• ই-পেপার

রদ্রিগেজ-দিয়াজকে রেখেই বিশ্বকাপের দল ঘোষণা কলম্বিয়ার

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ

ঘাম-ঝরানো জয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

রানা শেখ, গোয়া থেকে
ঘাম-ঝরানো জয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের মেয়েদের গোল উদযাপন। ছবি: মীর ফরিদ, গোয়া থেকে

জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের বাইরে থেকে দেখে বুঝে ওঠার সুযোগ নেই ভেতরে কোনো টুর্নামেন্ট চলছে। স্টেডিয়ামের আশপাশে নেই কোনো প্রচার। নেই সমর্থকদের আনাগোনাও। গ্যালারি খাঁ খাঁ করছিল। গুটি কয়েকজন এসেছেন বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার ম্যাচ দেখতে। দর্শকহীন এমন ম্যাচে বাজে প্রদর্শনী ঋতুপর্ণা চাকমাদের।

যদিও শুরুতেই গোল পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু খেই হারিয়ে ফেলে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে। একসময় ম্যাচ ছিল ২-২ সমতায়। তবে শেষ পর্যন্ত নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুটা ৪-২ গোলের জয় দিয়েই করেছে গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়নরা। ফলে এক ম্যাচ জিতেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশের। কারণ মালদ্বীপ দুইটি ম্যাচ হেরেছে। এর আগে তারা ভারতের কাছে তারা হারে ১১-০ ব্যবধানে। ৩১ মে গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে নির্ধারণ হবে, কারা হবে গ্রুপসেরা।

যেভাবে শুরুটা পেয়েছিল বাংলাদেশ, তাতে মনে হচ্ছিল বড় ব্যবধানেই জিততে যাচ্ছে। কিন্তু তা আর হয়নি। বরং কষ্টের এক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ১১ সেকেন্ডেই প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। কিক অফের পর বল পান ঋতুপর্ণা। বাঁ দিক থেকে তার বাড়ানো নিচু ক্রস প্রথম প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। লাল-সুবজের জার্সি গায়ে তোলার পর চতুর্থ ম্যাচে এসে প্রথম গোল  সুইডেন প্রবাসী এই ফরোয়ার্ডের।

তৃতীয় মিনিটে ‘অলিম্পিক গোল’ পেয়ে যেতে পারতেন ঋতুপর্ণা, কিন্তু তার বাঁকানো কর্নার দূরের পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে মালদ্বীপের রক্ষণে চাপ ধরে রেখে সুযোগ তৈরি করতে থাকে বাংলাদেশ। দ্বাদশ মিনিটে ঋতুপর্ণার নিচু ক্রসে গোলমুখে থাকা শামসুন্নাহার জুনিয়র ঠিকঠাক সংযোগ করতে পারেননি। বল গোলরক্ষকের গায়ে লেগে ফের শামসুন্নাহারের গায়ে লেগে যায় বাইরে।

২৮ মিনিটে আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ায় ক্রসবার। ঋতুপর্ণার থ্রু পাস ধরে অধিনায়ক মারিয়া মান্দা আড়াআড়ি ক্রস বাড়ান বক্সে। দূরের পোস্টে থাকা শামসুন্নাহার জুনিয়রের শট ক্রসবারের উপরের দিকে লেগে বেরিয়ে যায়।

ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় বাংলাদেশ। শামসুন্নাহার জুনিয়রের ক্রস জোরালো নিচু শটে কাছের পোস্ট দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন উমেহ্লা মারমা। এরপরই অপ্রত্যাশিত এক গোল হজম করে বাংলাদেশ। মাঝমাঠে অধিনায়ক মারিয় মান্দার ভুল পাস পেয়ে যায় মালদ্বীপের এক ফুটবলার। তার বাড়ানো পাস ধরে মরিয়ম নোরার দূরপাল্লার শট এগিয়ে আসা গোলরক্ষক মিলি আক্তারের মাথার ওপর দিয়ে গিয়ে ক্রসবারে লেগে জালে জড়িয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে হঠাৎই ফের এলোমেলো হয়ে যায় বাংলাদেশের রক্ষণ। এই সুযোগে ৫৬ মিনিটে সমতাও ফেরায় মালদ্বীপ। অভাবনীয় ভুল করেন সেন্টার ব্যাক আফঈদা খন্দকার। যথেষ্ট সময় পেয়েছিলেন আফঈদা কিন্তু মালদ্বীপের আমিনাথ ফাজলাকে চার্জ করেননি তিনি। বল নিয়ে বেরিয়ে গিয়ে, ঝাঁপিয়ে পড়া মিলিকে পরাস্ত করেন মালদ্বীপের এই উইঙ্গার।

এরপর পরই উমেহ্লা ও আনিকাকে তুলে শাহেদা আক্তার রিপা ও গত সাফে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ গোল করা তহুরাকে নামান বাটলার। ৬৪ মিনিটে ফের এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বাঁ দিক থেকে ঋতুপর্ণার ক্রস গোলরক্ষকের গ্লাভস গলে বেরিয়ে গেলে তার সামনে থাকা প্রীতি নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন। তাতে শঙ্কা দূর হয়ে ম্যাচ জয়ের সঙ্গে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেন বাংলাদেশের মেয়েরা। আর শেষ মিনিটে বাংলাদেশের চতুর্থ গোলটি করেন কোহাতি কিসকু।

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ

১১ সেকেন্ডেই আনিকার গোল, প্রথমার্ধে এগিয়ে বাংলাদেশ

রানা শেখ, গোয়া থেকে
১১ সেকেন্ডেই আনিকার গোল, প্রথমার্ধে এগিয়ে বাংলাদেশ
গোলের পর আনিকার উচ্ছ্বাস। আজ মালদ্বীপের বিপক্ষে। ছবি: মীর ফরিদ, গোয় থেকে

বাংলাদেশ ২-১ মালদ্বীপ (প্রথমার্ধ শেষে)

কেউ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই গোল! 

গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে আজ বিশেষ এক দৃশ্যের সাক্ষী হলো। কিক অফের পরই বল পান ঋতুপর্ণা চাকমা। বাঁ দিক থেকে ঋতুর বাড়ানো নিচু ক্রসে প্রথম প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের শটে আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী যখন মালদ্বীপের জাল কাঁপালেন, তখন ম্যাচের বয়স মাত্র ১১ সেকেন্ড!

আনিকার পর গোল পেয়েছেন উমেহ্লা মারমা। তাতে বাংলাদেশ অনেকটাই নির্ভার হয়ে পড়েছিল। কিন্তু বিরতিতে যাওয়ায় কয়েক মিনিট আগে মালদ্বীপ একটি গোল শোধ করেছে। তাই সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক শিরোপার অভিযানে নামার দিনে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করেছে লাল-সবুজের দল। 

FANS
গ্যালারিতে কয়েকজন বাংলাদেশ সমর্থকের দেখা মিলেছে। ছবি: মীর ফরিদ, গোয়াে থেকে

সুইডেন প্রবাসী আনিকার বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হয় গত মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এএফসি এশিয়ান কাপে। জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম তিন ম্যাচে গোল পাননি তিনি। চতুর্থ ম্যাচে এসে সেই অপেক্ষা ফুরাল স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলতে নেমে। 

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে ‘অলিম্পিক গোল’ পেয়ে যেতে পারতেন ঋতুপর্ণা। কিন্তু তার বাঁকানো কর্নার ফেরে দূরের পোস্টে লেগে। তবে মালদ্বীপের রক্ষণে চাপ ধরে রেখে সুযোগ তৈরি করতে থাকে বাংলাদেশ। দ্বাদশ মিনিটে ঋতুপর্ণার নিচু ক্রসে গোলমুখে থাকা শামসুন্নাহার জুনিয়র ঠিকঠাক সংযোগ করতে পারেননি। বল মালদ্বীপ গোলকিপারের গায়ে লেগে ফের শামসুন্নাহারের গায়ে লেগে যায় বাইরে।

২৮তম মিনিটে আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ায় ক্রসবার। ঋতুপর্ণার থ্রু পাস ধরে অধিনায়ক মারিয়া মান্দা আড়াআড়ি ক্রস বাড়ান বক্সে। দূরের পোস্টে থাকা শামসুন্নাহার জুনিয়রের শট ক্রসবারের ওপরের দিকে লেগে বেরিয়ে যায়।

ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। শামসুন্নাহার জুনিয়রের ক্রস জোরালো নিচু শটে কাছের পোস্ট দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন উমেহ্লা মারমা। একটু পর ডান দিক থেকে আফঈদা খাতুনের দূরপাল্লার শটে ফিস্ট করে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বের করে দেন মালদ্বীপ গোলকিপার।

Marma
বাংলাদেশের দ্বিতীয় গোল করেছেন উমেহ্লা মারমা (১১ নম্বর জার্সি)। ছবি: মীর ফরিদ, গোয়া থেকে

বিরতির আগে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ ব্যবধানটা আরো বাড়িয়ে নেবে। কিন্তু হয়েছে উল্টোটা। খেলার ধারার বিপরীতে পাওয়া গোলে ব্যবধান কমায় মালদ্বীপ। 

৪১ মিনিটে মরিয়ম নোরার দূরপাল্লার শট বাংলাদেশ গোলকিপার মিলি আক্তারের মাথার ওপর দিয়ে গিয়ে ক্রসবারে লেগে জালে জড়িয়ে যায়।

অ-২০ এশিয়ান কাপ বাছাই

সাবেক তিন চ্যাম্পিয়নের গ্রুপে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক
সাবেক তিন চ্যাম্পিয়নের গ্রুপে বাংলাদেশ
এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের ট্রফি। ছবি : এএফসি

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে কঠিন গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের প্রতিপক্ষ সাবেক তিন চ্যাম্পিয়ন উজবেকিস্তান, সিরিয়া ও ভারত। চার দলের গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে ২০২৭ অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের টিকিট মিলবে।

আজ মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বাছাইয়ের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৩২টি দলকে মোট ৮টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলে চীনের হাংজুতে অনুষ্ঠিত হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্ব। 

১৬ দলের এই টুর্নামেন্টে স্বাগতিক দেশ ছাড়া বাকি ১৫টি দল নির্ধারিত হবে বাছাই পর্বের মাধ্যমে। বাছাই পর্বের মোট ৮টি গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা সরাসরি এশিয়ান কাপে খেলার টিকিট পাবে। আর রানার্সআপ হওয়া আটটি দলের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা সেরা ৭টি দল তাদের সঙ্গে যোগ দেবে।

বাছাইয়ে পট-৪ এ থাকা বাংলাদেশ পট-১ থেকে উজবেকিস্তান, পট-২ থেকে সিরিয়া এবং পট-৩ থেকে ভারতকে পেয়েছে। এই চার দল খেলবে ‘বি’ গ্রুপে। সব কটি ম্যাচ হবে উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে। 

২০২৩ সালে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ জেতা উজবেকরাই গ্রুপসেরার লড়াইয়ে ফেবারিট। এ বছর দেশটির জাতীয় দল ফিফা বিশ্বকাপেও খেলছে।

গ্রুপের আরেক দল সিরিয়া ১৯৯৩ সালে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টটিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সর্বশেষ আসরেও বাছাই উতরে চূড়ান্ত পর্বে খেলেছে। আর ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ১৯৭৪ সালে। 

এবারের বাছাইয়ে গ্রুপে চতুর্থ হওয়া দলকে ডেভেলপমেন্ট ফেজে (উন্নয়ন পর্ব) অবনমিত হতে হবে। পরের অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে খেলতে হলে ডেভেলপমেন্ট ফেজে খেলে উতরাতে হবে।

আগামী ৩১ আগস্ট নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক উজবেকিস্তান। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর সিরিয়া ও ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের দল।

ফাইনালে হেরেও সবার মন জিতে নেওয়া এক আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক

সাহিদ রহমান
ফাইনালে হেরেও সবার মন জিতে নেওয়া এক আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক
স্প্যানিশ ক্লাব রায়ো ভায়েকানোর আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক অগুস্তো বাতায়া। ছবি : সংগৃহীত

দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে ধীর পায়ে হেঁটে গেলেন অগুস্তো বাতায়া। ট্রফিটা পাশেই রাখা ছিল। কিন্তু ব্রোঞ্জ ও রুপার মিশেলে বানানো ১১ কেজি ওজনের ট্রফিটার দিকে বাতায়া একটিবারও তাকানোর প্রয়োজন মনে করলেন না। তাকিয়েই বা কী হতো? ট্রফিটা যে ছোঁয়ার ‘অধিকার’ ছিল না!  

দৃশ্যটা গতকাল রাতে জার্মানির লাইপজিগের রেল বুল অ্যারেনায় উয়েফা কনফারেন্স লিগ ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চের। আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক বাতায়ার দল রায়ো ভায়েকানো দারুণ লড়াই করেও ১-০ গোলে হেরে গেছে ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে, যা লন্ডনের ক্লাবটিকে এনে দিয়েছে প্রথম মহাদেশীয় শিরোপার স্বাদ। 

PICKK
পাশেই ট্রফি। তবু ছুঁয়ে দেখা হয়নি অগুস্তো বাতায়ার। ছবি: সংগৃহীত

জয়সূচক একমাত্র গোল করায় স্বাভাবিকভাবেই বীরোচিত সংবর্ধনা পেতে চলেছেন প্যালেসের জ্যঁ-ফিলিপ মাতেতা। ২৮ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও রেখেছেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম।

কিন্তু সবাইকে ছাপিয়ে আলোচনায় ওই একটি নাম—অগুস্তো বাতায়া। ভায়েকানোর আর্জেন্টাইন এই গোলরক্ষক যে ফাইনালে হেরেও সবার মন জিতে নিয়েছেন!

কীভাবে?

সেটি জানতে ফাইনালের প্রথমার্ধে ফিরে যেতে হবে। ম্যাচের তখন ৩৫ মিনিট চলছিল। স্টেডিয়ামে চরম উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে বাতায়া হঠাৎ লক্ষ করলেন, গ্যালারিতে ভায়েকানোর এক সমর্থক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার দ্রুত চিকিৎসা দরকার। 

বাস্তবতা অনুধাবন করতে পেরে বাতায়া এক সেকেন্ডও নষ্ট করেননি। খেলা চলাকালীন তিনি মাঠে বসে পড়ে চোট পাওয়ার ভান করেন এবং ইতালিয়ান রেফারি মরিৎসিও মারিয়ানিকে খেলা থামাতে জোরালো সংকেত দিতে থাকেন।

KK1
গ্যালারির দিকে রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বাতায়া। ছবি: সংগৃহীত

বাতায়ার এই তাৎক্ষণিক ও মরিয়া সংকেত রেফারি মারিয়ানির নজরে এলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে খেলা থামিয়ে দেন। এরপর বাতায়া তাকে জানান, গ্যালারিতে এক দর্শক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ কারণেই তিনি খেলা থামাতে চোটে পড়ার ভান করেন। 

খেলা থামতেই চিকিৎসক দল ও নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত গ্যালারির সেই অংশে ছুটে যান। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন নীরবতা ও উদ্বেগ নেমে আসে। দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচরা সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করেন। 

শেষ পর্যন্ত চিকিৎসক দল ওই দর্শককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় স্টেডিয়ামে উপস্থিত সবাই করতালি দিয়ে চিকিৎসক দলকে অভিনন্দন জানান। পরে জানা যায়, সেই দর্শক গ্যালারিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বাতায়ার এই অসাধারণ ক্রীড়াসুলভ আচরণ ও উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা তার জীবন বাঁচিয়েছে।

KK55
গ্যালারিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন এক দর্শক। ছবি: সংগৃহীত

এই তো গত ২০ মে চিড় ধরা আঙুল নিয়ে ফাইনাল খেলে অ্যাস্টন ভিলাকে উয়েফা ইউরোপা লিগের শিরোপা জেতাতে বড় অবদান রাখেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। কাল ভায়েকানো জিতলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক হিসেবে আরেকটি মহাদেশীয় ট্রফির স্বাদ পেতেন বাতায়া। কিন্তু গত রাতে ট্রফি অন্যের হাতে উঠলেও বাতায়া জিতে নিয়েছেন কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের হৃদয়।

ফাইনালের লড়াই শেষে কেউ ট্রফি নিয়ে হাসে, কেউবা চোখের জল ফেলে। কিন্তু বাতায়া কাল যা করেছেন, তা ট্রফি জয়ের চেয়ে বড় প্রাপ্তি হতে পারে না। মানুষ মানুষের জন্য—এই পরম সত্যটাই আবার জিতে গেছে লাইপজিগের সবুজ গালিচায়।

৩০ বছর বয়সী বাতায়া কখনো আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে খেলেননি। কোচ লিওনেল স্কালোনি হয়তো তাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও রাখবেন না। কিন্তু এই মুহূর্তে তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম।