• ই-পেপার

‘পালানোর চেষ্টা করেছিলেন নাইজারের গৃহবন্দি প্রেসিডেন্ট’

মধ্যপ্রাচ্যে ১৮টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি আইআরজিসির, নিশানায় মার্কিন ঘাঁটি

অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে ১৮টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি আইআরজিসির, নিশানায় মার্কিন ঘাঁটি
ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডবাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৮টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাও ছিল।

এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হয়েছে। তাদের দাবি, ওই ঘাঁটিতে অবস্থান করা মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোর বিরুদ্ধে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিমানগুলো ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। লক্ষ্যবস্তুতে থাকা যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে এফ-১৫, এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ মডেলের বিমান ছিল বলে দাবি করেছে তারা।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আল-আজরাক ঘাঁটিতে থাকা বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। তবে এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শুধু জর্ডান নয়, কুয়েতের দুটি বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের একটি বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি।

ইরানের এই বাহিনী আরো জানিয়েছে, তাদের কয়েকটি হামলার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি। তাদের দাবি, এসব হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হামলার প্রভাব ছিল ব্যাপক।

আইআরজিসির মতে, এসব অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। হামলাগুলো সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হয় বলে তারা জানিয়েছে।

ইরানি বাহিনীর দাবি, তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে সাম্প্রতিক হামলা চালিয়েছে, তার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি বলছে, রাতে এক বা দুই দফায় মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর পর তারা পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে উঠেছে। আঞ্চলিক দেশগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এভাবে বাড়তে থাকলে সংঘাত আরো বড় আকার ধারণ করতে পারে।
 

বাধা ভেঙে কেমব্রিজে, ঘানার তিন নারীর সাফল্য

অনলাইন ডেস্ক
বাধা ভেঙে কেমব্রিজে, ঘানার তিন নারীর সাফল্য
ছবি : কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়

যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সহায়তা সংস্থা ক্যামফেড কেমব্রিজ ও জিম্বাবুয়েতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সংস্থাটি জিম্বাবুয়ে, জাম্বিয়া, তানজানিয়া, মালাউই, কেনিয়া ও ঘানায় মেয়েদের শিক্ষার মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে কাজ করছে।

ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকায় প্রতি ১০ জন মেয়ের মধ্যে মাত্র ৬ জন মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারে। সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার ১০ শতাংশেরও কম।

২৫ বছর বয়সী ফ্রান্সিসকা আরহিনফুল ঘানার মধ্যাঞ্চলের আজুমাকো এলাকায় বড় হয়েছেন। আর্থিক সংকটের কারণে তার উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। পরে পরিবারের এক খালা তার পড়াশোনার খরচ বহন করলে তিনি শিক্ষা চালিয়ে যেতে পারেন। এরপর ক্যামফেড তাকে বৃত্তি দেয় এবং তার মতো সুবিধাবঞ্চিত পটভূমি থেকে আসা তরুণীদের সংগঠন ক্যামফেড অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত করে। 

আরহিনফুল বলেন, এই সহায়তা তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং তাকে সামনে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমানে ২৯ বছর বয়সী মেনসাহ ১৪ বছর বয়সে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন। পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল তার মায়ের ক্যাটারিং ব্যবসা। তাই মাকে সাহায্য করার জন্য তাকে পড়াশোনা বন্ধ করতে হয়।

মেনসাহ বলেন, তিনি আবার পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কখন সেই সুযোগ পাবেন তা জানতেন না। পরে তার বাড়ির কাছাকাছি একটি বিনামূল্যের উচ্চবিদ্যালয় চালু হলে তিনি আবার লেখাপড়া শুরু করার সুযোগ পান।

শেষ পর্যন্ত মেনসাহ, আরহিনফুল ও ইসাহ, তিনজনই ক্যামফেডের সহায়তায় ঘানার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য অর্থায়ন পান। পরে সংস্থাটি তাদের মাস্টারকার্ড ফাউন্ডেশনের স্কলার্স প্রোগ্রামে যুক্ত হতে সহায়তা করে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের পড়াশোনার পুরো খরচ বহন করা হয়।

বর্তমানে এই তিন নারী তাদের মতো কঠিন পরিস্থিতিতে থাকা মেয়েদের সহায়তা করতে কাজ করছেন। তারা ক্যামফেডের ‘লার্নার গাইড’ হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। লার্নার গাইডরা সহপাঠী পরামর্শক হিসেবে ছেলে-মেয়েদের জীবনদক্ষতা ও মানসিক সুস্থতা সম্পর্কে শিক্ষা দেন, যাতে বিশেষ করে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মেয়েরা স্কুলে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।

বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কমলেও রয়েছে উদ্বেগ : ইউএনএইচসিআর

অনলাইন ডেস্ক
বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কমলেও রয়েছে উদ্বেগ : ইউএনএইচসিআর

সংঘাত, সহিংসতা ও নির্যাতনের কারণে বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২০২৫ সালে এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো কমেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। তবে গত বছর নতুন করে ৫৪ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী শরণার্থী বা শরণার্থীসদৃশ পরিস্থিতিতে থাকা মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১৬ লাখে, যার মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী রয়েছেন। ফলে জনমনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী সংকট এখনো উদ্বেগজনক।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

আরো পড়ুন
কুয়েতের আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

কুয়েতের আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

 

ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, একই সময়ে প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা ৫০ শতাংশ বেশি এবং ১৯৬৫ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রত্যাবর্তনের ঘটনা।

সবচেয়ে বেশি মানুষ ফিরে গেছেন ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, সুদান, সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইউক্রেন ও মিয়ানমারে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তারা নিরাপত্তাহীনতা, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং মৌলিক সেবার সংকটের মধ্যে নিজ দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।

আরো পড়ুন
ভারতেই তৈরি সি-২৯৫ বিমানের প্রথম উড্ডয়ন

ভারতেই তৈরি সি-২৯৫ বিমানের প্রথম উড্ডয়ন

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ২৯ লাখ আফগান দেশে ফিরেছেন, যার মধ্যে ১৯ লাখই শরণার্থী। অন্যদিকে, বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ায়ও প্রত্যাবর্তনের হার বেড়েছে। গত বছর প্রায় ১৩ লাখ সিরীয় নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

তবে ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কমলেও দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী সংকট এখনো উদ্বেগজনক। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ শরণার্থী পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় ধরে নিজ দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

ইউএনএইচসিআরের হাইকমিশনার বারহাম সালিহ বলেন, আশ্রয় ও সুরক্ষা মানুষের জীবন রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়, যেখানে লাখ লাখ শরণার্থী বছরের পর বছর নিজেদের জীবন পুনর্গঠনের সুযোগ ছাড়া অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হন।

আরো পড়ুন
হজ শেষে ফিরলেন ৪৯৯৮২ হাজি

হজ শেষে ফিরলেন ৪৯৯৮২ হাজি

 

সংস্থাটি ২০৩৫ সালের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী ও মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র : দ্য হিন্দু

কুয়েতের আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
কুয়েতের আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা
সংগৃহীত ছবি

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে কুয়েত। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোরে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ডিজিসিএ) জানিয়েছে, বিমান চলাচল ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিট থেকে আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েতগামী বিভিন্ন ফ্লাইটকে বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, কুয়েত সরকার তাদের দেশের ওপর ‘ইরানি আগ্রাসন’ চালানো হয়েছে বলে দাবি করার পরপরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এই পরিস্থিতির কারণে সমগ্র অঞ্চলের বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ডিজিসিএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং সম্ভাব্য হুমকি দূর হওয়া মাত্রই আকাশসীমা পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং স্বাভাবিক ফ্লাইট চলাচল শুরু করা হবে।

কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, পূর্বনির্ধারিত চুক্তি এবং নিয়মতান্ত্রিক পরিচালনা পদ্ধতি মেনেই ফ্লাইটগুলোকে অন্য রুটে ডাইভার্ট (দিক পরিবর্তন) করা হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রী ও বিমান সংস্থাগুলোকে ডিজিসিএ-এর পক্ষ থেকে দেওয়া অফিসিয়াল আপডেট অনুসরণ করার এবং বিমান ভ্রমণ সংক্রান্ত সব ধরনের নির্দেশনা ও গাইডলাইন মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা হামলা এবং এর জবাবে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে তেহরানের পাল্টা হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় কুয়েত তাদের আকাশসীমা বন্ধের এই জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

‘পালানোর চেষ্টা করেছিলেন নাইজারের গৃহবন্দি প্রেসিডেন্ট’ | কালের কণ্ঠ