ঢাকা, শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

ভাইরাসরোধী পোশাকে সম্ভাবনার হাতছানি

  • ► করোনাভাইরাস প্রতিরোধক এই কাপড় বানাচ্ছে বাংলাদেশ
    ►আগ্রহী আমেরিকা-ইউরোপ
    ► ওই কাপড়ের মাস্ক যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
ভাইরাসরোধী পোশাকে সম্ভাবনার হাতছানি

বৈশ্বিক মহামারি মোকাবেলায় যুগান্তকারী এক সমাধান নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ, তৈরি করেছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধক এক বিশেষ কাপড়। শুধু করোনাভাইরাস নয়, যেকোনো ভাইরাস ওই কাপড়ে লাগলে মাত্র ১২০ সেকেন্ডের মধ্যে ৯৯.৯ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যাবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে করোনাভাইরাস প্রতিরোধক কাপড় উদ্ভাবনে নিজেদের ওই সাফল্যের কথা জানায় দেশের বস্ত্র খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান জাবের অ্যান্ড জুবায়ের। রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে ওই কাপড় ও এর রপ্তানি বাজার সম্পর্কে আরো অনেক তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ব্যবসা উন্নয়ন ও বিপণন বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা রশিদ আশরাফ খান জ্যেষ্ঠ ব্র্যান্ড ম্যানেজার অনল রায়হান।

ব্র্যান্ড ম্যানেজার রায়হান বলেন, ‘সারা বিশ্ব যখন প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক সেই সময় তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ বাংলাদেশ করোনাভাইরাস প্রতিরোধক কাপড় তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।’ মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শামিল হওয়ার তাগিদ থেকেই দুই মাস ধরে নানা গবেষণা করে ভাইরাস প্রতিরোধক কাপড় তৈরির কথা জাবের অ্যান্ড জুবায়ের কর্তৃপক্ষের মাথায় আসে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক দুটি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হয় ভাইরাসরোধী কাপড় তৈরির সেই পরিকল্পনা।

প্রতিষ্ঠানের ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তাঁদের তৈরি এ কাপড় করোনাভাইরাসসহ যেকোনো ভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে।

এই কাপড় তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ। ফলে ওই কাপড়ে কোনো ভাইরাসই টিকতে পারবে না। যদি কোনোভাবে ভাইরাস কাপড়ে লাগে, মাত্র ১২০ সেকেন্ডে ওই কাপড় ৯৯.৯ শতাংশ ভাইরাসমুক্ত হবে। মহামারির কারণে থমকে যাওয়া দেশের পোশাক খাত নতুন ধরনের এ কাপড় তৈরি ও রপ্তানির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে ভীষণ আশাবাদী জাবের অ্যান্ড জুবায়ের কর্তৃপক্ষ।

এমন আশাবাদের কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, বিশেষ কাপড়টি উদ্ভাবনের মাত্র এক মাসের মধ্যে ক্রয়াদেশ পেয়েছে দেশের বস্ত্র খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান জাবের অ্যান্ড জুবায়ের। মধ্যপ্রাচ্যের ইউনাইটেড গ্রুপ ইতিমধ্যে ওই কাপড়ে তৈরি পাঁচ লাখ মাস্ক নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। ওই কাপড় নিতে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে আমেরিকা ও ইউরোপের ক্রেতারাও। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে পশ্চিমা বাজারের জন্য ওই কাপড় উৎপাদনে যাওয়ার কথা জানিয়ে অনল রায়হান বলেন, ‘দেশের বাজারেও আমাদের নিজস্ব আউটলেট ব্লুজিন্সের মাধ্যমে প্যান্ট, শার্ট, মাস্ক, অন্যান্য প্রয়োজনীয়  কাপড় বিক্রি করা হবে।

দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও জাবের অ্যান্ড জুবায়ের কর্তৃপক্ষের আলোচনা চলছ।

দেশের প্রয়োজনে ওই কাপড়ের কেবল উৎপাদন খরচ রেখে সামাজিক সুরক্ষায় অংশ নিতে চায় তারা। সাংবাদিকদের জন্য সৌজন্য হিসেবে কিছু ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক (পিপিই) দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

কাপড়ের ব্যবহার সম্পর্কে জাবের অ্যান্ড জুবায়ের জানায়, মেডিক্যাল গাউন, পিপিই, মাস্কসহ সাধারণ সব ধরনের পোশাক তৈরিতে ভাইরাস প্রতিরোধক ওই কাপড় ব্যবহার করা যাবে। তবে বিশেষায়িত কাপড় হওয়ায় সাধারণ কাপড়ের চেয়ে এর দাম গজপ্রতি ২০ শতাংশ বেশি হবে।

কাপড়ের মান সম্পর্কে কর্মকর্তারা জানান, এই কাপড় আমেরিকা-ইউরোপে বাজারজাত করার লক্ষ্যে অ্যান্টিভাইরাল কাপড়ের সনদ নেওয়া হয়েছে মান সনদকারী বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠান ইউকে সার্টিফিকেশান অ্যান্ড ইন্সপেকশান লিমিটেড থেকে। বিশ্বের সেরা দুই প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক দফায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ সনদ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

আইএসও ১৮১৮৪ এর অধীনে কাপড়টি পরীক্ষা করা হয়েছে উল্লেখ করে অনল রায়হান আরো জানান, কাপড় তৈরির মূল উপাদানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিষাক্ত পদার্থ নিয়ন্ত্রণ আইন ও পরিবেশগত সুরক্ষা সংস্থায় নিবন্ধিত। ভাইরাস রোধে এ কাপড় প্রায় শতভাগ নিরাপত্তা দিলেও ২০ বার ধোয়ার পর এর কার্যকারিতা কিছুটা কমে আসবে।

বস্ত্র খাতে প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই প্রথম এই কাপড় উদ্ভাবিত হয়েছে বটে, তবে অদূর ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোও এই কাপড় তৈরিতে এগিয়ে আসবে বলে আশাবাদী জাবের অ্যান্ড জুবায়ের।

জানতে চাইলে বস্ত্র খাতের প্রবীণ ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোশিয়েশনের (বিটিএমএ) পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, ‘বস্ত্র খাতে এমন কাপড় তৈরি করার ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম। ফলে চীনের বাজারের প্রতি বিমুখ ক্রেতারা এখন বিকল্প এবং অপ্রচলিত পণ্যের বাজার হিসেবে বাংলাদেশকে অন্য চোখে দেখবে।’ তিনি জানান, ২০ শতাংশ ক্রেতা চীনের বাজার থেকে অন্য দেশে তাদের বিনিয়োগ স্থানান্তরিত করতে চায়। এর দুই থেকে তিন শতাংশ পেলেও বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার নতুন করে চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে।

রপ্তানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘দেশের বস্ত্র খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান জাবের অ্যান্ড জুবায়েরের এই উদ্যোগ বিশ্ববাজারে প্রশংসিত হবে। বাংলাদেশের ইনোভেশনে নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। আমাদের উদ্যোক্তাদের নলেজ ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এক ধাপ এগিয়ে গেল।’

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ড. ইউনূসের মন্তব্যে জয়শঙ্করের দাবি

বঙ্গোপসাগরে রয়েছে ভারতের দীর্ঘতম উপকূলরেখা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
বঙ্গোপসাগরে রয়েছে ভারতের দীর্ঘতম উপকূলরেখা
এস জয়শঙ্কর

চীন সফরে গিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে করা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ইউনূসের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, আমাদের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলটি বিমসটেকের জন্য একটি সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে; যেখানে সড়ক, রেলপথ, জলপথ, গ্রিড এবং পাইপলাইনের অসংখ্য নেটওয়ার্ক রয়েছে।

বিমসটেক ঘিরে জয়শঙ্করের সেই বার্তাকে ভারত-বাংলাদেশ কূটনীতিতে বেশ তাৎপর্যবাহী বলে মনে করছে ভারতের গণমাধ্যমগুলো।

এখন ব্যাঙ্ককে চলছে বিমসটেকের শীর্ষ সম্মেলন।

এই সম্মেলনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সদ্য চীন সফরে গিয়ে ডক্টর ইউনূস বলেছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্য স্থলভাগ পরিবেষ্টিত। ফলে এলাকার সাগর পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা তাদের নেই। ঢাকা এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, প্রধান উপদেষ্টা সম্পূর্ণ সৎ উদ্দেশ্যে এ কথা বলেছেন।
ঢাকার তরফে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এখন যদি কেউ অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেন, তাহলে তো কিছু করার নেই।

কিছুটা পরে হলেও জয়শঙ্কর বলেন, বঙ্গোপসাগরে আমাদের দীর্ঘতম উপকূলরেখা রয়েছে, প্রায় ছয় হাজার ৫০০ কিলোমিটার। ভারত শুধু পাঁচটি বিমসটেক সদস্যের সঙ্গেই সীমান্ত ভাগ করে না, তাদের বেশির ভাগকেই সংযুক্ত করে। বরং ভারতীয় উপমহাদেশ এবং আসিয়ানের মধ্যে সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও প্রদান করে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

 

মন্তব্য

টিউলিপের আইনজীবীরা দুর্নীতিসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
টিউলিপের আইনজীবীরা  দুর্নীতিসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত
টিউলিপ সিদ্দিক

সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে যেকোনো আনুষ্ঠানিক প্রশ্নের উত্তর দিতে তাঁর আইনজীবীরা প্রস্তুত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিউলিপ নিজে এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরেই একাধিক অভিযোগ আনা হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়নি।

গত জানুয়ারিতে টিউলিপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তের স্বার্থে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর জনসমক্ষে এটি ছিল তাঁর প্রথম বক্তব্য।

স্কাই নিউজকে গত মাসে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশে টিউলিপের বিপুল সম্পদ রয়েছে, যার উৎস নিয়ে তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর একটি চিঠি লিখেছিলেন টিউলিপের আইনজীবীরা। সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও বিরক্তিকর বলে উল্লেখ করেন তাঁরা।

কয়েক সপ্তাহ আগে লেখা ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, টিউলিপের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসংক্রান্ত সব জিজ্ঞাসা যেন ২৫ মার্চের মধ্যে প্রেরণ করা হয়।

অন্যথায় ধরে নেওয়া হবে, কর্তৃপক্ষের কাছে আইনসংগত কোনো প্রশ্ন নেই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক মন্ত্রী লিখেছেন, সময়সীমা অতিক্রম হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। স্কাই নিউজ বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র : স্কাই নিউজ

 

মন্তব্য
চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচালে অর্থ বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচালে অর্থ বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে
তাজুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচাল করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এতে পতিত সরকারের লোকজন মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করছে। যার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে প্রসিকিউশন। এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, বিচার বানচাল করতে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের তথ্য আমরা পেয়েছি। জড়িতদের অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। এখনই বিস্তারিত প্রকাশ করছি না।

সময় হলে এসব জানানো হবে। তবে যত ষড়যন্ত্রই হোক, তা ব্যর্থ হবে এবং বিচার যথাযথভাবে হবে।

 

 

মন্তব্য

মুরগির দাম কিছুটা কম টমেটো ও পেঁপে বাড়তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
মুরগির দাম কিছুটা কম টমেটো ও পেঁপে বাড়তি

ঈদের ছুটি এখনো চলছে। আপনজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে ঢাকার বাইরে যাওয়া মানুষের ফেরার স্রোত এখনো শুরু হয়নি।  এ জন্য রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চিরচেনা সেই হাঁকডাক নেই। এমন পরিস্থিতিতে মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।

বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে, কিছু সবজির দাম বেড়েছে। তবে গরু ও খাসির মাংস আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ, আলু, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামে হেরফের নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের চতুর্থ দিন পরও রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতার তেমন আনাগোনা নেই।

বিক্রেতারা বলছেন, রাজধানীর বাজারগুলোতে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে মুরগি ও কিছু সবজির দাম কমেছে। আবার সরবরাহ সংকটের কারণে কিছু সবজির দাম বেড়েছে।

বাজারে সব মুদি ও সবজির দোকান এখনো খোলেনি।

ক্রেতা কম থাকায় বেশির ভাগ বিক্রেতা অলস সময় পার করছেন। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে ক্রেতার চাহিদা কম, তাই বেশির ভাগ পণ্যের সরবরাহ কিছুটা কম।

রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের  বাজারে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় উঠেছিল। সোনালি মুরগি মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি, যা ঈদের আগে ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকা  কেজি দরে বিক্রি হয়। গরু ও খাসির মাংস আগের সেই চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস এক হাজার ২০০ টাকা।

জোয়ারসাহারা বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. হেলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, বাজারে ক্রেতা কম থাকায় মুরগির চাহিদা কমে গেছে। তাই দামও কিছুটা কমেছে। চাহিদা কম থাকায় অনেক মুরগির দোকান এখনো খোলেনি।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ সংকটে টমেটো ও পেঁপের দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে চাহিদা কম থাকায় বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। ঈদের আগে বাজারে প্রতি কেজি ঢেঁড়স ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এখন তা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। পটোল প্রতি কেজি ছিল ১০০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যদিও ঈদের কয়েক দিন আগে বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। বেগুন প্রতি কেজি মানভেদে ৬০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রমজান মাসে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা। দেশি শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ঈদের আগে ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

টমেটোর দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লম্বা লাউ আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আলু প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা।  

বাড্ডার সবজি বিক্রেতা মো. সুমন কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন চাহিদা কম থাকার কারণে কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। আবার আগামী সপ্তাহ থেকে সবজির চাহিদা বেড়ে গেলে দামও বেড়ে যাবে। কারণ এখন সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম। ঈদের আগে ঢেঁড়স, পটোল ও করলা প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। সেগুলোর দাম এখন ৮০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। তবে মৌসুম শেষ হওয়ার কারণে টমেটোর দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। সরবরাহ কম থাকায় পেঁপের দামও বাড়তি।

 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ