• ই-পেপার

বিশ্ব রক্তদান দিবস : ১৪ই জুন

হাম ও উপসর্গে আরো ৪ প্রাণহানি

অনলাইন ডেস্ক
হাম ও উপসর্গে আরো ৪ প্রাণহানি
ছবি : কালের কণ্ঠ

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন উপসর্গ নিয়ে আর একজন হামের আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এ সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। সোমবার (১৫ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজন করে মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে রবিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৬৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরো ৯৭২ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে রবিবার পর্যন্ত মোট ৮৬ হাজার ৯২৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১০ হাজার ৩৮৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে রবিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৭১ হাজার ৪৬৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৬৭ হাজার ৮৭৮ জন।

হামের উপসর্গে আরো ৪ মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
হামের উপসর্গে আরো ৪ মৃত্যু
ছবি : কালের কণ্ঠ

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যু নেই। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে ৯২ জন এবং হামের উপসর্গে মোট ৫৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ১ হাজার ৫২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৮৫ হাজার ৯৫১ জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৭৫ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ১০ হাজার ৩২৩ জন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭০ হাজার ৫৭৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৬৬ হাজার ৮৪১ জন।

সকালে খেলে ভালো, রাতে কেন নয় কার্বোহাইড্রেট?

অনলাইন ডেস্ক
সকালে খেলে ভালো, রাতে কেন নয় কার্বোহাইড্রেট?
প্রতীকী ছবি

আমাদের শরীর একটি নির্দিষ্ট জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম অনুযায়ী কাজ করে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর সক্রিয় হয় এবং রাতে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়। এই শরীরঘড়ি আমাদের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এনডিটিভি-র এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) ২০২৫ সালের ডায়াবেটিস অ্যাটলাস অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২৪ সালে প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ (১৩.৯ মিলিয়ন) প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন, যা দেশের মোট প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ১৩.২ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি খাবার গ্রহণের সঠিক সময়ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শরীরের ঘড়ি কিভাবে কার্বোহাইড্রেট নিয়ন্ত্রণ করে?

কার্বোহাইড্রেট খেলে তা ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়। সকালে শরীর ইনসুলিনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল থাকে, ফলে গ্লুকোজ সহজে কোষে প্রবেশ করে এবং শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু রাতে একই পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি বেড়ে যেতে পারে। এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

কেন রাতে কার্বোহাইড্রেট বেশি ক্ষতিকর হতে পারে?

রাত ৮টার পর ইনসুলিনের কার্যকারিতা কিছুটা কমে যায়।
রাতে শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই ধীর হয়ে আসে।
শারীরিক নড়াচড়া কম থাকায় অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও চর্বি জমার সম্ভাবনা বাড়ে।
রক্তে শর্করার ওঠানামা শক্তি ও ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণায় দেখা যায়,সকালে খাওয়া কার্বোহাইড্রেট শরীর তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু একই খাবার রাতে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি বৃদ্ধি পায়।

প্রিডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এর অর্থ কী?

যদি অনিয়মিত সময়ে বা বারবার রাতে বেশি কার্বোহাইড্রেট খাওয়া হয়, তাহলে রক্তে শর্করা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকতে পারে। এতে প্রিডায়াবেটিস থেকে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

তাই প্রিডায়াবেটিস থাকলে শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময়

বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার আদর্শ সময় হলো:

 সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত

 সন্ধ্যার পর ও গভীর রাতে বেশি কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলা ভালো।

এছাড়া কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিন ও আঁশযুক্ত (ফাইবার) খাবার খেলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার সময় ঠিক না হলে যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে

রাতে বারবার ক্ষুধা লাগা বা খাবারের আকাঙ্ক্ষা
ঘুমের সমস্যা
সকালে ক্লান্ত বা ঝিমঝিম অনুভব করা
খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকা
দীর্ঘমেয়াদে অগ্ন্যাশয়ের (প্যানক্রিয়াস) ওপর চাপ বৃদ্ধি পাওয়া
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহজ কিছু অভ্যাস
সকালের নাশতায় তুলনামূলক বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করুন।
রাতের খাবার সম্ভব হলে সন্ধ্যা ৭–৮টার মধ্যে শেষ করুন।
প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
রাতের খাবারের পর অতিরিক্ত মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ নাশতা এড়িয়ে চলুন।

কারা বেশি সতর্ক থাকবেন ?

প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি
স্থূলতা (ওবেসিটি) আছে এমন ব্যক্তি
মেটাবলিক সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তি
রাতের শিফটে কাজ করেন এমন কর্মীরা

উল্লেখ্য, শরীর সকালে কার্বোহাইড্রেট বেশি দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারে। তাই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে দিনের প্রথম ভাগে কার্বোহাইড্রেট খাওয়া এবং রাতে তা কমিয়ে আনা উপকারী হতে পারে।

৮৯ দিনে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ৬৪৩ জনের

নিশ্চিত হামে ৯২ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
৮৯ দিনে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ৬৪৩ জনের
হামে আক্রান্ত এক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফাইল ছবি/কালের কণ্ঠ

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৬৪৩ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৫১ জনের। নিশ্চিত হামে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯২ জন।

আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ২৭ জন। অন্যদিকে গত এক দিনে হাম আক্রান্ত রোগী ১২৪ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ২৬৬ জনে। মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৮৫ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৩৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৫ হাজার ২৭৫ জন।

হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা) দেশে আরো একজন শিশু মারা গেছে। এ সময়ে সারা দেশে আরো ১ হাজার ১৫৩ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৫৫১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯২ শিশু। মোট মারা গেছে ৬৪৩ শিশু।