’
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ, যাদের শাখা বহু দেশে বিস্তৃত।
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি কখনো কোনো দেশের মানুষকে বিদেশি বিমানবন্দরে কারো বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখেছেন?’
এ ধরনের কাজ দেশের ব্র্যান্ডিং ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি কখনো ভারতীয়দের এ ধরনের কাজ করতে দেখবেন না। কেন ভারতীয়রা বিদেশে বিভিন্ন সুবিধা পান, আর আমরা পাই না? কারণ আমরা স্থানীয় রাজনীতিতে কম সক্রিয়।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ব্র্যান্ডিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর পথ স্থানীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে।’
তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারতীয়রা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছেন, যা বাংলাদেশি এনআরবিদেরও লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রবাসীদের প্রতি বাংলাদেশের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য মোকাবেলা করার আহবান জানান তিনি।
তৌহিদ হোসেন অভিবাসনের খরচ কমানো এবং ভাষার দক্ষতাসহ বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপরও জোর দেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের শ্রমশক্তিকে আরো দক্ষ করে তুলতে পারি, তাহলে রেমিট্যান্স দ্বিগুণ করতে পারব।’
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধে তৎপরতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের হয়রানির জন্য দায়ীদের বিচার করা হবে।’
তৌহিদ হোসেন বাংলাদেশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের প্রশংসা করে বলেন, তাঁদের কাজ দেশের বৈশ্বিক ইমেজ উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের ইতিবাচক ইমেজ বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদের শান্তিরক্ষীরা আফ্রিকায় একটি শক্তিশালী ইমেজ তৈরি করেছেন। এগুলো ইতিবাচক ইমেজ। অন্যদিকে যখন আমরা (অবৈধভাবে) ভূমধ্যসাগর পার হই, তখন আমাদের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
নির্বাচনী রোডম্যাপ শিগগিরই আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা হলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বোধ করবেন এবং বিনিয়োগ আসবে।
সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আগের অনেক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, গত ছয় মাসে গড়ে রেমিট্যান্স ২৬ শতাংশ বেড়েছে, যা এ সময় তিন বিলিয়ন ডলার হয়েছে।
তিনি বলেন, রপ্তানি ২.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি একটি অনুকূল পরিবেশ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন।
লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদ বলেন, যুক্তরাজ্যে এনআরবিরা সব সময় বাংলাদেশের মানুষের পাশে রয়েছেন।
ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল হাই সরকার প্রবাসীদের মধ্যে ঘন ঘন বিরোধ ও সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি একটি দুঃখজনক পরিস্থিতি, যা সমাধান করা প্রয়োজন। তিনি বাংলাদেশি শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর সাবেক কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বাংলাদেশের বৈশ্বিক ইমেজ উন্নয়নে সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি তাঁদের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছ রেকর্ডের কারণে সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তাঁদের (বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের) বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির কোনো অভিযোগ নেই। তাঁরা দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আরো ভূমিকা রাখতে পারেন।’