সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জে ছয় হেক্টর জমির বোরো ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এতে কৃষকেরা ৩৭ মেট্রিক টন চাল কম পেয়েছেন, যার বাজারমূল্য ১৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, উপজেলায় এ বছর এক হাজার ৪৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এতে ২০ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা মোট ফসলে ৩০ শতাংশ। আর সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে ছয় হেক্টর জমির ফসল।
সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ফসল মোট ফসলের ০.০৬ শতাংশ। অতি বৃষ্টির কারণে ৮০ জন কৃষকের ১৮.০৩ লাখ টাকার ফসল ক্ষতি হয়। এই ক্ষতির ফলে কৃষক ৩৭ মেট্রিক টন চাল কম পাবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার বক্তারপুর, ব্রাম্মনগাঁও ও চুয়ারীখোলা এলাকায়।
কৃষি অফিসের হিসাবে এই তিন এলাকার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এলেও এলাকাঘুরে দেখা যায়, এর বাইরেও অনেক জায়গায় বোরো ফসল নষ্ট হয়েছে। অনেক বিল ও শীতলক্ষ্যার তীরে বোরো ফসল নষ্ট হওয়ার আলামত রয়েছে। অনেক বিলে পানি জমে ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। তলিয়ে যাওয়া পাকা ধান অনেক কৃষক কাটতে পারেননি। অনেকে পানিতে ডুবে ডুবে ধান কেটেছেন।
উপজেলার কৃষকরা জানান, বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটতে শ্রমিক পাওয়া যায়নি। যেসব শ্রমিক পাওয়া গেছে তাদের একেকজনকে মজুরি দিতে হয়েছে ১১০০ টাকার ওপরে। অনেক কৃষক তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ধান কেটেছেন। যেসব বিলে পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, সেসব বিলে ধানপচা পানিতে পরিবেশ দূষিত করছে।
কালীগঞ্জের ঐতিহাসিক বিলা বেলাইয়ের প্রধান কৃষিপণ্য ফসল। এই বিলে শত শত মানুষের ভাতের চাহিদা মেটায়। অতিবৃষ্টির কারণে বিল বেলাইয়ের অনেক ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন বৃষ্টিপাত কমে গেলেও বিল বেলাইয়ে কৃষকের কান্না থামছে না। প্রতিদিন হারানো ধানের ক্ষেত দেখতে বিলপাড়ে আসছেন তারা।
বক্তারপুরের কৃষক মনির হোসেন জানান, ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়েই ধান কেটেছেন। ধান কাটার পর ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর কাজও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেরেছেন।
চুয়ারীখোলা এলাকার কৃষক লিউ কস্টা জানান, দিনে ১২০০ টাকায় শ্রমিক নিয়ে তিনি ধান কেটেছেন। অনেক ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কাটতে পারেননি। এতে তার অনেক ক্ষতি হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা সব সময় কৃষকদের খোঁজখবর নিচ্ছি। তাদের বিপদে পাশে আছি। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার চিত্র যথাযথভাবে সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।





