ক্রীড়াঙ্গনের বাইরের লোক দিয়ে কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে— এমন অভিযোগ তুলে ওই কমিটি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। পাশাপাশি কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের মাধমে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিব বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন জেলার ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়াও ঘোষিত কমিটি বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা। কুমিল্লা জেলায় সব ধরনের খেলাধুলা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন খেলোয়াড়, কোচ, ম্যানেজার ও সংগঠকরা।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামের সামনে এ মানববন্ধন হয়। পরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ১৪ জানুয়ারি কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত এই কমিটি ঘিরে আলোচনা জেলাজুড়ে।
এ ছাড়া কুমিল্লা ক্রীড়াঙ্গনের সাথে জড়িতরা এই কমিটি দেখে মর্মাহত। ক্রীড়াঙ্গনের সাথে কোনো যোগাযোগ নেই এমন কয়েকজন এই কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন। এই কমিটি অগ্রহণযোগ্য। এ কমিটিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হলো। এ কমিটি চলমান থাকলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। কুমিল্লা ক্রীড়াঙ্গনের সাথে জড়িত খেলোয়াড়, কোচ, সংগঠক ও কুমিল্লার কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মহোদয় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আলোচনা করে সবার মতামতের ভিত্তিতে ৭ সদস্যের প্রস্তাবিত অ্যাডহক কমিটি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়।
সম্প্রতি প্রস্তাবিত কমিটির ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় ও সংগঠক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ম্যানেজার বদরুল হুদা জেনু ও ক্রীড়া সাংবাদিক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু ছাড়া অন্য চার সদস্যকে বির্তকিতভাবে অর্ন্তভুক্ত করে কমিটি ঘোষিত হয়।
মানববন্ধনে কুমিল্লা জেলা ক্রীড়াঙ্গনের খেলোয়াড়, কোচ ও সংগঠকদের পক্ষে বক্তব্য দেন আদর্শ সদর ফুটবল দলের ম্যানেজার ও সংগঠক সাইফুল ইসলাম রায়হান, কুমিল্লা জেলা কারাতে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গাজী মামুন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা ফুটবল কোচ তুহিন, শাহীন, কারাতে অ্যাসোসিয়েশনের ন্যান্সি আবু, ন্যান্সি আলম, সাবেক ক্রিকেটার উল্লাসসহ বর্তমান ও সাবেক খেলোয়াড়রা।