কুড়িগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সীমান্ত কেন্দ্রীক মাদক চোরাচালান কমিয়ে আনা, জেলার হাসপাতালগুলোতে মানসম্পন্ন স্বাস্থসেবা নিশ্চিত করাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে কুড়িগ্রাম শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই উদ্যোগের কথা জানান দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ।
চব্বিশ পরবর্তী ‘কেমন কুড়িগ্রাম দেখতে চাই’ শীর্ষক মতবিনিময়সভায় জেলায় কর্মরত বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আরো পড়ুন
মাদক ও অনৈতিক কর্মকান্ডের গুদাম ঘর পাবলিক টয়লেট
এনসিপি কুড়িগ্রামের সংগঠক মুকুল মিয়ার সঞ্চালনায় মতবিনিময়সভায় কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ কুড়িগ্রাম নিয়ে তাদের ভাবনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
দেশের অন্যান্য জেলা থেকে নানা দিক থেকে পিছিয়ে থাকা কুড়িগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে করণীয় বিষয় নিয়ে সাংবাদিকরা তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
কুড়িগ্রাম নিয়ে এনসিপির ভাবনার কথা তুলে ধরে ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘কুড়িগ্রামে আমরা মূল্যবোধ সম্পন্ন এবং দক্ষ জনশক্তি দেখতে চাই। আমরা চাই এ জেলায় টেকসই অর্থনীতি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হোক। ক্ষুদ্র ও বৃহৎ শিল্প কারখানা গড়ে উঠুক।
প্রয়োজনে এখানে একটি আইটি গ্রাম গড়ে তোলা যেতে পারে। সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়া যদি পারে আমরা পারবো না কেন!’
তিনি বলেন, ‘এনসিপি আগামী দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে সাংগঠনিক কমিটি প্রকাশ করবে। চব্বিশ পরবর্তী বাংলাদেশ হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক। কিন্তু আমরা এখন থেকে কুড়িগ্রাম নিয়ে কাজ করতে চাই।
পিছিয়ে পড়া কুড়িগ্রামের উন্নয়নে আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবো। এছাড়াও মাদক নির্মূলে করণীয় সবকিছু করতে চাই। এজন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে কথা বলবো।’
সাংবাদিকদের কাছে সীমান্ত কেন্দ্রীক মাদক চোরাচালান এবং ২৫০ শয্যার কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট ও চিকিৎসার দৈন্য দশার তথ্য জানতে পেরে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘এই দুই বিষয়কে আমরা অগ্রাধিকারভিত্তিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করলাম। চিকিৎসকরা কেন কুড়িগ্রামে আসতে চান না তা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে চিকিৎসক সংযুক্তি নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
এছাড়াও হাসপাতালের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে করণীয় সবকিছু করতে চাই। এটা আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ।’
মাদক প্রশ্নে কোনও ছাড় নয় জানিয়ে ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘আমার দেশের ছেলেমেয়েদের মাদকাসক্ত করে কেউ ব্যবসা করবে এটা হতে দিতে পারি না। চব্বিশ পরবর্তী বাংলাদেশে এটা হবে না। সীমান্তে মাদক চোরাকারবার বন্ধ করতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্মরণাপন্ন হবো। পুলিশ, বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সক্রিয় করতে যা যা করার তা করার উদ্যোগ নিব। আমরা জেলার স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন ও মাদক নিয়ন্ত্রনের বিষয় দুটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিলাম।’
এছাড়াও কুড়িগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ করে চরাঞ্চলে মানসম্পন্ন পাঠদান নিশ্চিত করা, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জেলার যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং জেলার মানুষের মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করার কথা জানান এনসিপি নেতা।
মতবিনিময়সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির কুড়িগ্রাম জেলার সদস্য মোজাম্মেল হক বাবু, আসাদুজ্জামান আসাদ, মাওলানা দিনার মিনহাজ, মাসুম মিয়া এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ নাহিদ প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, এসসিপি যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ কুড়িগ্রামের বাসিন্দা। জেলা সদরের টগরাইহাট এলাকায় তার বাড়ি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (অনার্স) সম্পন্ন করেন। এরপর মালয়েশিয়াতে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে তিনি কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।