• ই-পেপার

যুক্তরাজ্যে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ নারী দলের বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা

ইউরোপে সক্রিয় ভূমিকার পরও নেতৃত্ব সংকটে ফ্রান্স বিএনপি

ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা
ইউরোপে সক্রিয় ভূমিকার পরও নেতৃত্ব সংকটে ফ্রান্স বিএনপি
সংগৃহীত ছবি

ইউরোপে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ফ্রান্স বিএনপি। গত ১৭ বছরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখা সংগঠনটি এখন নিজেই নেতৃত্ব সংকটে। কমিটি বিলুপ্তির দীর্ঘ সময় পরও নতুন নেতৃত্ব না আসায় সংগঠনের ভেতরে বাড়ছে হতাশা, বিভক্তি ও অনিশ্চয়তা।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর অপেক্ষার পরও নতুন কমিটি গঠন না হওয়ায় সংগঠনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে অনাস্থা, হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে। একসময় প্রবাসে বিএনপির অন্যতম শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে পরিচিত সংগঠনটির কর্মসূচিগুলোতে ব্যাপক নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা গেলেও বর্তমানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।

এরই প্রতিফলন দেখা গেছে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী পালনেও। অতীতে এ উপলক্ষে ফ্রান্স বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মী এক মঞ্চে উপস্থিত হলেও এবার সেই ঐক্যের চিত্র দেখা যায়নি।

গত ১০ জুন সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমেদের নেতৃত্বে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে একটি স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেখানে সংগঠনের অনেক শীর্ষ নেতা ও কর্মীর অনুপস্থিতি বর্তমান বিভক্তির চিত্রকে আরো স্পষ্ট করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৪ সালে সৈয়দ সাইফুর রহমানকে সভাপতি এবং এম এ তাহেরকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্র থেকে ফ্রান্স বিএনপির কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সে সময় ইউরোপ অঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান। দীর্ঘ সময় ধরে সাইফুর রহমান ও এম এ তাহেরের নেতৃত্বে ফ্রান্স বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সংগঠনটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

তবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রের নির্দেশে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ফ্রান্স বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক আনোয়ার হোসেন খোকন বিদ্যমান কমিটি ভেঙে দেন। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।

দলীয় সূত্রে আরো জানা যায়, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান দীর্ঘদিন ফ্রান্স বিএনপির সাংগঠনিক বিষয় তদারকি করতেন। তাঁর সঙ্গে সহযোগী হিসেবে ছিলেন বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক আনোয়ার হোসেন খোকন এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আবু সায়েম। মাহিদুর রহমান বিভিন্ন সময়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের চেষ্টা করলেও স্থানীয় পর্যায়ের অনৈক্য, গ্রুপিং ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের কারণে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, ফ্রান্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্যই দীর্ঘদিন কমিটি ঝুলিয়ে রেখেছেন। এ অবস্থায় তারা বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পরবর্তীতে ফ্রান্স বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব পান সাবেক ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন খোকন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত এই নেতা দায়িত্ব গ্রহণের পর সংগঠন পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিলেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তাঁর কার্যক্রম মূলত অনলাইন বৈঠক ও জুম সভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

নেতাকর্মীরা মনে করেন, ফ্রান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে সাংগঠনিক সংকট নিরসনে সরাসরি মাঠপর্যায়ে এসে পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁকে ফ্রান্সে এসে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফ্রান্স বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, আমরা প্রবাসে কষ্টার্জিত অর্থের একটি অংশ দলের জন্য ব্যয় করি। পরিবার-পরিজনের সময় থেকে সময় বের করে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিই। অথচ আমাদের সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় নেতারা শুধু আশ্বাস দিয়েই যাচ্ছেন। আমাদের নিয়ে আর তামাশা করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, ফ্রান্স বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী বছরের পর বছর ধরে একটি গ্রহণযোগ্য কমিটির অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু সেই অপেক্ষার কোনো শেষ দেখা যাচ্ছে না।

কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখার লক্ষ্যে এক জুম সভায় সাবেক সভাপতি আহসানুল হক বুলুকে সমন্বয়কের দায়িত্ব দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে ১৬ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, অসহযোগিতা ও সমন্বয়ের অভাবে কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।

এদিকে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর ফ্রান্সে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সূত্র জানায়, পদ-পদবি ও সাংগঠনিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে সংগঠনের সামগ্রিক কার্যক্রমে।

সম্প্রতি কয়েকটি দলীয় কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রকাশ্য বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ঘটনায় সাধারণ নেতাকর্মীরা যেমন বিব্রত হচ্ছেন, তেমনি সংগঠনের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিভিন্ন জাতীয় দিবস, দলীয় কর্মসূচি ও স্মরণসভায় অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার বিষয়টিও এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা বলে মনে করছেন নেতারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, ফ্রান্স বিএনপির বর্তমান অবস্থার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের নিষ্ক্রিয়তাই অনেকাংশে দায়ী। শুরু থেকেই কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না।

সদ্য বিদায়ি সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের আগে ও পরে কেন্দ্রের নির্দেশনায় পরিচালিত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে প্রবাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ফ্রান্স বিএনপি। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফ্রান্স বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের হতাশা দূর করতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান।

সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রেজাউল করিম রেজা বলেন, প্রবাসে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ফ্রান্স বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি যত দ্রুত গঠন করা হবে, তত দ্রুত ফ্রান্সে জাতীয়তাবাদী ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক শক্তির মধ্যে ঐক্য সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে প্রবাসে বর্তমান সরকারের পক্ষে ইতিবাচক জনমত গঠনেও ফ্রান্স বিএনপি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

অন্যদিকে সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমেদ বলেন, ফ্রান্স বিএনপির কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কোনো হাইব্রিড বা সুবিধাবাদী ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া উচিত নয়। যারা দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন এবং নিজেদের শ্রম, ত্যাগ, নির্যাতন ও রক্তের বিনিময়ে ফ্রান্সে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করে রেখেছেন, তাদের নিয়েই কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। ইউরোপের এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আমরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করিনি।

নেতাকর্মীরা জানান, সাংগঠনিক কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি অত্যন্ত জরুরি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সাংগঠনিক তৎপরতা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি দূতাবাস আয়োজিত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ঘিরেও বিভিন্ন সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কবির আহমেদ বলেন, তিনি ১৯৮৪ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সংগঠনের শৃঙ্খলার স্বার্থে অনেক বিষয় প্রকাশ্যে বলতে চান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজ ও সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে কেন্দ্রের নির্দেশনায় একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন এখন সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে কেন্দ্র থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ফ্রান্স বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক আনোয়ার হোসেন খোকনের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফ্রান্স বিএনপির আগামী নেতৃত্বে যাদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুল আলম রাঙ্গা, সাবেক সহ-সভাপতি কবির আহমেদ পাটোয়ারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রেজাউল করিম রেজা, জুনেদ আহমেদ এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কবির আহমেদ।

বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিকট অতীত থেকে এখন পর্যন্ত সংগঠনকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রেজাউল করিম রেজা এবং জুনেদ আহমেদ।

ফ্রান্স বিএনপির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা থাকলেও অধিকাংশ নেতাকর্মীর প্রত্যাশা একটাই—দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বিভক্তি ও সাংগঠনিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আরো সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় ফ্রান্স বিএনপির সাংগঠনিক সংকট আরো গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বিএনপির আন্তর্জাতিক সাংগঠনিক কাঠামোর জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বাংলাদেশিদের জন্য সহজ হচ্ছে আমিরাতের চাকরির বাজার

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশিদের জন্য সহজ হচ্ছে আমিরাতের চাকরির বাজার
ছবি: কালের কণ্ঠ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর এসেছে। দেশটির মানবসম্পদ ও আমিরাতীকরণ মন্ত্রণালয় ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থা সহজ ও দ্রুত করতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।

নতুন এই উদ্যোগের ফলে বিদেশি কর্মী নিয়োগ, ভিসা প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থান অনুমোদন আগের তুলনায় কম সময় ও কম জটিলতায় সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ ও আমিরাতীকরণ মন্ত্রণালয় গত ৮ জুন ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে বিদেশি কর্মী নিয়োগ, ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া আরো সহজ ও দ্রুত হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ব্যবহার হ্রাস এবং ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের জন্য আরো সহজ পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ ও অদক্ষ কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াও আরো গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় অনেক ক্ষেত্রে সহায়ক নথি জমার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। কিছু পারমিটের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের পরিমাণ ৭৫ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে একীভূত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর ফলে অধিকাংশ আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া এখন অনলাইনে সম্পন্ন করা যাবে।

বর্তমানে আমিরাতে ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট চালু রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ, চাকরি পরিবর্তন, পার্ট-টাইম চাকরি, ফ্রিল্যান্সিং, শিক্ষার্থী কর্মসংস্থান, গোল্ডেন ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি এবং গৃহকর্মীদের জন্য বিশেষ পারমিট উল্লেখযোগ্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এই সংস্কার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ আমিরাতে নির্মাণ, সেবা, পরিবহন, প্রযুক্তি ও গৃহস্থালি খাতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। সহজতর ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থা নতুন কর্মীদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকেও উৎসাহিত করবে।

দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতে, এই উদ্যোগ বেসরকারি খাতের টেকসই উন্নয়ন, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজার গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র : গালফ নিউজ

জালিয়াতির অভিযোগে কুয়েতে ৫ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
জালিয়াতির অভিযোগে কুয়েতে ৫ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

কুয়েতে সরকারি স্ট্যাম্প জাল করে প্রবাসী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রেসিডেন্স অ্যাফেয়ার্স ইনভেস্টিগেশন বিভাগ দীর্ঘ তদন্তের পর অভিযান চালিয়ে এই চক্রটিকে আটক করে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতের বিভিন্ন সরকারি স্ট্যাম্প জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা মূলত বিভিন্ন হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে অবস্থান করে গ্রাহকদের টার্গেট করতেন। তারা ৫ ও ১০ কুয়েতি দিনার মূল্যের সরকারি স্ট্যাম্প আসল দামের চেয়ে কম মূল্যে বিক্রি করে আসছিলেন। এভাবে প্রবাসীদের প্রলোভন দেখিয়ে তারা বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নেন।

অভিযান পরিচালনাকালে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযুক্তদের কাছ থেকে স্ট্যাম্প তৈরির বেশ কিছু সরঞ্জাম জব্দ করে। এর মধ্যে রয়েছে—একটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টার, বিপুল পরিমাণ স্ট্যাম্প তৈরির বিশেষ কাগজ ও সরঞ্জাম।

তদন্তে আরো উঠে এসেছে, জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত এই বিশেষ স্ট্যাম্পের কাগজের রোলগুলো কুয়েতের একটি হাসপাতাল থেকে চুরি করা হয়েছিল।

কুয়েতি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত আলামতসহ তাদেরকে সংশ্লিষ্ট পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি নথি জালিয়াতি কিংবা রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

ফ্রান্সে নতুন ইইউ আশ্রয়নীতি কার্যকর

তানভীর আহমেদ তোহা, ফ্রান্স
ফ্রান্সে নতুন ইইউ আশ্রয়নীতি কার্যকর
সংগৃহীত ছবি

ফ্রান্সে শুক্রবার (১২ জুন) থেকে কার্যকর হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন মাইগ্রেশন ও অ্যাসাইলাম প্যাক্ট। এর ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য সীমান্তে বাধ্যতামূলক যাচাই, দ্রুত প্রত্যাবাসন, ডাবলিন নীতির সংশোধন এবং বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহসহ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইইউর বহিঃসীমান্তে আশ্রয় আবেদনকারী অনিয়মিত অভিবাসীদের সর্বোচ্চ সাত দিনের বাধ্যতামূলক ‘ফিল্টারিং’ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এ সময় তাদের পরিচয়, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হবে। ফিল্টারিং চলাকালে আবেদনকারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফরাসি ভূখণ্ডে প্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হবে না।

যাচাই শেষে আবেদনকারীকে সাধারণ আশ্রয় প্রক্রিয়া অথবা সীমান্তভিত্তিক বিশেষ আশ্রয় প্রক্রিয়ায় পাঠানো হবে। সীমান্ত প্রক্রিয়ার আওতায় পড়লে তাকে সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহ সীমান্তসংলগ্ন কেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে এবং সেখানেই তার আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে।

ফ্রান্সের পরিকল্পনা অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ৬১৫টি স্থান প্রস্তুত রাখার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে প্রায় ৩০০টি। এর মধ্যে ১৫৭টি স্থান রোয়াসি শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে। ফরাসি অভিবাসন ও ইন্টিগ্রেশন দপ্তরের (ওএফআইআই) মহাপরিচালক দিদিয়ে লেসচি জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে বিমানবন্দরসংলগ্ন হোটেল ব্যবহার করা হবে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন অনুমোদনের হার ইইউতে ২০ শতাংশ বা তার কম, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি এবং কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করার সন্দেহভাজনদের সীমান্ত আশ্রয় প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হতে পারে।

এছাড়া ফ্রান্সের অভ্যন্তরে অনিয়মিত অবস্থায় শনাক্ত কিছু ব্যক্তিকেও ফিল্টারিংয়ের আওতায় আনা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের অভিযানে আটক কোনো অনিয়মিত অভিবাসী আশ্রয় চাইলে তাকেও একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।

নতুন প্যাক্টের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, সীমান্তে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আপিল বিচার শেষ হওয়ার আগেই দেশত্যাগের নির্দেশ কার্যকর করা যেতে পারে। বর্তমানে আপিল চলাকালে বহিষ্কার কার্যক্রম সাধারণত স্থগিত থাকে।

ডাবলিন বিধিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি অন্য একটি ইইউ দেশে আগে আশ্রয় আবেদন করে থাকলে সেই দেশই তার আবেদন পরীক্ষা করবে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব বহনের সময়সীমা ১২ মাস থেকে বাড়িয়ে ২০ মাস করা হয়েছে।

ইউরোড্যাক ডেটাবেজে তথ্য সংরক্ষণের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে অনিয়মিতভাবে প্রবেশকারী সব ব্যক্তির তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। আঙুলের ছাপের পাশাপাশি মুখের বায়োমেট্রিক তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। ছয় বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুরাও এ ব্যবস্থার আওতায় থাকবে।

সামাজিক সহায়তা সুবিধার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। ডাবলিন প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত আবেদনকারীরা আগের মতো সুবিধা পাবেন না। তবে পুনরায় বা বিলম্বিত আশ্রয় আবেদনকারীদের জন্য সীমিত সহায়তা চালু রাখা হবে।

তবে ‘নিরাপদ তৃতীয় দেশে’ আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াকরণ এবং ইউরোপের বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের মতো কিছু বিতর্কিত প্রস্তাব ফ্রান্স বাস্তবায়ন করবে না বলে জানিয়েছে।