• ই-পেপার

কুয়ালালামপুরে ১১৮ বাংলাদেশি আটক

সাইপ্রাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
সাইপ্রাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

সাইপ্রাসে নিখোঁজ হওয়া শাহরিয়ার আহমেদ ইমন নামক এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ইমনের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, গত ১২ জুন ওরোক্লিনি এলাকায় নিজের বাসা থেকে বের হওয়ার পর ইমনের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি কোফিনু অঞ্চলের একটি কারখানায় প্রথম কর্মদিবসে যোগ দিতে যাচ্ছেন বলে পরিচিতদের জানিয়েছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার রাতে তিনি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এক বন্ধুকে নিজের অবস্থানের একটি লোকেশন পাঠান। এরপর থেকে তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং নিহতের বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী কোথায় ফেলে রাখা হয়েছিল, সে সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, ইমন ও অভিযুক্তের পরিচয় হয়েছিল একটি বাসযাত্রার সময়। অভিযুক্ত দাবি করেছেন, সে সময় ইমনের আচরণে অপমানিত বোধ করেছিলেন। তবে পুলিশের ধারণা, ব্যক্তিগত ক্ষোভের পাশাপাশি অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যও এই ঘটনার পেছনে কাজ করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইমনকে ওরোক্লিনি থেকে গাড়িতে তুলে কোফিনু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে হত্যা করে মরদেহ গোপনে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হত্যার কয়েক ঘণ্টা পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ইমনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং মুক্তিপণ দাবি করেন। এর মাধ্যমে অপহরণের একটি ভুয়া নাটক তৈরি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া মরদেহটি পচনরত অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, নিখোঁজ হওয়ার রাতেই ইমন হত্যার শিকার হন।

বর্তমানে মরদেহ উদ্ধারের স্থানকে কেন্দ্র করে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যের সব তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিহত শাহরিয়ার আহমেদ ইমন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাখরনগর এলাকার বাসিন্দা নাসির মিয়ার ছেলে।

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত
সংগৃহীত ছবি

কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। যাদের পাঁচজনই বাংলাদেশের সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। অন্যজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে।

নিহত পাঁচ বাংলাদেশি হলেন আগতালুক নিবাসী জসিম উদ্দিন, আমরপুর নিবাসী জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক নিবাসী মস্তাক আহমদম, মাঝতালুক নিবাসী জুবায়ের আহমদ এবং গাছবাড়ী নিবাসী কাদের আহমদ।

জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন তানা। এ সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারালে ঘটনাস্থলেই ছয়জন প্রাণ হারান বলে জানান আহমেদ মালেক। তাদের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

আমেরিকায় ট্রাকচাপায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
আমেরিকায় ট্রাকচাপায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত

আমেরিকার ফ্লোরিডায় ট্রাকচাপায় কবির হোসেন মৃধা (৫৫) নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

নিহত কবির হোসেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার দক্ষিণ মোড়াকাঠী গ্রামের মৃত মেছের উদ্দিন মৃধার ছোট ছেলে।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে নিহতের আত্মীয় হেমায়েত হাওলাদার জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে ডিভি লটারিতে বিজয়ী হয়ে কবির হোসেন যুক্তরাষ্ট্রে যান।

তিনি আরো জানান, কবির হোসেনের স্ত্রী ও এক ছেলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি ফ্লোরিডায় একটি ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

স্থানীয় সময় ২০ জুন সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা) নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বেপরোয়া গতির একটি ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন বলে জানা গেছে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তার মরদেহ বাংলাদেশে এনে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

যুক্তরাজ্যে আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন হাসনাত আবদুল্লাহ!

পুলিশের হেফাজতে এনসিপি নেতা জাকির

নুরুল হক শিপু, যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যে আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন হাসনাত আবদুল্লাহ!
ফাইল ছবি

যুক্তরাজ্যে এক যুবকের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহসহ একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জুবায়ের আহমদ। তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবে কর্মরত বলে জানান।

বাইকে থাকা অবস্থায় ধাওয়া ও হামলার অভিযোগ

জুবায়ের আহমদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিকেল ৪টার দিকে কাজ শেষে মোটরসাইকেলে ফেরার পথে একটি মাইক্রো বাইকের কাছাকাছি এসে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে তিনি গাড়ির পিছু নিয়ে একটি গ্রামীণ সড়কের দিকে গেলে ভ্যানটি সেখানে থামে। এরপর গাড়ি থেকে প্রায় ৮ জন ব্যক্তি নেমে এসে তাকে আক্রমণ করে বলে তিনি দাবি করেন। এসময় একজন ছোট একটি ছুরি দিয়ে আঘাত করলে তার পেটে জখম হয় বলে তিনি নিজেই কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, হামলার সময় তার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হচ্ছিল, এটি বুঝতে পেরে হামলাকারীরা ফোনটি নিয়ে নেয়। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্রিটিশ নারী ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন এবং আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই নারী পুলিশের কাছে তার হয়ে সাক্ষীও দিয়েছেন।

পুলিশের তদন্ত ও একজনের জিজ্ঞাসাবাদ

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় এনসিপি নেতা জাকিরকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা অভিযোগ

এদিকে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মো. এম এ হিমেল এক বিবৃতিতে অভিযোগগুলোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে হয়রানি ও অপপ্রচারের চেষ্টা চলছে। এসব অভিযোগের মাধ্যমে পুলিশি প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি তার।

অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে, এটি একটি গুরুতর হামলার ঘটনা এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।

তদন্ত চলমান

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুরো ঘটনাটি নিয়ে পুলিশি তদন্ত চলমান। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।