মায়ানমারে চীনা ত্রাণবহরে সামরিক বাহিনীর গুলি

  • ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ২৮৮৬
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
মায়ানমারে চীনা ত্রাণবহরে সামরিক বাহিনীর গুলি

মায়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার সময় গত মঙ্গলবার রাতে চীনা রেড ক্রসের একটি ত্রাণবহরে গুলি চালিয়েছে মায়ানমারের সামরিক বাহিনী। দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) জানিয়েছে, পূর্ব শান রাজ্যে ত্রাণবাহী ৯টি গাড়ির একটি বহরে মেশিনগান দিয়ে গুলি চালায় সামরিক বাহিনী। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ত্রাণবহরটি মায়ানমারের অন্যতম বৃহৎ শহর মান্দালয়ে যাচ্ছিল।

গত শুক্রবার আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের সবচেয়ে তীব্র প্রভাব পড়ে মান্দালয় শহরে।

গাড়িতে সরাসরি গুলি চালানোর কথা অস্বীকার করে মায়ানমারের জান্তা বলেছে, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। সংকেত অমান্য করে গাড়িবহর না থামায় ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত বুধবার বলেছে, তাদের উদ্ধারকারী দল এবং রসদ নিরাপদে আছে।

মায়ানমারের সব পক্ষ ও দল ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ত্রাণ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

২০২১ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন সামরিক জান্তা। ফলে সামরিক জান্তার সঙ্গে দেশটির জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও প্রতিরোধ বাহিনীর গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে দেশটি সহিংসতায় জর্জড়িত হয়ে পড়ে।

গত সপ্তাহের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর দেশটির মানবিক সংকট আরো প্রকট হয়। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দুই হাজার ৮৮৬ জন হয়েছে। তবে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিদেশি সরকার ভূমিকম্পকবলিত অঞ্চলে ত্রাণ সরবরাহ করছে।

সামরিক জান্তার এক মুখপাত্র গতকাল বলেন, মঙ্গলবার রাতে নায়ুংচো শহর থেকে ত্রাণবহরটি আসতে দেখে সেনারা, বহরের গাড়িতে চীনা স্টিকার এবং মায়ানমারের নম্বর প্লেট ছিল।

কিন্তু যানবাহনের চলাচলের বিষয়ে তাদের আগে থেকে জানানো হয়নি।

ওই মুখপাত্র বলেন, আমরা যখন বহরটি দেখি, সঙ্গে সঙ্গে থামতে বলি। তবে তারা চলতে থাকে। আমরা প্রায় ২০০ ফুট দূর থেকে গুলি করি, তা-ও তারা থামেনি। প্রায় ১০০ মিটার দূরে অবস্থানকালে আমরা তিনটি ফাঁকা গুলি ছুড়ি। এরপর গাড়িগুলো নায়ুংচোর দিকে ফিরে যায়।

মান্দালয়ে উদ্ধার সহায়তায় নিয়োজিত চীনের ব্লু স্কাই রেসকিউ টিমকে এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। যখন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সাহায্য করতে চায়, তখন বিষয়টি মায়ানমার সরকারকে জানানো উচিত।

রেড ক্রসের গাড়িবহরকে নিরাপত্তা দেওয়া টিএনএলএ জানিয়েছে, মান্দালয়ে যাওয়ার বিষয়ে সামরিক বাহিনীকে অবগত করা হয়েছিল। নায়ুংচোতে ফেরার পর ফের যাত্রা শুরু করবে ওই ত্রাণবহর।

ভূমিকম্পের পর দেশটির তিনটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী সাময়িকভাবে লড়াই বন্ধ রাখার আহবান জানিয়েছে। তবে জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। সূত্র : বিবিসি

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

গুজরাটে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত পাইলট নিহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
গুজরাটে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত পাইলট নিহত

ভারতের গুজরাটে দেশটির বিমানবাহিনীর একটি জাগুয়ার যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে একজন পাইলট প্রশিক্ষণ বিমানটি থেকে সফলভাবে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও গ্রামবাসী অন্যজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। স্থানীয় সময় গত বুধবার রাতে রাজ্যটির জামনগর বিমানঘাঁটির কাছে সুভারদা গ্রামের একটি খোলা মাঠে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ভারতীয় বিমানবাহিনী (আইএএফ) এই কথা জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (টুইটার) এক পোস্টে আইএএফ লিখেছে, পাইলটরা কারিগরি ত্রুটির সম্মুখীন হয়ে বিমানঘাঁটি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষতি এড়িয়ে বিমানটি থেকে বেরিয়ে পড়েন। একজন পাইলটের মৃত্যুর খবর জানিয়ে আইএএফ লিখেছে, প্রাণহানির জন্য আইএএফ গভীরভাবে দুঃখিত এবং শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইএএফ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টুইন-সিটের জাগুয়ার যুদ্ধবিমানটি প্রশিক্ষণ চলাকালে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

সূত্র : এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া

মন্তব্য

লোকসভায় মণিপুর প্রস্তাব পাস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
লোকসভায় মণিপুর প্রস্তাব পাস

জাতিগত সহিংসতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্ত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর। উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে গত ফেব্রুয়ারি মাসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং। এরপর জারি হয় রাষ্ট্রপতি শাসন। নিয়ম অনুযায়ী, কোথাও রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে দুই মাসের মধ্যে সংসদীয় অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।

গত বুধবার রাতে লোকসভায় সেই প্রস্তাব পাস হয়েছে। এর আগে লোকসভায় বিরোধীরা মণিপুর নিয়ে আলোচনার দাবি তোলে। রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন বিরোধী নেতারা। কংগ্রেসের এমপি শশী থারুর কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে বলেন, মণিপুরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সময় সেখানে প্রধানমন্ত্রী একবারও যাননি।
তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি সায়নী ঘোষ বলেন, সারা বিশ্ব যখন মণিপুর নিয়ে উত্তাল, যখন নারীদের উলঙ্গ করে হাঁটানো হচ্ছে, তখনো প্রধানমন্ত্রীর কোনো তাপ-উত্তাপ দেখা যায়নি। এর জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, দুই জাতির সংঘর্ষে উত্তপ্ত মণিপুর। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

মন্তব্য
সংক্ষিপ্ত

পশ্চিমবঙ্গে ২৬ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
পশ্চিমবঙ্গে ২৬ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল

দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ বাতিলে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখলেন সুপ্রিম কোর্ট। এক বছর আগে কলকাতা হাইকোর্ট এই ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ বাতিল করেছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে দেওয়া পরীক্ষার ভিত্তিতে যে ২৫ হাজার ৭৫২ জন  শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল, তার মধ্যে ব্যাপক দুর্নীতি ও জালিয়াতি হয়েছে। এখন এমন অবস্থা, যেখানে যোগ্য ও অযোগ্যদের পুরোপুরি আলাদা করা সম্ভব নয়।

অযোগ্য মানে যাঁরা দুর্নীতি করে চাকরি পেয়েছিলেন। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছেন, যাঁরা অযোগ্য বলে প্রমাণিত, তাঁদের বেতন ফেরত দিতে হবে। অন্যদের বেতন ফেরত দিতে হবে না। সর্বোচ্চ আদালতের মতে, পুরো বিষয়টি যাচাইয়ের বাইরে চলে গেছে।
তাই সবার চাকরি বাতিল করা হয়েছে। ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বেশ কয়েকজন চাকরি প্রার্থী কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন। সূত্র : ডয়চে ভেলে, আনন্দবাজার পত্রিকা

মন্তব্য

পেঙ্গুইনের দ্বীপেও ট্রাম্পের শুল্ক!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
পেঙ্গুইনের দ্বীপেও ট্রাম্পের শুল্ক!
অস্ট্রেলিয়ার হার্ড দ্বীপে পেঙ্গুইনের দল। অ্যান্টার্কটিকার কাছে বরফে ঢাকা, জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জে শুল্ক চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি : দ্য গার্ডিয়ান

অ্যান্টার্কটিকার কাছে বরফে ঢাকা, জনশূন্য আগ্নেয়গিরিময় দ্বীপপুঞ্জ। সেখানে শুধু পেঙ্গুইনদের বাস। তা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কারোপ থেকে রক্ষা পায়নি এসব দ্বীপ। এসব দ্বীপের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার দূরবর্তী ভূখণ্ড হার্ড দ্বীপ ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ পৃথিবীর অন্যতম প্রত্যন্ত অঞ্চল।

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থ থেকে নৌকায় সেখানে পৌঁছাতে দুই সপ্তাহ লাগে। ধারণা করা হয়, একদম জনশূন্য এই দ্বীপে প্রায় এক দশক আগে শেষবার মানুষের পা পড়েছিল। তবু যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস প্রকাশিত নতুন শুল্কের তালিকায় দেশ হিসেবে জায়গা পেয়েছে হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেছেন, পৃথিবীর কোনো জায়গা নিরাপদ নয়।

হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডের বাইরের আরো কিছু অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের তালিকায় আলাদা করে স্থান পেয়েছে, যেগুলোর ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। অস্ট্রেলিয়ার এসব দূরবর্তী ও বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সরাসরি স্বায়ত্তশাসিত নয়, তবে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বিশেষ প্রশাসনিক সম্পর্ক রয়েছে। শুল্ক তালিকায় থাকা অন্য দ্বীপের মধ্যে কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জ, ক্রিসমাস দ্বীপ ও নরফোক দ্বীপও রয়েছে।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ