চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা চেকপোস্টে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন স্টেশন নির্মাণ করা হয় ২০১৪ সালে। তবে ভবন হস্তান্তরের ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও একদিনের জন্যও তা চালু করা হয়নি। পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি।
দামুড়হুদা প্রণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দর্শনার জয়নগর চেকপোস্ট দিয়ে বিদেশ থেকে আসা পশুপাখি ও প্রাণিজখাদ্যের মাধ্যমে প্রাণী ও মানুষের দেহে রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে ২০১৪ সালে দর্শনার জয়নগর চেকপোস্ট সংলগ্ন এলাকায় ৫ শতাংশ জমির ওপর প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ৯ কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতল ভবন গড়ে তোলা হয়।
২০১৬ সালে তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা কহিনুর ইসলাম ও দামুড়হুদা উপজেলা প্রণিসম্পদ অফিসার মশিউর রহমানের কাছে ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সে সময় ৬ জন জনবল নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও ৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদের একজন অফিস সহকারী, একজন ল্যাব টেকনিশিয়ান, একজন অফিস সহায়ক ও একজন নিরাপত্তা প্রহরী। এদের মধ্যে একজন দর্শনা প্রণিসম্পদ উন্নয়ন কার্যালয়ে ও দুই জন দামুড়হুদা প্রাণিসম্পদ অফিসে কর্মরত আছেন। স্টেশনটি চালু না থাকায় শুধুমাত্র নৈশ প্রহরী থাকেন স্টেশনটিতে।
দর্শনা পৌরসভার দায়িত্বে থাকা পৌর প্রশাসক কে এইচ তাসফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশে বার্ডফ্লু আক্রান্ত হয়ে ব্যাপকহারে পাখি মারা যাচ্ছে। এমন ধরনের ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে কোয়ারেন্টাইন স্টেশন থেকে অনেক সহায়তা পাওয়া যায়। দর্শনার জয়নগর চেকপোস্টে স্টেশনটি চালু হলে ভারত থেকে আসা পশুখাদ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হবে।
এতে আমরা কিছুটা নিরাপদ বোধ করতাম।
প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন স্টেশনের সহকারী পরিচালক নিলিমা আক্তার হ্যাপি বলেন, ২০৪১ সালে দেশ বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবে, এমন কথা চিন্তা করে সরকার চেকপোস্টে প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন স্টেশন নির্মাণ করে। দর্শনার জয়নগর চেকপোস্ট দিয়ে ভারত থেকে দেশে গবাদিপশু না আসলেও প্রাণীজ খাদ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কোয়ারেন্টাইন স্টেশনটির প্রয়োজন।
তিনি বলেন, করোনা মহামারীর পর থেকে চেকপোস্টটি জৌলুস হারিয়েছে। আগের মতো সরগরম আর নেই।
কোয়ারেন্টাইন স্টেশনে প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি রয়েছে কিন্তু তা ব্যবহার না করায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটি চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লোকবল চাওয়া হবে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু হবে।