• ই-পেপার

ছবি থেকে ভিডিও বানাবে জেমিনি, এলো নতুন এআই ফিচার

পূর্ণাঙ্গ ফাইভজি সেবা চালুর নির্ভরতা সম্পর্কে জানা গেল

বাসস
পূর্ণাঙ্গ ফাইভজি সেবা চালুর নির্ভরতা সম্পর্কে জানা গেল

দেশে বর্তমানে ৪৪০টিরও বেশি স্থানে সীমিত পরিসরে ফাইভজি সেবা চালু হয়েছে। এই কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের জন্য অবকাঠামো শক্তিশালী করার কাজও চলছে। তবে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও উৎপাদন খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর প্রস্তুতির ওপর পূর্ণাঙ্গ ফাইভজি সেবা চালু নির্ভর করবে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফাইভজি ইকোসিস্টেম ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত খাতগুলো চিহ্নিত করার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, স্পেকট্রাম পরিকল্পনা, ট্রান্সমিশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ বৃদ্ধির কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আরো পড়ুন
রাহুল-গিলের সেঞ্চুরিতে চালকের আসনে ভারত

রাহুল-গিলের সেঞ্চুরিতে চালকের আসনে ভারত

 

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক পর্যায়ে ফাইভজি সেবা চালুর প্রক্রিয়া এখনো চলমান। তবে ইতোমধ্যে আবাসিক ও শিল্প এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সীমিত আকারে ফাইভজি সেবা চালু করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, রাজধানীর আবাসিক এলাকা, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও রেস্তোরাঁসহ প্রায় ৪০টি স্থান বর্তমানে ফাইভজি নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে।

তিনি আরো জানান, ঢাকার বাইরে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, খুলনা ও সিলেটের ৪০০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানও সীমিত পরিসরের ফাইভজি সেবা চালু হয়েছে। সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চললেও ফাইভজি প্রযুক্তির পূর্ণ সুফল পেতে যেসব খাত এ প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, সেসব খাতের প্রস্তুতিও জরুরি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের বাস্তবতায় কোন কোন শিল্প খাত ফাইভজি প্রযুক্তি ব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে উপযোগী, তা নির্ধারণেও কাজ চলছে।

দেশের প্রস্তুতি কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ট্রান্সমিশন অবকাঠামো শক্তিশালী করা। ‘ফাইভজি সক্ষমতার জন্য বিটিসিএল অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় নিরবচ্ছিন্ন ট্রান্সমিশন সেবা নিশ্চিত করতে দেশের ৬৪ জেলা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলাকে ব্যাকআপ অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের (ওএফসি) মাধ্যমে সংযুক্ত করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে জেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে উপজেলায় উচ্চগতির ব্যান্ডউইথ সরবরাহের জন্য এএসওএন (অটোমেটিক্যালি সুইচড অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক)-সক্ষম ডিডব্লিউডিএম সরঞ্জাম স্থাপন করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর এলাকাতেও ব্যাকআপ সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন
১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

 

মন্ত্রী বলেন, অপটিক্যাল ফাইবার ও যন্ত্রপাতি স্থাপনের প্রায় ৭৯ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ভবিষ্যতে ফাইভজি সম্প্রসারণের জন্য আরো শক্তিশালী ট্রান্সমিশন অবকাঠামো গড়ে উঠবে।

প্রযুক্তিটির বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে। মোবাইল অপারেটরদের প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ফাইভজি সেবার জন্য ২.৩ গিগাহার্টজ ও ২.৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ড থেকে স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ফাইভজি সম্প্রসারণ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) একটি স্পেকট্রাম রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে। সে অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ৩.৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে নতুন স্পেকট্রাম উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা প্রদান ও মান উন্নয়নেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার গ্রাহকবান্ধব ইন্টারনেট শুল্ক চালু করেছে এবং ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইন্টারনেটের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সেবার মান নিশ্চিতে কোয়ালিটি অব সার্ভিস ও এক্সপেরিয়েন্সের মানদ- চালু করা হয়েছে। সেখানে সেবামান ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।

প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতের ফাইভজি সেবার প্রস্তুতির লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটক দুটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৪২০টি স্থানে উচ্চগতির ফোরজি সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে।

মন্ত্রী জানান, টেলিটক ইতোমধ্যে ভয়েস ওভার ওয়াইফাই (ভিওওয়াইফাই), ভয়েস ওভার এলটিই (ভিওএলটিই) চালু করেছে এবং সীমিতসংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য চারটি স্থানে পাইলট ফাইভজি সেবা চালু করেছে। চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডেটার গতি বাড়াতে ও নেটওয়ার্কের আওতা সম্প্রসারণে বৈদেশিক সহায়তায় আরও দুটি প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার নতুন ফোরজি সাইট এবং ১ হাজার ৬০০টি ৫জি সক্ষম সাইট স্থাপন করা হবে। এতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা ও কভারেজ আরও উন্নত হবে।

স্থলভিত্তিক অবকাঠামোর পাশাপাশি ফাইভজি সেবার ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক সংযোগ ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) বর্তমানে সি-মি-উই ৪ এবং সি-মি-উই ৫ সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করছে।

দুটি ব্যবস্থার সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ২২০ জিবিপিএস। এর মধ্যে ৯৯.৯৯৯ শতাংশ নেটওয়ার্ক নির্ভরযোগ্যতা বজায় রেখে দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ১০০ জিবিপিএস সরবরাহ করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইথ চাহিদা পূরণে সি-মি-উই ৬ কনসোর্টিয়ামের আওতায় দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে।

চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রকল্পটি শেষ হলে আরও ৩০ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ যুক্ত হবে। এতে বাংলাদেশের মোট আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা প্রায় ৩৮ হাজার জিবিপিএসে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দেশে ব্যাপক পরিসরে ৫জি সেবা চালুর ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, সামগ্রিকভাবে সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাংলাদেশ সীমিত পরীক্ষামূলক পর্যায় পেরিয়ে ব্যাপকভিত্তিক ফাইভজি গ্রহণের ভিত্তি নির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ফাইভজি সেবায় উত্তরণ ক্যাবল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও স্পেকট্রাম প্রাপ্যতার ওপর নয়, বরং মূল শিল্পখাতগুলো এই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহারে কতটা প্রস্তুত তার ওপরও নির্ভর করবে।

ব্যবহারকারীদের অজান্তেই ফোনে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি,বিতর্কে মেটা

অনলাইন ডেস্ক
ব্যবহারকারীদের অজান্তেই ফোনে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি,বিতর্কে মেটা
ছবিঃ রয়টার্স

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটাকে ঘিরে নতুন করে গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক ম্যাগাজিন ওয়্যার্ড-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মেটা আমাদের স্মার্টফোনে থাকা "মেটা এআই" অ্যাপের ভেতরে গোপনে মানুষের মুখ চেনার ( ফেসিয়াল রিকগনিশন ) কোড ঢুকিয়ে দিয়েছে ।

এ কোম্পানিটির তৈরি রে-ব্যান ও ওকলি স্মার্ট চশমার মাধ্যমে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করা যেকোনো মানুষকে সরাসরি চেনার জন্যই এই গোপন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যদিও মেটা দাবি করেছে, এই ফিচারটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এখনও চালু করা হয়নি


সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ও সফটওয়্যার বিশ্লেষকদের পরীক্ষায় দেখা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে একাধিক অ্যাপ আপডেটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ফোনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এআই মডেল যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মানুষের মুখ শনাক্ত করতে পারে, দ্বিতীয়টি ছবির ভেতর থেকে মুখ আলাদা করে ক্রপ করতে পারে এবং তৃতীয়টি সেই মুখকে একটি বিশেষ ডিজিটাল বায়োমেট্রিক পরিচয়ে রূপান্তর করতে সক্ষম।

গবেষকদের দাবি, এই প্রযুক্তি এখন প্রায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। মেটা অভ্যন্তরীণভাবে প্রকল্পটির নাম দিয়েছিল “নেমট্যাগ”। তবে সাম্প্রতিক এক আপডেটে এর নাম পরিবর্তন করে “কানেকশনস” রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

এ বিষয়ে মেটার মুখপাত্র রায়ান ড্যানিয়েলস বলেন, কোম্পানি কেবল এ ধরনের প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার ও কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করছে। এখনো সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কোনো ফেসিয়াল রিকগনিশন ফিচার চালু করা হয়নি এবং কোনো কেন্দ্রীয় ফেস ডেটাবেস তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি।

তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন গোপনীয়তা অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যদি প্রযুক্তিটি শুধুই পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকে, তাহলে কয়েক মাস আগেই কেন এর প্রয়োজনীয় কোড ব্যবহারকারীদের ফোনে পাঠানো হলো—এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেয়নি মেটা।

আরো বিতর্ক তৈরি হয়েছে কারণ চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও মেটার কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে বলেছিলেন, স্মার্ট চশমায় ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারের নৈতিক ও সামাজিক দিক নিয়ে তারা এখনো চিন্তাভাবনা করছেন। অথচ নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তারও কয়েক মাস আগে এই প্রযুক্তির মূল উপাদান ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।

প্রাইভেসি বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ট্যাগ করার প্রযুক্তির তুলনায় স্মার্ট চশমাভিত্তিক রিয়েল-টাইম ফেসিয়াল রিকগনিশন অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে রাস্তায় চলাফেরা করা কোনো অপরিচিত ব্যক্তির পরিচয় মুহূর্তেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই উদ্বেগ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নাগরিক অধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) এবং ডিজিটাল অধিকার সংগঠন ফাইট ফর দ্যা ফিউচার সহ ৭০টির বেশি মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে মেটাকে স্মার্ট চশমায় ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ কারণ ২০২১ সালে তীব্র সমালোচনার মুখে মেটা ফেসবুকের স্বয়ংক্রিয় ফেস-ট্যাগিং প্রযুক্তি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল। সে সময় কোম্পানিটি ব্যবহারকারীদের এক বিলিয়নের বেশি ফেসপ্রিন্ট বা বায়োমেট্রিক তথ্য মুছে ফেলার কথাও জানিয়েছিল।

শুধু তাই নয়,এর আগে বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহারের অভিযোগে অতীতে মেটাকে যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের আইনি জরিমানাও গুনতে হয়েছে। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় কোম্পানিটি ৬৫০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দেয়। পরে ২০২৪ সালে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে সমঝোতায় আরও ১.৪ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হয়।

নতুন এই তথ্য প্রকাশের পর প্রযুক্তি বিশ্বে প্রশ্ন উঠেছে—মেটা কি ভবিষ্যতে তাদের স্মার্ট চশমা ও এআই সেবায় ব্যাপকভাবে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে? যদিও কোম্পানিটি এখনই এমন কোনো পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেনি, তবু ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ আবারও সামনে চলে এসেছে।

তথ্যসূত্র: ওয়্যার্ড, এনগ্যাজেটদ্য নিউইয়র্ক টাইমস

ট্রিলিয়নেয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক, আসছে স্পেসএক্স আইপিও

অনলাইন ডেস্ক
ট্রিলিয়নেয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক, আসছে স্পেসএক্স আইপিও
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স  ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির (আইপিও) পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজার থেকে ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে চায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী আইপিও সম্পন্ন হলে এটি বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়বে।

গত ৩ জুন (বুধবার) রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।

স্পেসএক্স জানিয়েছে, তারা ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ শেয়ার প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার (প্রায় ১৬,৫৫৮.৪৯ বাংলাদেশি টাকা) দরে বিক্রি করবে। এর মাধ্যমে কম্পানিটির সম্ভাব্য বাজারমূল্য দাড়াবে প্রায় ১ দশমিক ৭৫ (প্রায় বাংলাদেশি ২১.৪৬ ট্রিলিয়ন টাকা) থেকে ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার (প্রায় বাংলাদেশি ২১.৭১ ট্রিলিয়ন টাকা)। এই মূল্যায়ন সফল হলে স্পেসএক্স বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রযুক্তি ও মহাকাশ কম্পানিগুলোর একটি হয়ে উঠবে।

বর্তমানে স্পেসএক্সের প্রায় অর্ধেক মালিকানা রয়েছে প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের হাতে। আইপিওর পরও তিনি কম্পানির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবেন। বিশেষ ধরনের ভোটাধিকারসম্পন্ন শেয়ারের কারণে কম্পানির সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার প্রভাব আগের মতোই শক্তিশালী থাকবে।

বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত মূল্যায়ন অনুসারে শুধু স্পেসএক্সে থাকা মাস্কের অংশীদারির মূল্যই প্রায় ৮৪০ বিলিয়ন ডলারে (বাংলাদেশি প্রায় ১০.৩ ট্রিলিয়ন টাকা) পৌঁছাতে পারে। এর সঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলায় তার মালিকানার মূল্য যোগ করলে মোট সম্পদের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলার  (বাংলাদেশি প্রায় ১২.২৬ লক্ষ কোটি টাকা) ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনটি হলে বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ হওয়ার ইতিহাস গড়তে পারেন ইলন মাস্ক।(সুত্রঃ সিএনএন)

কেন এত আলোচনায় স্পেসএক্স?

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্পেসএক্স শুরুতে রকেট নির্মাণ ও মহাকাশে বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের কাজ করলেও বর্তমানে এটি মহাকাশ প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—এই তিন খাতেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।

কম্পানিটির সবচেয়ে সফল প্রকল্পগুলোর একটি হলো স্টারলিংক। এই স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সরবরাহ করছে এবং স্পেসএক্সের আয়ের বড় উৎস হিসেবে কাজ করছে।

এ ছাড়া চলতি বছরের শুরুতে ইলন মাস্ক তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্স-এআই কে স্পেসএক্সের সঙ্গে একীভূত করেন। ফলে মহাকাশ প্রযুক্তির পাশাপাশি এআই খাতও এখন কম্পানিটির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আইপিওর অর্থ কোথায় ব্যয় হবে?

স্পেসএক্স জানিয়েছে, আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে স্টারলিংক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য বড় কম্পিউটিং অবকাঠামো তৈরি, নতুন প্রজন্মের মহাকাশযান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা।

মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং সৌরশক্তিচালিত প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো নতুন ধারণা নিয়েও কাজ করছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি ।

রেকর্ড ভাঙার পথে

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইপিওর রেকর্ড রয়েছে সৌদি আরবের তেল কম্পানি সৌদি আরামকোর দখলে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালে প্রায় ২৯.৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় নাম বাংলাদেশি ৩,৬০,৬০৭.১৭ কোটি টাকা) সংগ্রহ করেছিল। স্পেসএক্সের পরিকল্পিত ৭৫ বিলিয়ন ডলারের ( বাংলাদেশি প্রায় ৯,১৯,৯১৬.২৫ কোটি টাকা) আইপিও সেই রেকর্ডকে অনেক দূরে ছাড়িয়ে যাবে।

বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ এবং স্পেসএক্সের মহাকাশ ব্যবসার সম্ভাবনাই কম্পানিটির মূল্যায়নকে এত উঁচুতে নিয়ে গেছে।

তবে কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, স্পেসএক্সের ভবিষ্যৎ মূল্যায়নের বড় অংশই এখনও সম্ভাবনার ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার, মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি কিংবা নতুন এআই প্রকল্পগুলোর অনেকগুলোই এখনো বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

তারপরও প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বিশ্বের নজর এখন স্পেসএক্সের দিকেই। কারণ এই আইপিও শুধু একটি কম্পানির শেয়ারবাজারে আসা নয়, বরং মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন প্রত্যাশা তৈরি করছে।

ভুয়া এআই অ্যাপে তথ্য চুরির ফাঁদ, সতর্কতা ক্যাসপারস্কির

অনলাইন ডেস্ক
ভুয়া এআই অ্যাপে তথ্য চুরির ফাঁদ, সতর্কতা ক্যাসপারস্কির
প্রতীকী ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন ধরনের সাইবার হুমকিও দ্রুত বাড়ছে। বিশ্বখ্যাত সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এআই সফটওয়্যারের ছদ্মবেশে পরিচালিত ৯২ হাজারের বেশি সাইবার হামলা শনাক্ত করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির গবেষকদের মতে, হ্যাকাররা এখন চ্যাটজিপিটি, ক্লডসহ জনপ্রিয় এআই সেবার নকল ওয়েবসাইট ও অ্যাপ তৈরি করে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলছে। এসব ভুয়া সফটওয়্যার ডাউনলোড করার পর ব্যবহারকারীদের অজান্তেই ডিভাইসে ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার বা ব্যাংকিং ট্রোজান প্রবেশ করছে।

ক্যাসপারস্কির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১৫ হাজারের বেশি ম্যালওয়্যার নমুনা শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন এআই টুলের ছদ্মবেশে ছড়ানো হচ্ছিল। এসব ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ব্যাংকিং তথ্য সংগ্রহ এবং ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো কাজ করতে সক্ষম।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির গবেষকরা ‘সিলভার ফক্স’ নামে পরিচিত একটি সাইবার অপরাধী চক্রের কার্যক্রমও শনাক্ত করেছেন। তারা উইন্ডোজ, ম্যাকওএস ও লিনাক্স ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে ক্লড এআইয়ের ভুয়া সংস্করণ ছড়িয়ে ম্যালওয়্যার সংক্রমণের চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অফিসের অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহার করার প্রবণতাও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ‘শ্যাডো এআই’ নামে পরিচিত এই প্রবণতায় কর্মীরা অনেক সময় অজান্তেই প্রতিষ্ঠানের গোপন তথ্য অনিরাপদ প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করে ফেলেন, যা হ্যাকারদের হাতে চলে যেতে পারে।

নিরাপদ থাকতে যা করবেন

এআই সেবা ব্যবহারের আগে ওয়েবসাইটের ঠিকানা ভালোভাবে যাচাই করুন।
শুধুমাত্র অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপ স্টোর থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড করুন।
অচেনা এআই অ্যাপ বা বট ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য শুধুমাত্র অনুমোদিত এআই টুলে ব্যবহার করুন।
ফোন ও কম্পিউটারে নিয়মিত আপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস বা নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহার করুন।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই যত বেশি মানুষের দৈনন্দিন কাজে যুক্ত হচ্ছে, ততই ভুয়া বা নকল এআই সেবার মাধ্যমে প্রতারণা ও তথ্য চুরির ঝুঁকি বাড়ছে। তাই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সচেতন থাকাও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ।