কুটির শিল্পকে বাঁচাতে শাহ জামালের ৪০ বছরের সংগ্রামী জীবন

বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
শেয়ার
কুটির শিল্পকে বাঁচাতে শাহ জামালের ৪০ বছরের সংগ্রামী জীবন
হাত দিয়ে যত্ন সহকারে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একটি গ্রাম আনন্দপুর। এক যুগ আগেও এ গ্রামে বিদেশিদের আনাগোনা ছিল। বাঁশের তৈরি নান্দনিক জিনিসপত্র কেনার উদ্দেশে এ পর্যন্ত ২০টিরও বেশি দেশের মানুষ এসেছে এই গ্রামে। 

শুধু বিদেশি পর্যটক নয়, আনন্দপুর গ্রামে বিদেশি সংস্থাগুলোরও ভিড় ছিল।

আনন্দপুর ও আশপাশের গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার যুক্ত ছিল এই কুটির শিল্পের সঙ্গে। গ্রামজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। দূরদূরান্তের মানুষ ভিড় করতেন এ গ্রামে। বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র বিক্রির ধুম পড়ে যেত।
অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ছিল বেশ। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আনন্দপুরের সেই আনন্দঘন আবহ ম্লান হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত চাহিদা থাকলেও দক্ষ জনশক্তি ও প্রযুক্তির অভাবে এ শিল্পের উৎপাদন কমে গেছে।

বর্তমানে এই শিল্পের সঙ্গে মাত্র ১১টি পরিবার যুক্ত রয়েছে।

তাদের মধ্যে একজন মোহাম্মদ শাহ্ জামাল। তিনি কুমিল্লা আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটসের স্বত্বাধিকারী। তার প্রয়াত বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেমের হাত ধরেই বুড়িচংয়ে এ শিল্প বিস্তার লাভ করে। এই শিল্পকে বাঁচাতে পরিবারের হাল ধরতে শাহ্ জামাল সংগ্রাম করছেন। তিনি আবারও ইউরোপ-আমেরিকায় ছড়িয়ে দিতে চান তার বাঁশের শো-পিস।

শাহ্ জামালের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রংতুলি দিয়ে বাড়ির মাটির ঘরে বিশ্ব কবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি আল্পনা দিয়ে আঁকছেন এবং আল্পনা দিয়া আঁকানো ওয়ালমেট উঠোনে শুকাতে দেওয়া হয়েছে। পাশে কাজ করছেন তার ভাই, প্রতিবেশীসহ আরও কয়েকজন কর্মচারী। 

কলমদানি আর ফুলদানি তৈরি করতে বাঁশ ছোট টুকরো করে কাটা হয়েছে। আগুন দিয়ে বাঁশ সেঁক দেওয়া হচ্ছে। সেই বাঁশ ঘষে পরিষ্কার করা হয়। তার ওপরে নানা রঙের ডিজাইন। হাত দিয়ে সব যত্ন সহকারে করা হচ্ছে। মাটির ঘরে বেতবোনার মেশিন। পাশে উৎপাদিত টেবিল ল্যাম্প, ফুলদানি, কলমদানি, ওয়ালমেট, ক্যালেন্ডার, দরজা-জানালার পর্দার সারি।

শাহ্ জামালের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিনিধির। তিনি জানান, ৫২টি পণ্য উৎপাদন করে আলপনা করা হয়। মাসে তার ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় হয়। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প পুরস্কার স্বর্ণপদক পান তিনি। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও সম্মাননা পেয়েছেন। তবে দুঃখের অন্ত নেই তার। 

শাহ্ জামাল বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল এ শিল্পে বড় অবদান রাখা ও নতুন নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। কুমিল্লায় প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অভাব নেই। কিন্তু দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। সময়ের দাবিতে প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। পুঁজি ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে প্রযুক্তি থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েছি। যার কারণে উৎপাদনও বেশ কমে গেছে।’

শাহ্ জামাল জানান, বাজারে বাঁশের তৈরি শো-পিসের ব্যাপক চাহিদা। তবে সেই হারে উৎপাদন করার মতো প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি ও উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করার জায়গার সংকট আছে। যার কারণে লাভের ভাগীদার হয়ে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। 

জানা যায়, ১৯৮৬ সালে এসএসসি শেষে বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেমের ছেলে শাহ্ জামাল কুমিল্লা বিসিক থেকে কমার্শিয়াল আর্টের ওপর তিন বছরের কোর্স শেষ করে বাবার পেশায় পা বাড়ান। আত্মকর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পের আওতায় তিনি আনন্দপুর হাজিবাড়ির পৈতৃক ভিটায় গড়ে তোলেন কুমিল্লা আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস্ নামক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্দেশ্য ছিল কুটির শিল্পজাত দ্রব্যাদি তৈরি, প্রশিক্ষণ ও বিক্রয়। 

প্রথম দিকে বেশ সফল ছিলেন তিনি। ব্র্যাক ও বিসিকের সহায়তায় তিন শত নারী-পুরুষকে প্রশিক্ষণ দেন তিনি। বিদেশি পর্যটক ও সংস্থাগুলোর আসা-যাওয়া চলছিল নিয়মিত। চীন, জাপান, কলম্বিয়া, থাইল্যান্ড, আমেরিকা,ইতালি ও ফ্রান্সের প্রতিনিধি দল সফর করেন শাহ্ জামালের প্রতিষ্ঠানে। ৪০ বছর ধরে ব্যবসা ভালোই চলছিল। কাঁচামালের সংকট নেই, থেমে নেই উৎপাদনও। বিক্রিতেও কখনো ভাটা পড়েনি। কিন্তু বর্তমানের তাল মিলিয়ে নিতে পারছে না প্রযুক্তির কারণে। মেশিনারি ও প্লাস্টিকের পণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে পিছিয়ে পড়ে যান তিনি ও তার সহকর্মীরা। 

এদিকে তারা নিজেরাও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করার মতো আর্থিক সংগতি অর্জন করতে পারেননি। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ পেশা ছাড়তে শুরু করেন অনেকেই। কুটির শিল্পী মো. শাহ্ জামালকে একজন পরিশ্রমী উদ্যোক্তা হিসেবেই চিনেন এ অঞ্চলের মানুষ। তার এ কাজকে এগিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন আনন্দপুর গ্রামের বাসিন্দারা।

জানা যায়, ১৯৫৫ সালের পূর্ব থেকে কুমিল্লা কারাগারে কুটির শিল্পের পণ্য তৈরি হতো। শাহ্ জামালের বাবা আবুল হাসেম ফটোগ্রাফি নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। সেই সময় কুমিল্লা কারাগারে চাকরি করা মহিউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি আবুল হাসেমকে পরামর্শ দেন বাঁশের তৈরি পণ্য তৈরি করার জন্য। ফটোগ্রাফার আবুল হাসেমের আর্টের হাত ভালো ছিল। তিনি মহিউদ্দিনের প্রস্তাব রাজি হয়ে যান। নিজের গ্রাম আনন্দপুরে এ শিল্পের উৎপাদন শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে তা প্রসার লাভ করে।

বুড়িচংয়ের জঙ্গলবাড়ি, খাড়েরা, ছোট হরিপুর ও ছয় গ্রামের মানুষজন জড়িয়ে পড়েন এই পেশায়। স্বাধীনতা পরবর্তীতে নব্বই দশক পর্যন্ত বেশ দাপুটে অবস্থায় ছিল বাঁশ-বেত শিল্প। পরবর্তীতে প্লাস্টিকের পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে যায়। লাভ ও উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকায় বিমুখ হয়ে পড়েন কুটির শিল্পীরা।
 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

অন্য দেশে রমজানে নিত্যপণ্যের দাম কমলেও বাংলাদেশে বাড়ানো হয় : ধর্ম উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
অন্য দেশে রমজানে নিত্যপণ্যের দাম কমলেও বাংলাদেশে বাড়ানো হয় : ধর্ম উপদেষ্টা
সংগৃহীত ছবি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রমজান মাস এলেই বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে সিন্ডিকেট করে বাড়ানো হয়। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বাজারে জিনিসপত্রের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ভূমিকা রাখছে এই সরকার।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্ম উপদেষ্টা জানান, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রমজান মাস এলেই বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে সিন্ডিকেট করে বাড়ানো হয়। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বাজারে জিনিসপত্রের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ভূমিকা রাখছে এই সরকার। 

তিনি ভোগ্যপণ্যের দাম রমজান মাসে সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে বাজারে সয়াবিন তেলের ঘাটতি থাকবে না। 

বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা উন নবীর সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফিকুর রহমান, মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. রেজাউল করিমসহ প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

সেমিনারে বক্তারা হাওর এলাকার জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় করণীয় বিষয়ে ইমামদের ভূমিকা তুলে ধরেন।
 

মন্তব্য

বগুড়ায় পুকুর থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
শেয়ার
বগুড়ায় পুকুর থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার পৌর শহরের রেলওয়ে জোড়াপুকুরের উত্তর পাশের একটি পুকুর থেকে আকবর আলী (২৪) নামের এক যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

বুধবার দুপুর ১২ টায় পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। 

নিহত আকবর উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের মাইক্রো স্ট্যান্ড এলাকার মৃত আতোয়ার হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি নিহতের মা মর্জিনা বেগমের।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, আকবর আলী মঙ্গলবার রাতে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়িতে ফিরেননি। বুধবার সকালে উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের জোড়াপুকুর লিজ নেওয়া মাছ চাষির শ্রমিকরা উত্তরপাশের পুকুরটি সংস্কার কাজ করার সময় কচুরিপানা তুলতে গিয়ে তার ভাসমান লাশ দেখতে পায়। এরপর তারা পুলিশে খবর দেন।

মাথার পেছনের অংশ, বাম কান ও ডান চোখের নিচে আঘাতপ্রাপ্ত আকবরের লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, আকবর আলী চুরি ও মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। সে পুলিশের হাতে একাধিকবার আটক হয়েছিল।

নিহতের মা মর্জিনা বেগম জানান, তার ছেলেকে কে বা কারা হত্যা করে পুকুরের কচুরিপানার মধ্যে ফেলে রেখে গেছে।

যাতে কেউ মরদেহটির খোঁজ না পায়। এ ব্যাপারে তিনি থানায় একটি হত্যা মামলা করবেন বলে জানান।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএস মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
 

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

কারাবন্দির সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ করাতে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
শেয়ার
কারাবন্দির সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ করাতে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে বন্দিদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করাতে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা গেছে, সহকারী প্রধান কারারক্ষী আমিনুল ও কারারক্ষী রহিম স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, যেখানে দেখা যায়, কারারক্ষী রহিম প্রথমে এক বন্দির স্বজনের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাকে দেখা করানোর আশ্বাস দেন।

এরপর সহকারী প্রধান কারারক্ষী আমিনুল এসে রহিমের সঙ্গে কথা বলেন এবং সাক্ষাতের জন্য ৪০০ টাকা নেওয়া হয়। 

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত দুই কারারক্ষী আমিনুল ও রহিমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।

অনেকে মন্তব্য করছেন, ‘সরকারি কারাগারে বন্দিদের স্বজনদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া চরম অনিয়ম। এটি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ‘এই অনিয়ম নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই টাকা ছাড়া কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের দেখা করা সম্ভব নয়।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা এ বিষয়ে বলেন, ‘ভিডিওর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং বিষয়টি আরো গভীরভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য

নারায়ণগঞ্জে শীর্ষ সন্ত্রাসী কাদির গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
শেয়ার
নারায়ণগঞ্জে শীর্ষ সন্ত্রাসী কাদির গ্রেপ্তার
শীর্ষ সন্ত্রাসী কাদির

নারায়ণগঞ্জ থেকে ‘কাদির সিপাই গ্রুপের’ প্রধান শীর্ষ সন্ত্রাসী কাদির সিপাইকে (৪৬) গ্রেপ্তার করেছে র‍‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍‍্যাব)।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে র‍‍্যাব-১১-এর উপপরিচালক মেজর অনাবিল ইমাম এ তথ্য জানান।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে দুধবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার কাদির সিপাই ফতুল্লার সিপাইপাড়া এলাকার দুলাল সিপাইয়ের ছেলে।

র‍‍্যাব জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী কাদির ফতুল্লা থানার উত্তর গোপালনগর এলাকার প্রভাবশালী ও বক্তাবলী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক সামেদ আলীর প্রধান সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। মূলত সামেদ আলীর ছত্রচ্ছায়ায় কাদের দলবল নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও প্রতিপক্ষের ওপর হামলাসহ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিল।

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে কাদির সিপাই আত্মগোপনে চলে যায়। তার বিরুদ্ধে ফতুল্লা, সদর, বন্দর, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানায় হত্যা, ডাকাতি, হুমকি, চাঁদাবাজি, নাশকতা, হত্যাচেষ্টা, মারামারিসহ মোট ২৮টি মামলা রয়েছে।

তাকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানায় র‍‍্যাব।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ