প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। বরগুনা থেকে ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামগামী বাসগুলোর টিকিটে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করেই বাস মালিকেরা ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছেন, অথচ দেখার কেউ নেই।
জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী বরগুনা থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত ৭৩৭ টাকা, বরগুনা থেকে গাবতলী পর্যন্ত (ভায়া পাটুরিয়া ফেরী পারাপার) ৮৯৭ টাকা।
ঈদের আগে বরগুনা থেকে ঢাকার বাস ভাড়া ছিল ৬০০ টাকা, কিন্তু এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায়। বরগুনা থেকে সায়েদাবাদে গ্রিন ভিউ পরিবহন আগে ৬০০ টাকা ভাড়া নিত, এখন ৯০০ টাকা নিচ্ছে। শ্রাবনী পরিবহন আগে নিত ৬০০ টাকা ভাড়া নিলেও এখন তা বাড়িয়ে নিচ্ছে ৯০০ টাকা। সাদ আবদুল্লাহ আগে নিত ৬০০ টাকা টাকা এখন নিচ্ছে ৯০০ টাকা। সোনারতরী পরিবহন আগে ৬০০ টাকা ভাড়া আদায় করত, এখন নিচ্ছে ৯০০ টাকা। শ্যামলী পরিবহন আগে নিত ৬০০ টাকা এখন নিচ্ছে ৯০০ টাকা।
আরো পড়ুন
পরীমনির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ
বরগুনা বাস টার্মিনালে দেখা গেছে, অনেক যাত্রী টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়ে বসে আছেন। কেউ কেউ এক কাউন্টার থেকে আরেক কাউন্টারে ঘুরছেন টিকিটের আশায়।
যাত্রীরা বলছেন, বাড়তি এই ভাড়ার কারণে তাদের অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে।
বাস পরিবহন শ্রমিকরা জানান, ঈদের পর যাত্রীচাপ বেড়ে যাওয়ায় এখন ৬০ থেকে ৬৫টি বাস ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে যাচ্ছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে এ পথে ৪০টি বাস চলাচল করে।
ঢাকায় কর্মরত পোশাকশ্রমিক তানজিলা বলেন, ‘ছয় দিনের ছুটি পেয়ে বাড়ি এসেছিলাম। গার্মেন্টস খোলার কারণে এখন ফিরছি। গ্রিন ভিউতে ৯০০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে এই ভাড়া ছিল ৬০০ টাকা।
কষ্টের টাকা এভাবে অতিরিক্ত আদায় ঠিক না।’
আরো পড়ুন
একাধিক মসজিদে আজান শোনা গেলে উত্তর দেবেন যেভাবে
গাজীপুরে কর্মরত আরেক পোশাক শ্রমিক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের আগে ৯০০ টাকায় টিকিট কেটে বাড়ি এসেছি, আর এখন ১১০০ টাকা দিয়ে ফেরার টিকিট কিনতে হয়েছে। এটা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অন্যায়।’
বরগুনা পরিবহনের টিকিট কাউন্টারের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঈদের বিশেষ সার্ভিসের জন্য বাস মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধি করেছেন। তাই ৯০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। আগে যাত্রীসংকটের কারণে ভাড়া কম নেওয়া হত।’
শ্রাবনী পরিবহনের স্থানীয় টিকিট কাউন্টারের ইনচার্জ লিটন বলেন, ‘কম্পানি ভাড়া বৃদ্ধি করেছে, তাই বাড়তি টাকায় টিকিট বিক্রি করছি। এটা শুধু ঈদ উপলক্ষে।’
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনা পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন হাসান শাহীন বলেন, ‘বাড়তি ভাড়া নেওয়ার একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। তবে বিষয়টি আমি এখনো কারো সঙ্গে কথা বলে জানতে পারিনি। তবে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করাটা ঠিক হবে না। এই সিদ্ধান্তটা আসে মালিক সমিতির কাছ থেকে।’
আরো পড়ুন
ড. ইউনূসের সঙ্গে বিমসটেক মহাসচিবের সাক্ষাৎ
বরগুনা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক ফারুক শিকদার বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায়ের করার জন্য বলা হয়েছে। যদি কেউ বাড়তি ভাড়া নিয়ে থাকে সে বিষয়টা আমাদের জানা নেই। খোঁজ নিয়ে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’