• ই-পেপার

শ্রীলঙ্কায় সার্ক প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তাদের সভা শুরু

যুক্তরাজ্যে আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন হাসনাত আবদুল্লাহ!

পুলিশের হেফাজতে এনসিপি নেতা জাকির

নুরুল হক শিপু, যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যে আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন হাসনাত আবদুল্লাহ!
ফাইল ছবি

যুক্তরাজ্যে এক যুবকের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহসহ একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জুবায়ের আহমদ। তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবে কর্মরত বলে জানান।

বাইকে থাকা অবস্থায় ধাওয়া ও হামলার অভিযোগ

জুবায়ের আহমদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিকেল ৪টার দিকে কাজ শেষে মোটরসাইকেলে ফেরার পথে একটি মাইক্রো বাইকের কাছাকাছি এসে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে তিনি গাড়ির পিছু নিয়ে একটি গ্রামীণ সড়কের দিকে গেলে ভ্যানটি সেখানে থামে। এরপর গাড়ি থেকে প্রায় ৮ জন ব্যক্তি নেমে এসে তাকে আক্রমণ করে বলে তিনি দাবি করেন। এসময় একজন ছোট একটি ছুরি দিয়ে আঘাত করলে তার পেটে জখম হয় বলে তিনি নিজেই কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, হামলার সময় তার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হচ্ছিল, এটি বুঝতে পেরে হামলাকারীরা ফোনটি নিয়ে নেয়। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্রিটিশ নারী ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন এবং আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই নারী পুলিশের কাছে তার হয়ে সাক্ষীও দিয়েছেন।

পুলিশের তদন্ত ও একজনের জিজ্ঞাসাবাদ

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় এনসিপি নেতা জাকিরকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা অভিযোগ

এদিকে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মো. এম এ হিমেল এক বিবৃতিতে অভিযোগগুলোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে হয়রানি ও অপপ্রচারের চেষ্টা চলছে। এসব অভিযোগের মাধ্যমে পুলিশি প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি তার।

অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে, এটি একটি গুরুতর হামলার ঘটনা এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।

তদন্ত চলমান

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুরো ঘটনাটি নিয়ে পুলিশি তদন্ত চলমান। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কুয়ালালামপুরে ১১৮ বাংলাদেশি আটক

অনলাইন ডেস্ক
কুয়ালালামপুরে ১১৮ বাংলাদেশি আটক
সংগৃহীত ছবি

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অভিযান চালিয়ে ১৮৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। এদের মধ্যে ১১৮ জন বাংলাদেশি রয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) মধ্যরাতের পর পুডু মার্কেটের কাছে একটি ভবনে পরিচালিত এ অভিযান পরিচালনা করা হয।

হারিয়ান মেট্রোর বরাতে ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, ৩২০ বিদেশি নাগরিককে তল্লাশি করা হয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া, বৈধ ভ্রমণ নথি বা পাস না থাকার সন্দেহে ১৮৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

ইমিগ্রেশন বিভাগ আরো জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১১৮ জন বাংলাদেশি পুরুষ রয়েছেন। এ ছাড়া ২৮ জন ইন্দোনেশীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সাতজন পুরুষ ও ২১ জন নারী।

আটকদের মধ্যে আরো রয়েছেন ২৬ জন মিয়ানমারের নাগরিক, যার মধ্যে ১৩ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী। এ ছাড়া পাঁচজন ভিয়েতনামি, চারজন নেপালি, দুইজন ভারতীয়, দুইজন চীনা এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

রাত ১২টা ৫ মিনিটে শুরু হওয়া এ অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগ, পুলিশ, কুয়ালালামপুর সিটি হল এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের মোট ১৩৭ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন। আটক সবাইকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ইমিগ্রেশন ডিপোতে নেওয়া হয়েছে।

ভেনিসে বাংলাদেশিদের নিয়ে ইতালিয়ানদের উন্মুক্ত আলোচনা ও নৈশভোজ

জাকির হোসেন সুমন, ইতালি
ভেনিসে বাংলাদেশিদের নিয়ে ইতালিয়ানদের উন্মুক্ত আলোচনা ও নৈশভোজ

ইতালির ভেনিসে প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশির বসবাস। তাদের মধ্যে নতুন প্রজন্মের অনেকেই ইতালিতেই বেড়ে উঠছে। ইতালিয়ান ও বাংলাদেশিদের সংস্কৃতি, কর্মজীবন, সহাবস্থান এবং সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে মুখোমুখি প্রশ্নোত্তর ও উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করেন ইংল্যান্ডের ইউসিএল (UCL) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেঘনা মেহেত্তা।

ঐতিহাসিক ভেনিসের ‘Wetlands and Tocia’ নামক একটি সংগঠনের উদ্যোগে মারঘেরা ও মেস্ত্রে এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের ইতালিয়ানদের সঙ্গে একত্রে বসবাস, কর্মজীবন এবং ইতালিতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের নানা বিষয় নিয়ে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন প্রফেসর মেঘনা মেহেত্তা, ভেনিসে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পিএইচডি শিক্ষার্থী জুয়াইরিয়া উদ্দিন দেখা, ইতালিতে কর্মরত দোভাষী জোহরা হক, রেস্টুরেন্টকর্মী ইফতেখার সেতু এবং সদ্য ইতালিতে আগত হীম উদ্দিন। তারা ইতালীয়, ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় নিজেদের কর্মজীবন, অভিজ্ঞতা এবং ইতালিতে বসবাসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইতালিয়ানদের সঙ্গে বাংলাদেশিদের সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, পারস্পরিক ভাববিনিময় ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করা। পাশাপাশি বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রা, দুই দেশের সংস্কৃতি এবং খাদ্য ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। এ সময় অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মেঘনা মেহেত্তার রচিত একটি নতুন বই প্রকাশের আগাম বার্তাও উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের জন্য ইতালীয় ও বাংলাদেশি বিভিন্ন খাবার পরিবেশন করা হয়। এ সময় ভেনিস বাংলা স্কুল পরিবারের সদস্য, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।

ফ্রান্সে বহিষ্কারযোগ্য বিদেশিদের ৭ মাস পর্যন্ত আটকের অনুমোদন

তানভীর তোহা, ফ্রান্স
ফ্রান্সে বহিষ্কারযোগ্য বিদেশিদের ৭ মাস পর্যন্ত আটকের অনুমোদন
সংগৃহীত ছবি

ফ্রান্সে অনিয়মিতভাবে অবস্থানরত এবং জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত বিদেশিদের প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ মেয়াদ বাড়িয়ে ২১০ দিন করা হয়েছে। বিতর্কিত এ আইন মঙ্গলবার (১৬ জুন) পার্লামেন্টে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। সরকারের দাবি, বহিষ্কার প্রক্রিয়া আরো কার্যকর করা এবং জননিরাপত্তা জোরদার করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটিকে ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেছে।

ফরাসি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে অনুমোদনের পর নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিও বিলটির পক্ষে চূড়ান্ত সম্মতি দেয়। ভোটাভুটিতে ৩৪৫ জন সংসদ সদস্য বিলটির পক্ষে এবং ১৭৭ জন বিপক্ষে ভোট দেন। সরকার, ডানপন্থি দলগুলো এবং কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র‍্যালি বিলটিকে সমর্থন করে।

বর্তমানে ফ্রান্সে প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৯০ দিন। সন্ত্রাসবাদে দণ্ডিত বিদেশিদের ক্ষেত্রে তা ১৮০ দিন। নতুন আইনের আওতায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এ সময়সীমা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২১০ দিন পর্যন্ত করা যাবে।

আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফরাসি ভূখণ্ড ত্যাগের নির্দেশ (ওকিউটিএফ) থাকতে হবে। পাশাপাশি অতীতে গুরুতর অপরাধে অন্তত পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হতে হবে এবং তাকে জননিরাপত্তার জন্য বাস্তব ও গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হতে হবে। এসব শর্ত পূরণ হলে বহিষ্কার কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাকে প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখা যাবে।

নতুন আইনে সন্ত্রাসবাদে দণ্ডিত বিদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১৮০ দিন থেকে বাড়িয়ে ২১০ দিন করা হয়েছে।

বিলটি পাস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লকর্নু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে কার্যকারিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, ‘ফরাসিদের নিরাপত্তাই আমাদের একমাত্র দিকনির্দেশনা।’

আইনটিতে আরেকটি নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা প্রয়োজন মনে করলে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলক মনোরোগ মূল্যায়নের নির্দেশ দিতে পারবেন। সরকারের দাবি, সম্ভাব্য সন্ত্রাসী ঝুঁকি মোকাবিলায় এ ব্যবস্থা সহায়ক হবে।

তবে বিরোধীরা এ বিধানের সমালোচনা করেছে। সোশ্যালিস্ট পার্টির সংসদ সদস্য রোমাঁ এসকেনাজি বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি মানসিক স্বাস্থ্য, সন্ত্রাসবাদ ও অভিবাসন—এই তিনটি পৃথক বিষয়কে একসঙ্গে মিশিয়ে ফেলেছে। বামপন্থি দলগুলো ইতোমধ্যে বিষয়টি সাংবিধানিক পরিষদে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

আইনটির সমর্থক কয়েকজন সংসদ সদস্য ২০২৪ সালের আলোচিত ‘ফিলিপিন’ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত মরক্কোর এক নাগরিকের বিরুদ্ধে ফ্রান্স ছাড়ার নির্দেশ জারি ছিল এবং ঘটনার আগে তিনি একটি প্রশাসনিক আটক কেন্দ্র থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।

তবে সমালোচকদের দাবি, নতুন আইন কার্যকর থাকলেও ওই হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো না। সংসদ সদস্য অঁদি কেরব্রা বলেন, অভিযুক্তকে ৭০ দিনের মাথায় মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় বিদ্যমান আইনেই তাকে ৯০ দিন পর্যন্ত আটকে রাখার সুযোগ ছিল। ফলে আটকের মেয়াদ বাড়ানো হলেও ওই ঘটনার পরিণতি ভিন্ন হতো না।

ফ্রান্সে অনিয়মিত অবস্থানে থাকা বিদেশিদের বহিষ্কারের উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখা হয়। তবে ইউরোপীয় আইন অনুযায়ী এটি একটি ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা, যা কেবল শেষ অবলম্বন হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।

অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন লা সিমাদের মতে, বহিষ্কার কার্যকর করার জন্য ব্যক্তিস্বাধীনতায় কম হস্তক্ষেপকারী অন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে তবেই প্রশাসনিক আটক ব্যবহার করা উচিত।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ বিদেশিকে প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। মায়োতসহ ফরাসি ওভারসিজ অঞ্চলগুলোর হিসাব যুক্ত করলে এ সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজারে পৌঁছায়।