বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি কারাগার থেকে পালিয়েছে। বিষয়টি বুয়েটের শিক্ষার্থীরাসহ নিহত আবরারের পরিবার ক্ষুব্ধ। কারাগার থেকে পালানোর দীর্ঘ দিনেও জেমিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আবরার হত্যার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জেমি কোথায়? এখন সবার মনে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে।
বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিতে আজ শনিবার সকালে কেন্দুয়া উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নের বড় কালিয়ান গ্রামে জেমির বাবা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মো.আব্দুল মজিদের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়েছে। জেমির গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার বাবা আব্দুল মজিদ ছোট ভাইয়ের ঘরে শুয়ে টিভি দেখছেন। অথচ তিনি পরিবার নিয়ে শহরে থাকেন। জেমির বাবা গ্রামের বাড়িতে আসার খবর প্রতিবেশীরাও জানেন না।
পরে জেমির খোঁজ করতে ঘরে প্রবেশ করতেই নড়েচড়ে বসেন তার বাবা। এ সময় কথা হয় তার সঙ্গে। ছেলে জেমি কোথায়? এমন প্রশ্ন করতেই তিনি কিছুটা থমকে গিয়ে বলেন,‘আমি তো জানি না। তবে কারাগারে নেই এটা সত্য।
এখন বেঁচে আছে না মরে গেছে জানি না। তবে বেঁচে থাকলে হয়তো ফোন দিতো। এক পর্যায়ে তিনি জানান, দেশে অস্থিরতার সময় গত জুলাই মাসে বেশ কয়েকবার কারাগার থেকে মোবাইল ফোনে কথা হতো। শুধু জানতে চাইতাম কেমন আছে। এর চেয়ে বেশি কিছু না।
ফোনে কীভাবে কথা বলার সুযোগ পেতেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘করোনার সময় থেকেই নিয়ম ছিল আসামিদের পরিবারের সঙ্গে সপ্তাহে বা দশ দিন পর ৫ মিনিটের জন্য কথা বলা যেতো। আর কারাগারে দুইটি ফোন নম্বর দেওয়া ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের আগে ও পরে আর কথা হয়নি।
তিনি আরো বলেন, যখন কারাগারে বিদ্রোহ হয় তখন দেশের অনেক কারাগারের সঙ্গে গাজীপুরের হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকেও অনেক আসামি পালিয়ে যায়। আবার অনেকেই নিহত হয়। পরে নিহতদের লাশ দেখে ও হাসপাতালে খবর নিয়েও ছেলেকে পাইনি। এখন আর কিছু ভাবি না। যা কপালে আছে তাই হবে।
জানা যায়,মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুনতাসির আল জেমির বন্দি নম্বর ৫১৭৭। জেমি গত ৬ আগস্ট গাজীপুরের হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ২০২ জন বন্দির সঙ্গে একত্রে (৮৭ জন মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দিসহ) কারাগারের দেয়াল ভেঙে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে ১৫ আগস্ট কোনাবাড়ী থানায় একটি মামলা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ। আবরার হত্যা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার একটি আদালত ২০ বুয়েট শিক্ষার্থীকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এই মামলায় বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত ২২ জন বন্দির মধ্যে ২১ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।