কুটির শিল্পকে বাঁচাতে শাহ জামালের ৪০ বছরের সংগ্রামী জীবন

বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
শেয়ার
কুটির শিল্পকে বাঁচাতে শাহ জামালের ৪০ বছরের সংগ্রামী জীবন
হাত দিয়ে যত্ন সহকারে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একটি গ্রাম আনন্দপুর। এক যুগ আগেও এ গ্রামে বিদেশিদের আনাগোনা ছিল। বাঁশের তৈরি নান্দনিক জিনিসপত্র কেনার উদ্দেশে এ পর্যন্ত ২০টিরও বেশি দেশের মানুষ এসেছে এই গ্রামে। 

শুধু বিদেশি পর্যটক নয়, আনন্দপুর গ্রামে বিদেশি সংস্থাগুলোরও ভিড় ছিল।

আনন্দপুর ও আশপাশের গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার যুক্ত ছিল এই কুটির শিল্পের সঙ্গে। গ্রামজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। দূরদূরান্তের মানুষ ভিড় করতেন এ গ্রামে। বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র বিক্রির ধুম পড়ে যেত।
অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ছিল বেশ। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আনন্দপুরের সেই আনন্দঘন আবহ ম্লান হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত চাহিদা থাকলেও দক্ষ জনশক্তি ও প্রযুক্তির অভাবে এ শিল্পের উৎপাদন কমে গেছে।

বর্তমানে এই শিল্পের সঙ্গে মাত্র ১১টি পরিবার যুক্ত রয়েছে।

তাদের মধ্যে একজন মোহাম্মদ শাহ্ জামাল। তিনি কুমিল্লা আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটসের স্বত্বাধিকারী। তার প্রয়াত বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেমের হাত ধরেই বুড়িচংয়ে এ শিল্প বিস্তার লাভ করে। এই শিল্পকে বাঁচাতে পরিবারের হাল ধরতে শাহ্ জামাল সংগ্রাম করছেন। তিনি আবারও ইউরোপ-আমেরিকায় ছড়িয়ে দিতে চান তার বাঁশের শো-পিস।

শাহ্ জামালের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রংতুলি দিয়ে বাড়ির মাটির ঘরে বিশ্ব কবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি আল্পনা দিয়ে আঁকছেন এবং আল্পনা দিয়া আঁকানো ওয়ালমেট উঠোনে শুকাতে দেওয়া হয়েছে। পাশে কাজ করছেন তার ভাই, প্রতিবেশীসহ আরও কয়েকজন কর্মচারী। 

কলমদানি আর ফুলদানি তৈরি করতে বাঁশ ছোট টুকরো করে কাটা হয়েছে। আগুন দিয়ে বাঁশ সেঁক দেওয়া হচ্ছে। সেই বাঁশ ঘষে পরিষ্কার করা হয়। তার ওপরে নানা রঙের ডিজাইন। হাত দিয়ে সব যত্ন সহকারে করা হচ্ছে। মাটির ঘরে বেতবোনার মেশিন। পাশে উৎপাদিত টেবিল ল্যাম্প, ফুলদানি, কলমদানি, ওয়ালমেট, ক্যালেন্ডার, দরজা-জানালার পর্দার সারি।

শাহ্ জামালের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিনিধির। তিনি জানান, ৫২টি পণ্য উৎপাদন করে আলপনা করা হয়। মাসে তার ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় হয়। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প পুরস্কার স্বর্ণপদক পান তিনি। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও সম্মাননা পেয়েছেন। তবে দুঃখের অন্ত নেই তার। 

শাহ্ জামাল বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল এ শিল্পে বড় অবদান রাখা ও নতুন নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। কুমিল্লায় প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অভাব নেই। কিন্তু দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। সময়ের দাবিতে প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। পুঁজি ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে প্রযুক্তি থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েছি। যার কারণে উৎপাদনও বেশ কমে গেছে।’

শাহ্ জামাল জানান, বাজারে বাঁশের তৈরি শো-পিসের ব্যাপক চাহিদা। তবে সেই হারে উৎপাদন করার মতো প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি ও উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করার জায়গার সংকট আছে। যার কারণে লাভের ভাগীদার হয়ে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। 

জানা যায়, ১৯৮৬ সালে এসএসসি শেষে বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেমের ছেলে শাহ্ জামাল কুমিল্লা বিসিক থেকে কমার্শিয়াল আর্টের ওপর তিন বছরের কোর্স শেষ করে বাবার পেশায় পা বাড়ান। আত্মকর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পের আওতায় তিনি আনন্দপুর হাজিবাড়ির পৈতৃক ভিটায় গড়ে তোলেন কুমিল্লা আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস্ নামক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্দেশ্য ছিল কুটির শিল্পজাত দ্রব্যাদি তৈরি, প্রশিক্ষণ ও বিক্রয়। 

প্রথম দিকে বেশ সফল ছিলেন তিনি। ব্র্যাক ও বিসিকের সহায়তায় তিন শত নারী-পুরুষকে প্রশিক্ষণ দেন তিনি। বিদেশি পর্যটক ও সংস্থাগুলোর আসা-যাওয়া চলছিল নিয়মিত। চীন, জাপান, কলম্বিয়া, থাইল্যান্ড, আমেরিকা,ইতালি ও ফ্রান্সের প্রতিনিধি দল সফর করেন শাহ্ জামালের প্রতিষ্ঠানে। ৪০ বছর ধরে ব্যবসা ভালোই চলছিল। কাঁচামালের সংকট নেই, থেমে নেই উৎপাদনও। বিক্রিতেও কখনো ভাটা পড়েনি। কিন্তু বর্তমানের তাল মিলিয়ে নিতে পারছে না প্রযুক্তির কারণে। মেশিনারি ও প্লাস্টিকের পণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে পিছিয়ে পড়ে যান তিনি ও তার সহকর্মীরা। 

এদিকে তারা নিজেরাও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করার মতো আর্থিক সংগতি অর্জন করতে পারেননি। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ পেশা ছাড়তে শুরু করেন অনেকেই। কুটির শিল্পী মো. শাহ্ জামালকে একজন পরিশ্রমী উদ্যোক্তা হিসেবেই চিনেন এ অঞ্চলের মানুষ। তার এ কাজকে এগিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন আনন্দপুর গ্রামের বাসিন্দারা।

জানা যায়, ১৯৫৫ সালের পূর্ব থেকে কুমিল্লা কারাগারে কুটির শিল্পের পণ্য তৈরি হতো। শাহ্ জামালের বাবা আবুল হাসেম ফটোগ্রাফি নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। সেই সময় কুমিল্লা কারাগারে চাকরি করা মহিউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি আবুল হাসেমকে পরামর্শ দেন বাঁশের তৈরি পণ্য তৈরি করার জন্য। ফটোগ্রাফার আবুল হাসেমের আর্টের হাত ভালো ছিল। তিনি মহিউদ্দিনের প্রস্তাব রাজি হয়ে যান। নিজের গ্রাম আনন্দপুরে এ শিল্পের উৎপাদন শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে তা প্রসার লাভ করে।

বুড়িচংয়ের জঙ্গলবাড়ি, খাড়েরা, ছোট হরিপুর ও ছয় গ্রামের মানুষজন জড়িয়ে পড়েন এই পেশায়। স্বাধীনতা পরবর্তীতে নব্বই দশক পর্যন্ত বেশ দাপুটে অবস্থায় ছিল বাঁশ-বেত শিল্প। পরবর্তীতে প্লাস্টিকের পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে যায়। লাভ ও উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকায় বিমুখ হয়ে পড়েন কুটির শিল্পীরা।
 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ইজিবাইক খাদে পড়ে প্রাণ গেল কলেজছাত্রের

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
শেয়ার
ইজিবাইক খাদে পড়ে প্রাণ গেল কলেজছাত্রের
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায় ইজিবাইকটি। ছবি: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের সদরপুরে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরো পাঁচজন। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহিলা কলেজের সামনে নয়রশি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মাহফুজ মাতুব্বর (১৭) ভাঙ্গা উপজেলার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের কোষাভাঙ্গা গ্রামের ফরহাদ মাতুব্বরের ছেলে।

তিনি সদরপুর সরকারি কলেজের ইন্টার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহতরা হলেন- ফারুক হোসেন (২৫), ইব্রাহিম (৪২), সাদিয়া (১৯), শাহজাহান (৪৮), আল আমিন (২১)।

স্থানীয়দের বরাতে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোতালেব বলেন, সকালে মাহফুজ প্রাইভেট পড়তে ইজিবাইকে করে সদরপুর যচ্ছিলেন। এ সময় দুর্ঘটনাস্থানে ইজিবাইকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়।

এতে মাহফুজসহ পাঁচজন আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মাহফুজকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত পাঁচজনের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। 
 

মন্তব্য

ভুয়া র‍্যাব পরিচয়ে প্রবাসীর ২১ লাখ টাকা ডাকাতি, গ্রেপ্তার ১

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
শেয়ার
ভুয়া র‍্যাব পরিচয়ে প্রবাসীর ২১ লাখ টাকা ডাকাতি, গ্রেপ্তার ১
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ভুয়া র‍্যাব পরিচয়ে প্রবাসীর ২১ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনার মো. আব্দুল হক স্বপন (৪৫) নামের এক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে র‍্যাব-১১-এর উপ-পরিচালক মেজর অনাবিল ইমাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

এর আগে, মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ডেমরার আমিনবাগ বাঁশেরপুল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার স্বপন পিরোজপুরের কাউখালীর ধাবরী এলাকার মৃত হাবিবুর রহমান মোল্লার ছেলে।

 

আরো পড়ুন

সাংবাদিককে পিটিয়ে বিএনপি নেতা বললেন, 'পেটানো কম হয়ে গেছে'

সাংবাদিককে পিটিয়ে বিএনপি নেতা বললেন, 'পেটানো কম হয়ে গেছে'

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব জানায়, কুমিল্লার বুড়িচংয়ের আরাগ আনন্দপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে আবু হানি (৩৫) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার বিষ্ণুপুর গ্রামের কামাল ভূঁইয়ার ছেলে রাজিব ভূঁইয়া (৩৫) দুবাই প্রবাসী। তারা দুইজন গত ১৪ জানুয়ারি 
ভোরে বাংলাদেশে আসেন। পরে তারা বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে একটি প্রাইভেটকার নিয়ে ডলার ভাঙ্গানোর জন্য বাইতুল মোকাররম মার্কেটে যান। 

সেখান থেকে একই তারিখ দুপুরের দিকে রাজধানীর ফ্লাইওভার থেকে এশিয়া লাইন বাসে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

পরে ওইদিন দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বন্দরের কেওঢালা এলাকায় পৌঁছালে একটি সাদা রংয়ের হাইয়েস গাড়ী তাদের বহনকৃত বাসটির গতিরোধ করে ৩-৪ জন লোক র‍্যাবের কটি পরিহিত অবস্থায় বাসের ভেতর প্রবেশ করে।

আরো পড়ুন

উত্তরায় পিটিয়ে ঝুলিয়ে রাখা সেই দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

উত্তরায় পিটিয়ে ঝুলিয়ে রাখা সেই দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

 

এরপর তারা নিজেদেরকে র‍্যাব সদস্য পরিচয় প্রদান করে দুবাই প্রবাসী আবু হানিফ ও রাজিব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে মর্মে জানায়। তখন প্রবাসী আবু হানিফ ও রাজিব ভূঁইয়া জানান যে, তারা বিদেশ থেকে এসেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা নাই। তখন প্রবাসীদের বাসের ড্রাইভার ঘটনাটি কৌশলে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে এবং উপস্থিত লোকজন তাদের পরিচয়পত্র দেখাতে বলে, কিন্তু দুষ্কৃতিকারীরা কোনো পরিচয় না দেখিয়ে প্রবাসী দুইজনকে জোর পূর্বক হাইয়েস গাড়ীতে উঠিয়ে প্রবাসী আবু হানিফ ও রাজিব ভূঁইয়ার হাত পা ও চোখ বেঁধে ফেলে।

 

পরে এলোপাথাড়িভাবে মারধর করে প্রবাসী আবু হানিফ ও রাজিব ভূঁইয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। পরে তাদের সাথে থাকা নগদ সর্বমোট ১২ লাখ টাকাসহ দুইটি ব্যাগ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। পরবর্তীতে দুষ্কৃতিকারীরা প্রবাসী আবু হানিফ ও রাজিব ভূঁইয়াকে অনুমানিক ৩-৪ ঘণ্টা বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে ওইদিন সন্ধ্যায় ঢাকা ডেমরা এলাকার একটি পরিত্যাক্ত রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আবু হানিফ বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। 

আরো পড়ুন

ভারতের ৪ কম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ভারতের ৪ কম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

 

ডাকাত মো. আব্দুল হক স্বপনের বিরুদ্ধে ডিএমপি ঢাকার পল্টন থানা একটি পর্ণগ্রাফি মামলাসহ ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানায় দুইটি ডাকাতি মামলা পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানানো হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

মন্তব্য

সাংবাদিককে পিটিয়ে বিএনপি নেতা বললেন, 'পেটানো কম হয়ে গেছে'

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
শেয়ার
সাংবাদিককে পিটিয়ে বিএনপি নেতা বললেন, 'পেটানো কম হয়ে গেছে'
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঠাকুরগাঁওয়ে দৈনিক দেশবাংলার প্রতিনিধি সাংবাদিক মামুনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপি নেতা যুবাইদুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিক মামুনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের কালিবাড়ি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। 

এ সময় ঘটনার প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের সামনে এক ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

জানা যায়, সন্ধ্যায় বাজারের এক চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন মামুন। কিছুক্ষণ পর আখানগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি যুবাইদুর চৌধুরী তার দলবল নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মামুনকে নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং হত্যার উদ্দেশ্যে তার গলা চেপে ধরা হয়।

একপর্যায়ে তার অণ্ডকোষে লাথি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলে এই বর্বর শারীরিক নির্যাতন।

এ বিষয়ে আহত সাংবাদিক মামুন অর রশিদ বলেন, 'কয়েক মাস আগে আমি তাকে নিয়ে চাঁদাবাজির একটি রিপোর্ট করেছিলাম। এরপর থেকেই সে আমাকে মুঠোফোনে হুমকি দিত।

আজকে সে পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। হায়াত ছিল বলে প্রাণে বেঁচে ফিরেছি। আমি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।'

ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু বলেন, 'সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর আঘাত। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

'

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা যুবাইদুর চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'সাংবাদিক আমার বিরুদ্ধে লিখেছে তাকে পিটাবেনা তো কি করব। পেটানো কম হয়ে গেছে।' এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

রুহিয়া থানা বিএনপির সভাপতি জব্বার বলেন, 'মামুন একজন ভালো ছেলে। তার ওপর হামলার ঘটনা দুঃখজনক। আমরা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।'

রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, 'আমরা হামলার  বিষয়টি শুনেছি। আমাদেরকে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নিব।'

ঠাকুরগাঁও মেডিক্যাল অফিসার রকিবুল আলম চয়ন বলেন, 'সাংবাদিক মামুনের শরীরে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে গলা ও অণ্ডকোষে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে।'

মন্তব্য

ট্রেনে ঘোরাফেরা করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বৃদ্ধ

জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুর প্রতিনিধি
শেয়ার
ট্রেনে ঘোরাফেরা করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বৃদ্ধ
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দেওয়ানগঞ্জগামী ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস (৭৪৩) ট্রেনে থেকে অজ্ঞাতনামা এক বৃদ্ধের (৬০) মরদেহ উদ্ধার করেছে জামালপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেন পৌঁছলে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

আরো পড়ুন
জুনেই বাজেট ঘোষণা করা হবে : অর্থ উপদেষ্টা

জুনেই বাজেট ঘোষণা করা হবে : অর্থ উপদেষ্টা

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জগামী ছেড়ে আসা ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন থেকে ওঠেন ওই ব্যক্তি।

পরে ট্রেনে তিনি ঘোরাফেরা করেন। এক পর্যায়ে ট্রেনের ইঞ্জিন বগির কাছে হঠাৎ করে পড়ে যান। পরে যাত্রীরা তার মাথায় পানি দেন। নান্দিনা রেলওয়ে স্টেশন ট্রেনটি ছাড়ে আসার পরে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
পরে জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

জামালপুর রেলওয়ে থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ট্রেনের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে যা জানতে পেরেছি, ওই ব্যক্তি তিনি ময়মনসিংহ থেকে ট্রেনে উঠেছিলেন। ওঠার পরে ট্রেনের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করেন। এক পর্যায়ে ট্রেনের ভেতরে মাথা ঘুরে পড়ে যান, যাত্রীরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

নান্দিনা রেলওয়ে স্টেশন পার হওয়ার পর ওই ব্যক্তি মারা যান।’

আরো পড়ুন
উত্তরায় পিটিয়ে ঝুলিয়ে রাখা সেই দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

উত্তরায় পিটিয়ে ঝুলিয়ে রাখা সেই দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

 

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি মানসিক রোগী ছিলেন। তার শরীর একদম রোগা। পিবিআই পুলিশ নিহতের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় শনাক্ত করেছেন তবে পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ