গোটা বছরের কর্মব্যস্ত জীবনের পর ঈদে ছুটির দিনগুলো যেন একটু স্বস্তি নিয়ে আসে সবার জীবনে। ঈদের ছুটিতে বেশিরভাগ মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম সিনেমা। টিভি কিংবা বড় পর্দায়, সিনেমা বা সিরিজ দেখা এখন মানুষের নিত্যদিনের অংশ হয়ে উঠছে। আর ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় এখন সবকিছুই মানুষের হাতের মুঠোয়।
ঈদের ছুটিতে সিনেমা দেখার মজাই যেন আলাদা! আর সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় একটা অংশ পছন্দ করেন থ্রিলারধর্মী সিনেমা। টান টান উত্তেজনাকর গল্প, একের পর এক সাসপেন্স আর রহস্যময়তা পর্দায় ধরে রাখে দর্শকদের। তাই থ্রিলার জনরার সিনেমা সবার পছন্দের শীর্ষে।
এই ঈদের ছুটির আমেজে ঘরে বসেই দেখে নিতে পারেন, এমন ৭টি থ্রিলার চলচ্চিত্র নিয়েই আজকের প্রতিবেদন।

নাইটক্রলার
নাইটক্রলার : এটি ২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আমেরিকান থ্রিলার চলচ্চিত্র, যার চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন ড্যান গিলরোয়ের। এতে জ্যাক গিলেনহাল লুই ‘লু-ব্লম’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে গভীর রাতে নানা রকম ঘটনা রেকর্ড করেন এবং একটি স্থানীয় টেলিভিশন নিউজ স্টেশনে ফুটেজ বিক্রি করেন।
তিনি উচ্চাভিলাষী, লোভী ও আত্মবিশ্বাসী।
রিনি রুসো, রিজ আহমেদ এবং বিল প্যাকসনও অভিনয় করেছেন এতে। চলচ্চিত্রের একটি সাধারণ থিম হল অনৈতিক সাংবাদিকতা। সিনেমাটির থ্রিল আপনাদের ভাল লাগবে তা বলাই যায়। আইএমডিবি‘তে ৭.৯ রেটিং রয়েছে এটির।

নো কান্ট্রি ফর ওল্ড ম্যান
নো কান্ট্রি ফর ওল্ড ম্যান : এটি ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আমেরিকান ওয়েস্টার্ন ক্রাইম থ্রিলার ফিল্ম।
যায়েল এবং ইথান কোয়েন রচিত এবং পরিচালিত সিনেমাটি ২০০৫ সালের কর্ম্যাক ম্যাকার্থির উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে। টমি লি জোন্স, জাভিয়ার বারডেম এবং জোশ ব্রোলিন অভিনীত এটি ১৯৮০ সালের পশ্চিম টেক্সাসের মরুভূমিতে টেক্সাসের ওয়েল্ডার এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের উপর নির্মিত হয়েছে। টান টান উত্তেজনা ও দারুণ সব টুইস্টের এই থ্রিলারটির আইএমডিবি’তে ৮.১ রেটিং রয়েছে। সময় থাকলে দেখে নিতে পারেন।
আরো পড়ুন
মান্নাত ছেড়েছেন, এবার ফ্ল্যাট বিক্রি করলেন গৌরী খান

আনকাট জেমস
আনকাট জেমস : জোস এন্ড বোনি পরিচালিত ২০১৯ সালের আমেরিকান ক্রাইম থ্রিলার ‘আনকাট জেমস।’ এতে অ্যাডাম স্যান্ডলার একজন ইহুদি-আমেরিকান। তিনি নিউ ইয়র্ক সিটির একজন ডায়মন্ড জুয়েলার এবং তাঁর ডিস্ট্রিক্ট জুয়ার আসক্তি রয়েছে। ঋণ পরিশোধের জন্য তাকে ব্যয়বহুল একটি রত্ন উদ্ধার করতে হবে এবং এই নিয়েই এগিয়ে যায় সিনেমার কাহিনী। আইএমডিবি’তে ৭.৪ রেটিং রয়েছে এটির। সময় থাকলে দেখে নিতে পারেন থ্রিলার চলচ্চিত্রটি।

আন্ধাধুন
আন্ধাধুন : হলিউডের থ্রিলার সিনেমার ভীড়ে বলিউডের আন্ধাধুনকে রাখতেই হচ্ছে। বলতে গেলে হিন্দি সিনেমার সর্বকালের সেরা থ্রিলার সিনেমাগুলোর মধ্যে এটি একটি। এতে একজন অন্ধ সংগীতশিল্পী (পিয়ানোবাদক) এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আয়ুষ্মান খুরানা। অন্ধ হলেও পিয়ানো বাজিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন আয়ুষ্মান। বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন তাঁর। কিন্তু তাঁর জীবনে হঠাৎ ঘটে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। অনাকাঙ্খিতভাবে এক খুনের মামলায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। সেখান থেকেই গল্প মোড় নেয় নতুন দিকে। গল্পের পরতে পরতে টুইস্ট আর থ্রিল রীতিমতো মুগ্ধ করবে আপনাকে। সময় থাকলে দেখে নিতে পারেন চমৎকার চলচ্চিত্রটি। আইএমডিবি’তে ৮.৩ রেটিং রয়েছে এটির। আয়ুষ্মানের সঙ্গে এতে অভিনয় করেছেন টাবু ও রাধিকা আপ্তে।
আরো পড়ুন
‘দারুণ চুমু খায়’, পরমব্রতকে ইমরান হাশমির সঙ্গে তুলনা কৌশানির

প্যারাসাইট
প্যারাসাইট : থ্রিলার দেখবেন আর কোরিয়ান সিনেমা দেখবেন না, তা হতে পারে না। থ্রিলার ঘরানায় কোরিয়ানরা এক কথায় অনবদ্য। একের পর এক মাস্টারপিস থ্রিলার রয়েছে কোরিয়ান ইন্ডাস্ট্রিতে। যার মধ্যে রয়েছে অস্কারজয়ী সিনেমা ‘প্যারাসাইট।’ দুই পরিবারের গল্প, সমাজের বিত্তশালী সম্প্রদায়ের রূপের পাশাপাশি আরও অনেক গাম্ভীর্যপূর্ণ বিষয় ওঠে এসেছে এতে। সং কাং হো, লি সান কিউ, চো ইয়ো জিয়ং অভিনীত সিনেমাটি বক্স অফিসে দুর্দান্ত ব্যবসা করার পাশাপাশি বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটি প্রচুর প্রশংসাও পায়। প্রথম বিদেশি ভাষার কোনো চলচ্চিত্র হিসেবে জিতে নেয় অস্কার। আইএমডিবি’তে ৮.৫ রেটিং রয়েছে কোরিয়ান এই মাস্টারপিসের।

মেমোরিস অফ মার্ডার
মেমোরিস অফ মার্ডার : বিশ্বের সেরা থ্রিলারধর্মী সিনেমার তালিকায় রয়েছে বং জুন-হু পরিচালিত আরও এক কোরিয়ান সিনেমা ‘মেমোরিস অফ মার্ডার।’ ২০০৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল এটি। কাং হো সং এবং হে ইল পার্ক অভিনীত থ্রিলারধর্মী এই সিনেমার পরত পরতে জড়িয়ে রয়েছে সাসপেন্স। ১৯৮৬ সালে দুই নারীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। এই খুনের তদন্ত করতে শুরু করেন দুই গোয়েন্দা। কিন্তু ওই এলাকায় একই ভাবে খুন হতে থাকে। খুনের নেপথ্যে আসলে কে, তদন্তই বা কীভাবে করা হচ্ছে সেসব নিয়েই গল্প এগিয়ে যায়। তবে সিনেমাটির শেষের টুইস্ট আপনাকে হতবাক করে দেবে। আইএমডিবি’তে ৮.১ রেটিং রয়েছে এটির। সময় থাকলে দেখে নিন সেরা এই থ্রিলারটি।
আরো পড়ুন
অযথা টাকা নষ্ট করাটা পছন্দ করি না : রুনা লায়লা

শাটার আইল্যান্ড
শাটার আইল্যান্ড : ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া মার্টিন স্কোরসেজি পরিচালিত শাটার আইল্যান্ডকে বলা হয় থ্রিলার ইতিহাসে অন্যতম সেরা একটি চলচ্চিত্র। ২০০৩ সালে প্রকাশিত শাটার আইল্যান্ড নামক উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি রহস্য ও মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারধর্মী চলচ্চিত্র এটি। থ্রিলারধর্মী এই সিনেমাটি মূলত ইউএস মার্শাল টেডি ডেনিয়েলের (লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও) মানসিক হাসপাতাল থেকে গায়েব হওয়া এক খুনির খোঁজে শাটার আইল্যান্ডে আগমনকে ঘিরে আবর্তিত। অতঃপর হাসপাতালে সেবার আড়ালে ভয়াবহ কার্যক্রমের রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে প্রমাণ খোঁজার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় এর গল্প। এর শেষ অংশের টুইস্ট আপনাকে চিন্তায় ফেলে দিতে বাধ্য। হিসাব মেলাতে হিমশিম খাবেন আপনিও। লিওনার্দোর সঙ্গে সমানতালে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন বেন কিংসলে ও মার্ক রাফলোর মতো তারকারা। আইএমডিবি’তে ৮.২ রেটিং রয়েছে এটির। ছুটির দিনে দেখে নিতে পারেন অন্যতম সেরা থ্রিলার ‘শাটার আইল্যান্ড।’