• ই-পেপার

চালের দাম স্থিতিশীল—বাজার পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী

ক্ষমতা কমছে টাকার

ডলারের বিপরীতে দেড় বছরে ১১ শতাংশ অবনমন রেকর্ড পরিমাণ পতন ঘটেছে চীনা মুদ্রা ইউয়ানের বিপরীতে মান কমেছে ইউরো-পাউন্ডের বিপরীতেও বাড়ছে আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি শিল্পের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে

অনলাইন ডেস্ক
ক্ষমতা কমছে টাকার

টাকার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। দেড় বছর আগে যে পণ্য আমদানি করতে ১০০ টাকা লাগত, এখন তার জন্য ১২০ টাকা বা তারও বেশি গুনতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ বিভাগের নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার, ইউরো, পাউন্ড এবং চীনা ইউয়ানের বিপরীতে টাকার রেকর্ড পতন হয়েছে। এই মুদ্রার অবমূল্যায়ন দেশের অর্থনীতিকে এক জটিল ফাঁদে ফেলেছে, যার সরাসরি মাশুল দিচ্ছে সাধারণ ভোক্তা।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রতি মার্কিন ডলারের আনুষ্ঠানিক মূল্য ছিল ১১০ টাকা। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রতি ডলারের বিনিময় হার গিয়ে ১২২ টাকায় ঠেকে। মাত্র দেড় বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার ক্ষমতা কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ। গত দেড় বছরে ইউরোপের একক মুদ্রা ইউরো এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতে টাকার মান প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। আর চীনা মুদ্রা ইউয়ানের বিপরীতে টাকার মান কমেছে রেকর্ড পরিমাণ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাকার দাম কমায় সাময়িকভাবে রপ্তানিকারকরা সুবিধা পেলেও দেশের ভিতর মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় সেই সুবিধা উধাও হয়ে গেছে। টাকার এই অবমূল্যায়নের ফলে দেশের প্রধান ৫টি খাত এখন চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। উৎপাদন ও শিল্প খাত বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানির খরচ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। ফলে কারখানার উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি তেল, ভোজ্য তেল, গম ও ডালের মতো আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়ায় দেশে ‘আমদানিকৃত মূল্যস্ফীতি’ তৈরি হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। ডলারের দাম বাড়ায় সরকারের বিদেশি ঋণ ও সুদের কিস্তি পরিশোধের খরচ বহুগুণ বেড়েছে। বাড়তি আমদানি ব্যয় মেটাতে এবং ডলারের বাজার ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অনবরত রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে রিজার্ভের ওপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি হয়েছে।

ইউয়ানের বিপরীতে টাকার মান কমায় চ্যালেঞ্জ বাড়ছে : ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমায় অর্থনীতিতে যে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়, ইউয়ানের বিপরীতে টাকার মান কমায় তারচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে বলে খোদ অর্থ মন্ত্রণালয় স্বীকার করছে। অর্থ বিভাগের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউয়ানের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হওয়ায় চীন থেকে আমদানি করা কাঁচামাল এবং মধ্যবর্তী পণ্যের ‘ল্যান্ডিং কস্ট’ বা প্রকৃতি আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থায় উৎপাদন ব্যয়ের চাপ আরও তীব্র হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীনা মুদ্রা ইউয়ানের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান কমে যাওয়ার অর্থ হলো চীন থেকে পণ্য আমদানির খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়া, কারণ বাংলাদেশের মোট আমদানির সবচেয়ে বড় অংশটি আসে চীন থেকে। চীনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি খুবই সীমিত, কিন্তু আমদানি বিশাল। ইউয়ানের বিপরীতে টাকার মান কমায় এই দুই দেশের মধ্যকার সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দেশের নিট পোশাক রপ্তানি খাতের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশের পোশাক শিল্পসহ সিংহভাগ কারখানার কাঁচামাল আসে চীন থেকে। চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’র বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় চীন থেকে কাঁচামাল আমদানির খরচ বেড়ে গেছে। শুধু তাই নয়, সাধারণ মানুষের নিত্যব্যবহার্য ইলেকট্রনিক্স, যন্ত্রপাতি, কাপড় এবং বিভিন্ন কেমিক্যাল ও প্লাস্টিক পণ্য চীন থেকে আমদানি করা হয়। আমদানিকারকদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এসব পণ্যের দাম বাড়ছে, যা সরাসরি সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ ফেলছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের ওপর চাপ কমাতে ইউয়ানে এলসি খোলার যে বিকল্প সুবিধা চালু করেছিল, টাকার বিপরীতে ইউয়ান শক্তিশালী হতে থাকায় আমদানিকারকরা ইউয়ানে লেনদেন করতে আগের চেয়ে কম লাভবান বা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ বা কর্ণফুলী টানেলের মতো চীনের অর্থায়নে পরিচালিত বড় বড় মেগা প্রকল্পের বিপরীতে নেওয়া ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের খরচ টাকার অঙ্কে অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় পতন

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় পতন
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হার বাড়ানোর অনমনীয় মনোভাবের কারণে সোনার দামে বড় পতন হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম আরও কমেছে, যা টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো সাপ্তাহিক দরপতনের রেকর্ড গড়ল। খবর রয়টার্স

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্পট মার্কেটে সোনার দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৫ দশমিক ০২ ডলারে নেমে আসে। এর আগে দিনের শুরুতে এটি গত ১১ জুনের পর সর্বনিম্নে নেমে ৪ হাজার ১১৯ দশমিক ৭৮ ডলারে ঠেকেছিল। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত ৫ জুন থেকেই সোনা তার ২০০ দিনের গড় দামের (মুভিং অ্যাভারেজ) নিচে কেনাবেচা হচ্ছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সোনার ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য (গোল্ড ফিউচার্স) ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬৩ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

চলতি সপ্তাহে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির ধারা বজায় থাকায় অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারের মূল্যে সোনা কেনা বেশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ফলে কমেছে সোনার চাহিদা।

জেফরিসের মালিকানাধীন ট্রেডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবোরাস বলেন, ‘সোনার বাজার এখন বড় ধরনের মন্দার (বেয়ার মার্কেট) ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো সময় দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে। ফেড সুদের হার দীর্ঘদিন চড়া রাখবে—এমন আভাসে ডলার লাভবান হলেও সোনার মতো অলংকারিক ধাতুর বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গত বুধবার মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি-নির্ধারকদের বৈঠক শেষে এক প্রক্ষেপণে জানানো হয়, ১৯ জন নীতি-নির্ধারকের মধ্যে ৯ জনই মনে করেন চলতি বছর সুদের হার আরও বাড়ানো প্রয়োজন। যদিও এবারের বৈঠকে সুদের হার বর্তমান ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের ঘরেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে সিএমই ফেডওয়াচ টুলের হিসাব অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির ৭০ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সোনার ভবিষ্যৎ দাম এখন মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা, আগামী সপ্তাহের মার্কিন মূল্যস্ফীতির (ইনফ্লেশন) প্রতিবেদন এবং ফেডের নীতিমালার প্রতি বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা বাতিল হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করায় এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা ভূ-রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সোনার দামের পূর্বাভাস কমিয়েছে। আগের ৫ হাজার ৪০০ ডলারের প্রক্ষেপণ থেকে কমিয়ে তারা এখন প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৯০০ ডলার হতে পারে বলে জানিয়েছে। তবে ব্যাংকটি মনে করে, দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজার ইতিবাচক হলেও স্বল্পমেয়াদে দাম আরও কমতে পারে।

সোনার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভার বা রুপার দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ৬১ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৬৫ দশমিক ০৭ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৫৪ দশমিক ১৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সোনার মতো এই তিনটি ধাতুরও সপ্তাহ শেষে দরপতন হয়েছে।

দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সবজিতে স্বস্তি, ডিম ও মুরগির দামও কমেছে

অনলাইন ডেস্ক
সবজিতে স্বস্তি, ডিম ও মুরগির দামও কমেছে

নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা হলে বাজারে অন্যান্য পণ্যের মতো সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। তবে এবার এর প্রভাব পড়েনি। ঈদের পর সবজিসহ বেশ কিছু পণ্যে দাম বাড়লেও বাজেটের কমেছে সবজিসহ পেঁয়াজের দাম। এ ছাড়া অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে ডিম ও মুরগির দামে। 

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির সরবরাহ বেড়েছে। বেশিরভাগ সবজির দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। তবে হাতেগোনা কয়েকটি সবজির দাম কিছুটা বেশি। এর মধ্যে করলা ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি পেঁপে ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকেৃ ৭০ টাকা ও বরবটি ৬০ কেজি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া, লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আলু ২৫ টাকা কেজি, ধনেপাতা ১০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে আর কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুনের কেজি ৬০ টাকা। লম্বা বেগুনের দাম ৬০ টাকা কেজি। শসা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। আর কাঁচামরিচ ৮০ টাকা কেজি। বাজারে বড় আকারের লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। আর ১০ টাকায় মিলছে ছোট লেবু। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি কেজি ৩২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ঈদুল আজহার পর গরুর মাংসের দাম বাড়েনি। বর্তমানে ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ডজনপ্রতি ডিমের দাম রয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা।

অন্যদিকে, মাছের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। প্রতি কেজি পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকা (জীবিত ও মৃত উপরে দাম নির্ধারণ), রুই ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা, টাকি ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম বেশি দেখা গেছে। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।

তেলে কারসাজি : ৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিল টিকে গ্রুপ

অনলাইন ডেস্ক
তেলে কারসাজি : ৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিল টিকে গ্রুপ

ভোজ্যতেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও সরবরাহে কারসাজির মাধ্যমে মাত্র দুই মাসে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করে ৫০০ কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছে চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩২ কোটি টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, বাজারে সংকটের পরিবেশ তৈরি এবং মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিপুল মুনাফা করেছে কম্পানিটি।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল এনপিবি নিউজের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২ সালে সরবরাহ ঘাটতির কথা বলে দেশের ৮টি প্রতিষ্ঠান সরকারকে তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য করে। অথচ তখন এ আটটি কম্পানির গুদামে তেলের কোনো সংকট ছিল না। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা ছিল টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

শবনম ভেজিটেবল অয়েল কম্পানির সঙ্গে জড়িত একটি সরবরাহ আদেশে দেখা যায়, কম্পানিটি তার পরিবেশকদের কাছে তেল সরবরাহে প্রায় ২৫ দিন সময় নেয়। যেখানে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে চাহিদাকৃত পণ্য সরবরাহ করার নিয়ম রয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশ ২০১১ এর অনুচ্ছেদ ৯-এর(৩) অনুযায়ী একটি সাপ্লাই অর্ডারের মেয়াদ থাকে ১৫ দিন। এর বেশি মেয়াদ কোনোভাবেই বাড়ানো যাবে না।

অথচ এই আইনের তোয়াক্কা না করেই শবনম ভেজিটেবল অয়েল ও এর পরিবেশকদের মধ্যে একটি পরোক্ষ চুক্তি হয়। যা বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা আইন ২০১২-এর ধারা ১৫-এর উপধারা ১ অনুযায়ী অন্যায়। এই পরোক্ষ যোগসাজশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করায় বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখা দেয় এবং তেলের চাহিদা বাড়ে। আর আট কম্পানির এই কারসাজির ফলে তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয় সরকার।

এর প্রমাণও মেলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সে মাসে ভোজ্যতেলের দাম এক লাফে বাড়ে ৮ টাকা। ১৬০ টাকা প্রতি লিটারে বিক্রি হওয়া তেল ১৬৮ টাকা নির্ধারণ করলেও এই দামে বিক্রি হয়নি। বরং সে সময় ১৭৫ টাকার নিচে তেল পাওয়া যায়নি।

এনপিবির অনুসন্ধানে দেখা যায়, শবনম ভেজিটেবল অয়েল কম্পানি তাদের তৎকালীন উৎপাদন ক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগায়নি। কৃত্রিম সংকট তৈরি করার লক্ষ্যে তাদের ক্ষমতার অর্ধেকে নামিয়ে আনে তেলের উৎপাদন। এ সময় কম্পানিটি যা উৎপাদন করত তার পুরোটাও বাজারে সরবরাহ করেনি। সে সময়ে কম্পানিটির অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের ব্যাপক মজুদ পাওয়া যায়।

২০২২ সালের এপ্রিলে রমজান মাস উপলক্ষে তেলের চাহিদা অনেক বেশি বেড়ে যায়। ঠিক এ সময়টিকেই বেছে নেয় কম্পানিটি তেলের সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণের।

সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য মতে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের তুলনায় মে মাসে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে ৩০ শতাংশ। বাজারে তেলের ঘাটতির অজুহাতে ২২ দশমিক ৪৭ ও ২৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ দাম বাড়ে ভোজ্যতেলের। ঠিক এ সময়ে তেল পরিবেশকরা তাদের সাপ্লাই অর্ডার বা পরিবেশন আদেশ হাতবদল করে দাম বাড়ায়। এরমধ্যেই শবনম ভেজিটেবল অয়েল কম্পানিটি তাদের কাছে থাকা পণ্যের আদেশ অনুযায়ীও তেল সরবরাহ করেনি।

২০২২ সালের এই সময়টিতে তেলের দাম বাড়িয়ে টিকে গ্রুপের কম্পানি শবনম অয়েল প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করে। এ ছাড়া শুধু ৫০০ কোটি টাকার বেশি মুনাফা করে। যার পুরোটাই সাধারণ মানুষের পকেটের টাকা। সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি দিয়ে সরকারকে জিম্মি করে মানুষের পকেট কেটে মুনাফা করে টিকে গ্রুপ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন একটি অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। সেখানে কম্পানির কাছে লিখিত জবাব জানতে চায় কমিশন। এ ছাড়া শুনানিও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থাপিত যুক্তি তর্ক এবং আইনের বিশ্লেষণ করে কমিশন কম্পানিটির কারসাজির ব্যাপারে নিশ্চিত হয়।

অভিযোগ ও জরিমানাসহ তেল সিন্ডিকেটের সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে টিকে গ্রুপের ডিরেক্টর মোস্তফা হায়দারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে এনপিবি নিউজ। তার ব্যক্তিগত নাম্বারে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পাশাপাশি তার হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে মেসেজ করা হলেও তিনি তার রিপ্লাই দেননি। পরবর্তীতে টিকে গ্রুপের হেড অব ব্রান্ডের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এ বিষয়ে টিকে গ্রুপের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয় কম্পানিটির এমডি মো. আবুল কালামের সঙ্গে। প্রতিযোগিতা কমিশন কর্তৃক তেল সিন্ডিকেটের অভিযোগে জরিমানার প্রসঙ্গটি তুলতেই ‘আমি জানি না’ বলে ফোন কেটে দেন তিনি। এরপরে একাধিকবার ফোন দিয়েও তার বক্তব্য জানা যায়নি। পরবর্তীতে তার ব্যক্তিগত নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

তবে কম্পানি সূত্রে জানা গেছে, জরিমানার বিষয়টি এমডি আবুল কালামসহ কম্পানির ঊর্ধ্বতন সবাই জানেন। এ বিষয়ে তাদের আলোচনাও হয়েছে। তারা হাইকোর্টে প্রতিযোগিতা কমিশনের রায়কে চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মুনাফা ৫০০ কোটির বিপরীতে জরিমানা মাত্র ৩২ কোটি
বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের আইনে জরিমানা করার নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। কোনো কম্পানির কারসাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সে কম্পানির বার্ষিক টার্নওভারের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা যায়, শবনম ভেজিটেবল অয়েল কম্পানির ২০২২ সালের বার্ষিক টার্নওভার ছিল ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সেখানে কমিশন জরিমানা করেছে মাত্র ৩২ কোটি টাকা। যেখানে তেল সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করায় শুধু লাভই হয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ জরিমানা করার সর্বোচ্চ সীমার মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে কম্পানিটিকে।

জরিমানা করার বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসনের সঙ্গে। তিনি এ বিষয়ে কমিশনের সদস্য আফরোজা বিলকিসের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে কমিশনের আইন শাখার সদস্য আফরোজা বিলকিস বলেন, ‘এই কম্পানির বিরুদ্ধে কমিশনে এইটাই প্রথম মামলা। তাই আমরা সর্বোচ্চ জরিমানা না করে একটা অংকের জরিমানা করেছি। সবাইকেই তো আসলে রিফর্মের সুযোগ দিতে হয়। আমরাও তাই দিয়েছি। যদি এরপরে আরো কোনো মামলা হয় তবে আরো বেশি জরিমানা করা হবে। এ ছাড়া কম্পানিটি একা এই অপরাধ করেনি। আরো চার-পাঁচটি কম্পানি জড়িত ছিল। সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব তানভীর আহমেদ বলেন, ‘প্রতিযোগিতা কমিশন যেহেতু মামলায় রায় দিয়েছে এতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ব্যাপারে যদি বাণিজ্যমন্ত্রী মনে করেন কম্পানির কাছ থেকে ব্যাখ্যা নেবেন তবে মন্ত্রণালয় থেকে আমরা চিঠি দেব।’

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলেও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক যুগ্মসচিব সেবাস্টিন রেমা কোনো কথা বলতে রাজি হননি। উল্লেখ্য, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে সরকার এখনো কাউকে নিয়োগ দেয়নি।

এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি নাজের হোসাইন বলেন, ‘জরিমানা যত টাকাই করুক, এক টাকাও শেষমেশ আদায় হয় না। শুরুর দিকে একটু হইচই হয়, পরবর্তী বাণিজ্য সচিবের কাছে গেলেই মাফ হয়ে যায়। এটাই সমস্যা। আপিল অথরিটি সম্পূর্ণ জরিমানা মাফ করে দিতে পারে। আমরা এই আইনের সংশোধন চেয়েছি।’