পবিত্র রমজান মাস শেষে মুসলমানরা ঈদের দিন আনন্দ ভাগাভাগি করেন। বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ভিন্ন হলেও ঈদের আনন্দের রূপ একই। ঈদের দিনে খাবারের আয়োজন বিশেষ গুরুত্ব পায়। গৃহিণীরা নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার তৈরি করেন, বিশেষ করে পোলাও ও মিষ্টি।
পবিত্র রমজান মাস শেষে মুসলমানরা ঈদের দিন আনন্দ ভাগাভাগি করেন। বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ভিন্ন হলেও ঈদের আনন্দের রূপ একই। ঈদের দিনে খাবারের আয়োজন বিশেষ গুরুত্ব পায়। গৃহিণীরা নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার তৈরি করেন, বিশেষ করে পোলাও ও মিষ্টি।
দক্ষিণ এশিয়া
বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের জন্য ঈদ মানে মিষ্টিজাতীয় খাবারের আয়োজন। ঈদের দিন সকালে সাধারণত ঘিয়ে ভাজা বা দুধে ভেজানো সেমাই দিয়ে দিন শুরু হয়।
রাশিয়া
রাশিয়ার মুসলিমদের মধ্যে ঈদের দিনে জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে ‘মানতি’ (যা আমরা মোমো বা ডাম্পলিং নামে চিনি)।
একটি ছোট আটার পুঁটলির মধ্যে ভেড়া বা গরুর মাংসের কিমা দিয়ে ভাপে সিদ্ধ করা হয়।
চীন
চীনে মুসলিমদের জন্য 'শানজি' নামে এক ধরনের নুডলস খুব জনপ্রিয়। ময়দার কাই দিয়ে মোটা করে নুডলস বানিয়ে তেলে ভাজা হয়। তারপর পিরামিডের মতো সাজিয়ে পরিবেশন করা হয়। সস দিয়ে খেতে খুবই মজা শানজি।
মধ্যপ্রাচ্য
মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে সিরিয়া ও লেবাননে ‘মামোউল’ কুকি খুব জনপ্রিয় ঈদের মিষ্টি। খেজুর, আখরোট, পিস্তাচিও, মাখন দিয়ে তৈরি কুকির মধ্যে চিনির গুঁড়ো মিশিয়ে পরিবেশন করা হয় এটি। ইরাক, সুদান, মিসরেও প্রায় একই ধরনের কুকি দেখা যায়, তবে এগুলোর নাম ভিন্ন।
মিসর
মিসরে ঈদের দিনে ‘ফাতা’ নামে একটি বিশেষ খাবার তৈরি হয়। যেখানে ভাত, মাংস, পেঁয়াজ ও ভিনেগারের মিশ্রণ থাকে। গরম গরম পরিবেশন করা হয়। এ ছাড়া ‘কাহক’ নামক বিস্কুটও মিসরীয়দের জন্য ঈদের গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার।
তুরস্ক
তুরস্কে ঈদকে ‘সেকের বায়রামি’ বলা হয়। এ দেশে ঈদের একটি বিশেষ মিষ্টি খাবার হলো ‘লোকুম’ (টার্কিশ ডিলাইট)। এটি বরফ আকৃতির মিষ্টি, যা শিশুদের মাঝে খুব জনপ্রিয়।
ব্রিটেন
ব্রিটেনের মুসলিমদের মধ্যে ঈদের দিনে বিরিয়ানি খুব জনপ্রিয়। মাংস, চাল ও মসলার সংমিশ্রণে বিরিয়ানি তৈরি হয়। দই ও পুদিনার চাটনির সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করা হয়।
সোমালিয়া
সোমালিয়ায় ঈদে মাংসপিঠা খুব জনপ্রিয়। যা মাংস ও সবজি দিয়ে পূর্ণ করা হয় এবং চিনির সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।
মরক্কো
মরক্কোর ‘তাজিনে’ একটি ঝাল মাংসের রেসিপি। যা এক ধরনের স্ট্যু জাতীয় খাবার। ভেড়া বা গরুর মাংসের সঙ্গে নানা ফল ও সবজি থাকে তাজিনের মধ্যে।
ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার প্রধান ঐতিহ্যবাহী ঈদের খাবার হলো ‘কেটুপাত’। এটি পামগাছের পাতায় মোড়া চালের আটার পিঠা। যা মাংসের বিভিন্ন আইটেমের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।
আফগানিস্তান
আফগানিস্তানে ঈদের দিনের বিশেষ খাবার হলো ‘বোলানি’। যা আলু, ডাল ও অন্যান্য সবজির পুর দিয়ে তৈরি করা হয়। এটি টক দই দিয়ে পরিবেশন করা হয়। ঈদ ছাড়াও ইফতারে এটি খুব জনপ্রিয়।
সূত্র : ফুড নেটওয়ার্ক
সম্পর্কিত খবর
কাঁচা আম গ্রীষ্মকালের একটি অতি জনপ্রিয় ফল। আমাদের শৈশবের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় যখন আমরা এই টাটকা, রসালো ফলটিকে মরিচ ও লবণ দিয়ে খাই। কাঁচা আমের নাম শুনলেই মুখে পানি চলে আসে। কাঁচা আম যে শুধু মজার তাই নয়, বেশ পুষ্টি সমৃদ্ধও।
শরীর শীতল রাখতে সহায়ক
গ্রীষ্মে গরমের তীব্রতা কমাতে এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে কাঁচা আমের রস দারুণ কাজ করে।
হজম সমস্যা নিরাময়
কাঁচা আম হজম সমস্যা সমাধানে কার্যকরী। এটি হজম রসের উৎপাদন বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য, অজীর্ণতা, অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক এবং বমি বমি ভাবের মতো সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক
কাঁচা আমে থাকা বিটা-ক্যারোটিন এবং ফাইবার হৃদরোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি কোলেস্টেরল কমাতে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
যকৃৎ (লিভার) স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
কাঁচা আম যকৃৎ পরিষ্কার করতে সহায়ক এবং এটি তেল শোষণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি গোপন বাইল অ্যাসিডের স্রাব বৃদ্ধিতে সহায়তা করে যা টক্সিন পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
মুখের স্বাস্থ্য
কাঁচা আম মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
কাঁচা আমে প্রচুর ভিটামিন সি ও এ থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক। এটি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যও উন্নত করে এবং শরীরকে নানা ধরণের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
অতিরিক্ত খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পরিমিত পরিমাণে কাঁচা আম বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপকারী। তবে বেশি পরিমাণে কাঁচা আম খেলে বদহজম, পেটে ব্যথা, আমাশয় এবং গলা জ্বালা হতে পারে। মনে রাখবেন, কাঁচা আম খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা পানি পান করবেন না কারণ এটি জ্বালা বাড়ায়।
সূত্র : কেয়ার হসপিটাল
আপেল লাল রঙের দেখতে খুবই সুন্দর ও মিষ্টি স্বাদের অতুলীয় একটি ফল। এটি শুধু দেখতে আর স্বাদে নয় বরং স্বাস্থ্য উপকারিতাতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি খাওয়া ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম। আপেল খাওয়ার মাধ্যমে প্রাকৃতিক পুষ্টিসহ ফাইবার, ভিটামিন সি, পটাসিয়াম, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পলিফেনল, যা শরীরের বিভিন্ন উপকারে আসে।
গবেষণা বলছে, আপেল খাওয়ার মাধ্যমে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার এবং অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমানো যায়। এছাড়া, এটি হজমের সমস্যাও সমাধান করতে সাহায্য করে।
তাই, প্রতিদিন একটি আপেল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা আমাদের সুস্থ জীবনযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। তাহলে দেরি কেন? আসুন জেনে নেই লাল আপেলের ১০ টি চমৎকার স্বাস্থ্য উপকারিতা।
১. পুষ্টিগুণ
আপেল একটি পুষ্টিকর ফল। আপেল ভিটামিন সি, পটাসিয়াম, ফাইবার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণে ভরপুর। এক একটি মাঝারি আপেলে রয়েছে প্রায় ১০৪ ক্যালোরি, ৫ গ্রাম ফাইবার এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ। আপেলের খোসাসহ খাওয়া হলে আরো বেশি উপকার পাওয়া যায়।
২. ওজন কমাতে সাহায্য
আপেলে উচ্চ পরিমাণে ফাইবার ও জল থাকে, যা পেট ভরে রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত রাখে। গবেষণা অনুযায়ী, আপেলের খোসাসহ খাওয়া শরীরের মাস ইনডেক্স (বিএমআই) কমাতে সহায়ক হতে পারে এবং শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সহযোগিতা করে।
৩. হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য
আপেল হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এতে থাকা ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পলিফেনল হৃদরোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
৪. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য
আপেলে কোয়ারসেটিন নামক পলিফেনল থাকে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
৫. ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য
আপেলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফুসফুস, স্তন ও পাচনতন্ত্রের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে রক্ষাকারী ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, আপেল পলিফেনল ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করতে সক্ষম।
৬. হাঁপানির বিরুদ্ধে লড়াই
আপেলের খোসায় কোয়ারসেটিন থাকে, যা হাঁপানি এবং অ্যালার্জির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। এটি শ্বাসনালীর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং হাঁপানির পরবর্তী পর্যায়ের প্রতিক্রিয়া কমাতে সক্ষম।
৭. হজমে সহায়ক
আপেল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার মাধ্যমে হজমে সহায়ক হতে পারে। এর হজম ক্ষমতা ও প্রাকৃতিক ফাইবারের উপস্থিতি আমাদের পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
সূত্র : ক্যাম্পবেল কান্ট্রি হেলথ
২০১৭ সালে মিস ওয়ার্ল্ড মুকুট জিতেছিলেন মানুষী চিল্লার। বুদ্ধির ঝলকে ঘেরা সৌন্দর্য তাকে বিশ্ব সুন্দরীর শিরোপার পাশাপাশি এনে দিয়েছে মডেলিং ও বলিউডে খ্যাতি। ১৭ বছর পর মানুষীর হাত ধরে মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট ভারতে এসেছিল। এর পেছনে ছিল মানুষীর কঠোর পরিশ্রম।
আপনিও মেনে চলতে পারেন মানুষীর লাইফস্টাইল। মানুষী যখন বিশ্ব সুন্দরীর হয়েছিলেন, সেই সময় সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিন ওয়ার্কআউট করতেন।
মানুষীর পুষ্টিবিদ নমমী আগারওয়াল জানিয়েছেন, মানুষী কঠোর পরিশ্রম করতেন সুন্দরী প্রতিযোগিতার জন্য।
এখন প্রশ্ন থাকতে পারে সারা দিন কী খেতেন মানুষী?
নায়িকার দিন শুরু হত এক গ্লাস পানি পান করে। তাতে মাঝেমধ্যে লেবুর রসও মেশাতেন। ব্রেকফাস্টে থাকত ওটস, টক দই ও বাদাম। লাঞ্চে খেতেন এক বাটি ভাত না হলে দুটি রুটি।
ভাত বাঙালির প্রিয় খাবার। অনেকেই ওজন কমানোর জন্য ভাত খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। পুষ্টিবিদের মতে, সঠিক পদ্ধতিতে ভাত খেলে ওজনও বাড়বে না পাশাপাশি স্বাস্থ্যও থাকবে ভালো।
রান্নার পদ্ধতি
ভাত রান্নার সময় যদি শুধুমাত্র চাল ধুয়ে চুলায় বসানো হয়, তবে স্টার্চ বের হয় না।
খাওয়ার পদ্ধতি
ভাতকে ডাল, ভাজি, তরকারি, সালাদ ইত্যাদির সঙ্গে মেশালে এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) কমে যায়।
খাওয়ার সময়
ভাত খাওয়ার সেরা সময় দুপুর। রাতে ভাত কম খাওয়াই ভালো।
কত পরিমাণ খেতে হবে
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে দিনে ৩০ গ্রাম চালের ভাত রান্না করা উচিত, যা এক কাপের সমান। এতে প্রায় ১৫০-১৭০ কিলোক্যালোরি থাকে।
ভাতের উপকারিতা
ভাত ভিটামিন বি, ফলিক অ্যাসিড ও ম্যাগনেশিয়ামের ভালো উৎস। এটি অন্ত্র ও ত্বকের জন্য উপকারী। বাজারে বিভিন্ন ধরনের চাল পাওয়া যায় অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর কালো চাল। বাদামি চাল যা ফাইবারে সমৃদ্ধ এবং লাল চাল যার প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এসব চাল ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। ভাত খেতে হবে কিন্তু সঠিক পদ্ধতিতে, তবেই তা শরীরের জন্য উপকারী।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা