<p>ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর তিনজন হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আকাশ মোল্লাকে (২৮)  গ্রেপ্তার  করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত ভোররাতে র‍্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ির পাশের একটি কলাবাগান থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।</p> <p>গ্রেপ্তার আকাশ ওই এলাকার হারুন মোল্লার ছেলে। নিহতরা আকাশের আত্মীয় বলে জানা গেছে।</p> <p>গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।</p> <p>র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার গাজী মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটককালে তার কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল, যা তার মানসিক অবস্থার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’</p> <p>পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার আকাশকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং তার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদাল উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।</p> <p>বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।</p> <p>পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা পরিকল্পনা রয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।</p> <p>এর আগে সোমবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে একই ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামের আজগর মোল্লার বাড়ির উঠানে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হঠাৎ কোদাল হাতে উপস্থিত হয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায় আকাশ। এতে ঘটনাস্থলেই রাহেলা বেগম (৫০), আমেনা বেগম (৭৫) ও কাবুল (৪৫) নিহত হন। একই ঘটনায় রিয়াজ মোল্লা (৪৫) গুরুতর আহত হন।</p>