জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা ঈদুল ফিতরের পরদিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজবাড়ীতে এবার ঈদের পরদিন সফর করেছেন শত কিলোমিটার।
বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) রাত ৯টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন ডা. তাসনিম জারা।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ঈদের পরদিন রাজবাড়ীতে ছিলাম।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এক শ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছি। এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে, এক উঠান থেকে আরেক উঠানে গিয়েছি।’
তিনি লিখেছেন, ‘কোনো মঞ্চ ছিল না, কোনো মাইক্রোফোন ছিল না। আমরা গোল হয়ে বসেছি মানুষের ঘরের উঠানে।
কখনো খোলা আকাশের নিচে, কখনো টিনের চালার নিচে, আবার কখনো গাছতলায়। আশপাশের বাড়ির মানুষরা এসে বসেছেন। বলেছেন তাদের জীবনের গল্প, ছোট ছোট সমস্যার কথা যার সমাধান হলে জীবনটা হয়তো একটু সহজ হয়ে উঠত।’
তাসনিম জারা লিখেছেন, ‘এরমধ্যে একটা বৈঠকে পারভীন আপা এমন একটা গল্প বললেন, যা আমি সহজে ভুলতে পারব না।
উনি দুই মাস আগে স্বামীকে হারিয়েছেন। গ্রামের সরু, ভাঙা পথে গাড়ি চলার উপায় নেই, তাই গাড়ি দিয়ে স্বামীর মরদেহ বাড়িতে আনতে পারেননি। আনতে হয়েছে ভ্যানে করে।’
‘কথাগুলো বলার সময় পারভীন আপা কেঁদে ফেললেন। তার কথায় ছিল গভীর এক অসহায়ত্ব।
পারভীন আপার এই কথাগুলো বারবার মনে পরে। ঘুমাতে গেলে চোখ বুজতেই তার মুখটা দেখতে পাই। সেই অসহায় চোখ, যেখানে সম্মান হারানোর কষ্ট বড় ক্ষত হয়ে বসে গেছে।’
তিনি আরো জানান, ‘আমরা দুর্নীতি নিয়ে অনেক কথাই বলি। বলি যে দেশ থেকে হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে। কিন্তু সেদিন আমি নিজের চোখে দেখে এসেছি, কার কাছ থেকে টাকাগুলো লুট করা হয়েছে। সেই টাকা লুট করা হয়েছে পারভীন আপাদের মতো মানুষের কাছ থেকে, যাঁরা সামান্য একটু রাস্তা, একটু সম্মান ছাড়া আর কিছুই চান না। অথচ সেটুকুও তারা পান না।’
‘যারা দেশটাকে লুট করেছে, আমার মনে হয় না কখনো তারা পারভীন আপার মতো কারো উঠানে বসে জীবনের গল্প শুনেছেন। শুনলে হয়তো তারাও রাতে ঘুমাতে পারতেন না।’