জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেছেন, স্বেচ্ছায় যারা রক্ত দান করছেন তারা শুধু পারস্পরিক উপলব্ধি নয়, সৎকর্মেরই চর্চা করছেন। তাদের পক্ষে অসৎ চর্চা করা সম্ভব নয়।
রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে কোয়ান্টাম আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদাতা-গ্রহীতা মিলনমেলা ও তরুণ রক্তদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বেচ্ছা রক্তদাতারা তাদের সৎকর্মের এ চর্চাকে অভ্যাসে পরিণত করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপাচার্য।

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তরুণ ৮ শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের কৃতজ্ঞতা ও সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে ‘ও’ পজিটিভ গ্রুপের ৫৭ বারের স্বেচ্ছা রক্তদাতা দৌলত আল রশিদ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত নিয়মিত রক্তগ্রহীতা রকিবুল ইসলাম রুশো তাদের আবেগঘন অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক মাদাম নাহার আল বোখারী। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের পরিচালক এম রেজাউল হাসান। অনুষ্ঠানে কোয়ান্টাম ল্যাবের পক্ষ থেকে সকল স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান আলোচকরা। পাশাপাশি দেশে রক্তচাহিদা পুরোপুরি মেটাতে তরুণ স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের মানবিক এ সেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে বিকেল থেকেই স্বেচ্ছা রক্তদাতা ও গ্রহীতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। দাতা-গ্রহীতা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, ছোট ছোট গেমস আর আনন্দময় পরিবেশে ভিন্ন এক আবহ তৈরি হয়। সেখানে রক্তগ্রহীতা থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীরা এত সংখ্যক স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্বেচ্ছা রক্তদাতারাও রক্তগ্রহীতাদের মহৎ এ সেবা দিতে পেরে অপার অপার্থিব আনন্দের কথা বর্ণনা করেন। বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে স্বেচ্ছা রক্তদাতা, বিশেষ করে তরুণ দাতাদের এই উদ্বুদ্ধ করা আরো অসংখ্য নতুন দাতা তৈরি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।





