• ই-পেপার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি থেকে সন্তানকে রক্ষা করুন

টেলিটকের সঙ্গে একীভূত হতে চায় বাংলালিংক

অনলাইন ডেস্ক
টেলিটকের সঙ্গে একীভূত হতে চায় বাংলালিংক
সংগৃহীত ছবি

দেশের তথ্য-প্রযুক্তি ও টেলিকম খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক এবার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর টেলিটকের সঙ্গে একীভূত (মার্জার) হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি আরেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর বিস্তৃত ফাইবার ও ফিক্সড-লাইন অবকাঠামো ব্যবহার করে যৌথ অংশীদারি ব্যবসা করার আগ্রহ দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গ্লোবাল ডিজিটাল অপারেটর ‘ভিয়ন’-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাংলালিংকের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে।

গত ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের কাছে এই বিষয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলালিংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও জোহান হেন্ড্রিক মার্টিনাস বুস। চিঠিতে সামগ্রিক বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য একটি জরুরি বৈঠকেরও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

উপদেষ্টাকে পাঠানো চিঠিতে বাংলালিংকের সিইও উল্লেখ করেন, ‘বাংলালিংক এবং টেলিটকের মধ্যে একটি সম্ভাব্য অংশীদারি বা একীভূতকরণ বাংলাদেশের টেলিকম খাতের চিত্র উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দিতে পারে।’

বাংলালিংক মনে করে, তাদের নিজস্ব পরিচালনাগত দক্ষতা ও বাজার অভিজ্ঞতার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে টেলিটকের বিশেষ সুবিধা এবং অব্যবহৃত তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) সম্পদের সমন্বয় ঘটানো গেলে দেশের টেলিকম খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এর ফলে বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ এলাকায় নেটওয়ার্ক কভারেজ দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হবে। এ ছাড়া দুই অপারেটরের টাওয়ার, তরঙ্গ ও প্রযুক্তির যৌথ ব্যবহারের মাধ্যমে অবকাঠামোগত বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে। এই উদ্যোগ টেলিটকের বর্তমান দুর্বল প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকেও বাজারে শক্তিশালী করবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে দুই অপারেটরের মধ্যে নেটওয়ার্ক শেয়ারিং এবং জাতীয় রোমিংয়ের একটি পাইলট (পরীক্ষামূলক) উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এবার সেই সম্পর্ককে একীভূতকরণের দিকে নিয়ে যেতে চায় বাংলালিংক।

বিটিসিএলের সঙ্গে অংশীদারির বিষয়ে বাংলালিংক একটি আধুনিক ব্যাবসায়িক মডেলের প্রস্তাব করেছে। এর মাধ্যমে দেশের গ্রাহকদের একই ছাতার নিচে ভয়েস, ডাটা, আইপিটিভি এবং মোবাইল সেবাসহ ‘কোয়াড্রপল-প্লে’ বা সমন্বিত বান্ডেল সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

বিটিসিএলের দেশজুড়ে বিস্তৃত ফিক্সড-লাইন ও ফাইবার অপটিক্যাল অবকাঠামোর সঙ্গে বাংলালিংকের শক্তিশালী মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং তাদের জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘টফি’-এর সমন্বয় ঘটাতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। বাংলালিংকের মতে, এই কৌশলগত জোট দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে উভয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান করবে এবং গ্রাহকদের বিশ্বমানের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা দেবে।

চিঠিতে বাংলালিংক দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোবাইল কভারেজ পৌঁছে দিতে ইলন মাস্কের ‘স্টারলিংক’-এর মাধ্যমে ‘ডাইরেক্ট-টু-সেল’ স্যাটেলাইট সংযোগ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রযুক্তির সুবিধা হলো— কোনো বিশেষ বাড়তি সরঞ্জাম ছাড়াই সাধারণ মোবাইল হ্যান্ডসেট সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।

ভিয়ন ইতিমধ্যে ইউক্রেন ও কাজাখস্তানে তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে এই সেবা চালু করেছে। তবে বাংলাদেশে এই স্যাটেলাইট-ভিত্তিক মোবাইল সেবা চালুর জন্য বর্তমান তরঙ্গ নীতিমালা এবং লাইসেন্সিং বিধানে কিছু আইনি সংশোধন ও হালনাগাদ করার প্রয়োজনীয়তার কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেটওয়ার্কের মান বাড়াতে বাংলালিংকের এখন জরুরি ভিত্তিতে লো-ব্যান্ড তরঙ্গ (যেমন ৭০০ মেগাহার্টজ বা ৮০০ মেগাহার্টজ) প্রয়োজন। এই তরঙ্গগুলো দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে এবং ভবনের দেয়াল ভেদ করে ভেতরে (ইনডোর কভারেজ) শক্তিশালী নেটওয়ার্ক দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আয়োজিত নিলামে একমাত্র অংশগ্রহণকারী হিসেবে গ্রামীণফোন ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ কিনে নিয়েছে, যা এই ব্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলালিংক ‘ইজিএসএম’ ব্যান্ডে তরঙ্গ অধিগ্রহণে তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আন্তঃসীমান্ত হস্তক্ষেপের কারণে এই ব্যান্ডটি আংশিক দূষিত বা ত্রুটিপূর্ণ মনে করা হলেও, সঠিক রিফার্মিংয়ের মাধ্যমে এর নির্দিষ্ট অংশ কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই তরঙ্গ সম্পদ নিশ্চিত করা সম্ভব হলে দেশের বাজারে ৪জি এবং ভবিষ্যতে ৫জি কভারেজ সম্প্রসারণে বাংলালিংক নিজেদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে পারবে বলে উপদেষ্টাকে আশ্বস্ত করেছেন সিইও জোহান হেন্ড্রিক মার্টিনাস বুস। তথ্য সূত্র : দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

প্রবাসী তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ

মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ও আউটসোর্সিং সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিটোপিয়া গ্রুপ। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বিটোপিয়া গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জেডএইচবি সলিউশনের নতুন অফিস উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, মার্কিন বাজারে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা দেওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও কাজ করবে তারা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তর আটলান্টার নরক্রসে আয়োজিত ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বিটোপিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মুহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, প্রযুক্তি ও আউটসোর্সিং খাতে বাংলাদেশিদের দক্ষতা আন্তর্জাতিক বাজারে দিন দিন আরো গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গ্রাহকদের জন্য প্রযুক্তি সহায়তা, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, কাস্টমার সার্ভিস, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স এবং বিভিন্ন আইটিভিত্তিক সেবা দিয়ে আসছে বিটোপিয়া গ্রুপ।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশটির ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য দ্রুত ও আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। বিশেষ করে ব্যবসা ব্যবস্থাপনা সহায়তা, অনলাইন ব্র্যান্ডিং, ডিজিটাল উপস্থিতি বৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সেবা, গ্রাহকসেবা ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কাস্টম সমাধান নিয়ে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

মুহাম্মদ মনির হোসেন আরো বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশি তরুণদের সম্ভাবনা অনেক বড়। সঠিক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মানের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তারা বিশ্ববাজারে আরো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবেন। সে কারণে প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জেডএইচবি সলিউশনের প্রতিষ্ঠাতা, সিইও ও প্রিন্সিপাল এজেন্ট প্রকৌশলী জহিরুল হক ভূইয়া বলেন, নতুন অফিসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি সহায়তা, আউটসোর্সিং, সফটওয়্যার সাপোর্ট এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা পরিচালিত হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি, বীমা ও রিয়েল এস্টেট খাতে সমন্বিত সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, আইটি সাপোর্ট, ম্যানেজড সার্ভিস, ক্লাউড সলিউশন, ডেভঅপস এবং সাইবার সিকিউরিটি সেবার পাশাপাশি ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া অটো, হোম ও ব্যবসায়িক বীমা সেবা এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, বিনিয়োগ পরামর্শ ও রিয়েল এস্টেট সেবাও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের আওতায় থাকবে।

অনুষ্ঠানে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের পাঁচবারের নির্বাচিত সিনেটর শেখ রহমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরেফিন বাবুল এবং জর্জিয়া বিএনপির সভাপতি নাহিদুল খান সাহেলসহ কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা নতুন এই উদ্যোগকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা হওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক ব্যবসা সম্প্রসারণ, আউটসোর্সিং খাতের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগও তৈরি হয়।

আয়োজকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরিতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

আপনার ফোন হ্যাক হয়েছে কি না বুঝবেন যে ৫ লক্ষণে

অনলাইন ডেস্ক
আপনার ফোন হ্যাক হয়েছে কি না বুঝবেন যে ৫ লক্ষণে
প্রতীকী ছবি

স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং ব্যক্তিগত ছবি, ব্যাংকিং তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভাণ্ডার। তাই সাইবার অপরাধীরা ক্রমেই স্মার্টফোনকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। অনেক সময় ব্যবহারকারীরা বুঝতেই পারেন না যে তাদের ফোনে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করা হয়েছে বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার (ম্যালওয়্যার) ইনস্টল হয়েছে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখে সহজেই ধারণা করা যায় ফোনটি হ্যাক হয়েছে কিনা। নিচে এমন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো।

১. অস্বাভাবিকভাবে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়া

ফোনের ব্যাটারি হঠাৎ করে আগের তুলনায় অনেক দ্রুত শেষ হতে শুরু করলে সতর্ক হওয়া উচিত। অনেক ম্যালওয়্যার বা গুপ্তচর অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে সারাক্ষণ চলতে থাকে, যা অতিরিক্ত ব্যাটারি খরচ করে।

২. ফোন অস্বাভাবিক ধীরগতির হয়ে যাওয়া

ফোনে কোনো ভারী অ্যাপ ব্যবহার না করলেও যদি সেটি বারবার হ্যাং করে, ধীরগতিতে কাজ করে বা নিজে থেকেই রিস্টার্ট হয়, তাহলে এটি হ্যাকিং বা ম্যালওয়্যারের লক্ষণ হতে পারে। ক্ষতিকর সফটওয়্যার ফোনের প্রসেসর ও মেমোরি ব্যবহার করে কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

৩. অচেনা অ্যাপ বা সেটিংস দেখা যাওয়া

ফোনে এমন কোনো অ্যাপ দেখতে পেলে যা আপনি কখনো ইনস্টল করেননি, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। হ্যাকাররা অনেক সময় ক্ষতিকর অ্যাপ গোপনে ইনস্টল করে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে।

৪. মোবাইল ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া

সাধারণ ব্যবহার সত্ত্বেও যদি ডেটা খরচ হঠাৎ বেড়ে যায়, তাহলে কোনো ম্যালওয়্যার আপনার তথ্য অন্য কোথাও পাঠাচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করা দরকার। ফোনের ডেটা ব্যবহারের হিসাব দেখে সন্দেহজনক অ্যাপ শনাক্ত করা যেতে পারে।

৫. অদ্ভুত পপ-আপ বা অচেনা বার্তা পাওয়া

ফোনে বারবার বিজ্ঞাপন, পপ-আপ উইন্ডো বা অজানা নম্বর থেকে সন্দেহজনক বার্তা আসা হ্যাকিংয়ের ইঙ্গিত হতে পারে। অনেক সময় ক্ষতিকর অ্যাপ ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

ফোন হ্যাক হয়েছে সন্দেহ হলে কী করবেন?

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রথমে সন্দেহজনক অ্যাপ মুছে ফেলতে হবে এবং ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপগুলো সর্বশেষ সংস্করণে আপডেট করতে হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং দুই স্তরের নিরাপত্তা চালু করা উচিত। সমস্যা গুরুতর মনে হলে ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করার কথাও বিবেচনা করা যেতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অচেনা লিংকে ক্লিক না করা, অননুমোদিত উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করা এবং নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট রাখা ফোনকে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখতে পারে।

লিংকডইনে চাকরির নামে গোপন তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ চীনের বিরুদ্ধে

অনলাইন ডেস্ক
লিংকডইনে চাকরির নামে গোপন তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ চীনের বিরুদ্ধে
ছবি : রয়টার্স

চাকরির প্রস্তাবের আড়ালে সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক সদস্য এবং সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে চীনা গুপ্তচররা। এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ ‘ফাইভ আইজ’ গোয়েন্দা জোটের সদস্য দেশগুলো।

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গত বুধবার (৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই , যুক্তরাজ্যের এমআই৫ , কানাডার সিএসআইএস , অস্ট্রেলিয়ার এএসআইও এবং নিউজিল্যান্ডের এনজেড এসআইএস যৌথভাবে একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করে। এ প্রতবেদনে জানানো হয়, চীনা সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন অনলাইন চাকরির প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় রয়েছেন।

গুপ্তচররা নিজেদের মানবসম্পদ (এইচআর) কর্মকর্তা বা নিয়োগদাতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে লিংকডইন, ইনডিড ও আপওয়ার্ক এর মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে চাকরির বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। এসব বিজ্ঞাপন দেখতে সাধারণ চাকরির সুযোগের মতো হলেও এর মূল উদ্দেশ্য গোপন তথ্য সংগ্রহ করা।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, এসব ভুয়া নিয়োগদাতারা সরকারি কর্মকর্তা, নিরাপত্তা ছাড়পত্রধারী ব্যক্তি, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং সামরিক সদস্যদের বেশি টার্গেট করছেন। তবে শুধু তারাই নন, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং নীতিনির্ধারণ-সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করা ফ্রিল্যান্স লেখকরাও তাদের নজরদারির তালিকায় রয়েছেন।

প্রতারণার অংশ হিসেবে প্রথমে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে অনলাইনে সাক্ষাৎকারের সময় তাদের সরকারি সংযোগ, সামরিক কার্যক্রম বা সংবেদনশীল তথ্য সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীদের পরীক্ষামূলক কাজ হিসেবে চীন-সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রতিবেদন লিখতেও বলা হয়।

এক পর্যায়ে তাদের কাছ থেকে আরো সংবেদনশীল ও অপ্রকাশিত তথ্য চাওয়া শুরু হয়। বিষয়টি গোপন রাখতে যোগাযোগ এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপে স্থানান্তর করা হয়। বিনিময়ে কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অর্থ পাঠানো হয় পেপ্যাল , ওয়াইজ , জেল কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে ফৌজদারি মামলা, চাকরি হারানো এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল হওয়ার মতো গুরুতর পরিণতি হতে পারে। এমনকি সাধারণ বা অশ্রেণিবদ্ধ তথ্যও অন্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

ফাইভ আইজ জোটের মতে, চাকরির প্রলোভনে গোপন তথ্য সংগ্রহের এই কৌশল বর্তমানে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। তাই অপরিচিত নিয়োগদাতা ও সন্দেহজনক চাকরির প্রস্তাব সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাগুলো।