দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানে লক্ষাধিক মুসল্লির অংশ গ্রহণে ঈদুল ফিতরের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩১ মার্চ) উত্তরের ১৬ জেলাসহ সবচেয়ে বড় ঈদগাহ মিনার ও মাঠ গোর-এ শহীদ ময়দানে এবার ঈদের নামাজ আদায় করতে বাগেরহাট ও গাজীপুর থেকেও কয়েকজন মুসল্লি এসেছেন।
সকাল ৯টায় ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৬টা থেকেই মুসল্লিরা সমবেত হতে শুরু করেন এই ঈদগাহে।
ঠিক ৯টায় শুরু হয় নামাজ। এখানে ঈমামতি করেন মাওলানা মো. মাহফুজুর রহমান। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহসহ '৭১ ও '২৪-এ শহীদ ও আহতদের জন্য শান্তি কামনা করে করা হয় মোনাজাত।
বৃহৎ এই জামাতে অংশ নেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনতা।
প্রখর রোদে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সুষ্ঠু ও শান্তি পূর্ণভাবে বৃহৎ এই জামাতে নামাজ আদায় করতে পেরে খুশি দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মুসল্লিরা।
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মুসল্লিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, রমজানে আমরা যে তাকওয়া অজর্ন করেছি তা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। এ সময় তারা বলেন, লাখো মুসুল্লির অংশগ্রহণে দেশের এই বৃহৎ ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সফলভাবে ঈদের জামাত সম্পন্ন হওয়ায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তারা।
এদিকে, বৃহৎ এই জামাতে অংশ নিতে পেরে খুশি মুসল্লিরা। তারা জানান,ঈদের জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে দূর-দূরান্তের মুসল্লিরা এসে অংশ গ্রহণ করতে পেরেছেন।
বাগেরহাট থেকে আগত আরিফুল ইসলাম ও গাজীপুর থেকে আসা হাফেজ ইমরান হোনের বলেন, আমরা প্রতিবার শুনি দিনাজপুরে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় মিনার ও ময়দানে লাখো মানুষ নামাজ আদায় করেন। আমরা আজ ঈদের নামাজ আদায় করলাম। বড় জামায়াতে নামাজ আদায় করতে পেলে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।
নীলফামারী জেলা থেকে এসেছিলেন রংপুরের একটি হিমাগারে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আব্দুস সাত্তার। তিনি জানান, এবার নিয়ে সাতবার এই মাঠে নামাজ আদায় করলেন। তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, অন্যান্যবারের চেয়ে এবারে ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল। এতো বড় মাঠ ও এতো মুসল্লির সঙ্গে নিয়ে নামাজ আদায় করার যে অনুভূতি তা প্রকাশ করার মতো নয়।
বৃহৎ এ জামাতে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের জন্য স্থাপন করা হয় শৌচাগার, ছিল ওজুর ব্যবস্থা। বসানো হয় মেডিক্যাল টিম। পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সুষ্ঠুভাবে নামাজ সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এতো কিছু ছাপিয়েও এবার সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে আলোচনা ছিল মাঠে নামাজে আসা অনেক নতুন মুখ ও নতুন ইমাম। তারা বলেন, প্রতিবার আয়োজকরা ময়দানে যে সংখ্যক মুসল্লি নামাজ আদায় করতেন, তার চেয়ে অনেক বাড়িয়ে বলা হতো। যারা বাড়িয়ে বলত এবার তারাও উধাও হয়ে গেছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ঈদগাহ দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দান ও ঈদগাহ মিনার। ১৯.৯৯ একর আয়তন বিশিষ্ট এই ঈদগাহে ১৯৪৭ সাল থেকে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলেও আধুনিক নির্মাণশৈলীতে এই ঈদগাহে বৃহৎ পরিসরে ঈদের জামাত শুরু হয় ২০১৭ সাল থেকে।