বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বহুখাতীয়, কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ—বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের নেতাদের জন্য বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এই নৈশভোজের আয়োজন করেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিন শাংগ্রি-লা হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে বিমসটেক নেতাদের স্বাগত জানান থাই প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন সিনাওয়াত্রা। এরপর নৈশভোজে একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও দেন তিনি।
আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছবিও তোলেন থাই প্রধানমন্ত্রী সিনাওয়াত্রা।
ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধান উপদেষ্টা।
সকাল ৯টার দিকে প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
উপ-প্রেস সচিব জানান, ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় থাইল্যান্ডের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দেশটির মন্ত্রী জিরাপোর্ন সিন্ধুপ্রাই অধ্যাপক ইউনূসকে স্বাগত জানান।
আগামীকাল (শুক্রবার) সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাসো শেরিং তোবগে এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকসহ বেশ কয়েকটি বৈঠক করার কথা রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের।
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত ছাড়ার আগে এক বিবৃতিতে মোদি বলেন, দেশের জনগণের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করতে তিনি বিমসটেক দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা সফর শুরুর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিমসটেক দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে আমি সাক্ষাৎ করব। আমাদের জনগণের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে ফলপ্রসূভাবে কীভাবে সহযোগিতা আরও জোরদার করা যায়, তার অপেক্ষা করছি।’
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর এটাই হতে চলেছে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি।
বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডেও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
থাইল্যান্ডের সামাজিক উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ভারাউত সিলপা-আরচা এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত মন্ত্রী জিরাপোর্ন সিন্ধুপ্রাই বৃহস্পতিবার ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সম্মেলনের শেষের দিন (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী দুই বছর বাংলাদেশ এই জোটের নেতৃত্ব দেবে। ফলে এবারের শীর্ষ সম্মেলনটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঢাকার কর্মকর্তারাও মনে করেন, এই শীর্ষ সম্মেলন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশকে একটি ‘ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ দেশ হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ করে দেবে।
এ বছরের বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের আগে বৃহস্পতিবার ‘বিমসটেক ইয়াং জেনারেশন ফোরাম: হোয়ার দ্য ফিউচার মিটস’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস।
২০২২ সালের ৩০ মার্চ শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত পঞ্চম শীর্ষ সম্মেলনের তিন বছর পর এ বছর ব্যাংককে আয়োজিত হয়েছে ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলন। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সমৃদ্ধ, স্থিতিস্থাপক ও উন্মুক্ত বিমসটেক’।
বিমসটেক সচিবালয় জানায়, অভিন্ন নিরাপত্তা ও উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এই শীর্ষ সম্মেলন একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিস্থাপক ও উন্মুক্ত বিমসটেকের লক্ষ্য অর্জনে চলমান প্রচেষ্টায় নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন বলেন, এই শীর্ষ সম্মেলন বাংলাদেশ ও অন্যান্য বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার ও গভীর করবে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন সফল হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরো বলেন, ‘এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন আঞ্চলিক পরিমণ্ডলে নতুন বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন পদক্ষেপ।’