উপজেলার রসুলপুর, মনতলা ও মনতলা চৌমুহনী বালু  কোয়ারী (অংশ-০১)-৫৬৫ স্মারকের ইজারা দেওয়া হয়েছিল ২০২৩ সালে। ইজারাকৃত ওই তিন কোয়ারীর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে ২০২৫ সনের ১৩ এপ্রিল।

সিলিকা বালু কোয়ারীর মেয়াদ শেষ হলেও মনতলা ও চৌমুহনী মহালের সোনাই নদী ও রসুলপুর এলাকা থেকে হরদম চলছে ট্রাক, ট্রাক্টর যোগে বালু বিক্রি। আর এসব বালু পরিবহন হচ্ছে সাধারন বালু মহালের রশিদে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকায় পকেটভারী হচ্ছে স্থানীয় সিন্ডিকেটের। অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধে আবেদন করা হলেও প্রশাসনের জোড়ালো ভূমিকা না থাকায় আক্ষেপ প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে বালু মহাল ইজারাদার মাধবপুর পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি ফিরোজ মিয়া মোবাইলফোনে সিলিকা বালু বিক্রি ও উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘সাধারণ মহাল থেকে বালু বিক্রি করা হচ্ছে।’ 

আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে ইপিজেড শ্রমিকদের মানববন্ধন

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে ইপিজেড শ্রমিকদের মানববন্ধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

সাভারে আশুলিয়ায় বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়াসহ চার মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শ্রমিকরা। এ সময় তারা বেপজার আইন অনুযায়ী সব শ্রমিক-কর্মচারীর সার্ভিস বেনিফিট ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবি জানান।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে ঢাকা রপ্তানীকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) ভেতরে অবস্থতি এল. এস. আই ইন্ড্রাস্টিজ লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পলাশবাড়ি এলাকায় এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

আয়োজিত মানববন্ধন থেকে শ্রমিকরা জানান, চার মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ না করায় শ্রমিক-কর্মচারী ও তাদের পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এজন্য শ্রমিকরা অবিলম্বে বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়াসহ বকেয়া বেতন-ভাতা, ঈদ বোনাস, সার্ভিস বেনিফিটসহ যাবতীয় পাওনা পরিশোধের দাবি জানান। অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, কারখানা বন্ধ ঘোষণার পরও কর্তৃপক্ষ পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করছে না।

মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগী শ্রমিক-কর্মচারীরা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এসময় শ্রমিকরা রাস্তায় বসে পড়ার চেষ্টা করলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে সরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে বসে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়ে হলে শ্রমিকরা চলে যায়।

সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র সাময়িক বন্ধ ঘোষণা
ছবি : কালের কণ্ঠ

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া বৈরী পরিস্থিতিতে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

স্থানীয়রা জানায়, পাহাড়ি ঢলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে করে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের যে স্থানে পর্যটকরা ঘুরে থাকেন সে অংশ এক থেকে দেড় ফিট পানিতে ডুবে আছে। পাহাড়ি ঢলে পর্যটনকেন্দ্রের অর্ধশতের মতো দোকানপাট ভেসে গেছে। পাশাপাশি পানিতে স্রোতের টান বেশি। এ রকম পরিস্থিতিতে সাদাপাথরে ঘুরতে যাওয়া বিপজ্জনক বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিন মিয়া। তিনি বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলে পর্যটনকেন্দ্র প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় অনেক দোকানপাটও তলিয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরা পর্যটনকেন্দ্র সাময়িক বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটনকেন্দ্রটি খুলে দেওয়া হবে।’

‘একটাও সামনে আবি না, মাইরা ফেলামু’—যুবলীগের মিছিল থেকে পুলিশকে হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
‘একটাও সামনে আবি না, মাইরা ফেলামু’—যুবলীগের মিছিল থেকে পুলিশকে হুমকি
সংগৃহীত ছবি

‘ওই, একটাও সামনে আসবি না। একটাও সামনে আসবি না। মাইরা ফালামু, মাইরা ফালামু। একটাও সামনে আসবি না।’—পুলিশের উদ্দেশে চিৎকার করে এমন হুংকার দেওয়া হয়েছে যুবলীগের মিছিল থেকে।

আজ রবিবার ভোরে গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানার ভোগড়ার কলম্বিয়া গার্মেন্টসের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ব্যানারে ওই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ওই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।

পুলিশ দেখে হুমকি ও মিছিলের একটি ভিডিও সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পুলিশ বলছে, ভিডিওটি তারা দেখেছে। এ বিষয়ে কাজ করছে পুলিশ।

ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের লৌহসামগ্রী বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান শাকিল এন্টারপ্রাইজের সামনে ২০ থেকে ৩০ জনের একদল যুবক ব্যানার নিয়ে মিছিল শুরু করে। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল হোক, সার্থক হোক’ এবং ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।’ ব্যানারের নিচে ‘গাজীপুর মহানগর যুবলীগ’ লেখা ছিল। ব্যানারের একপাশে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যপাশে গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আত্মগোপনে থাকা কামরুল আহসান সরকার রাসেলের ছবি ছিল। মিছিলের ওই ভিডিও নিজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করেন রাসেল।  

মিছিলকারীরা ‘রাজপথ ছাড়ি নাই, শেখ হাসিনার ভয় নাই’ এবং ‘যুবলীগের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ স্লোগান দিতে দিতে দ্রুত বোর্ডবাজারের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় মহাসড়কের বিপরীত দিক থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিছিলের দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে মিছিলকারীদের কয়েকজন তাদের লক্ষ্য করে চিৎকার করে করে ওই হুমকিমূলক বক্তব্য দিতে থাকেন।

নগরীর বাসন থানার ওসি হারুনুর রশিদ জানান, ভিডিওটি দেখেছি। এটি আজকের, নাকি আগের তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার কালের কণ্ঠকে জানান, আজকে সকালে মিছিলটি হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

টাঙ্গাইলে মিছিল

টাঙ্গাইলে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেছেন। আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের ভিক্টোরিয়া রোডের পোস্ট অফিসের মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। পরে তা বড় কালীবাড়ি মোড়ে গিয়ে শেষ হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

তবে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি বলে জানিয়েছেন সদর থানার ওসি রুহুল আমিন।