সরকারি দপ্তর পরিদর্শনের ক্ষমতা পাচ্ছে বাবাকো

উবায়দুল্লাহ বাদল
উবায়দুল্লাহ বাদল
শেয়ার
সরকারি দপ্তর পরিদর্শনের ক্ষমতা পাচ্ছে বাবাকো

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষের  (বাবাকো) কাজের পরিধি বেড়ে তাদের কার্যক্রম আরো জোরদার হয়েছে। এখন থেকে তারা শুধু সরকারি দপ্তরগুলোতে বাংলা ভাষার প্রচলনবিষয়ক কার্যক্রম নিয়ে থাকবে না, চলতি বছর থেকে সরকারি দপ্তর সরেজমিন পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সরকারি এই সংস্থাটিকে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত জনবল, শূন্যপদ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা, আউটসোর্সিং লোকবলের তথ্য, কর্মপরিবেশ নারীবান্ধব কি না, প্রকল্পের গাড়ি আছে কি না, সেবাদান পদ্ধতিসহ দপ্তরের সার্বিক বিষয়ে প্রতিবেদন দেবে বাবাকো। এতে জনপ্রশাসনের এই প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

৩৮ বছর আগে বাংলা ভাষা প্রচলনে আইন করার পর সরকারি দপ্তরগুলোতে প্রশাসনিক কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। সরকারি নথিপত্র, চিঠি, প্রজ্ঞাপন ও অন্যান্য নথি এখন বাংলায় লেখা হচ্ছে। ব্রিটিশ আমলে প্রণিত পুরনো আইন নতুন করে বাংলায় লেখা শুরু হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগেই। নতুন আইন, বিধি, নীতিমালাসহ সব কিছুই হচ্ছে বাংলায়।

এসব প্রশাসনিক কাজে প্রমিত বাংলা বানান ও বাক্য গঠনে চূড়ান্ত সহায়তা দিচ্ছে বাবাকো।

বাবাকোর কার্যক্রম জোরদারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সংস্কার ও গবেষণা অনুবিভাগ) ও বাবাকোপ্রধান ড. মো. মিজানুর রহমান। নিজ দপ্তরে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, বাবাকো এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর হতে যাচ্ছে। এখন থেকে সব সরকারি দপ্তর সরেজমিন পরিদর্শন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে আমরা নির্দেশ পেয়েছি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অ্যালোকেশন অব বিজনেজ অনুযায়ী যে ক্ষমতা রয়েছে, সেটাই এখন বাবাকো প্রয়োগ করবে। এতে আমাদের আরো জনবল প্রয়োজন হতে পারে।

পরিদর্শনে কী কী বিষয় বিবেচনা করা হবেজানতে চাইলে মিজানুর রহমান বলেন, সচিবালয় নির্দেশমালা অনুযায়ী সরকারি দপ্তরগুলো চলছে কি না, এর পুরোটাই দেখা হবে। তাদের অনুমোদিত জনবল, কর্মরত কতজন, কতজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন, নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ আছে কি না, সেবাপ্রার্থী মানুষের দুর্ভোগ বা হয়রানিসহ সব ধরনের বিষয়ই দেখা হবে।

কর্মচারীদের উপস্থিতি, পরিষ্কার-পরিচ্ছনতা, সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী সেবাসংক্রান্ত তথ্য টানানো আছে কি নাসবই পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে। 

জানা গেছে, ১৯৮১ সালে তৎকালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাবাকো প্রতিষ্ঠা হয়। তবে এর কার্যক্রম চলেছে ঢিমেতেতালায়। এর পরও প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাবাকো এ পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রায় অর্ধশত আইন, বিধি ও অধ্যাদেশ প্রমিতিকরণ করেছে। এ ছাড়া অন্য সব মন্ত্রণালয়ের কয়েক শ আইন বা অধ্যাদেশ প্রমিতিকরণ করেছে।

বাবাকো থেকে এ পর্যন্ত প্রশাসনিক পরিভাষা, পদবি পরিভাষা, সরকারি কাজে ব্যাবহারিক বাংলা ও সরকারি কাজে প্রমিত বাংলা ব্যবহারের নিয়ম এবং প্রসঙ্গ ব্যাবহারিক বাংলা নামে পাঁচটি পুস্তিকা বের হয়েছে। সচিবালয় নির্দেশিকা ২০২৪ প্রণয়নে বাবাকো সাচিবিক দায়িত্ব পালন করেছে।

চলতি বছর প্রশাসনিক পরিভাষা-২০২৫-এর পঞ্চম এবং সরকারি কাজে ব্যাবহারিক বাংলা, ২০২৫-এর তৃতীয় সংস্করণ বের করবে প্রতিষ্ঠানটি। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় আশানুরূপ গতিতে চলতে পারছে না। প্রতিষ্ঠার সময় কোষের মোট জনবল ছিল ২৩ জন। ১৯৯৯ সালের ৩ মার্চ এটা কমিয়ে ১২ জন করা হয়, পরে ফের আগের অবস্থানে এটি ফিরে আসে। বর্তমানে এই কোষে আটজন কর্মকর্তা ও ১০ জন কর্মচারী কাজ করছেন।

এ প্রসঙ্গে বাবাকোর অ্যাসাইনমেন্ট কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা এখন গুরুত্বপূর্ণ তিনটি কাজ করে থাকি। সরকারি বিধি-বিধান ও আইনের প্রমিতিকরণ ছাড়াও সরকারি দপ্তর পরিদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করে থাকি। এ ছাড়া সরকারি দপ্তরগুলোর কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন, সে বিষয়েও কাজ করছে বাবাকো। প্রতিটি সরকারি প্রশিক্ষণে আমরা প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নিচ্ছি। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাষাজ্ঞানের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

মোস্তফা জানান, ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুদ্ধ বাংলা বানান জানাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গ্রুপ তৈরি করেছে বাবাকো। শুদ্ধ বাংলা বানান এবং সঠিক বাংলা বাক্য গঠনে ফেসবুক ও টেলিফোনের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে। এই ফেসবুক গ্রুপে যেকোনো সরকারি চাকরিজীবী যেকোনো বাংলা বানান সমস্যা, শুদ্ধ/অশুদ্ধ রূপ, বাক্য গঠন সম্পর্কে সরাসরি পোস্ট করে সমাধান পেয়ে থাকেন। এর পাশাপাশি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টেলিফোনের মাধ্যমেও বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষের বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র অনুবাদ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক সেবা পাওয়া যাচ্ছে।

জানা গেছে, দেশের সর্বত্র বাংলা ভাষা চালুর লক্ষ্যে ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ প্রণয়ন করা হয় বাংলা ভাষা প্রচলন আইন। এতে বলা হয়, এ আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস-আদালত, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া অন্যান্য সব ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সওয়াল-জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগ কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখতে হবে।

এ আইনে আরো বলা হয়, কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন, তাহলে সেটি বেআইনি ও অকার্যকর বলে গণ্য হবে। শুধু তাই নয়, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি এ আইন অমান্য করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আইন চালু হলেও এর বাস্তবায়নের কাজটি হয়েছে ঢিলেঢালাভাবে। এখনো সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ড. ইউনূসের মন্তব্যে জয়শঙ্করের দাবি

বঙ্গোপসাগরে রয়েছে ভারতের দীর্ঘতম উপকূলরেখা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
বঙ্গোপসাগরে রয়েছে ভারতের দীর্ঘতম উপকূলরেখা
এস জয়শঙ্কর

চীন সফরে গিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে করা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ইউনূসের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, আমাদের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলটি বিমসটেকের জন্য একটি সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে; যেখানে সড়ক, রেলপথ, জলপথ, গ্রিড এবং পাইপলাইনের অসংখ্য নেটওয়ার্ক রয়েছে।

বিমসটেক ঘিরে জয়শঙ্করের সেই বার্তাকে ভারত-বাংলাদেশ কূটনীতিতে বেশ তাৎপর্যবাহী বলে মনে করছে ভারতের গণমাধ্যমগুলো।

এখন ব্যাঙ্ককে চলছে বিমসটেকের শীর্ষ সম্মেলন।

এই সম্মেলনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সদ্য চীন সফরে গিয়ে ডক্টর ইউনূস বলেছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্য স্থলভাগ পরিবেষ্টিত। ফলে এলাকার সাগর পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা তাদের নেই। ঢাকা এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, প্রধান উপদেষ্টা সম্পূর্ণ সৎ উদ্দেশ্যে এ কথা বলেছেন।
ঢাকার তরফে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এখন যদি কেউ অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেন, তাহলে তো কিছু করার নেই।

কিছুটা পরে হলেও জয়শঙ্কর বলেন, বঙ্গোপসাগরে আমাদের দীর্ঘতম উপকূলরেখা রয়েছে, প্রায় ছয় হাজার ৫০০ কিলোমিটার। ভারত শুধু পাঁচটি বিমসটেক সদস্যের সঙ্গেই সীমান্ত ভাগ করে না, তাদের বেশির ভাগকেই সংযুক্ত করে। বরং ভারতীয় উপমহাদেশ এবং আসিয়ানের মধ্যে সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও প্রদান করে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

 

মন্তব্য

টিউলিপের আইনজীবীরা দুর্নীতিসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
টিউলিপের আইনজীবীরা  দুর্নীতিসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত
টিউলিপ সিদ্দিক

সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে যেকোনো আনুষ্ঠানিক প্রশ্নের উত্তর দিতে তাঁর আইনজীবীরা প্রস্তুত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিউলিপ নিজে এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরেই একাধিক অভিযোগ আনা হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়নি।

গত জানুয়ারিতে টিউলিপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ আনা হয়। এরপর তদন্তের স্বার্থে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর জনসমক্ষে এটি ছিল তাঁর প্রথম বক্তব্য।

স্কাই নিউজকে গত মাসে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশে টিউলিপের বিপুল সম্পদ রয়েছে, যার উৎস নিয়ে তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর একটি চিঠি লিখেছিলেন টিউলিপের আইনজীবীরা। সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও বিরক্তিকর বলে উল্লেখ করেন তাঁরা।

কয়েক সপ্তাহ আগে লেখা ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, টিউলিপের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসংক্রান্ত সব জিজ্ঞাসা যেন ২৫ মার্চের মধ্যে প্রেরণ করা হয়।

অন্যথায় ধরে নেওয়া হবে, কর্তৃপক্ষের কাছে আইনসংগত কোনো প্রশ্ন নেই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক মন্ত্রী লিখেছেন, সময়সীমা অতিক্রম হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। স্কাই নিউজ বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র : স্কাই নিউজ

 

মন্তব্য
চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচালে অর্থ বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচালে অর্থ বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে
তাজুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার বানচাল করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এতে পতিত সরকারের লোকজন মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করছে। যার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে প্রসিকিউশন। এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, বিচার বানচাল করতে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের তথ্য আমরা পেয়েছি। জড়িতদের অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। এখনই বিস্তারিত প্রকাশ করছি না।

সময় হলে এসব জানানো হবে। তবে যত ষড়যন্ত্রই হোক, তা ব্যর্থ হবে এবং বিচার যথাযথভাবে হবে।

 

 

মন্তব্য

মুরগির দাম কিছুটা কম টমেটো ও পেঁপে বাড়তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
মুরগির দাম কিছুটা কম টমেটো ও পেঁপে বাড়তি

ঈদের ছুটি এখনো চলছে। আপনজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে ঢাকার বাইরে যাওয়া মানুষের ফেরার স্রোত এখনো শুরু হয়নি।  এ জন্য রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চিরচেনা সেই হাঁকডাক নেই। এমন পরিস্থিতিতে মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।

বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে, কিছু সবজির দাম বেড়েছে। তবে গরু ও খাসির মাংস আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ, আলু, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামে হেরফের নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের চতুর্থ দিন পরও রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতার তেমন আনাগোনা নেই।

বিক্রেতারা বলছেন, রাজধানীর বাজারগুলোতে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে মুরগি ও কিছু সবজির দাম কমেছে। আবার সরবরাহ সংকটের কারণে কিছু সবজির দাম বেড়েছে।

বাজারে সব মুদি ও সবজির দোকান এখনো খোলেনি।

ক্রেতা কম থাকায় বেশির ভাগ বিক্রেতা অলস সময় পার করছেন। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে ক্রেতার চাহিদা কম, তাই বেশির ভাগ পণ্যের সরবরাহ কিছুটা কম।

রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের  বাজারে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় উঠেছিল। সোনালি মুরগি মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি, যা ঈদের আগে ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকা  কেজি দরে বিক্রি হয়। গরু ও খাসির মাংস আগের সেই চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস এক হাজার ২০০ টাকা।

জোয়ারসাহারা বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. হেলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, বাজারে ক্রেতা কম থাকায় মুরগির চাহিদা কমে গেছে। তাই দামও কিছুটা কমেছে। চাহিদা কম থাকায় অনেক মুরগির দোকান এখনো খোলেনি।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ সংকটে টমেটো ও পেঁপের দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে চাহিদা কম থাকায় বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। ঈদের আগে বাজারে প্রতি কেজি ঢেঁড়স ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এখন তা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। পটোল প্রতি কেজি ছিল ১০০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যদিও ঈদের কয়েক দিন আগে বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। বেগুন প্রতি কেজি মানভেদে ৬০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রমজান মাসে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা। দেশি শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ঈদের আগে ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

টমেটোর দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লম্বা লাউ আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আলু প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা।  

বাড্ডার সবজি বিক্রেতা মো. সুমন কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন চাহিদা কম থাকার কারণে কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। আবার আগামী সপ্তাহ থেকে সবজির চাহিদা বেড়ে গেলে দামও বেড়ে যাবে। কারণ এখন সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম। ঈদের আগে ঢেঁড়স, পটোল ও করলা প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। সেগুলোর দাম এখন ৮০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। তবে মৌসুম শেষ হওয়ার কারণে টমেটোর দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। সরবরাহ কম থাকায় পেঁপের দামও বাড়তি।

 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ