• ই-পেপার

ফেনী থেকে প্রথমবার বিসিবির কাউন্সিলর ক্রীড়া সংগঠক শরিফুল ইসলাম অপু

সূর্যবংশীর চার-ছক্কার তাণ্ডবে আশা বাঁচল রাজস্থানের

ক্রীড়া ডেস্ক
সূর্যবংশীর চার-ছক্কার তাণ্ডবে আশা বাঁচল রাজস্থানের
৩৮ বলে ৯৩ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন বৈভব সূর্যবংশী। ছবি : বিসিসিআই

ব্যাটিংয়ে আবারও আলো ছড়ালেন সেই কিশোর বৈভব সূর্যবংশী। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। মঙ্গলবার জয়পুরে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে প্লে-অফের আশা বাঁচিয়ে রাখল তারা।

২২১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন সূর্যবংশী। মাত্র ৩৮ বলে ৯৩ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ১০টি ছক্কা।

জয়পুরের সাওয়াই মানসিংহ স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো দর্শক যেন এক ব্যাটিং প্রদর্শনীই দেখলেন। উইকেটের দুই পাশেই অনায়াসে ছক্কা হাঁকিয়েছেন এই কিশোর ব্যাটসম্যান। বিশেষ করে প্রিন্স যাদবকে মারা অতিরিক্ত কাভারের ওপরের ছক্কাটি ছিল চোখজুড়ানো। একই ওভারে তার খেলা র‍্যাম্প শটও মুগ্ধ করেছে সবাইকে।

বৈভবের আগেই ঝোড়ো শুরু এনে দেন অধিনায়ক যশস্বী জয়সওয়াল। ২৩ বলে ৪৩ রান করেন তিনি। প্রথম উইকেটে দুজনে যোগ করেন ৭৫ রান। এরপর ধ্রুব জুরেলর সঙ্গে ১০৫ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ পুরোপুরি রাজস্থানের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যান বৈভব। জুরেল অপরাজিত ছিলেন ৫৩ রানে।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে ৫৭ বলে ৯৬ রান করেন মিচেল মার্শ। আর জশ ইংলিস করেন ৬০ রান। দুজনের ১০৯ রানের উদ্বোধনী জুটিতে বড় সংগ্রহ পায় লখনউ।

তবে শেষ দিকে জফরা আর্চারর দুর্দান্ত ওভারে কিছুটা চাপে পড়ে তারা। আর পরে ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন বৈভব সূর্যবংশী।

এখন শেষ ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে হারাতে পারলেই প্লে-অফ নিশ্চিত হবে রাজস্থানের।

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটিও হয়তো দেখতে পাবে না বিশ্বকাপ!

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটিও হয়তো দেখতে পাবে না বিশ্বকাপ!

বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। কিন্তু এখনো ভারতে চূড়ান্ত হয়নি ২০২৬ বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব। ফলে দেশটির কোটি কোটি ফুটবল সমর্থকের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

ফলে কোটি কোটি ফুটবল সমর্থকের সামনে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন—তারা আদৌ বিশ্বকাপ দেখতে পারবেন তো?

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে ফুটবল এখনো ক্রিকেটের মতো জনপ্রিয় না হলেও প্রায় ৮ কোটি ৫০ লাখ সমর্থক রয়েছে খেলাটির। এত বড় বাজার হয়েও সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার খবরে বলা হয়েছে, ভারতে বিশ্বকাপ সম্প্রচারে মূল জট তৈরি হয়েছে সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য নিয়ে। বিভিন্ন টেলিভিশন নেটওয়ার্কের প্রস্তাব নাকি ফিফার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম ছিল। এ কারণেই আলোচনা এখনো আটকে আছে।

পরিস্থিতি সমাধানে সম্প্রতি ফিফার মিডিয়া রাইটস প্রতিনিধিরা ভারত সফর করেছেন। তারা বিভিন্ন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

বিশ্বকাপের সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই চাপ বাড়ছে। কারণ সম্প্রচার চুক্তি চূড়ান্ত না হলে সিগন্যাল বিতরণ, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ও বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনাতেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

বিশ্বের অন্যান্য বড় বাজারে ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে ভারত এখনো বড় এক প্রশ্নচিহ্ন হয়ে আছে।

দেশটির ফুটবলপ্রেমীদের প্রশ্ন এখন একটাই, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে আদৌ কি সমাধান হবে এই জটিলতার?

২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা আর্সেনালের

অনলাইন ডেস্ক
২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা আর্সেনালের
সংগৃহীত ছবি

শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকতে জিততেই হতো ম্যানচেস্টার সিটির। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর, মরিয়া হয়ে চেষ্টা করল তারা। সুযোগ পেল ঢের, শেষ সময়ে গিয়ে একটি গোলও পেল দলটি। কিন্তু তা যথেষ্ট হলো না। তাদের হোঁচটে ২২ বছরের খরা ঘুচিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতল আর্সেনাল।

ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে শিরোপা পুনরুদ্ধারের আশা শেষ হয়ে গেল পেপ গার্দিওলার দলের। ইলি জুনিয়র কোপির গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, সমতা টানেন আর্লিং হলান্ড।

প্রিমিয়ার লিগে গত মৌসুমে এই মাঠে ২-১ গোলে হেরেছিল সিটি। এবার স্কোরলাইনে হার এড়াতে পারলেও, এই ড্র তাদের জন্য অনেক বড় হতাশার। খুব কাছে গিয়েও যে আরেকটি ট্রফিতে চুমু আঁকা হলো না।

প্রথমার্ধে ইলি জুনিয়র কোপির গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচজুড়ে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছে সিটি। সুযোগ তৈরি করেছে ভুরি ভুরি। একদম শেষ মুহূর্তে আর্লিং হলান্ড গোল করে সমতা ফেরালেও তা সিটির শিরোপা স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

এই ড্রয়ের পর ৩৭ ম্যাচ শেষে সিটির পয়েন্ট ৭৮। সমান ম্যাচ খেলে আর্সেনাল এগিয়ে ৪ পয়েন্টে। লিগে দুই দলেরই মাত্র একটি করে ম্যাচ বাকি। ফলে গাণিতিকভাবেই সিটির আর আরতেতার দলকে ছোঁয়া সম্ভব নয়। ২০২৫/২৬ মৌসুমের শেষ দিনে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে যখন আর্সেনাল মাঠে নামবে, তখন তাদের নামের পাশে জ্বলজ্বল করবে ‘চ্যাম্পিয়ন’ তকমা। এটি গানারদের ইতিহাসের ১৪তম লিগ শিরোপা, যা ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

দারুণ ব্যাপার হচ্ছে, আরতেতার এই উৎসবে যিনি অলক্ষ্যে থেকে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করলেন, তিনি আর কেউ নন, আরতেতার ছোটবেলার বন্ধু বোর্নমাউথের কোচ আন্দোনি ইরাওলা। সিটিকে রুখে দিয়ে তিনি কেবল ছোটবেলার বন্ধুকেই এক বিশাল উপহার দেননি, নিজের ক্লাবের জন্যও ইতিহাস লিখেছেন। এই ১ পয়েন্টের সুবাদে আগামী মৌসুমে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় খেলা নিশ্চিত করল বোর্নমাউথ। এমনকি তাদের সামনে এখন চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

ম্যাচের শেষ দিকে সিটির গ্যালারি থেকে ভেসে আসছিল সমবেত কণ্ঠের আকুল এক প্রার্থনা—‘আর একটা বছর, আর একটা মাত্র বছর!’ ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকরা হয়ত পেপ গার্দিওলাকে আরও একটা বছর ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রূঢ় বাস্তবতা হলো, সিটির ডাগআউটে স্প্যানিশ এই মাস্টারমাইন্ডের অধ্যায় এখন স্রেফ ‘আর একটা ম্যাচের’। আর মৌসুমের সেই শেষ ম্যাচটি সিটির জন্য রূপ নিয়েছে স্রেফ আনুষ্ঠানিকতায়।

হ্যাঁ, সিটির সমর্থকেরা নিশ্চয়ই শেষ ম্যাচটিকে উৎসবের মঞ্চ বানাবেন। ইংলিশ ফুটবলে গত এক দশকে গার্দিওলা যে ফুটবলীয় বিপ্লব ঘটিয়েছেন, যে অবিশ্বাস্য কীর্তিতে একটা যুগকে রাঙিয়েছেন, তার জন্য দারুণ এক বিদায়ি সংবর্ধনা পেপের প্রাপ্যই। কিন্তু লিগের শেষ দিন পর্যন্ত আর্সেনালকে স্নায়ুচাপে রাখার যে রোমাঞ্চকর সুযোগ ছিল সিটির সামনে, তা আজ কর্পূরের মতো উড়ে গেছে।

ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টসকে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে গার্দিওলা বলেন, ‘খুব কঠিন একটা ম্যাচ ছিল এবং আমরা সেটা জানতামও। আমাদের কিছুটা শক্তির অভাব ছিল, যা খুব স্বাভাবিক। আমাদের প্রতি তিন দিনে একটা করে ম্যাচ খেলতে হয়েছে। তাও আমরা লড়াই করে গেছি। শেষ মুহূর্তে আমরা গোল পেয়েছিলাম, কিন্তু বড্ড দেরি হয়ে গেছে। খেলোয়াড়েরা তাদের সবটুকু ঢেলে দিয়েছে, যেমনটা তারা পুরো মৌসুম জুড়েই করেছে।’

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের শিরোপা জয়ে নিজের উদারতা দেখাতে ভুল করেননি পেপ। বন্ধু ও একসময়ের সহকারী আরতেতাকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর্সেনাল, মিকেল আরতেতা এবং তাদের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন। তারা এটার যোগ্য। মুহূর্তটি ওদের জন্য সত্যি ভীষণ স্পেশাল।’

লিটনের সঙ্গে কেন তর্কে জড়িয়েছিলেন রিজওয়ান

ক্রীড়া ডেস্ক
লিটনের সঙ্গে কেন তর্কে জড়িয়েছিলেন রিজওয়ান
লিটন-রিজওয়ানের কথা কাটাকাটির মুহূর্ত। ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

পাকিস্তানের বিপক্ষে শুধু ব্যাটটাই না, লিটন দাসের অন্য সবকিছুও চলছে। উইকেটের পেছনেও দারুণ করছেন তিনি। তবে যেভাবে শিরোনামে আসছেন তাতে মনে হচ্ছে সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছেন স্লেজিংয়ে।

আজ তো সিলেটে মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে যেন ‘বিরাট ফাডাফাডিই’ হলো লিটনের। এক সময় বাংলাদেশের উইকেটরক্ষকের কথার তোরণ থেকে বাঁচতে আম্পায়ারের সহায়তাও নিলেন রিজওয়ান। এর আগে মিরপুর টেস্টেও পাকিস্তানের ব্যাটারদের ভালোই স্লেজিং করেছেন লিটন।

তাদের মাঝে আজ কী কথা একচেঞ্জ হয়েছে সেটা ধরা পড়েছে স্টাম্প মাইকে। অবশ্য শুধু লিটন নন, নাজমুল হোসেন শান্ত-মুশফিকুর রহিমরাও রিজওয়ানকে খেপিয়েছেন। বোলিংয়ের সময় প্রায়ই বোলারদের থামিয়ে দেওয়ার ‘সুনাম’ থাকা রিজওয়ানের আজ হয়তো সাইট স্ক্রিন নিয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছিল। ঠিক তখনি লিটন ‘কি হলো? কি করছেন?’ রিজওয়ান ইশারা দিয়ে বলেন, ‘তাকিয়ে দেখ ওদিকে…।’ লিটন এবার বলেন, ‘প্রতি বলেই এমন করছেন, সব বলেই…।’ রিজওয়ানের উত্তর, ‘এরকম তো হচ্ছেই…!’

লিটনের উত্তর, ‘ওদিকে তাকানোর কি দরকার? ব্যাটিং করুন…!’ উত্তেজিত কণ্ঠে রিজওয়ান বলেন, ‘এটা কি তোমার কাজ?’ লিটনের উত্তর, ‘আপনি প্রতি বলেই ডিস্টার্ব করছেন…।’ এক পর্যায়ে আম্পায়ারের কাছে গিয়ে কিছু বলেন রিজওয়ান। পরে আম্পায়ার লিটন ও রিজওয়ানের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টা মিটমাট করেন। 

তবে স্লেজিং শেষ হয় না। তার মাত্রা আরো বেড়ে যায়। তাতে যোগ দেন শান্ত-মুশফিক। লিটন বলেন, ‘কিছু রান করেছে, এখন অভিনয় শুরু করে দেবে।’ শান্ত বলেন, ‘অতি অভিনয়ের জন্য পঞ্চাশ পয়সা কেটে রাখা হবে।’ স্লেজিং করার পরেও অবশ্য রিজওয়ানের মনোযোগ বিঘ্নিত করে তাকে আউট করা যায়নি। আগামীকাল সাজিদ খানকে সঙ্গে নিয়ে নতুন করে ব্যাটিং শুরু করবেন তিনি।

মাঠে দুজনের কী কথা হয়েছে সে বিষয়ে দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে শন টেইটের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে কী হয়েছে সেটা না জানলেও উপভোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার। তিনি বলেছেন, ‘জানি না কী বলেছে। তবে আমি উপভোগ করেছি। আমি তো অস্ট্রেলিয়ান। কী বলেছে বুঝিনি। তবে আমার মজা লেগেছে। আশা করব যেন মাত্রা না ছাড়ায়। মাঠে একটু আগ্রাসী মনোভাব তো থাকবেই। দুই দেশের সমর্থক থেকে শুরু করে সবার অনেক প্যাশন এই খেলা নিয়ে। তাই এসব ব্যাপার ভালোই লাগে।’