• ই-পেপার

এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না তানভিরের

বৃষ্টিতে ১৮ লাখ টাকার ক্ষতি কালীগঞ্জের কৃষকের

রিপন আনসারী, গাজীপুর
বৃষ্টিতে ১৮ লাখ টাকার ক্ষতি কালীগঞ্জের কৃষকের
বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটার চেষ্টা করছেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ব্র্রাহ্মণগাঁও টেকপাড়া গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন। সম্প্রতি তোলা। ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জে ছয় হেক্টর জমির বোরো ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এতে কৃষকেরা ৩৭ মেট্রিক টন চাল কম পেয়েছেন, যার বাজারমূল্য ১৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, উপজেলায় এ বছর এক হাজার ৪৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এতে ২০ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা মোট ফসলে ৩০ শতাংশ। আর সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে ছয় হেক্টর জমির ফসল।

সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ফসল মোট ফসলের ০.০৬ শতাংশ। অতি বৃষ্টির কারণে ৮০ জন কৃষকের ১৮.০৩ লাখ টাকার ফসল ক্ষতি হয়। এই ক্ষতির ফলে কৃষক ৩৭ মেট্রিক টন চাল কম পাবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার বক্তারপুর, ব্রাম্মনগাঁও ও চুয়ারীখোলা এলাকায়। 

কৃষি অফিসের হিসাবে এই তিন এলাকার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এলেও এলাকাঘুরে দেখা যায়, এর বাইরেও অনেক জায়গায় বোরো ফসল নষ্ট হয়েছে। অনেক বিল ও শীতলক্ষ্যার তীরে বোরো ফসল নষ্ট হওয়ার আলামত রয়েছে। অনেক বিলে পানি জমে ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। তলিয়ে যাওয়া পাকা ধান অনেক কৃষক কাটতে পারেননি। অনেকে পানিতে ডুবে ডুবে ধান কেটেছেন। 

উপজেলার কৃষকরা জানান, বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটতে শ্রমিক পাওয়া যায়নি। যেসব শ্রমিক পাওয়া গেছে তাদের একেকজনকে মজুরি দিতে হয়েছে ১১০০ টাকার ওপরে। অনেক কৃষক তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ধান কেটেছেন। যেসব বিলে পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, সেসব বিলে ধানপচা পানিতে পরিবেশ দূষিত করছে। 

কালীগঞ্জের ঐতিহাসিক বিলা বেলাইয়ের প্রধান কৃষিপণ্য ফসল। এই বিলে শত শত মানুষের ভাতের চাহিদা মেটায়। অতিবৃষ্টির কারণে বিল বেলাইয়ের অনেক ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন বৃষ্টিপাত কমে গেলেও বিল বেলাইয়ে কৃষকের কান্না থামছে না। প্রতিদিন হারানো ধানের ক্ষেত দেখতে বিলপাড়ে আসছেন তারা।

বক্তারপুরের কৃষক মনির হোসেন জানান, ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি বেশি  হওয়ায় তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়েই ধান কেটেছেন। ধান কাটার পর ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর কাজও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেরেছেন।

চুয়ারীখোলা এলাকার কৃষক লিউ কস্টা জানান, দিনে ১২০০ টাকায় শ্রমিক নিয়ে তিনি ধান কেটেছেন। অনেক ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কাটতে পারেননি। এতে তার অনেক ক্ষতি হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা সব সময় কৃষকদের খোঁজখবর নিচ্ছি। তাদের বিপদে পাশে আছি। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার চিত্র যথাযথভাবে সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

রমেকে হাম উপসর্গে আরো এক শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
রমেকে হাম উপসর্গে আরো এক শিশুর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগজুড়ে বাড়ছে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে নতুন করে আরো ২৩ জন হামের উপসর্গযুক্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

মারা যাওয়া শিশুটির নাম মনি আক্তার (৯ মাস)। সে ঠাকুরগাঁও সদরের মাহাবুব আলমের মেয়ে। শনিবার রাতে রমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের আইসোলেশন বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

রবিবার (১৭ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আ ন ম তানভীর চৌধুরী (নোমান)।

তিনি জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার অবনতি হলে রাতে সে মারা যায়।

এ নিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচজনে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল পর্যন্ত রমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৭ শিশু ভর্তি রয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ২৫৮ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন মারা গেলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২১৭ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আরো ২৭ জন শিশু।

রমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালের তিনটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। শিশুদের জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি কিংবা চোখ লাল হয়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর অভিভাবক বলেন, ‘শিশুর জ্বর আর শরীরে ফুসকুড়ি দেখে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। দ্রুত হাসপাতালে আনার পর ডাক্তাররা চিকিৎসা দিচ্ছেন। এখন কিছুটা ভালো আছে। আমরা চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই চলছি।’

এদিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে নতুন করে ২৩ জন হামের উপসর্গযুক্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে পাঁচজন, দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আটজন এবং রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন ভর্তি রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে আরো জানা যায়, গত ৩০ মার্চ থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত রংপুর বিভাগে এক হাজার ১৩৮ জন হামের উপসর্গযুক্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে এক হাজার ৬৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৭ জন রোগী।

ফুটপাতে বসতে দেব না, প্রয়োজনে আমার বাসায় ব্যবসা করুন : আশা

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
ফুটপাতে বসতে দেব না, প্রয়োজনে আমার বাসায় ব্যবসা করুন : আশা

নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত দখল করে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নগর রাজনীতি। এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে আলোচনায় এসেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাওসার আশা। তিনি বলেছেন, আমার বাড়ি দখল করে নেন, তারপরও রাস্তার ফুটপাতে বসতে দিতে পারব না। প্রয়োজনে আমার বাসায় এসে ব্যবসা করুন, আমি ঘর ছেড়ে দেব; কিন্তু ফুটপাতে বসতে দেব না।

শনিবার (১৬ মে) রাতে হকারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর আগে, গত ৯ মে রাতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের বাসভবনে হকারদের সঙ্গে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সংসদ সদস্যের ছেলে আবুল কাওসার আশাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে হকারদের পক্ষ থেকে ঈদ পর্যন্ত সড়কে বসে ব্যবসা করার সুযোগ চাওয়া হলে আশা বলেন, ঈদুল ফিতরের পর থেকেই হকারদের ফুটপাত ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা তা না মেনে আন্দোলন ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

তিনি বলেন, আপনারা এতদিন রাস্তায় আন্দোলন করেছেন, বসার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন; কিন্তু আমাদের সঙ্গে এসে কোনো আলোচনা করেননি। জনগণকে কষ্ট দিয়েছেন। রাস্তা অবরোধ করে নগরবাসীর চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি করেছেন।

আশা আরো বলেন, আমি যেকোনো সময় জনগণের জন্য উন্মুক্ত। রাত তিনটায়ও কেউ এলে দেখা করা যায়। আপনারা আলোচনা করতে পারতেন। কিন্তু রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কোনো সমাধান নয়।

বিগত সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানে আল্লাহ ভালো সময় দিয়েছেন বলেই আপনাদের সঙ্গে সহজে বসে কথা বলতে পারছি। আগের সময়ে সরকারের অন্যায়-অত্যাচারের কারণে আমাদের পালিয়ে থাকতে হতো।

হকারদের আন্দোলনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে হকারদেরও অবদান রয়েছে, আমরা সেটা ভুলে যাইনি। কিন্তু সে কারণে নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, অনেক হকার ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন ও মাস শেষে কিস্তি পরিশোধ করতে হয়—বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। বিকল্প স্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়ে আশা বলেন, আমরা আপনাদের অন্য জায়গায় বসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। কিন্তু সড়কে বসে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করবেন না।

হকারদের সতর্ক করে তিনি বলেন, তাদের মধ্য থেকে দুই-তিনজন প্রতিনিধি এসে আলোচনা করলে সমাধানের পথ খোঁজা সম্ভব। তবে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা বরদাশত করা হবে না।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আপনারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করেছেন। এখন মামলা হয়েছে। এতে অনেকেই ভোগান্তিতে পড়বেন।

আরো পড়ুন

হাম ও ডেঙ্গু প্রসঙ্গে কথা বলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হাম ও ডেঙ্গু প্রসঙ্গে কথা বলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

 

এদিকে, উচ্ছেদ অভিযানে জব্দ করা মালামাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে মালামাল জব্দ করা হয়েছে, সেগুলো অবৈধভাবে দোকানদারি করার কারণেই নেওয়া হয়েছে। তারপরও আমি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে একটি সমাধানের চেষ্টা করব।

রবিবার (১৭ মে) দুপুরে কালের কণ্ঠকে আবুল কাওসার আশা বলেন, হকাররা প্রচার করছেন যে তাদের ১০ দিন বসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে—এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, ‘ফুটপাত দিয়ে হাঁটা একটি নাগরিক অধিকার। জনগণ, এমনকি আমরাও সেই অধিকার ভোগ করতে চাই। ব্যক্তিগতভাবে আমি ফুটপাতে হকার বসার অনুমতি দেওয়ার কোনো কর্তৃপক্ষ নই। বরং কেউ ফুটপাতে দোকান বসাতে চাইলে, সে যেই হোক না কেন, আমি তার বিরোধিতা করব।’

আসামির জামিনে কাফনের কাপড় পরে মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
আসামির জামিনে কাফনের কাপড় পরে মানববন্ধন
ছবি: কালের কণ্ঠ

পটুয়াখালীর বাউফলে হানি ট্র্যাপ, চাঁদাবাজি, মাদক কারবারসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার আজাহার খানের জামিনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।

রবিবার (১৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকদের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় অংশগ্রহণকারীরা দাফনের কাপড় পরে প্রতিবাদ জানান।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিনে বের হয়ে আজাহার খান প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছি। মামলা করার পরও প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বাঁচতে চাই। তাই দ্রুত আজাহার খানকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান কাফনের কাপড় পরিহিত অবস্থায় বলেন, ‘আমাদের অভিযোগের পর আজহার গ্রেপ্তার হলেও মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিনে বের হয়ে আবার অস্ত্রের মহড়া দিয়ে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমি এখন জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছি। আমি চাই, এ সন্ত্রাসী আজহারকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আমার মতো আর কাউকে তার হাতে হেনস্তার শিকার হতে না হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আদাবাড়িয়ার হাজিরহাট বন্দরে প্রায় ১০০ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পিস্তল, ছুরি ও দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এক কোটিরও বেশি টাকা চাঁদা আদায় করেছে আজহার। প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ, গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।’

আরেক ভুক্তভোগী মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে গিয়ে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আমার কাছে ১৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ভয়ভীতি ও মানসম্মানের আতঙ্কে আমি বাধ্য হয়ে ধাপে ধাপে ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিই। পরে বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জানালে সালিশি বৈঠকে অভিযুক্তরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। এরপর স্থানীয়রা তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই, এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে আর কেউ এমন প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার না হয়।’

এর আগে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ১৩ মে রাতে আজাহার খান, কবির হোসেন ও রাসেল তালুকদারকে আটক করে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে এক ঔষধ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ছাড়াও এক চাকরিজীবীর কাছ থেকেও বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।