• ই-পেপার

প্রবাসী তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ

মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ

অদৃশ্য এক ফাঁদে তরুণ প্রজন্ম

আসক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

অনলাইন ডেস্ক
অদৃশ্য এক ফাঁদে তরুণ প্রজন্ম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির ভয়াবহ প্রভাব কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের দৈনন্দিন জীবনে মানসিক এবং শারীরিক ক্ষেত্রে ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তাদের অনেকেই বিষণ্নতা, উদ্বেগ, খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা এবং ঘুমের অনিয়মের মতো নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এতটাই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে যে, কেউ কেউ নিজের জীবনকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে, ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনাও।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকে স্বাস্থ্যকর উপায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলেও তরুণ প্রজন্মের একটি অংশের মধ্যে গুরুতর আসক্তি তৈরি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী এক লেখায় এমনই আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন এসএমভিএলসির প্রতিষ্ঠাতা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ পি. বার্গম্যান। তার ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তির কারণে অদৃশ্য এক ফাঁদে পড়েছে তরুণ প্রজন্ম। তারা মানসিক ও শারীরিক উভয়ভাবেই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির প্রভাব : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হওয়া যোগাযোগ প্রায়ই কৃত্রিম। এখানে থাকা বিজ্ঞাপন ও ছবি অনেক সময় সম্পাদিত ও অবাস্তব হয়। অনেক তরুণ এগুলোকে বাস্তব মনে করে নিজেদের জীবন ও চেহারার সঙ্গে তুলনা করে এবং সেই মানে পৌঁছানোর চেষ্টা করে, যা প্রায়ই ব্যর্থ হয়। তরুণদের পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রভাবের জন্য মামলা করা হচ্ছে।

ঘুমের ঘাটতি : গবেষণায় দেখা যায়, আমেরিকানরা গড়ে দিনে ৩৪৪ বার তাদের ফোন চেক করে। এতে অনেক কিশোর-কিশোরী ঘুমের ঘাটতি হয়। ফলে তারা বিষণ্নতা, আত্মহত্যা প্রবণতা, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, মনোযোগের সমস্যা, অস্থিরতা, মাদকাসক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস সর্বোত্তম ঘুমের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা ডিভাইস ব্যবহারের সুপারিশ করে।

বাস্তব জীবনে দায়িত্বে অবহেলা : অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বাস্তব জীবনের সম্পর্ক ও দায়িত্বের চেয়ে অনলাইন সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিতে বাধ্য করে। বারবার নোটিফিকেশন চেক করার বাধ্যতামূলক প্রবণতা দৈনন্দিন কাজ ও কথোপকথনে বিঘ্ন ঘটায়। শিক্ষা : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি শিক্ষা অর্জনে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটাতে পারে। এর কারণ হতে পারে পড়াশোনার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

সম্পর্ক : অনলাইন সম্পর্কের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ বাস্তব জীবনের কথোপকথনে মনোযোগ দিতে বাধা দেয়। ফলে বিচ্ছিন্নতা বাড়ে, বন্ধুত্ব নষ্ট হয় এবং সামাজিক দক্ষতা কমে যায়। হীনম্মন্যতার সৃষ্টি : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণদের নিজেদের পরিচয় ও ভাবমূর্তি পরিবর্তনে উৎসাহিত করে, যার ফলে তারা নিজেদের কম যোগ্য মনে করে। তারা অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে নিজেকে অপ্রতুল ও আকর্ষণহীন মনে করতে শুরু করে। এর ফলে আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং তারা বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরে ভার্চুয়াল পরিচয়ে আশ্রয় নেয়। শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে উদ্বেগ : তরুণরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের নিজেদের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় মনে করে। ফলে অ্যানোরেক্সিয়া, বুলিমিয়া, কঠোর ডায়েটিংসহ খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা বাড়ছে।

আত্মবিধ্বংসী আচরণ : ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত চাপ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণে তরুণদের মধ্যে আত্মবিধ্বংসী আচরণ বৃদ্ধি পায়। অনলাইনে বেশি সময় কাটানো তরুণদের মধ্যে আত্মক্ষতির প্রবণতা বাড়ায়।

আত্মহত্যা : ১০-২৪ বছর বয়সিদের আত্মহত্যার প্রবণতা সৃষ্টির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, সাইবারবুলিং, ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, আত্মক্ষতি ও আত্মহত্যা সম্পর্কিত কনটেন্ট দেখা, নেতিবাচক সামাজিক তুলনা, নিজের প্রতি অসততা, সামাজিক সংযোগের অভাব এবং মুড ডিসঅর্ডার। সন্তানদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসক্তি থেকে মুক্ত করতে অভিভাবকদের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সন্তানদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কৌশল শেখানো, স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ, উদ্দেশ্যপূর্ণ ব্যবহার শেখানো, নোটিফিকেশন বন্ধ রাখার মতো জরুরি বিষয়গুলো দেখভাল করতে হবে। প্রয়োজনে থেরাপি বা চিকিৎসা নেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। 

তথ্যসূত্র : সোশ্যাল মিডিয়া ভিকটিমস ল সেন্টার।

সৌজন্যে : বাংলাদেশ প্রতিদিন

টেলিটকের সঙ্গে একীভূত হতে চায় বাংলালিংক

অনলাইন ডেস্ক
টেলিটকের সঙ্গে একীভূত হতে চায় বাংলালিংক
সংগৃহীত ছবি

দেশের তথ্য-প্রযুক্তি ও টেলিকম খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক এবার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর টেলিটকের সঙ্গে একীভূত (মার্জার) হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি আরেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর বিস্তৃত ফাইবার ও ফিক্সড-লাইন অবকাঠামো ব্যবহার করে যৌথ অংশীদারি ব্যবসা করার আগ্রহ দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গ্লোবাল ডিজিটাল অপারেটর ‘ভিয়ন’-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাংলালিংকের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে।

গত ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের কাছে এই বিষয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলালিংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও জোহান হেন্ড্রিক মার্টিনাস বুস। চিঠিতে সামগ্রিক বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য একটি জরুরি বৈঠকেরও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

উপদেষ্টাকে পাঠানো চিঠিতে বাংলালিংকের সিইও উল্লেখ করেন, ‘বাংলালিংক এবং টেলিটকের মধ্যে একটি সম্ভাব্য অংশীদারি বা একীভূতকরণ বাংলাদেশের টেলিকম খাতের চিত্র উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দিতে পারে।’

বাংলালিংক মনে করে, তাদের নিজস্ব পরিচালনাগত দক্ষতা ও বাজার অভিজ্ঞতার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে টেলিটকের বিশেষ সুবিধা এবং অব্যবহৃত তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) সম্পদের সমন্বয় ঘটানো গেলে দেশের টেলিকম খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এর ফলে বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ এলাকায় নেটওয়ার্ক কভারেজ দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হবে। এ ছাড়া দুই অপারেটরের টাওয়ার, তরঙ্গ ও প্রযুক্তির যৌথ ব্যবহারের মাধ্যমে অবকাঠামোগত বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে। এই উদ্যোগ টেলিটকের বর্তমান দুর্বল প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকেও বাজারে শক্তিশালী করবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে দুই অপারেটরের মধ্যে নেটওয়ার্ক শেয়ারিং এবং জাতীয় রোমিংয়ের একটি পাইলট (পরীক্ষামূলক) উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এবার সেই সম্পর্ককে একীভূতকরণের দিকে নিয়ে যেতে চায় বাংলালিংক।

বিটিসিএলের সঙ্গে অংশীদারির বিষয়ে বাংলালিংক একটি আধুনিক ব্যাবসায়িক মডেলের প্রস্তাব করেছে। এর মাধ্যমে দেশের গ্রাহকদের একই ছাতার নিচে ভয়েস, ডাটা, আইপিটিভি এবং মোবাইল সেবাসহ ‘কোয়াড্রপল-প্লে’ বা সমন্বিত বান্ডেল সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

বিটিসিএলের দেশজুড়ে বিস্তৃত ফিক্সড-লাইন ও ফাইবার অপটিক্যাল অবকাঠামোর সঙ্গে বাংলালিংকের শক্তিশালী মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং তাদের জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘টফি’-এর সমন্বয় ঘটাতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। বাংলালিংকের মতে, এই কৌশলগত জোট দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে উভয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান করবে এবং গ্রাহকদের বিশ্বমানের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা দেবে।

চিঠিতে বাংলালিংক দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোবাইল কভারেজ পৌঁছে দিতে ইলন মাস্কের ‘স্টারলিংক’-এর মাধ্যমে ‘ডাইরেক্ট-টু-সেল’ স্যাটেলাইট সংযোগ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রযুক্তির সুবিধা হলো— কোনো বিশেষ বাড়তি সরঞ্জাম ছাড়াই সাধারণ মোবাইল হ্যান্ডসেট সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।

ভিয়ন ইতিমধ্যে ইউক্রেন ও কাজাখস্তানে তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে এই সেবা চালু করেছে। তবে বাংলাদেশে এই স্যাটেলাইট-ভিত্তিক মোবাইল সেবা চালুর জন্য বর্তমান তরঙ্গ নীতিমালা এবং লাইসেন্সিং বিধানে কিছু আইনি সংশোধন ও হালনাগাদ করার প্রয়োজনীয়তার কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেটওয়ার্কের মান বাড়াতে বাংলালিংকের এখন জরুরি ভিত্তিতে লো-ব্যান্ড তরঙ্গ (যেমন ৭০০ মেগাহার্টজ বা ৮০০ মেগাহার্টজ) প্রয়োজন। এই তরঙ্গগুলো দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে এবং ভবনের দেয়াল ভেদ করে ভেতরে (ইনডোর কভারেজ) শক্তিশালী নেটওয়ার্ক দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আয়োজিত নিলামে একমাত্র অংশগ্রহণকারী হিসেবে গ্রামীণফোন ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ কিনে নিয়েছে, যা এই ব্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলালিংক ‘ইজিএসএম’ ব্যান্ডে তরঙ্গ অধিগ্রহণে তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আন্তঃসীমান্ত হস্তক্ষেপের কারণে এই ব্যান্ডটি আংশিক দূষিত বা ত্রুটিপূর্ণ মনে করা হলেও, সঠিক রিফার্মিংয়ের মাধ্যমে এর নির্দিষ্ট অংশ কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই তরঙ্গ সম্পদ নিশ্চিত করা সম্ভব হলে দেশের বাজারে ৪জি এবং ভবিষ্যতে ৫জি কভারেজ সম্প্রসারণে বাংলালিংক নিজেদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে পারবে বলে উপদেষ্টাকে আশ্বস্ত করেছেন সিইও জোহান হেন্ড্রিক মার্টিনাস বুস। তথ্য সূত্র : দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

আপনার ফোন হ্যাক হয়েছে কি না বুঝবেন যে ৫ লক্ষণে

অনলাইন ডেস্ক
আপনার ফোন হ্যাক হয়েছে কি না বুঝবেন যে ৫ লক্ষণে
প্রতীকী ছবি

স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং ব্যক্তিগত ছবি, ব্যাংকিং তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভাণ্ডার। তাই সাইবার অপরাধীরা ক্রমেই স্মার্টফোনকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। অনেক সময় ব্যবহারকারীরা বুঝতেই পারেন না যে তাদের ফোনে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করা হয়েছে বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার (ম্যালওয়্যার) ইনস্টল হয়েছে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখে সহজেই ধারণা করা যায় ফোনটি হ্যাক হয়েছে কিনা। নিচে এমন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো।

১. অস্বাভাবিকভাবে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়া

ফোনের ব্যাটারি হঠাৎ করে আগের তুলনায় অনেক দ্রুত শেষ হতে শুরু করলে সতর্ক হওয়া উচিত। অনেক ম্যালওয়্যার বা গুপ্তচর অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে সারাক্ষণ চলতে থাকে, যা অতিরিক্ত ব্যাটারি খরচ করে।

২. ফোন অস্বাভাবিক ধীরগতির হয়ে যাওয়া

ফোনে কোনো ভারী অ্যাপ ব্যবহার না করলেও যদি সেটি বারবার হ্যাং করে, ধীরগতিতে কাজ করে বা নিজে থেকেই রিস্টার্ট হয়, তাহলে এটি হ্যাকিং বা ম্যালওয়্যারের লক্ষণ হতে পারে। ক্ষতিকর সফটওয়্যার ফোনের প্রসেসর ও মেমোরি ব্যবহার করে কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

৩. অচেনা অ্যাপ বা সেটিংস দেখা যাওয়া

ফোনে এমন কোনো অ্যাপ দেখতে পেলে যা আপনি কখনো ইনস্টল করেননি, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। হ্যাকাররা অনেক সময় ক্ষতিকর অ্যাপ গোপনে ইনস্টল করে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে।

৪. মোবাইল ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া

সাধারণ ব্যবহার সত্ত্বেও যদি ডেটা খরচ হঠাৎ বেড়ে যায়, তাহলে কোনো ম্যালওয়্যার আপনার তথ্য অন্য কোথাও পাঠাচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করা দরকার। ফোনের ডেটা ব্যবহারের হিসাব দেখে সন্দেহজনক অ্যাপ শনাক্ত করা যেতে পারে।

৫. অদ্ভুত পপ-আপ বা অচেনা বার্তা পাওয়া

ফোনে বারবার বিজ্ঞাপন, পপ-আপ উইন্ডো বা অজানা নম্বর থেকে সন্দেহজনক বার্তা আসা হ্যাকিংয়ের ইঙ্গিত হতে পারে। অনেক সময় ক্ষতিকর অ্যাপ ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

ফোন হ্যাক হয়েছে সন্দেহ হলে কী করবেন?

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রথমে সন্দেহজনক অ্যাপ মুছে ফেলতে হবে এবং ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপগুলো সর্বশেষ সংস্করণে আপডেট করতে হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং দুই স্তরের নিরাপত্তা চালু করা উচিত। সমস্যা গুরুতর মনে হলে ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করার কথাও বিবেচনা করা যেতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অচেনা লিংকে ক্লিক না করা, অননুমোদিত উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করা এবং নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট রাখা ফোনকে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি থেকে সন্তানকে রক্ষা করুন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি থেকে সন্তানকে রক্ষা করুন

কয়েকবছর আগে বাংলাদেশের একটি পত্রিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে ছাত্রদের গাদাগাদি করে থাকার একটি ছবি ছাপা হয়েছিল। ছবিতে ছাত্রদের দুরবস্থার করুণ চিত্র ফুটে উঠেছিল। ছবিতে তারচেয়েও ভয়ঙ্কর ছিল আরেকটি ছবি। এতগুলো তরুণ এক রুমে গাদাগাদি করে আছে। কিন্তু কেউ কারো সঙ্গে কথা বলছে না, কেউ কারো দিকে তাকাচ্ছে না পর্যন্ত। সবার চোখ যার যার ফোনের স্ক্রিনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের সবাইকে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে আরো বেশি অসামাজিক করে তুলছে। শুধু অসামাজিক করা পর্যন্ত সীমিত থাকলেও না হয় চলতো। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা তৈরি করছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি এখন এক ভয়ঙ্কর সঙ্কট সৃষ্টি করছে।

আরো পড়ুন
শিগগির হচ্ছে নবম পে-স্কেলের গেজেট, বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ

শিগগির হচ্ছে নবম পে-স্কেলের গেজেট, বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ

 

আসক্তি শব্দটা আগে শুধু মাদকের সঙ্গেই ব্যবহার করা হতো। আসলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সবকিছু্ই খারাপ। এমনকি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভাতও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। পান, তামাক, সিগারেট থেকে শুরু করে হিরোইন, গাজা, মদ—সবই ক্ষতিকর। প্রচলিত এসব নেশা মানুষ লুকিয়ে চুরিয়ে করে। কিন্তু এসব নেশার চেয়েও ভয়ঙ্কর এক নেশা আমাদের চোখের সামনেই আমাদের সন্তানদের বর্তমান, ভবিষ্যত গ্রাস করে নিচ্ছে। আর এই নেশার নাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অন্ধকার এক ভার্চুয়াল জগৎ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের হাজারটা ভালো দিক আছে। গোটা বিশ্বে কোটি মানুষকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উপকার করেছে; আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপ্রয়োজনীয়, অতিরিক্ত ব্যবহার অনেকের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসক্তি আমাদের জীবনে বহুবিধ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ভার্চুয়াল জগতের আসক্তির ফলে বাস্তব জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য ভুলে যাওয়া, চাইলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি থেকে বেরুতে না পারা, কোনো কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে না পারলে বিরক্ত বা ক্রদ্ধ হওয়া, অনলাইনে না থাকলেও কল্পনায় ভার্চুয়াল জগতে বাস করা, লুকিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার, এমনকি খাওয়া, ঘুম, ব্যয়ামের রুটিন লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে আমাদের জীবনে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাস্তব সম্পর্ক ভুলে যাওয়া, নিজের ক্যারিয়ারের প্রতি মনোযোগী না হওয়া, নিজের ক্ষতি করা, এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে।

আরো পড়ুন
ইরানীদের কি তাহলে কোন দেশপ্রেম নেই— প্রশ্ন নট আউট নোমানের

ইরানীদের কি তাহলে কোন দেশপ্রেম নেই— প্রশ্ন নট আউট নোমানের

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আগের জগতটা ছিল বাস্তব। মানুষে মানুষে সম্পর্ক হতো মুখের কথায়, একটু ছোঁয়া, একটু মান-অভিমান আমাদের ভাসিয়ে নিতো সুখের সাগরে। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, ঝগড়া-অভিমান— সবই হতো মুখোমুখি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সৃষ্টি করা এক কল্পনার জগৎ আমাদের বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এক বিভ্রমের জগতে আমরা কাল্পনিক সুখের সাগরে ভাসতে গিয়ে আসলে ডুবে যাই। পাশের ঘরে হয়তো মা অসুখে কষ্ট পাচ্ছে। আর সন্তান ফেসবুকে বা ইনস্টাগ্রামে মা দিবসের আবেগঘন স্ট্যাটাস দিচ্ছে। বাস্তবের মায়ের চেয়ে কল্পনার ’মা দিবস’ তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। কারণ মা দিবসের স্ট্যাটাসের লাইক আসবে, কমেন্টস আসবে। সে মনের সুখে বারবার চেক করে আপডেট নেবে। পাশের রুমে মা যে কষ্ট পাচ্ছে, সে খেয়াল রাখার সময় কোথায়? ভার্চুয়াল জগতে আচ্ছন্ন থেকে আমরা ভুলে যাই পাশের প্রিয়জন বা বন্ধুর কথা। আমাদের অগ্রাধিকারের তালিকা সত্যিকারের স্বজনরা পিছিয়ে যাচ্ছে। এমনকি নিজের পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, ভবিষ্যৎ- সবকিছুই অগ্রাধিকারের তালিকায় খালি পিছিয়েই ‍যায়। বারবার ডিভাইস চেক করতে গিয়ে আমরা বাস্তব জগতকে ভুলে যাই। বাস্তবের চেয়ে কল্পনা এগিয়ে যায় আর আমরা পিছিয়ে যাই। 

আরো পড়ুন
আলিবাবা-বাইদুসহ একাধিক চীনা কম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায়

আলিবাবা-বাইদুসহ একাধিক চীনা কম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায়

 

এক জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকানরা দিনে গড়ে ৩৪৪ বার তার ফোন বা স্মাট ডিভাইস চেক করেন। তরুণদের অনেকে ফোন নিয়েই ঘুমাতে যায় এবং রাতভর স্ট্যাটাস আপডেট চেক করে। তাতে শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় নিরবচ্ছিন্ন ঘুমটা আর হয় না। ফলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, তীব্র হতাশা, মানসিক অবসাদ, নার্ভাসনেস, ক্রোধ, দীর্ঘমেয়াদে মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। মার্কিন গবেষকরা নিরবচ্ছিন্ন শান্তির ঘুমের জন্য স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহার দুই ঘণ্টায় সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

বাস্তব জগতে আমরা সত্যিটাই শুধু দেখি। সেই সত্যিটা সবসময় আমাদের ভালো নাও লাগতে পারে। কিন্তু ভার্চুয়াল জগৎ সবকিছু আমাদের সামনে উপস্থাপন করে সুন্দরভাবে, আমাদের মনের মতো করে। ভার্চুয়াল জগতের ফিল্টার করা সৌন্দর্য্য দেখে তরুণ-তরুণীদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। 

এক জরিপে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ৪০ ভাগ তরুণী এবং ১৪ ভাগ তরুণ নিজেদের শারীরিক সৌন্দর্য্য নিয়ে গ্লানিতে ভোগেন। তাদের খালি মনে হতে থাকে, অমুককে এত সুন্দর দেখায়, আমি এত কুৎসিত কেন?

আরো পড়ুন
পাবনায় স্কুলছাত্রী হত্যার জেরে অগ্নিসংযোগ, ৩ জনের মৃত্যু

পাবনায় স্কুলছাত্রী হত্যার জেরে অগ্নিসংযোগ, ৩ জনের মৃত্যু

 

ভার্চুয়াল জগতের সবকিছুই কিন্তু সুন্দর নয়। সেই কল্পনার জগতেও আছে গভীর, গভীরতর অন্ধকার। ভার্চুয়াল জগতে প্রেম করে প্রতারিত হওয়ার হাজারটা উদাহরণ আমাদের চোখের সামনেই আছে। গোপন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার উদাহরণও তো ভুরি ভুরি। নতুন নতুন আইন করেও ঠেকানো যাচ্ছে না প্রতারণা আর ব্ল্যাকমেইল। বাস্তব জগতের বুলিং আর সাইবার বুলিং-এ আকাশ-পাতাল ফারাক। বাস্তবের ঝগড়া, গালি তাৎক্ষণিক উত্তেজনা থেকে আসে। আবার মিলিয়েও যায়। কিন্তু সাইবার বুলিং সাইবার স্পেসে থেকে যায়, ভাইরাল হয়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে যায় আমাদের মনে, মননে।

তাছাড়া ভার্চুয়াল জগৎ আমাদের যে আনন্দ দেয়, বাস্তব জগতে সে আনন্দ না পেলে তরুণ প্রজন্ম হতাশ হয়। এসব হতাশা, প্রতারণা, সাইবার বুলিং, ব্ল্যাকমেইলের চাপ তরুণ-তরুণীরা নিতে পারে না। তারা আরো গভীর হতাশায় তলিয়ে যায়। জীবন সম্পর্কে হতাশ হয়ে তা কেড়ে নিতেও দ্বিধা করে না। 

আরো পড়ুন
সালাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অভিবাদন

সালাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অভিবাদন

 

কিন্তু এভাবে তরুণ প্রজন্মকে, আমাদের মানবসভ্যতার ভবিষ্যতকে ভার্চুয়াল জগতের হাতে ছেড়ে দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে বসে আফসোস করলে তো চলবে না। আমাদের সন্তানদের বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। আপনি নিশ্চয়ই আপনার সন্তানকে হিরোইন নিতে দেবেন না। স্মার্ট ডিভাইস কিন্তু হিরোইনের চেয়ে কম ক্ষতিকর নয়। একজন মাদকাসক্তকে যেমন হুট করে মাদক কেড়ে নিয়েই সুস্থ করে তোলা সম্ভব নয়। তেমনি হঠাৎ একদিন সন্তানের হাত থেকে স্মাট ডিভাইস কেড়ে নিলেই তার আসক্তি দূর হয়ে যাবে না। আপনাকে আপনার সন্তানের পাশে দাঁড়াতে হবে গভীর ভালোবাসা নিয়ে। তাকে বোঝান বাস্তব জগতের ভালোবাসাটাই আসল। তাকে সমস্যা থেকে পালিয়ে বেড়ানো নয়, সমসা মোকাবেলা করতে শেখান। আপনার সন্তানকে বলুন, সে কত ভালো, সে কত সুন্দর, তার মধ্যে লুকিয়ে আছে কি অপার সম্ভাবনা। তাকে বোঝান পৃথিবীটা কত সুন্দর। সন্তানকে স্ক্রিন টাইম মানেজ করতে শেখান। হুট করে ৮ ঘণ্টার স্ক্রিন টাইমকে আপনি ২ ঘণ্টায় নামিয়ে আনতে পারবেন না। আস্তে আস্তে বোঝাতে হবে, কমাতে হবে। তাকে সময়ের মূল্য বোঝান। অপ্রয়োজনে স্ক্রল করা বন্ধ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করতে শেখান। নিশ্চয়ই একদিন সে বুঝবে, কল্পনার আনন্দ ক্ষণস্থায়ী, বাস্তবের আনন্দ চিরদিনের। জীবন একটাই। সে জীবন যাপন করতে হবে বাস্তব আনন্দের সঙ্গে, প্রিয়জনের সান্নিধ্যে।