কে এই বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদ?

কালের কণ্ঠ অনলাইন
কালের কণ্ঠ অনলাইন
শেয়ার
কে এই বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদ?

সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর এলাকা থেকে আটক করেন। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে সিএমএম আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।

গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল মাজেদ চার কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। তার স্ত্রী সালেহা বেগম বর্তমানে বাড়ি ১০/এ, রোড-১, ক্যান্টনমেন্ট আবাসিক এলাকা ঢাকা সেনানিবাসে বসবাস করছেন।


 
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বাটামারা গ্রামের মরহুম আলী মিয়া চৌধুরীর ছেলে ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ। ১৯৭৫ সালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। হত্যাকাণ্ড শেষে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার অপর আসামি মেজর শাহরিয়ারসহ অন্যান্য সেনা সদস্যদের সঙ্গে রেডিও স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি ক্যূ কৃত অফিসারদের সঙ্গে বঙ্গভবনে দেশ ত্যাগের পূর্ব পর্যন্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী অফিসারদের সঙ্গে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের আদেশে বাংলাদেশ থেকে ব্যাংকক হয়ে লিবিয়া গমন করেন।

তিনি সেখানে ক্যূ কৃত অফিসারদের সঙ্গে তিন মাস অবস্থান করেন। অবস্থানকালীন সময়ে হত্যাকাণ্ডের পুরস্কার হিসেবে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান তাকে সেনেগাল দূতাবাসে বদলির আদেশ দেন।

পরবর্তীতে ১৯৮০ সালের ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান সরকার ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদকে বিআইডব্লিউটিসিতে চাকরি দেন এবং উপসচিব পদে যোগদানের সুবিধার্থে সেনাবাহিনী চাকরি থেকে তিনি অবসর নেন।

পরবর্তীতে তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এরপর তিনি মিনিস্ট্রি অফ ইয়ুথ ডেভেলপমেন্টে ডাইরেক্টর ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট পদের জন্য আবেদন করেন এবং উক্ত পদে যোগদান করেন। সেখান থেকে তিনি ডাইরেক্টর অফ হেড অফ ন্যাশনাল সেভিংস ডিপার্টমেন্টে বদলি হন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্য শুরু করলে তিনি আটক হওয়ার ভয়ে আত্মগোপন করেন।

মন্তব্য

বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
সংগৃহীত ছবি

আইনজ্ঞ, চিন্তাবিদ, নির্ভীক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৭৯ সালের ৩ এপ্রিল ইন্তেকাল করেন। ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দের ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। মাহবুব মোর্শেদ কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে অর্থনীতিতে বিএ (অনার্স), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে এমএ এবং ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন।

 

আরো পড়ুন
শুক্রবার থেকে টানা ৪ দিন বৃষ্টি ঝরবে যেসব এলাকায়

শুক্রবার থেকে টানা ৪ দিন বৃষ্টি ঝরবে যেসব এলাকায়

 

লন্ডনের লিংকন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আইনব্যবসা শুরু করেন। ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ঢাকা হাইকোর্ট বারে যোগ দেন। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে মাহবুব মোর্শেদ হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন। ১৯৬২-৬৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ছিলেন।

১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ঢাকা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে অধিষ্ঠিত হন এবং ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ নভেম্বর পদত্যাগ করেন।

সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের পাশাপাশি ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে  যুক্তফ্রন্ট গঠনে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখেন। 

রবীন্দ্র শতবার্ষিকী উদযাপন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি হিসেবে ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তিনি ঢাকায় রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালনে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করেন। আইয়ুব খানের শাসনকালে গণতান্ত্রিক অধিকার যখন বাধাগ্রস্ত, তখন মানুষের মৌলিক অধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আদালতের আসন থেকেই তিনি সংগ্রাম করেছিলেন।

 

আরো পড়ুন
মান্নাত ছেড়েছেন, এবার ফ্ল্যাট বিক্রি করলেন গৌরী খান

মান্নাত ছেড়েছেন, এবার ফ্ল্যাট বিক্রি করলেন গৌরী খান

 

১৯৬৯-এর আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তিনি ছাত্র সমাজের ১১-দফার প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। ওই বছরই আইয়ুব খান আহূত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি পূর্ব বাংলার  ছয়দফা ভিত্তিক স্বায়ত্তশাসন ও সংসদীয় গণতন্ত্রের দাবি জানিয়ে বক্তব্য পেশ করেন। উপরোন্তু, প্রাদেশিক গভর্নর মোনায়েম খানের প্রশাসনের সঙ্গে তার সংঘাতের কথা তখন সুবিদিত ছিল। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের স্বাধীনতা সংগ্রামে পাকিস্তানি শাসকচক্রের জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদ করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষাবলম্বন করেন।

আইনজীবী হিসেবে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করলেও দক্ষ বিচারক হিসেবেই মাহবুব মোর্শেদের খ্যাতি সুদূর প্রসারিত। বিচারপতির মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য তিনি কঠোর প্রয়াস চালিয়েছেন।

‘মন্ত্রীর মামলা’, ‘কর্নেল ভট্টাচার্যের মামলা’ ও ‘পানের মামলা’-য় তার ঐতিহাসিক রায় একজন অকুতোভয় বিচারকের ন্যায়নিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। 

মন্তব্য

পিরামিডের গাণিতিক রহস্য, প্রকৌশল না কি অলৌকিকতা?

শেয়ার
পিরামিডের গাণিতিক রহস্য, প্রকৌশল না কি অলৌকিকতা?
সংগৃহীত ছবি

প্রাচীন মিশরের স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন হওয়ার পাশাপাশি পিরামিড বিস্ময়কর গাণিতিক রহস্যও বহন করে। হাজার বছর আগে আধুনিক প্রযুক্তির অনুপস্থিতিতেও কীভাবে মিশরীয়রা এত নিখুঁত গাণিতিক হিসাবের মাধ্যমে পিরামিড নির্মাণ করেছিল, তা আজও গবেষকদের ভাবিয়ে তোলে। চলুন, জেনে নিই পিরামিডের কিছু চমকপ্রদ গাণিতিক রহস্য।

‘পাই’ ও ‘ফাই’এর উপস্থিতি
গ্রেট পিরামিডের উচ্চতা ও পরিধির অনুপাত প্রায় ৩.১৪১।

যা গাণিতিক ধ্রুবক ‘পাই’ (π)-এর সমান। এ ছাড়াও পিরামিডের ত্রিভুজাকৃতির গঠন ‘সোনালি অনুপাত’ (ফাই = ১.৬১৮)-এর সঙ্গে মিলে যায়। যা প্রকৃতির বিভিন্ন গঠনে পাওয়া যায়।

পৃথিবীর মাত্রা ও পিরামিড
গ্রেট পিরামিডের উচ্চতা ১৪৬.৬ মিটার।

এটির ভিত্তির পরিধি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল, যেন পিরামিডকে পৃথিবীর ব্যাসার্ধের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ বলে মনে হয়। পিরামিডের চারটি বাহু পৃথিবীর চারটি দিকের (উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম) সঙ্গে চমৎকারভাবে মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছিল।

সূর্য ও জ্যোতির্বিজ্ঞান
পিরামিডের নকশায় সূর্যের অবস্থান, নক্ষত্রের চলাচল ও ঋতুর পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিছু গবেষক দাবি করেন, এটি জ্যোতির্বিদ্যার জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছিল।

যেখানে নির্দিষ্ট তারা যেমন ওরিয়ন বেল্টের সঙ্গে পিরামিডের অবস্থান মিলে যায়।

গণিতের নিখুঁত ব্যবহার
গ্রেট পিরামিডের প্রতিটি পাথরের ওজন প্রায় ২.৫ টন। পুরো পিরামিডে প্রায় ২৩ লাখ পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। যদি প্রতিদিন ১০টি পাথর বসানো হতো, তাহলে পুরো পিরামিড তৈরি হতে ৬৩ বছর লাগত। এটি কীভাবে মাত্র ২০ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছিল, তা এক বিশাল প্রশ্ন।

জ্যামিতিক নিখুঁত গঠন
পিরামিডের প্রতিটি কোণ প্রায় ৫১.৮৪ ডিগ্রি। যা প্রকৌশলগতভাবে স্থিতিশীল একটি কাঠামো গঠনের জন্য আদর্শ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আজকের আধুনিক স্থাপত্যশাস্ত্রেও এই কোণটি ব্যবহৃত হয়।

পিরামিড শুধু রাজাদের সমাধি নয়, বরং এটি এক গাণিতিক বিস্ময়। প্রাচীন মিশরীয়রা কীভাবে এত নিখুঁত গণনা করতে পারত, তা এখনো রহস্য। এটি কি শুধুই গণিত ও প্রকৌশলের ফল, নাকি এর পেছনে আরো গভীর কোনো গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে? গবেষকরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন।

সূত্র : ব্রিটানিকা

মন্তব্য

কেমব্রিজের এপ্রিল ফুলে বোকা বনল বিশ্ব

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
কেমব্রিজের এপ্রিল ফুলে বোকা বনল বিশ্ব
সংগৃহীত ছবি

কেমব্রিজ ডিকশনারি কর্তৃপক্ষের এপ্রিল ফুলে বোকা বনে গেল বিশ্ব।

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিশেষ ঘোষণায় কেমব্রিজ ডিকশনারি কর্তৃপক্ষ জানায়, ইংরেজি বর্ণমালা থেকে কিউ (Q) বর্ণটি বাদ দেওয়া হচ্ছে।

ওই ঘোষণায় কেমব্রিজ ডিকশনারি কর্তৃপক্ষ বলছে, “আমাদের কমিউনিটির সদস্যরা সব সময় ইংরেজি বানান নিয়ে সমস্যায় পড়েন, বিশেষ করে ‘কিউ’ বর্ণ দিয়ে বানান করা শব্দগুলোর ক্ষেত্রে। তাই আমরা কেমব্রিজ ডিকশনারি থেকে ‘কিউ’ বর্ণটি সরিয়ে ফেলব।

তবে ‘কিউ’ বর্ণের পরিবর্তে অন্য কোন বর্ণ ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে কেমব্রিজ ডিকশনারি কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে ‘কিউইউ’ দিয়ে বানান করা সব শব্দের পরিবর্তে ‘কে’ অথবা ‘কেডব্লিউ’ দিয়ে বানান করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, kwiet, ekwipment এবং antike।

তবে কেমব্রিজ ডিকশনারি কর্তৃপক্ষ ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে ‘এপ্রিল ফুল ডে’ লেখা লিংক শেয়ার করেছেন। দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

মন্তব্য

ওসমানীয় সাম্রাজ্যে ঈদ উৎসব কেমন ছিল?

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
ওসমানীয় সাম্রাজ্যে ঈদ উৎসব কেমন ছিল?
সংগৃহীত ছবি

রমজান বায়রাম কিংবা সেকার বায়রাম, ওসমানীয় সাম্রাজ্যে এই নামেই ডাকা হতো ঈদকে। তুর্কি ‘বায়রাম’ শব্দের অর্থ উৎসব আর ‘সেকার’ শব্দের অর্থ মিষ্টি।

৬০০ বছর ধরে রাজত্ব করা সুবিশাল ওসমানীয় বা অটোমান সাম্রাজ্যের শাসকরা ছিলেন ইসলাম ধর্মের অনুসারী। ইসলামের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর তাই রাজকীয় সমারোহে উদযাপিত হতো এই সাম্রাজ্যে।

ওসমানীয় সাম্রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বায়রাম উদযাপনের শুরুটা হয়ে যেত চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে। ঈদের চাঁদ দেখা গেলে দুটি ভিন্ন স্থান থেকে তিনবার করে তোপধ্বনির মাধ্যমে জানান দেওয়া হতো। তোপ দাগানোর রেয়াজ ছিল ঈদের সকালেও। নামাজের পর ইস্তাম্বুলের বিভিন্ন স্থান বিশেষ করে প্রাসাদসমূহের ফটক এবং অন্যান্য শহরে তোপধ্বনি করা হতো।

চাঁদরাতে মশাল দিয়ে আলোকিত করা হতো তোপকাপি প্রাসাদ।

আরো পড়ুন
ঈদের দিন বাবাকে খোঁজে নৌফা, দেখেনি রাইয়ান

ঈদের দিন বাবাকে খোঁজে নৌফা, দেখেনি রাইয়ান

 

‘ঈদের দিনে হুররাম সুলতানের মাথায় শোভা পেতো পান্না ও রুবি খচিত সোনার মুকুট। নিজের সবচেয়ে সুন্দর পোশাকটি পরতেন তিনি।’ ইতিহাসবিদ জন ফারলি অটোমান সম্রাট সুলতান সুলেমানের স্ত্রী হুররামের ঈদের সাজের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবেই।

ইতিহাসবিদ লেসলি প্যারিসের মতে, অটোমান সুলতানদের স্ত্রীরা দরিদ্রদের মধ্যে খাবার ও পোশাক বিতরণ করতেন।

ঈদের দিন সুলতান কী করতেন?

সুলতান সকাল সকাল তার লোকবহর নিয়ে মিছিল বা শোভাযাত্রা করে মসজিদের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়তেন। হায়া সোফিয়া কিংবা নীল মসজিদে যেতেন নামাজ পড়তে। প্রাসাদের ফটক থেকে শুরু হওয়া সেই মিছিল দেখতে পথের দু’ধারে সমবেত হতো ইস্তাম্বুলবাসী। প্রহরীদের সতর্ক উপস্থিতি থাকতো শোভাযাত্রা ঘিরে।

নামাজ শেষ করে বহর নিয়ে প্রাসাদে ফিরে আসতেন সম্রাট।

প্রাসাদে পৌঁছে সিংহাসনে বসতেন সুলতান। শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন রাজপুত্র, রাজকর্মচারী ও হারেমের বাসিন্দাদের সাথে। আগতদের মিষ্টিমুখ করানো হতো। সোনা ও রুপার পাত্রে ঈদের বিশেষ মিষ্টান্ন পরিবেশন করা হতো তাদের। আহার শেষে, সুলতান সমুদ্রতীরের প্রাসাদে যেতেন। সেখানে নানান বিনোদনের ব্যবস্থা থাকত। কুস্তি, বন্দুক ও বর্শা দিয়ে লক্ষ্যভেদ ও তির-ধনুকের খেলা দেখাতেন দক্ষ ব্যক্তিরা।

ঈদ উপলক্ষে কখনো কখনো বড় বড় ভোজের আয়োজন করতেন অটোমান শাসকরা। শহরের বিশেষ বিশেষ স্থানে প্যাভিলিয়ন (তাবু) করা হতো। সুলতান এবং বড় বড় কর্মকর্তাদের বসার ব্যবস্থা থাকত সেখানে। সুসজ্জিত করা হতো পথঘাট। ছোট-বড় সবার জন্য দোলনার ব্যবস্থা থাকত।

খাবার, শোভাযাত্রা, নানান শারীরিক কসরত প্রদর্শন থেকে শুরু করে বই বাঁধাইয়ের মতো আয়োজনের পসরা দেখা যেত। জায়গাটা জাল দিয়ে ঘেরা থাকত বলে প্রাসাদ থেকে নারীরাও সেখানকার আয়োজন দেখতে পেতেন। শোভাযাত্রা শেষে সুলতানের তরফ থেকে ঈদ উপহার দেওয়া হতো সবাইকে।

সুলতান সুলেমানের রাজত্বকালে ঈদ উদযাপনের বর্ণনা দিয়ে অটোমান ইতিহাসবিদ মুস্তাফা আলী বলেন, ‘সুলতান তার কর্মকর্তা ও প্রজাদের কাছ থেকে অভিনন্দন গ্রহণ করতেন এবং দরিদ্রদের মধ্যে উপহার বিতরণ করতেন।’

জোহরের নামাজের পর কবরস্থানে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রার্থনার রীতি তখনো ছিল। শহরে ২৪ ঘণ্টাই বিনোদন ও ক্রীড়ার অনুমতি দিতেন সুলতান। আনন্দমুখর সময় কাটাতে দুই বা তিন আকচে (মুদ্রা) ছিল যথেষ্ট। নগরজুড়ে উৎসবের আয়োজন দেখতে বিদেশিরাও আসতেন ইস্তাম্বুলে।

শেষ অটোমান খলিফা দ্বিতীয় আব্দুল হামিদের রাজত্বকালে, নাট্য পরিবেশনাও ঈদ উৎসবের অংশ হয়ে ওঠে। ইস্তাম্বুলে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও আমন্ত্রণ পেতেন নাটক দেখার। এমন নানা আয়োজনে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অটোমানদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম রমজান বায়রাম তথা ঈদুল ফিতর উদযাপন করে এসেছে।

১৩ শতকে ওসমান গাজীর হাত ধরে এই সাম্রাজ্যে যাত্রা শুরু হয়েছিল। ছয় শতাব্দী পার করে সাম্রাজ্যের পতন হয় ১০০ বছর আগে ১৯২৪ সালে। নির্বাসনে পাঠানো হয় দ্বিতীয় আব্দুল হামিদকে।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ