ঢাকা, শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬
নাটোরে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন দেওয়া হলো ৪০ অসচ্ছল নারীকে

ভাগ্য ফেরানোর হাতিয়ার পেলেন নারীরা

শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন
শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন
শেয়ার
ভাগ্য ফেরানোর হাতিয়ার পেলেন নারীরা
নাটোর জেলা শহরের চকবৈদ্যনাথ এলাকায় বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন পাওয়া অসচ্ছল নারীরা

প্রচণ্ড গরমে যখন চারদিকে ত্রাহি অবস্থা, তখন নাটোরের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের মুখে সুখের হাসি। সংসারে অসচ্ছলতা নিয়ে একটুখানি সুখের আশায় জীবনযুদ্ধে টিকে থাকা এই নারীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে দেশের  পাঁচ মাস বিনা মূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের দক্ষ করে গড়ে তোলার পর জীবনযোদ্ধা এই নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এ যেন তাঁদের কাছে ভাগ্য ফেরানোর হাতিয়ার। গত ২৭ ও ২৮ এপ্রিল নাটোর সদর ও লালপুরের ৪০ অসচ্ছল নারীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে তাঁদের হাতে জীবনযুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম শরিফসহ সমাজের নানা শ্রেণির-পেশার অতিথিরা উপস্থিত থেকে এই সেলাই মেশিন বিতরণ করেন। প্রথম দিন ২৭ এপ্রিল শনিবার সকাল ১০টায়  নাটোর স্বপ্নকলি স্কুলে অসচ্ছল নারীদের মধ্যে ২০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। বসুন্ধরা শুভসংঘ নাটোর জেলা শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সৈকতের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সুস্ময় দাস তনয়ের সঞ্চালনায় মাসুদুর রহমান, শরিফুল ইসলাম শরিফ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রেজাউল করিম রেজা, মো. মামুন, শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন, আবীর খান, ইয়াছির আরাফাত রাফি ও নাছিম উদ্দিন নাছিম। সেলাই মেশিন বিতরণ শেষে অতিথিরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের তৈরি নানা পোশাকের প্রদর্শনী স্থান পরিদর্শন করেন।
অসচ্ছল এই নারীদের হাতে তৈরি নানা পোশাকের প্রশংসা করেন অতিথিরা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান বলেন, অসচ্ছল এসব নারী সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পেয়ে আত্মনির্ভশীল হয়ে উঠতে পারবেন। অসহায় এসব নারীকে প্রশিক্ষণ শেষে বিনা মূল্যে সেলাই মেশিন দেওয়া হলো। তাঁরা এই মেশিনের মাধ্যমে কাপড় সেলাই করে যা উপার্জন করবেন, সেটা কিছুটা হলেও সংসারের চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে।

নাটোরের চকবৈদ্যনাথ এলাকার উপকারভোগী বিউটি বেগম জানান, স্বামীর উপার্জনে সংসার ঠিকমত চলে না। সন্তানদের নিয়ে কষ্টে দিন কাটে। তাই বসুন্ধরা শুভসংঘ সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নাম লিখিয়ে পোশাক তৈরি করা শিখেছেন। এখন আশা করছেন এই সেলাই মেশিন দিয়ে পোশাক তৈরি করে উপার্জন করতে সক্ষম হবেন। একই কথা শাহিদা বেগম ও তানিয়া খাতুনের।

তাঁরা বলেন, আমরা বসুন্ধরা গ্রুপের কাছে ঋণী। তারা আমাদের জন্য অনেক করছে। এখন পরিশ্রম করে এই সেলাই মেশিন দিয়ে পরিবারের দুর্দশা ঘোচাতে পারব। আল্লাহ বসুন্ধরার ভালো করবেন।

দ্বিতীয় দিন ২৮ এপ্রিল নাটোরের লালপুরে ২০ জন অসচ্ছল নারীকে সেলাই মেশিন দেওয়া হয় দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা। উপজেলার ডেবরপাড়া বুধিরামপুর গ্রামের বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও অসহায় নারীদের স্বাবলম্বী করতে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতিষ্ঠিত স্কুল প্রাঙ্গণে তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনা মূল্যে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।

এদিন সকালে লালপুর বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি ও শুভসংঘ স্কুলের সমন্বয়ক জালাল উদ্দীন বাবুর সভাপতিত্বে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ।

এ সময় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশে সামাজিক ও মানবিক কাজের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে বসুন্ধরা গ্রুপ। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমার নির্বাচনী এলাকার দরিদ্র অসচ্ছল নারীদের জীবনমান উন্নয়নে বিনা মূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেকের হাতে বিনা মূল্যে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হচ্ছে, এটা সত্যি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এমন কর্মকাণ্ডের ফলে নারীরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারছে ও স্বাবলম্বী হচ্ছে। পাশাপাশি আমার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে আর এই মহতী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ জানাই।

লালপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমার এলাকায় এমন একটি কাজ হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এটি সত্যি, যেখানে বসুন্ধরা শুভসংঘ প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেছে, তার কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। এখন এ অঞ্চলের শিশুরা সেখানে শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি এই সেলাই মেশিন পেয়ে অবশ্যই অসচ্ছল নারীরা স্বাবলম্বী হবেন।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিনা সুলতানা, লালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক পলাশ, মাজার শরীফ টিবিএম কলেজের অধ্যক্ষ ও দৈনিক আজকের পত্রিকার লালপুর প্রতিনিধি ইমাম হাসান মুক্তি।

সেলাই মেশিন উপহার পাওয়া উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামের শিরিনা খাতুন (৩৮) বলেন, আমি বিধবা। আমার দুটি সন্তান। স্বামী মারা যাওয়ার পর খুব অভাবে দিনাতিপাত করছি। রোজগারের জন্য আমি সেলাই মেশিন চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এখন সেলাই মেশিন দিয়ে আয়-রোজগার করে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করাতে পারব। বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।

বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সেলাই মেশিন পাওয়া মনিরা বেগম (৪০) বলেন, দিনমজুরির কাজ করে যা আয় হয়, তা দিয়ে আমার ছেলের পড়াশোনা খরচ ও পরিবারের খরচ চালাই। কিন্তু আমার এই অবস্থা দেখে বসুন্ধরা শুভসংঘ সেলাই শেখার সুযোগ করে দেয় এবং তিন মাস ফ্রি প্রশিক্ষণ শেষে আজ সেলাই মেশিন উপহার পাচ্ছি। খুব ভালো লাগছে। এই সেলাই মেশিন পেয়ে সংসারে কিছুটা হলেও সহযোগিতা করতে পারব। সন্তানটির ভালোভাবে লেখাপড়া করাতে পারব। এ জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি আমি চিরদিন ঋণী হয়ে থাকব। পাশাপাশি আমার মতো অনেক অসহায় নারী এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে অন্ধকার থেকে আলোর মুখ দেখছে।

ভাগ্য ফেরানোর হাতিয়ার পেলেন নারীরা

নাটোরের লালপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ডেবরপাড়া গ্রামে অসচ্ছল ২০ নারীকে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়

 

 

 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ

শেয়ার
উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ
মনিরুজ্জামান মন্টু, কর্মপরিষদ সদস্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা শাখা

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আমি খুবই আনন্দিত। দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করতে এটি তাদের মহৎ একটি উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগ খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক এবং প্রশংসার দাবিদার। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করতে সহায়তা করবে এই সেলাই মেশিন।

সুদূর ঢাকা থেকে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতিনিধিদল আমাদের নীলফামারীর খোকসাবাড়ীতে এসে অসহায় ও দুস্থ মানুষকে খুঁজে বের করে তাদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি মানবিক ও মহৎ উদ্যোগ, যা অসচ্ছল পরিবারগুলোকে আর্থিক সচ্ছলতার পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। আমরা দেখছি, বসুন্ধরা গ্রুপ শুধু ব্যবসার সাফল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আজকের এই উদ্যোগ তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সেলাইয়ের কাজ শিখিয়ে তাদের দক্ষ করে মেশিন বিতরণের মাধ্যমে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বসুন্ধরা গ্রুপ, তা নিঃসন্দেহে গরিব ও অসহায় মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালাবে। আমরা আশাবাদী, ভবিষ্যতে তারা আরো ব্যাপক পরিসরে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যাতে আরো বেশি মানুষ উপকৃত হতে পারে। দরিদ্র নারীরা যেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়। আমি বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
তাদের এই মহান উদ্যোগ যেন অব্যাহত থাকে এবং আরো বিস্তৃত হয়, সেই প্রার্থনা করছি। মহান আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা তাদের আরো সমৃদ্ধ করুন। তাদের হৃদয়কে আরো উদার করুন এবং তাদের এই মহতী উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে বেশি বেশি দাঁড়ানোর তাওফিক দান করুন।

মন্তব্য

দরিদ্র নারীদের সম্ভাবনার দুয়ার খুলল

শেয়ার
দরিদ্র নারীদের সম্ভাবনার দুয়ার খুলল
উচ্ছ্বাস রায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, নীলফামারী জেলা প্রশাসন

বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সেলাই মেশিন বিতরণের এই মহতী আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বিশেষ করে নীলফামারী জেলার প্রত্যন্ত এলাকার অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। এই আয়োজনে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র পরিবারের নারীদের সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীও রয়েছে। এটি শুধু একটি অনুদান নয়, শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথে তাদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে এই সেলাই মেশিন।

প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেয়ে তারা নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারবে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান দিয়ে নিজেকে স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে নিতে পারবে। সেলাই মেশিনের আয়ে দরিদ্র পরিবারের নারীদের সংসারে সচ্ছলতার চাকা সচল হবে। তাদের পরিবারের অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি তাদের এই আয় দেশের মূল অর্থনীতিতে যোগ হবে।
শক্ত হবে আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতি। সরকারিভাবে সারা দেশেই এমন নানা কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে অনেকে এগিয়ে আসছে। বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের এই কাজের মাধ্যমে সরকারকে সহায়তা করছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের এই মহতী উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু আর্থিক সচ্ছলতাই নয়, নারীদের কর্মসংস্থান, আত্মনির্ভরশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

মন্তব্য

পিংকির স্বপ্ন পূরণ হবে

শেয়ার
পিংকির স্বপ্ন পূরণ হবে

হিসাববিজ্ঞানে অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন পিংকি রানী রায়। নীলফামারী জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের রামনগর বাবুপাড়া গ্রামে তাঁদের বাড়ি। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। দরিদ্র পরিবারের পিংকির স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শিখে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর।

নিজের সঙ্গে ছোট বোন ও ভাইকে প্রতিষ্ঠিত করবেন সমাজে। কিন্তু ২০২২ সালে মা চন্দনা রানী রায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে বিপদে পড়েছেন তিনি। এ সময়ে পরিবারের সহায়-সম্বল বিক্রি করে চিকিৎসা করেও মৃত্যু ঠেকাতে পারেননি মায়ের। এখন তাঁর বাবা শংকর রায় অনেকটাই হয়ে পড়েছেন দিশাহারা।
পিংকি বলেন, ভালোই চলছিল আমাদের সংসার। হঠাৎ মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়ে। এ সময় সহায়-সম্বল যা ছিল বিক্রি করে মায়ের চিকিৎসা চালান আমার বাবা। তার পরও মাকে বাঁচানো যায়নি।
মায়ের অবর্তমানে ছোট বোন ও ভাইয়ের দায়িত্ব পড়ে আমার ঘাড়ে। পরিবারে চলছে চরম অর্থকষ্ট। এমন সমস্যায় আমারসহ ভাই-বোনদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধের পথে চলে যায়। চোখের সামনে যখন আমার ঘোর অন্ধকার, তখনই আশার আলো দেখায় বসুন্ধরা শুভসংঘ। আমাকে বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয় তারা।
আমি সেলাই শিখলাম, বসুন্ধরা গ্রুপের বিনামূল্যের সেলাই মেশিন পেলাম। এখন আমার চিন্তা নেই। কাপড় কাটা ও সেলাইয়ের কাজ পারি। এই মেশিনে সেলাইয়ের কাজ করে আমার স্বপ্ন পূরণ করব। পাশপাশি ভাই-বোনদের স্বপ্নও পূরণ করব। দিশাহারা বাবাকে পথের দিশা দেখাতে পারব। আমাকে এমন সহযোগিতা করার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।

মন্তব্য

শোভার অন্ধকার জগতে আলো জ্বলল

শেয়ার
শোভার অন্ধকার জগতে আলো জ্বলল

প্রশিক্ষণ শেষে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগ আপ্লুত এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শোভা রায়। নীলফামারী জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের নরেশ চন্দ্র রায়ের মেয়ে সে। বাবার দিনমজুরির আয়ে ঠিকমতো সংসারই চলছিল না। অনেক কষ্ট করেও বাবা চালাতে পারছিলেন না শোভার কলেজে পড়ার খরচ।

অর্থাভাবে লেখাপড়া প্রায় বন্ধের পথে চলে গিয়েছিল। অন্ধকার নেমে এসেছিল স্বপ্ন দেখা শোভার জীবনে। তার সেই অন্ধকার স্বপ্নের জগত্টাকে আলোকিত করল বসুন্ধরা শুভসংঘ। বিনামূল্যে তিন মাস সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে কাপড় কাটা ও সেলাই শিখেছে সে।
হাতে পেয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া বিনামূল্যের সেলাই মেশিন। সেই মেশিনে এখন শোভা দেখতে শুরু করেছে আশার আলো। শোভা বলে, বাড়ির ভিটা ছাড়া অন্য কোনো সম্পদ নেই বাবার। তাঁর দিনমজুরির সামান্য আয়ই আমাদের একমাত্র ভরসা।
সেই আয়ে ঠিকমতো খাওয়া জোটে না পরিবারে। এর ওপর আমার লেখাপড়ার খরচ। অভাব-অনটনে নিয়মিত কলেজে যাওয়া সম্ভব হয়ে উঠছিল না। বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এখন কাপড় কাটতে ও সেলাই করতে পারি।
আজকে সেলাই মেশিন পেলাম। পড়াশোনার পাশাপাশি এখন সেলাই কাজের আয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারব, পাশাপাশি বাবাকেও সহযোগিতা করতে পারব। অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান স্যারকে। আমার মতো অসহায় দরিদ্র নারীদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গড়েছেন।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ