মায়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার সময় গত মঙ্গলবার রাতে চীনা রেড ক্রসের একটি ত্রাণবহরে গুলি চালিয়েছে মায়ানমারের সামরিক বাহিনী। দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) জানিয়েছে, পূর্ব শান রাজ্যে ত্রাণবাহী ৯টি গাড়ির একটি বহরে মেশিনগান দিয়ে গুলি চালায় সামরিক বাহিনী। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ত্রাণবহরটি মায়ানমারের অন্যতম বৃহৎ শহর মান্দালয়ে যাচ্ছিল।
গত শুক্রবার আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের সবচেয়ে তীব্র প্রভাব পড়ে মান্দালয় শহরে।
গাড়িতে সরাসরি গুলি চালানোর কথা অস্বীকার করে মায়ানমারের জান্তা বলেছে, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। সংকেত অমান্য করে গাড়িবহর না থামায় ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত বুধবার বলেছে, তাদের উদ্ধারকারী দল এবং রসদ নিরাপদে আছে।
মায়ানমারের সব পক্ষ ও দল ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ত্রাণ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
২০২১ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন সামরিক জান্তা। ফলে সামরিক জান্তার সঙ্গে দেশটির জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও প্রতিরোধ বাহিনীর গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে দেশটি সহিংসতায় জর্জড়িত হয়ে পড়ে।
গত সপ্তাহের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর দেশটির মানবিক সংকট আরো প্রকট হয়। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দুই হাজার ৮৮৬ জন হয়েছে। তবে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিদেশি সরকার ভূমিকম্পকবলিত অঞ্চলে ত্রাণ সরবরাহ করছে।
সামরিক জান্তার এক মুখপাত্র গতকাল বলেন, মঙ্গলবার রাতে নায়ুংচো শহর থেকে ত্রাণবহরটি আসতে দেখে সেনারা, বহরের গাড়িতে চীনা স্টিকার এবং মায়ানমারের নম্বর প্লেট ছিল।
কিন্তু যানবাহনের চলাচলের বিষয়ে তাদের আগে থেকে জানানো হয়নি।
ওই মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা যখন বহরটি দেখি, সঙ্গে সঙ্গে থামতে বলি। তবে তারা চলতে থাকে। আমরা প্রায় ২০০ ফুট দূর থেকে গুলি করি, তা-ও তারা থামেনি। প্রায় ১০০ মিটার দূরে অবস্থানকালে আমরা তিনটি ফাঁকা গুলি ছুড়ি। এরপর গাড়িগুলো নায়ুংচোর দিকে ফিরে যায়।’
মান্দালয়ে উদ্ধার সহায়তায় নিয়োজিত চীনের ব্লু স্কাই রেসকিউ টিমকে এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। যখন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সাহায্য করতে চায়, তখন বিষয়টি মায়ানমার সরকারকে জানানো উচিত।
রেড ক্রসের গাড়িবহরকে নিরাপত্তা দেওয়া টিএনএলএ জানিয়েছে, মান্দালয়ে যাওয়ার বিষয়ে সামরিক বাহিনীকে অবগত করা হয়েছিল। নায়ুংচোতে ফেরার পর ফের যাত্রা শুরু করবে ওই ত্রাণবহর।
ভূমিকম্পের পর দেশটির তিনটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী সাময়িকভাবে লড়াই বন্ধ রাখার আহবান জানিয়েছে। তবে জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। সূত্র : বিবিসি