দেশের পর্যটন শিল্পকে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে জিডিপিতে (মোট দেশজ উৎপাদন) এ খাতের অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে চলমান এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম দেশের পর্যটন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এর মাধ্যমে বাড়বে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়।
অর্থমন্ত্রী জানান, দেশি-বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে একটি সমন্বিত বিনিয়োগ রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটন (ইকো-ট্যুরিজম), গ্রামীণ পর্যটন এবং টেকসই পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পর্যটন খাতের বিকাশে দেশের বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকায়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরের টার্মিনাল সম্প্রসারণ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের রানওয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজ পর্যটন খাতকে আরো গতিশীল করবে বলে আশা করছে সরকার।
এ ছাড়া বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা আধুনিকীকরণ, কার্গো ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, বিমান নিরাপত্তা জোরদার এবং ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের এভিয়েশন খাত গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে সমন্বিত যাত্রী ও লজিস্টিকস হাবে পরিণত করা হবে। একই সঙ্গে রাজশাহী, কক্সবাজার, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে উন্নয়ন করা হবে।
সরকারের আশা, পর্যটন ও বিমান চলাচল খাতে এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে পর্যটনের অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।




