ক্যান্সার একটি গুরুতর ও মারাত্মক রোগ। শরীরে অনিয়ন্ত্রিত কোষ বৃদ্ধির কারণে হয় এই রোগ হয়। রোগটি অনেক কারণেই হতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে জিনগত, পরিবেশগত কারণ এবং জীবনধারা।
ক্যান্সার একটি গুরুতর ও মারাত্মক রোগ। শরীরে অনিয়ন্ত্রিত কোষ বৃদ্ধির কারণে হয় এই রোগ হয়। রোগটি অনেক কারণেই হতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে জিনগত, পরিবেশগত কারণ এবং জীবনধারা।
আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সারের অনেক কারণ রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—
ক্ষতিকারক রাসায়নিক
প্রতিদিন পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত পণ্য বা কীটনাশকগুলোতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক থাকে, যা দীর্ঘ সময় ধরে সংস্পর্শে থাকলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
জাংক ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, রেড মিট ও ডিপ ফ্রাই খাবার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এই খাবারগুলোতে উপস্থিত ক্ষতিকারক রাসায়নিক এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি শরীরে প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস সৃষ্টি করে, যা কোষের ক্ষতি করতে পারে।
ধূমপান ও তামাক
ধূমপান ও তামাক খাওয়া ক্যান্সারের অন্যতম বড় কারণ। সিগারেট, বিড়ি, গুটখা এবং অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্যে নিকোটিন ও ক্যান্সার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক থাকে। এই রাসায়নিকগুলো ফুসফুস, মুখ, গলা, অগ্ন্যাশয় ও মূত্রথলির ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।
অ্যালকোহল
অ্যালকোহল পান ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ায়। অ্যালকোহলে উপস্থিত ইথানল এবং এর বিপাকীয় পদার্থ শরীরে প্রবেশ করে এবং কোষের ক্ষতি করে। এটি লিভার, মুখ, গলা, স্তন ও অন্ত্রের ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। তাই ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য অ্যালকোহল সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করা গুরুত্বপূর্ণ।
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা
আধুনিক জীবনযাত্রায় শারীরিক কার্যকলাপের অভাব একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা এবং ব্যায়ামের অভাব স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো রোগের কারণ হতে পারে। নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে এবং কোষ মেরামতের প্রক্রিয়া ধীর করে দেয়, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি
রোদে বেশি সময় কাটানো এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা ত্বকের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং মেলানোমার মতো গুরুতর ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। তাই রোদে বেরোনোর সময় সানস্ক্রিন, টুপি ও প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র : ইটিভি
সম্পর্কিত খবর
ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলে ব্লাড সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য খাওয়া-দাওয়ায় রাশ টানা যেমন জরুরি, তেমনই আরো একটি বিশেষ কাজ করা জরুরি। হাই ব্লাড সুগার থাকলে পায়ে খুব সহজে ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমাদের গাফিলতির কারণে সংক্রমণ হয়। আর খুব দ্রুত তা মারাত্মক আকার নিতে পারে।
সামান্য ইনফেকশন থেকে জটিল রোগ হয়ে যেতে পারে। অতএব ডায়াবেটিসের রোগীদের বিশেষভাবে পায়ের যত্ন নেওয়া উচিৎ, পরিষ্কার রাখা জরুরি। ব্লাড সুগারের মাত্রা বেশি থাকলে পায়ে যাতে ইনফেকশন না হয়, তার জন্য কিভাবে যত্ন নেবেন, পরিষ্কার রাখবেন, তা জানুন এই প্রতিবেদনে।
পায়ের যত্ন নেবেন যেভাবে
পায়ের নখ বাড়তে দেবেন না।
বাড়ির বাইরে গেলে তো অতি অবশ্যই পা পরিষ্কার করবেন। গরম পানিতে লিকুইড সাবান কিংবা শ্যাম্পু মিশিয়ে নিন। তারপর সেই পানিতে খানিকক্ষণ পা ডুবিয়ে বসে থাকুন। এরপর লুফা দিয়ে কিংবা ব্রাশ দিয়ে ভালোভাবে ঘষে পায়ের তলা, গোড়ালির অংশ, নখের চারপাশ ও আঙুলের ফাঁকগুলো পরিষ্কার করতে হবে।
পা পরিষ্কার করা হয়ে গেলে নরম তোয়ালে কিংবা গামছা দিয়ে শুকনো করে পা মুছে নিতে হবে।
ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলে পা পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরি। তাই খালি পায়ে কখনই হাঁটবেন না। বাড়িতেও পায়ে জুতা পরে থাকুন। আর বাইরে বের হলেও এমন জুতা পরুন, যা পায়ে আরাম দেবে। এমনিতেও ঘরের ভেতরে খালি পায়ে না হেঁটে জুতা পরে হাঁটা সকলের জন্যই ভালো। পায়ের তলায় নোংরা লাগবে না। পা পরিষ্কার থাকবে। চোট, আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। এমনকি পা ফাটার সমস্যাও কমবে।
হাই ব্লাড সুগারের রোগীরা পায়ের ওপরে অর্থাৎ পায়ের পাতায় ময়শ্চারাইজার, ক্রিম লাগাতে পারেন। তবে পায়ের নীচের অংশে ক্রিম ব্যবহার করবেন না। এর পাশাপাশি পায়ের তলায় সামান্য চোট, আঘাত লাগলেও অবহেলা করবেন না। ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে কিন্তু সামান্য কাঁটাছেঁড়া, ক্ষতই মারাত্মক সংক্রমণের আকার নিতে পারে। তাই সাবধান থাকা প্রয়োজন।
সূত্র : এবিপি লাইভ
রোজায় শরীরের পানিশূন্যতা এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে চোখের কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া, দৃষ্টিশক্তি দুর্বল লাগা বা ক্লান্তি অনুভব করা। তাই রোজায় চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে কিছু বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। রোজায় চোখের যত্নে কী করবেন, তা নিয়েই আজকের আয়োজন।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন: ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন, যাতে শরীর ও চোখ আর্দ্র থাকে। পানিশূন্যতা থাকলে চোখ শুষ্ক ও ক্লান্ত লাগতে পারে।
পুষ্টিকর খাবার খান: ভিটামিন-সমৃদ্ধ খাবার খান, বিশেষ করে ভিটামিন এ, সি, ই এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, যা চোখের জন্য উপকারী। গাজর, শাক-সবজি, টমেটো, বাদাম, ডিম, দুধ, মাছ, খেজুর ও ফলমূল বেশি পরিমাণে খান।
চোখের আর্দ্রতা বজায় রাখুন: চোখ শুষ্ক হয়ে গেলে কৃত্রিম চোখের পানি (আই ড্রপ) ব্যবহার করুন। রোজায় অনেকের চোখ শুকিয়ে যেতে পারে। চোখের শুষ্কতা দূর করতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে লুব্রিকেটিং আই ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন।
চোখ বারবার রগড়ানো এড়িয়ে চলুন: চোখ বারবার রগড়ানো এড়িয়ে চলুন, এতে চোখের সংক্রমণ হতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন: তারাবি নামাজ বা সাহরির কারণে ঘুমের ঘাটতি হলে চোখ লাল বা ফুলে যেতে পারে। প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
স্ক্রিনের ব্যবহার কমান: দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করলে চোখের ক্লান্তি বেড়ে যায়। স্ক্রিনের দিকে তাকানোর সময় প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ড বিরতি নিন এবং ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকান (২০-২০-২০ নিয়ম)।
সরাসরি সূর্যালোক থেকে চোখ রক্ষা করুন: বাইরে গেলে সানগ্লাস ব্যবহার করুন, যাতে রোদ ও ধুলোবালি থেকে চোখ সুরক্ষিত থাকে।
অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে চলুন: ক্যাফেইনসমৃদ্ধ পানীয় (চা, কফি, সোডা) বেশি পান করলে শরীর পানিশূন্য হয়ে যেতে পারে, যা চোখের জন্য ক্ষতিকর।
চোখে আরামদায়ক ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন: দিনে ২-৩ বার ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিলে চোখ সতেজ থাকবে এবং ক্লান্তি দূর হবে।
ধুলাবালি ও ধোঁয়া থেকে দূরে থাকুন: রোজায় বাইরে চলাফেরার সময় ধুলাবালি থেকে বাঁচতে সানগ্লাস বা চশমা পরুন।
ধোঁয়া বা দূষিত পরিবেশে কম থাকার চেষ্টা করুন, কারণ এটি চোখের অ্যালার্জি বা শুষ্কতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
যদি চোখ বেশি লাল হয়ে যায়, ব্যথা হয় বা ঝাপসা দেখেন, তাহলে দেরি না করে চোখের ডাক্তার দেখান।
চক্ষু বিশেষজ্ঞ সার্জন
জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।
আপনার স্মৃতিশক্তি যদি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে তবে এখনই আপনার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য শক্তিশালী করার জন্য পদক্ষেপ নিন। অন্যথায় স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
চলুন, জেনে নিই কয়েকটি খাদ্য সম্পর্কে। যেগুলো আপনার স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করবে।
তুলসী
তুলসী পাতা আপনার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত তুলসী পাতা খেলে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধি হয়।
দারুচিনি
দারুচিনি শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, এটি আপনার মস্তিষ্কের শক্তি বৃদ্ধি করতেও সহায়তা করে। এটি স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
অশ্বগন্ধা
অশ্বগন্ধা আপনার মস্তিষ্কের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এটি মনোযোগ বাড়ানোর ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
হলুদ
হলুদে থাকা কারকিউমিন, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
সূত্র : আজতাক বাংলা
ফরমালডিহাইড হলো একটি বর্ণহীন, দাহ্য এবং কটু গন্ধযুক্ত বিষাক্ত রাসায়নিক যৌগ। এটি যখন পানিতে মিশে তখন ফরমালিনে পরিণত হয়। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে ফরমালিন একটি আতঙ্কের নাম। সেখানে প্রায় সব ধরনের খাবারে বিশেষ করে কাঁচা মাছ ও ফলের মধ্যে ফরমালিনের পরিমাণ থাকে অতিরিক্ত।
ফরমালিন কেন ব্যবহার করা হয়?
ফরমালিন সাধারণত পচন রোধের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক ধ্বংস করে এবং নতুন করে ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি হতে রোধ করে। তাই শাকসবজি, ফল, মাছ-মাংস দীর্ঘ সময় তাজা রাখতে অসাধু ব্যবসায়ীরা এই ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করেন।
স্বাস্থ্যে ফরমালিনের ক্ষতিকর প্রভাব
ফরমালিন মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
ফরমালিন কিডনি, হার্ট, লিভার ইত্যাদিকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
নিয়মিত ফরমালিনযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে ফুসফুস বা লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
ফরমালিন চোখের রেটিনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
গর্ভবতী মহিলাদের ওপর এর সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। ফরমালিনযুক্ত খাবার গর্ভের সন্তানের বিকলাঙ্গতা সৃষ্টি করতে পারে বা কখনও কখনও ভ্রূণের মৃত্যু হতে পারে।
ফরমালিন থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ নয়, তবে কিছু পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে:
ফরমালিনযুক্ত ফল, শাক-সবজি বাজার থেকে কিনে আনলে, সেগুলো অন্তত আধা ঘণ্টা ভিনেগার মেশানো গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন এবং পরে ভালো করে ধুয়ে ব্যবহার করুন। মাছ বা মাংসে ফরমালিন থাকলে তা ভিনেগার বা লবণ মেশানো পানিতে এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে তারপর ভালো করে ধুয়ে ব্যবহার করুন। এতে ফরমালিনের পরিমাণ অনেকটাই কমে যাবে।
বর্তমানে কিছু নির্দিষ্ট দোকান ও অনলাইন শপে ফরমালিনমুক্ত শাক-সবজি, ফল, মাছ এবং মাংস পাওয়া যায়। যদিও এগুলোর দাম কিছুটা বেশি। তবে এগুলো সাধারণত ফরমালিনহীন।
নিজের বাড়ির ছাদ বা বাগানে শাক-সবজি বা ফল চাষ করতে পারেন। এ ছাড়া ঘনিষ্ঠ পরিচিতদের পুকুর থেকে মাছ সংগ্রহ করা সম্ভব হলে সেটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে শহরাঞ্চলে এই ধরনের চেষ্টা কিছুটা কঠিন হতে পারে।
সূত্র : এই সময়