নওগাঁর মান্দায় এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে এসি ল্যান্ডের গাড়ির চালকসহ ৪ যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (৩১ মার্চ) তাদের নওগাঁ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রবিবার (৩০) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার ছোটবেলালদহ গ্রামের সোলাইমান আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম সোহাগ (২৯), বড়পই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলাম সুইট (২৯), বিজয়পুর প্রিন্সিপালের মোড় এলাকার মোজাহার আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান মুন্না (২৯) ও বিজয়পুর মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে নাসির উদ্দিন (২৯)।
এদের মধ্যে নাসির উদ্দিন মাস্টাররোলে এসি ল্যান্ডের গাড়ি চালানোর কাজ করতেন।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী পিকআপচালক। তারা একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ঈদ উপলক্ষে এ দম্পতির তাদের একমাত্র কন্যাসন্তানকে ভুক্তভোগী নারীর বাবার বাড়িতে রেখে আসেন।
রাতে পিকআপ ভাড়া মারার জন্য স্বামী বাইরে যাওয়ায় বাড়িতে একাই ছিলেন ওই নারী।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘রবিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে আমার স্বামী পিকআপের ভাড়া মারার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। রাত ৯টার দিকে আমি রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্বাধীন (এজাহারনামীয় আসামি) বাসায় এসে আমার স্বামীকে ডাকাডাকি করে।
স্বাধীন আমার স্বামীর পূর্বপরিচিত হওয়ায় সরল বিশ্বাসে আমি দরজা খুলে দিই। সঙ্গে সঙ্গে ৬-৭ জন যুবক ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে মুখ চেপে ধরে ঘরে নিয়ে একে অপরের সহায়তায় আমাকে ধর্ষণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আমার ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে চারজনকে আটক করলেও অন্যরা পালিয়ে যায়।’
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ আলম মিয়া বলেন, ‘উনি মাস্টাররোলে এসি ল্যান্ডের গাড়ি চালানোর কাজ করতেন। এখন মজুরিভিত্তিক কাজ করেন।
তবে এসি ল্যান্ড বদলি হওয়ার পরে উনি কাজ করছেন না।’
বিষয়টি নিশ্চিত করে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনুসর রহমান বলেন, ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২-৩ জনের নামে মামলা করেছেন। এ মামলায় ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করে নওগাঁ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শারীরিক পরীক্ষার জন্য ওই নারীকে নওগাঁ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’