ঠাকুরগাঁওয়ের প্রত্যন্ত গ্রামে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল

মানুষ হওয়ার দীক্ষা নিচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা

পার্থ সারথী দাস
পার্থ সারথী দাস
শেয়ার
মানুষ হওয়ার দীক্ষা নিচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা
ঠাকুরগাঁওয়ের বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের পশ্চিম জগন্নাথপুর গ্রামে বছরের শুরুতে চালু হয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল। দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের আর্থিক সহায়তায় স্থানীয় বসুন্ধরা শুভসংঘের তত্ত্বাবধানে স্কুলটি পরিচালিত হচ্ছে। চল্লিশজন শিশু শিক্ষার্থী প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষা গ্রহণ করছে। শুক্র ও শনিবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চলে।

বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে বেশির ভাগই নিম্ন আয়ের দরিদ্র পরিবারের শিশুরা লেখাপড়া করছে। দুজন শিক্ষক নিয়মিত শিশুদের পাঠদান করেন। আশপাশে কোনো স্কুল ছিল না এখানে। বেশ দূরে স্কুল থাকায় অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চাইতেন না।
গ্রামের দরিদ্র পরিবারের শিশুদের কথা বিবেচনা করে এই গ্রামে স্কুল চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বসুন্ধরা শুভসংঘ। শুরুর পর থেকে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের শিক্ষকদের পাঠদানের কৌশল মানসন্মত ও মানবিক হওয়ায় অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের নিয়ে আসছেন। এখন ওই এলাকার অভিভাবকদের আস্থা ও ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল। স্কুলের আশপাশের কয়েকটি গ্রামের অনেক অভিভাবক এখন তাঁদের সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে ভর্তি করাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
অভিভাবকরা মনে করেন অন্যান্য স্কুলের চেয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল অনেক উন্নত। এখানে দায়িত্বরত শিক্ষকরা শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন নিজের সন্তানের মতো। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিশুসুলভ আচরণ করেন, যার কারণে শিশুদের দিন দিন লেখাপড়ায় আগ্রহ বাড়ছে। এরই মধ্যে স্কুলটি পরিদর্শন করেছেন ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আকতার। স্কুলের পাঠদান কৌশল ও পরিবেশ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

শিক্ষার্থী সানভি আক্তারের মা উর্মি আক্তার বলেন, কয়েক মাস আগেও তাঁর শিশুকন্যাটি বাসায় খুব কম কথা বলত। বেশির ভাগ সময় চুপচাপ বসে অথবা শুয়ে থাকত। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে নিয়মিত হওয়ার কিছুদিন পর থেকে সানভির মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন বাড়িতে সবার সঙ্গে কথা বলে, বড়দের সালাম দেয়। সে বেশ কয়েক দিন ধরেই স্কুলে যাওয়ার আগে বাড়িতেই উচ্চৈঃস্বরে সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারা দিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি এমন নানা কবিতার লাইন একাধিকবার নিজে নিজেই পাঠ করে। লেখাপড়ার প্রতি তার এমন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল। 

আরেক শিক্ষার্থী মিয়াজের বাবা তাহেরুল বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল এখন এলাকার অনেকের নজর কেড়েছে। এই স্কুলে লেখাপড়ার মান অনেক ভালো। বিশেষ করে শিশুরা যখন শিক্ষকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উচ্চৈঃস্বরে ছন্দাকারে কবিতা অথবা অন্য কিছু পড়ে, তখন স্কুলচত্বর ও বাইরে অন্য রকম পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সকালের মিষ্টি রোদে শিশুদের এমন ছন্দময় ধ্বনি অভিভাবকসহ উপস্থিত সবার মনকে উদ্বেলিত করে, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ নোমানের বাবা মোতাহার হোসেন বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি পারিবারিক শৃঙ্খলা শেখানোর যে কাজটি বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে দেওয়া হচ্ছে, তা খুবই প্রশংসনীয়। এমন স্কুলে শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই আদর্শ মানুষ হয়ে বেড়ে উঠবে। বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। সাফা ইসলামের মা নুরজাহান বেগম বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে নতুন বছরে বই, খাতা, কলম, স্কুলব্যাগ, পোশাক, জুতাসহ সব কিছু বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে, যা অনেকের জন্য বিশ্বাস করাই কঠিন। এখানে আমার সন্তানকে পড়াতে কোনো খরচ হয় না। আশপাশের স্কুল ও মাদরাসাগুলো অনেক দূরে, সেই স্কুলগুলোর শিক্ষার মানও খুব ভালো নয়। বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের পাঠদানের পরিবেশ অনেক সুন্দর। স্কুলের শিক্ষক সাথি আক্তার বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের লেখাপড়ার মান ও শৃঙ্খলা দেখে অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের এখানে পড়াতে আগ্রহী হচ্ছেন। আসনসংখ্যা সীমিত থাকায় চলতি বছর আর বাড়তি শিক্ষার্থী নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শিশুদের লেখাপড়ার আগ্রহ বাড়াতে পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও বিভিন্ন ধরনের ছড়া, কবিতা, গল্প শোনানো হয় এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও গল্প শোনা হয়। পাঠদানের পাশাপাশি পারিবারিক শৃঙ্খলাও শিশুদের শেখানো হচ্ছে। তাই খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই স্কুলের সুনাম ছড়িয়েছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আকতার বলেন, এই শিশুরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে। প্রত্যন্ত গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল। স্মার্ট ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সরকারের পাশাপাশি বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল অনেক প্রশংসার দাবি রাখে। জেলা শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে এই স্কুলের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। বসুন্ধরা শুভসংঘের এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকুক এবং ছড়িয়ে যাক সারা দেশে।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ

শেয়ার
উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ
মনিরুজ্জামান মন্টু, কর্মপরিষদ সদস্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা শাখা

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আমি খুবই আনন্দিত। দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করতে এটি তাদের মহৎ একটি উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগ খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক এবং প্রশংসার দাবিদার। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করতে সহায়তা করবে এই সেলাই মেশিন।

সুদূর ঢাকা থেকে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতিনিধিদল আমাদের নীলফামারীর খোকসাবাড়ীতে এসে অসহায় ও দুস্থ মানুষকে খুঁজে বের করে তাদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি মানবিক ও মহৎ উদ্যোগ, যা অসচ্ছল পরিবারগুলোকে আর্থিক সচ্ছলতার পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। আমরা দেখছি, বসুন্ধরা গ্রুপ শুধু ব্যবসার সাফল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আজকের এই উদ্যোগ তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সেলাইয়ের কাজ শিখিয়ে তাদের দক্ষ করে মেশিন বিতরণের মাধ্যমে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বসুন্ধরা গ্রুপ, তা নিঃসন্দেহে গরিব ও অসহায় মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালাবে। আমরা আশাবাদী, ভবিষ্যতে তারা আরো ব্যাপক পরিসরে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যাতে আরো বেশি মানুষ উপকৃত হতে পারে। দরিদ্র নারীরা যেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়। আমি বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
তাদের এই মহান উদ্যোগ যেন অব্যাহত থাকে এবং আরো বিস্তৃত হয়, সেই প্রার্থনা করছি। মহান আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা তাদের আরো সমৃদ্ধ করুন। তাদের হৃদয়কে আরো উদার করুন এবং তাদের এই মহতী উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে বেশি বেশি দাঁড়ানোর তাওফিক দান করুন।

মন্তব্য

দরিদ্র নারীদের সম্ভাবনার দুয়ার খুলল

শেয়ার
দরিদ্র নারীদের সম্ভাবনার দুয়ার খুলল
উচ্ছ্বাস রায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, নীলফামারী জেলা প্রশাসন

বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সেলাই মেশিন বিতরণের এই মহতী আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বিশেষ করে নীলফামারী জেলার প্রত্যন্ত এলাকার অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। এই আয়োজনে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র পরিবারের নারীদের সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীও রয়েছে। এটি শুধু একটি অনুদান নয়, শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথে তাদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে এই সেলাই মেশিন।

প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেয়ে তারা নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারবে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান দিয়ে নিজেকে স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে নিতে পারবে। সেলাই মেশিনের আয়ে দরিদ্র পরিবারের নারীদের সংসারে সচ্ছলতার চাকা সচল হবে। তাদের পরিবারের অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি তাদের এই আয় দেশের মূল অর্থনীতিতে যোগ হবে।
শক্ত হবে আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতি। সরকারিভাবে সারা দেশেই এমন নানা কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে অনেকে এগিয়ে আসছে। বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের এই কাজের মাধ্যমে সরকারকে সহায়তা করছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের এই মহতী উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু আর্থিক সচ্ছলতাই নয়, নারীদের কর্মসংস্থান, আত্মনির্ভরশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

মন্তব্য

পিংকির স্বপ্ন পূরণ হবে

শেয়ার
পিংকির স্বপ্ন পূরণ হবে

হিসাববিজ্ঞানে অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন পিংকি রানী রায়। নীলফামারী জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের রামনগর বাবুপাড়া গ্রামে তাঁদের বাড়ি। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। দরিদ্র পরিবারের পিংকির স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শিখে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর।

নিজের সঙ্গে ছোট বোন ও ভাইকে প্রতিষ্ঠিত করবেন সমাজে। কিন্তু ২০২২ সালে মা চন্দনা রানী রায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে বিপদে পড়েছেন তিনি। এ সময়ে পরিবারের সহায়-সম্বল বিক্রি করে চিকিৎসা করেও মৃত্যু ঠেকাতে পারেননি মায়ের। এখন তাঁর বাবা শংকর রায় অনেকটাই হয়ে পড়েছেন দিশাহারা।
পিংকি বলেন, ভালোই চলছিল আমাদের সংসার। হঠাৎ মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়ে। এ সময় সহায়-সম্বল যা ছিল বিক্রি করে মায়ের চিকিৎসা চালান আমার বাবা। তার পরও মাকে বাঁচানো যায়নি।
মায়ের অবর্তমানে ছোট বোন ও ভাইয়ের দায়িত্ব পড়ে আমার ঘাড়ে। পরিবারে চলছে চরম অর্থকষ্ট। এমন সমস্যায় আমারসহ ভাই-বোনদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধের পথে চলে যায়। চোখের সামনে যখন আমার ঘোর অন্ধকার, তখনই আশার আলো দেখায় বসুন্ধরা শুভসংঘ। আমাকে বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয় তারা।
আমি সেলাই শিখলাম, বসুন্ধরা গ্রুপের বিনামূল্যের সেলাই মেশিন পেলাম। এখন আমার চিন্তা নেই। কাপড় কাটা ও সেলাইয়ের কাজ পারি। এই মেশিনে সেলাইয়ের কাজ করে আমার স্বপ্ন পূরণ করব। পাশপাশি ভাই-বোনদের স্বপ্নও পূরণ করব। দিশাহারা বাবাকে পথের দিশা দেখাতে পারব। আমাকে এমন সহযোগিতা করার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।

মন্তব্য

শোভার অন্ধকার জগতে আলো জ্বলল

শেয়ার
শোভার অন্ধকার জগতে আলো জ্বলল

প্রশিক্ষণ শেষে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগ আপ্লুত এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শোভা রায়। নীলফামারী জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের নরেশ চন্দ্র রায়ের মেয়ে সে। বাবার দিনমজুরির আয়ে ঠিকমতো সংসারই চলছিল না। অনেক কষ্ট করেও বাবা চালাতে পারছিলেন না শোভার কলেজে পড়ার খরচ।

অর্থাভাবে লেখাপড়া প্রায় বন্ধের পথে চলে গিয়েছিল। অন্ধকার নেমে এসেছিল স্বপ্ন দেখা শোভার জীবনে। তার সেই অন্ধকার স্বপ্নের জগত্টাকে আলোকিত করল বসুন্ধরা শুভসংঘ। বিনামূল্যে তিন মাস সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে কাপড় কাটা ও সেলাই শিখেছে সে।
হাতে পেয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া বিনামূল্যের সেলাই মেশিন। সেই মেশিনে এখন শোভা দেখতে শুরু করেছে আশার আলো। শোভা বলে, বাড়ির ভিটা ছাড়া অন্য কোনো সম্পদ নেই বাবার। তাঁর দিনমজুরির সামান্য আয়ই আমাদের একমাত্র ভরসা।
সেই আয়ে ঠিকমতো খাওয়া জোটে না পরিবারে। এর ওপর আমার লেখাপড়ার খরচ। অভাব-অনটনে নিয়মিত কলেজে যাওয়া সম্ভব হয়ে উঠছিল না। বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এখন কাপড় কাটতে ও সেলাই করতে পারি।
আজকে সেলাই মেশিন পেলাম। পড়াশোনার পাশাপাশি এখন সেলাই কাজের আয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারব, পাশাপাশি বাবাকেও সহযোগিতা করতে পারব। অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান স্যারকে। আমার মতো অসহায় দরিদ্র নারীদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গড়েছেন।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ