<p> পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১১টি ভিন্ন ভাষাভাষী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। চাকমাদের সমৃদ্ধ প্রাচীন লোকসাহিত্য, ঐতিহ্য থাকলেও নিজস্ব বর্ণমালার অভাব ছিল। রয়েছে বর্ণমালার সংখ্যা নিয়েও মতভেদ। বানান ও উচ্চারণে প্রার্থক্য থাকায় চাকমা ভাষা বিকৃতির শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছিল। ফলে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাক্রম চালুর ক্ষেত্রেও কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। শেষ পর্যন্ত 'চাঙমা ভাচ্ আলাম' প্রকাশিত হওয়ায় সব শঙ্কা দূর হলো।</p> <p> গতকাল রবিবার দুপুরে খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলে চাঙমা ভাষার অভিধানটির মোড়ক উন্মোচন করেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। জাবারাং কল্যাণ সমিতি ও চাঙমা একাডেমির যৌথ প্রচেষ্টায় চাকমা ভাষার অভিধান ছাড়াও চাঙমা প্রবাদ সংকলন ও চাঙমা বর্ণমালার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।</p> <p> অভিধানটিতে নয় হাজার চাকমা শব্দ স্থান পেয়েছে। বর্ণমালা রয়েছে ৪০টি। যেখানে অঝাপাঠ (মূল পাঠ) বর্ণ ৩৪টি, আবজু পাঠ চারটি ও পরসাললোপাত তিনটি। এ ছাড়া নাদা পাত্ নামে ১০টি সংখ্যার উল্লেখ আছে।</p> <p> চাঙমা একাডেমির সভাপতি সন্তোষিত চাকমা বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. সুধীন কুমার চাকমা, শরণার্থীবিষয়ক টাস্কফোর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কৃঞ্চ চন্দ্র চাকমা, ইউএনডিপি প্রতিনিধি সুভাষ চাকমা, জাবারাংয়ের নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, মারমা সংসদের সেক্রেটারি সাথোয়াই প্রু মারমা, রাঙামাটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কালচারাল কর্মকর্তা শুভ্র জ্যোতি চাকমা, ত্রিপুরা সংসদের বিবিসুৎ ত্রিপুরা এবং চাঙমা অভিধানের প্রধান সম্পাদক আর্য্যমিত্র চাকমা।</p> <p>  </p>